আপন দুলাল
জাহাঙ্গীর আলম শোভন
আপন আর দুলাল তারা দুইজন। দুই জনেই এক মনিবের কাজ করে অনেক বছর যাবত। তা বছর পাঁচেক তো হবে। তবে আপন এর বয়স একটু বেশী, দুলাল সে তুলনায় একটু কম বয়েসী। কিন্তু চোখে দেখে পার্থক্য খুব বেশী মনে হয়না। তাদের মনিব খুব গরিব। তাদেরকে ভালো খেতে দিতে পারে না। কিন্তু না দিলেও হাটভাঙ্গা পরিশ্রম ঠিকই করতে হয়। হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে দুজনই হাড় জিরজিরে হয়ে গেছে।
এখন আগের মত খাটতে পারে না। প্রায় সময় আপন বসে পড়ে মাঠে। শরীর আর চলে না। দুলালও কখনো কখরনা আপন এর সাথে বসে পড়ে। তখন মনিবের বেতের আঘাত সইতে হয়। মনিব নিরুপায়, তার কাজতো তুলতে হবে। অন্যের জমি চাষ করে দিলে দুটো টাকা দেবে তা দিয়েইতো চলবে মনিবের সংসার আর আপন দুলালের জীবন। মনিব রাগের মাথায় তাদেরকে মারলেও মানুষটা নিতান্ত সাদাসিদে গোবেচারা ধরনের।
কৃষক আবদুল মুনাফও তার দুই গরুকে বেশ ভালোবাসে। ভালোবেসেই তাদের নাম রেখেছেন আপন দুলাল। পাড়া প্রতিবেশী সবাই বলে এই দুটো বলদকে বেচে দিয়ে যেন নতুন বলদ কিনতে। কারণ এদের শরীরের যা অবস্থা তাতে এদের পেছনে খেটে খেটে মুনাফও হাড় জিরজিরে হয়ে গেছে। লম্বা কালো বেতের মতো টানানো শরীর ছিলো মুনাফের। এখন যেন আস্তে আস্তে কুঁজো হয়ে আসছে।
কোরবানির সময় ভালো দাম পাওয়া যাবে সবাই তখন বেচতে বলে, কিন্তু মুনাফ ভালোমন্দ কিছুই বলেনা। এদিকে আপন দিন দিন আরো অসুস্থ্য হয়ে পড়েছ। ডাক্তার দেখানো হয়েছে, ডাক্তারও একই কথা বলছে। মুনাফ মিয়া ভাবে যদি কোরবানীর সময় আপনকে বিক্রি করা হয় তাহলে নিশ্চিত লোকেরা কোরবানী দিয়ে দেবে। তারচেয়ে বরং অন্য সময় বিক্রি করা যাবে। আপনকে দিয়ে আর চলছেনা। শুধু যে জমিতে গেলে শুয়ে পড়ে তা নয়। গোয়ালে কখনো কখনো রাতে শুলে সকালে আর আপন উঠতে পারে না। একেবারে লেজে গোবরে একসার হয়ে যায়।
তাই বাধ্য হয়ে একদিন আপনকে বিক্রির জন্য হাঁটে নিয়ে যায়। মুনাফ মনে মনে ভাবে, এমন একজনের কাছে বেচবে যে জবাই করবেনা। মুনাফের ধারণা কারো কাছে বিক্রি করলে সে নিশ্চয় টাকা পয়সা খরচ করে চিকিৎসা করবে, তাহলে আপন ভালো হয়ে উঠবে।
গ্রামের বাজারে আপনকে নিয়ে এলো মুনাফ। যদি ব্যাপারী আসে তাহলে বেশী দাম চায়। গৃহস্থ কৃষক আসলে কম দাম বলে। মুনাফ চায় তার মতো এক সাধারণ গৃহস্থ যেন আপনকে কিনে নেয়।
এরকমই একজন চাষী আসলো বলদটা কিনতে, যে মুনাফের চেয়ে এই কৃষক একটু কম বয়সী।
-ভাই বলদ কত বেচবেন?
