বাংলাদেশে বিভিন্ন সংস্থা রয়েছে যারা নগদ টাকা দিয়ে মানুষকে সাহায্য করে থাকে। কিন্তু এসব সংস্থা প্রত্যেকে তাদের নিজ নিজ খাতে কাজ করে। কিন্তু অনেকে যেমন এসব সংস্থার নাম জানে না আবার অনেকে কিভাবে সহযোগিতা পেতে হয়। সেটা জানে না।
নিচে দাতব্য সংস্থা/সমাজসেবী প্রতিষ্ঠানের নিকট বিভিন্ন প্রয়োজনে আর্থিক সাহায্য চেয়ে পাঁচটি বিস্তারিত, বাস্তবসম্মত ও মানবিক আবেদনপত্রের নমুনা দেওয়া হলো। প্রতিটি আবেদনপত্রে কাল্পনিক নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে এবং আবেদনকারীর অসহায়ত্ব ও প্রয়োজনের জরুরিতা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
ক) ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদন
তারিখ: ১৫ মার্চ, ২০২৬
প্রতি,
সভাপতি মহোদয়
আল-ফালাহ মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশন
৬২/এ, পশ্চিম রাজাবাজার, ঢাকা-১২১৫
বিষয়: গুরুতর অসুস্থ ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্য প্রার্থনা
জনাব সভাপতি,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি মোছাঃ রোকসানা বেগম, স্বামীঃ মৃত আব্দুল কাদের, গ্রামঃ দক্ষিণ পাইকপাড়া, ডাকঘরঃ বটতলা, থানাঃ সদর, জেলাঃ কুমিল্লা। আমি অত্যন্ত দরিদ্র ও অসহায় একটি পরিবারের সদস্য। আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর আমি আমার একমাত্র ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম (২৫) কে নিয়ে খুব কষ্টে জীবনযাপন করছি। আমি অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করি এবং আমার ভাই দিনমজুরের কাজ করে কোনোমতে দুই বেলা খেয়ে না-খেয়ে জীবন চালাতাম।
কিন্তু গত তিন মাস ধরে আমার ভাই টাইফয়েড ও লিভারের জটিল সমস্যায় ভুগছে। প্রথমে স্থানীয় ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা করাই, কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ডাক্তার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। গত সপ্তাহে আমি তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করাই। সেখানে গত কয়েকদিনে যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা (সিটি স্ক্যান, লিভার ফাংশন টেস্ট ইত্যাদি) হয়েছে, তাতে জানতে পারি তার লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত এবং দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন।
ডাক্তার জানিয়েছেন, তাকে অন্তত এক মাস হাসপাতালে থাকতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের খরচ প্রায় ১,৫০,০০০ (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকার মতো হতে পারে। আমার আয়ের কোনো স্থির উৎস নেই। নিজের পক্ষে এই বিপুল অর্থ জোগাড় করা আমার পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। গ্রামের জমি-জিরা বলে কিছু নেই। চিকিৎসার অভাবে আমার ভাই মৃত্যুর মুখে পতিত হবে—এই ভয়ে আমি রাতেও ঘুমাতে পারি না।
আমার আর কেউ নেই, ভাইটাই আমার একমাত্র অবলম্বন। আপনি এবং আপনার দাতব্য সংস্থাই এখন আমার শেষ ভরসা। একজন অসহায় বোন হিসেবে আপনার নিকট বিনীত অনুরোধ, আমার ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য কিছু আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। আপনার এই মানবিক সহায়তা আমার ভাইকে নতুন জীবন দেবে।
আমার এই আবেদনটি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সাহায্য প্রদানের মাধ্যমে আমি ও আমার পরিবার চিরকৃতজ্ঞ থাকব।