-বেচবো, দাম ঠিক হলে বেচে দেব।
-সে ঠিক দামটা বলেন না ভাই।
-ভাই, গরুটা খুব ভালো। ৫/৭ বছর ধরে পালি। হালচাষ করাই। ভালো খাবার পেলে দেখবেন তাজা হয়ে উঠবে।
-বুঝলাম ভাই, কিন্তু দামটা বলেন?
-আপনি পালবেনতো নাকি….?
-ভাই আপনি কি গরু বেচতে আসছেন নাকি কৃমির ওষধ বেচতে আসছেন এত কথা বলেন কেন? কত হলে বেচবেন? দামটা বলেন।
-ষোলো হাজার টাকা।
-একটু ধাক্কা খেলো ক্রেতা। ক্রেতার ধারণা পঁচিশ হাজার টাকা দাম চাইবে। আঠারো বিশ হলে নিয়ে নেবে।তবুও বলল, না ভাই ষোলে হবেনা। আমি বারো তের বলবনা। ওই চোদ্দই দেব। কিরে মাইনকা কই গেলি। বলে তিনি তার কাজের লোককে ডাকলো।
-না ভাই, বেশী কম হয়ে যায়। এই গরু আপনি বিশের কমে পাবেন না।
-ঠিক আছে আরো এক বাড়াই দেব।
-না যা বলছি তাই। আপনেরে ভালো লাগছে। ওই ষোলোতে হলে নিয়েন।
-ক্রেতা না কিনেই চলে গেলো। মুনাফ মিয়া মনে মনে ভাবছে দিয়ে দিলে ভালো হতো। মনে হচ্ছে লোকটা খেতখামার করে। গরু বেঁচে খাবেনা। বেচলে তারা না জানি আবার বিয়ের আসরে জবাই করতে নিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ক্রেতা ফিরে এলো আবার গরর জন্য। গরু খাবে না, বেচবেও না পালবে এই কথা শুনে, পনের হাজার পাঁচশ টাকায় আপনকে বেচে দিলো মুনাফ। যদিও সেই সময়ের বাজারদর অনুযায়ী। বিশ থেকে বাইশ হাজার যাবে।
দুলাল একা হয়ে গেছে। অনেকদিনের সঙ্গী নাই হয়ে গেল। দুলাল এদিক ওদিক চায় আর ডাকে। খাওয়া দাওয়াও ছেড়ে দিয়েছে। পরের হাটবারে কৃষক মুনাফ আরেকটি বলদ কিনে এনেছে। যেহেতু আপনকে ভালো দামে বেচতে পারেনি। তাই নতুন বলদ লালকে ভালো দামে কিনতে পারেনি। হাটত থেকে আনার সময় এর নাম দিয়েছে লাল। গরুটা ভীষন লাল। বয়সও বেশী নয়। স্বাস্থ্য ভালো নয় তবে আশা করছে ঠিক হয়ে যাবে। লালকে এনে দুলালের পাশে রাখা হলো। লালকে পেয়ে দুলাল কিছুটা স্বাভাবিক হলো কিন্তু আপনের কি পরিণতি কি হলো তা আর জানা গেলনা।
মুনাফ মিয়া মনে মনে ভাবছে। একটা ভুল হয়ে গেছে। যার কাছে বিক্রি করেছে তার ঠিকানা নেয়া দরকার ছিলো তাহলে মাঝে মধ্যে গিয়ে আপনকে দেখে আসা যেত। আবার ভাবে- না থাক, ভালোই হয়েছে। দেখতে গেলে আবার মন খারাপ হতে পারে, মায়া লেগে যেতে পারে। আর দেখা হবে না। সেটাই ভালো।
রাঢ় এর সময়টা খুব খারাপ যায় মুনাফের। এই সময় ধার করজ করে চলতে হয়। কিন্তু আজকাল কাজের মৌসুমেও ভালো যায়না। কলের লাঙ্গল বা ট্রাক্টর চলে এসেছে। হালের বলদ এর চাহিদা নাই। মুনাফ এর কাজ কমে গেছে। তিনভাগের দুই ভাগ। এমনিতে যা আয় হতো তা দিয়ে চলা মুশকিল নিজের ক্ষেতের কিছু ধান তরিতরকারী পুকুরে কিছু মাছ পাওয়া যায় বলে রক্ষা। তা না হালে বৌ পোলাপান নিয়ে হাভাতে মরতে হতো। এখনতো পরিস্থিতি দিন দিন আরো খারাপ হচ্ছে। কাজ না পেলে খাবে কি? চিন্তায় পড়ে যায় মুনাফ।
এদিকে মুনাফের চাচাতো ভাই হাশেম সমিতি থেকে ধার নিয়ে একটি পাওয়ার টিলার কিনেছে। সারদিন মানুষের জমিতে চাষ দেয়। আয় রোজগার ভালো। এমনিতে মুনাফের বৌকে দাম দেয়না হাশেমের বউ। ঝগড়া ঝাটি হলে খুব নিচু করে কথা বলে। মুনাফের শশ্বর পক্ষ গরীব। হাশেমের শ্বশুরদের অবস্থা একটু ভালো। জমিজিরাত আছে, বাজারে দোকান আছে। হাশেমের দুই শ্যালক বিদেশে থাকে।
পাওয়ার টিলার কেনার পর হাশেমের বউ ইশারা ইঙ্গিতে বিভিন্ন কথা বলে। হাশেম মুনাফের বারো বছরের ছোট, তার বউও ছোট হবে। তার এধরনের কথা মুনাফের বউএর ভালো লাগে না। এসব দু:খের কথা মুনাফের বউ শাফিয়া স্বামীর কাছে বলে। মুনাফ ভেবে পায়না কি করবে? একদিকে ােরজগান কমছে। তিনটা ছেলে মেয়ে নিয়ে সংসার। সমিতি থেকে ধার নিলেওতো হবে না কারণ সমিতি অর্ধেক টাকা দেবে অর্ধেক টাকা নিজেকে জোগাড় করতে হবে। মুনাফের শ্বশুর বাড়ি কেন কোনো আত্মীয় নেই তাকে এতটাকা ধার দেবে। ভেবে কুল পায়না?
-সেদিন রাতে খেয়ে শোয়ার পর শাফিয়া জানতে চায়? কি করবেন? কিছু ভাবছেন?
-কি করবো? কোনো কিছু করার রাস্তা আছে?
-ক্যান বলদ দুইটারে বেইচা দেন। ট্রাক্টর কিনলে বলদের কি কাম?
-চুপ একটা কথাও কইবিনা? তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে মুনাফ।
-স্বামীর এমন অগ্নিমূর্তি দেখে চুপসে যায় শাফিয়া।
-মুনাফ বুঝতে পারে না। সে কেন এমন চিৎকার করে উঠলো।
শাফিয়াতো ভালো কথা বলেছে। কিন্তু সমস্যাতো অন্য জায়গায়। গরু দুইটারে ছাড়া মুনাফ থাকবে ক্যামনে? সে সেটা বোঝেনা। দুপুর বেলা গোসলের পর গলা চুলকানোর জন্য যখন মাথা তুলে দেয়। গলায় থাকা ঘন্টা টংটং বাজে। তখন ওদেরকে খুশি করতে মুনাফের বেশ ভালো লাগে। লাল ইতোমধ্যে আরো চকচকে হয়ে উঠেছে। কিন্তু লালের সাথে হেঁটে দম রাখতে পারে না দুলাল। দুলাল লালের তুলনায় একটু দ‚র্বল। এদিকে হালচাষ কমে গেছে। মুনাফ বাধ্য হয়ে সপ্তাহে দু’দিন হালচাষ করেতো তিনদিন কামলা দেয়। এটা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিলনা তার। কামলা দেয়াটা মুনাফের কাছে কিছুটা ইজ্জতহানির ব্যাপার। কিন্তু বউকে সেটা বলেনা। বউকে বলে সে হালচাষ করতে গেছে। তাই সকালে বের হতে লাঙ্গল জোয়াল আর মই নিয়ে বের হয়। সেগুলো কাছে কোথাও রেখে সে কামলার কাম করে। এভাবে একটা মৌসুম চলে গেলে।
লোকজনের সাথে কথা উঠলে মুনাফ শুধু পাওয়ার টিলারের বদনাম করে। এটা মাটির বেশী গভীরে যেতে পারে না। বর্ষার সময় জমির মাছ মেরে ফেলে। এর থেকে মবিল পড়লে জমি নষ্ট হয়ে যাবে। চাষ করার পর জমির কোণায় আচা নিতে পারে না। মানে কোণায় কিছু অংশ বাদ থেকে যায়। নানা কথা। কিন্তু তবুও লোকেরা পাওয়ার টিলার দিয়েই জমি চাষ করে।
পরের বছর গ্রামে তিনটা পাওয়ার টিলার চলে এলো। উত্তর পাড়ার আবু শেখ একটা নামালো তার ভাই বিদেশ থেকে টাকা দিয়েছে। একই পাড়ার মনু মিয়া ওরফে মনা একটা কিনলো শ্বশুর বাড়ি থেকে স্ত্রীর পাওনা জমি বিক্রি করে। মুনাফ মিয়ার কাজ একেবারে নাই হয়ে গেল। কেউ কেউ চক্ষু লজ্জায় মুনাফকে হাল চাষের জন্য নেয়। ওই টাকায় দু’টা গরুর খৈল কেনার পয়সাও হয়না। এবার আর কোনো পথ পায়না মুনাফ। বউকে অযুহাত দেয়। তার শরীর ভালো না। সে কি পাওয়ার টিলার চালাতে পারবে? কিন্তু লাল দুলালের মায়ার কথা বলেনা।
২/৩ দিনের জন্য শাপিয়া বাপের বাড়ি গেছে। তার মায়ের শরীরটা ভালো না। এই ফাঁকে মুনাফ গ্রামে অনেকের কাছে টাকা ধারের জন্য গিয়েছে। কেউ দিতে রাজি হয়নি। ভেবেছে গরু বিক্রি না করেও যদি কিছু করা যায়। কিন্তু কিছুতে কিছু হলো না। এদিকে হালের গরুর দামও কমে গেল। প্রতিদিন গরু বেচতে আসে অনেকে কিন্তু হালের হাড্ডিসার বলদ কিনতে এখন আর কেউ আসে না।
সামনে কোরবানীর ঈদ। আর একমাস বাকি। গ্রামের যেসব চাষী হালচাষ করে তাদের মধ্যে দুয়েক জন ছাড়া সবাই ঠিক করে রেখেছে এবারের ঈদে তাদের হালের গরু বিক্রি করে দেবে। কিছু মানুষ কোরবানীর জন্য নিতেও পারে। কিন্তু এতবড় একটা কঠিন সিদ্ধান্ত মুনাফ নিতে পারছেনা। এদিকে কাজ না করেও দুলালের অবস্থা বেশ সঙ্গীন। একদিন তো বিকেলে শুয়ে সোজা হয়ে গেল, একেবারে মুখ দিয়ে লালা ছেড়ে দিয়ে একেবারে মরার দশা।
বউ ফিরে এসেছে। শাফিয়ার চাচাতো ভাই ন‚রদিনও পাওয়ার টিলার চালায়। না তার নিজের নয়। সে শফি মেম্বারের টিলার চালায়। টাকা তিনভাগ হয়। একভাগ ন‚রদিনের আর দু’ভাগ শফি মেম্বারের এভাবে বিনাপ‚ঁজিতে নাকি ভালোই কামায় ন‚রদিন। শাফিয়া স্বামীকে পরামর্শ দিয়েছে ন‚রদিনের সাথে কয়দিন থেকে ট্রাক্টর চালানো শেখার জন্য। পরে নিজে না কিনতে পারলেও অন্যদেরটা চালাতে পারবে। ম্রুনাফ কোনো কথা বলেনা। কথা বলে তার বলদদের সাথে।
ইতোমধ্যে লাল এর সাথেও বেশ ভাব হয়ে গেছে দুলালের মতো। লাল একটু দুষ্টু। যখন ক্ষুধা বেশী লাগে তখন দুলালকে না দিয়েও খেয়ে ফেলে। মুনাফ মিয়া রাগ করে না। বাচ্চা ছেলেদের মত বোঝায়।
‘‘আরে বেটা এভাবে করলে হবে? ভাইকে দিতে হবেনা? সেতো তোর বড় ভাই। দুইভাই মিলেমিশে থাকবে। তবেইনা লোকে ভালো বলবে। এভাবে নানা কথা সে বলে যায়।’’
তার বউ স্বামী কি সিদ্ধান্ত নিলো তা জানার জন্য স্বামীর মুখের দিকে দ‚র থেকে চায়। মন ভালো মনে করে কাছে আসে। কিন্তু মুনাফ মিয়া মুখকালো করে রাখে, যাতে বউ আর কিছু না বলে।
এভাবে ঈদ কাছে চলে আসলে। পাশের বাড়ির ইদরিছ আলীর লালকে পছন্দ হয়েছে। সে একদিন কথা বলার জন্য বাড়িতে আসে। মুনাফ বাড়ি ছিলো না। তাই ইদরিছ আলী শাফিয়ার কাছে বলে যায়। যদি কোরবানীর জন্য লাল গরুটা বিক্রি করে তাহলে ত্রিশ হাজার টাকা দেবে। টাকা এখনি দেবে। গরু ওদের কাছে থাকবে। পাশে বাড়ি যেহেতু, ঈদের দিন সকালে নিয়ে যাবে। মুনাফ ঘরে আসার পর শাফিয়া খুশি হয়ে কথাটা স্বামীর কানে তোলে। কিন্তু মুনাফ খুশি হয়না। তার মন খারাপ হয়ে যায়। রাগটা গিয়ে পড়ে ইদরিছ আলীর উপর। সে ইদরিছ আলী সম্পর্কে নানা আজে বাজে কথা বলতে থাকে।
হঠাৎ শাফিয়া ধৈর্য হারা হয়ে বলে, তুমিতো তার কাছে গরু বিক্রি করবা, মেয়ে বিয়ে দেবেনা। তার চরিত্র দিয়ো তুমি কি করবা?
আরে তুমি বুঝনা খারাপ মাইনষের কি কোরবানী অইবো? অইবোনা।
-সে গরু জবাই দিলেকি আমার লাল বেহেশতে যাইতে পারবো না। মুনাফের বউ কার কাছে শুনেছে কোরবানী দিলে গরু বেহেশতে যায়।
পরপর দুই দিন এলো ইদ্রিস আলী। মুনাফ কিছু বলেনা। ঈদেরও মাত্র দুই দিন বাকী। হঠাৎ মুনাফ মিয়া একদিন হাঁটে গিয়ে আর ঘরে ফেরেনি। তার ভয় বাসায় আসলে বউকে জবাব দিতে হবে। মুনাফ ভাবে বাড়ি এসে বউকে একটা উত্তর দিতে হবে। তারচেয়ে দু’দিনের জন্য উধাও হয়ে গেলে ভালো। ঈদটা পার হয়ে গেলে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করা যাবে। কিছু দিনের জন্যতো লাল দুলালকে বাঁচানো যাবে। কারণ মুনাফ জানে এখন যারাই কিনবে তারাই জবাই করবে। হালের জন্য এখন কেউ গরু কিনবেনা। মুনাফের বউ বাচ্চারা কিছ্ইু বুঝে উঠতে পারেনা। তাদের ঈদ কেমন কাটবে এটা নিয়ে তারা ভাবছেনা। অভাবের ঈদ যে কেমন হয় সেটা তাদের জানা আছে। তারা ভাবছে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