নমস্কার ও শ্রদ্ধাভরে,
[স্বাক্ষর]
মোছাঃ রোকসানা বেগম
গ্রাম: দক্ষিণ পাইকপাড়া, ডাকঘর: বটতলা
থানা: সদর, জেলা: কুমিল্লা
মোবাইল: ০১৮২৫-৩৩৭৭৮৮ (কাল্পনিক নম্বর)
খ) মেয়ের বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পাদনের জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদন
তারিখ: ১০ জুন, ২০২৬
প্রতি,
প্রশাসক মহোদয়
অমর একুশে মানবিক ফাউন্ডেশন
৩২, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০
বিষয়: অসহায় পিতার পক্ষ থেকে মেয়ের বিবাহের ব্যয় নির্বাহের জন্য সাহায্য প্রার্থনা
জনাব প্রশাসক,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি মোঃ হানিফ মৃধা, পিতাঃ মৃত নজির মৃধা, বর্তমান ঠিকানাঃ ১২৩/ক, বস্তুহারা কলোনি, কমলাপুর, ঢাকা-১২২৪। আমি একজন ভ্যানচালক। দিনরাত খাটুনি খাটলেও যা আয় হয়, তাতে সংসারের চারজন মানুষের (আমি, আমার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে) মুখে দুই বেলা ভাত তুলে দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা ঢাকার একটি বস্তিতে একটি ছোট ঘর ভাড়া নিয়ে থাকি।
আমার বড় মেয়ে সুমি আক্তারের বয়স ২২ বছর। দুই বছর আগে তার বাবা হওয়ার দাবিদার এক যুবক তাকে বিয়ে না করেই চলে যায়। সেই থেকে মেয়েটি খুবই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং পরিবারের উপর বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি গ্রামের এক সহৃদয় ব্যক্তি (আব্দুর রউফ) মেয়েটির অবস্থা জেনে তাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছেন। বিয়েটি আমার মেয়ের জীবনের একমাত্র ভরসা। এটি সম্পন্ন করতে না পারলে হয়তো সে আর বাঁচবে না।
কিন্তু এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে কিছু খরচ তো আছেই—কাবিনের খরচ, অল্পস্বল্প কাপড়-চোপড়, এবং কিছু আত্মীয়-স্বজনকে একবেলা খাওয়ানো। প্রায় ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা খরচ হবে বলে ঠিক করেছি। এই টাকা জোগাড় করা আমার পক্ষে অসম্ভব। আমি অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু হিমশিম খেয়ে আপনার দ্বারস্থ হয়েছি।
আমার মেয়েটি অনেক কষ্ট পেয়েছে। তাকে সমাজের বুকে মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকারটুকু দিতে চাই। আপনার মানবিক সংস্থা যদি এই বিয়ের খরচের কিছু অংশ বহন করে দেয়, তাহলে আমি চিরদিন আপনার কাছে ঋণী থাকব। মেয়েটির ভবিষ্যৎ জীবনটুকু সুন্দর হোক—এই প্রত্যাশায় আপনার নিকট সাহায্যের হাত পাতছি।
আপনার সহায়তা কামনা করছি।
শ্রদ্ধাঞ্জলি সহ,
[স্বাক্ষর]
মোঃ হানিফ মৃধা
ঠিকানা: ১২৩/ক, বস্তুহারা কলোনি, কমলাপুর, ঢাকা-১২২৪
মোবাইল: ০১৭১১-৪৫৬৬৭৮ (কাল্পনিক নম্বর)
গ) ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করার জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদন
তারিখ: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
প্রতি,
সম্পাদক মহোদয়
শিক্ষা ও মানবকল্যাণ ট্রাস্ট
হাউস # ০৭, রোড # ০২, শেরে বাংলা নগর, ঢাকা
বিষয়: মেধাবী ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর জন্য আর্থিক সাহায্য প্রার্থনা
জনাব সম্পাদক,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি মোসাম্মৎ জরিনা খাতুন, স্বামীঃ মোঃ হাবিবুর রহমান (পেশায় দিনমজুর), গ্রামঃ পূর্ব শালিধারা, ইউনিয়নঃ সোনাপুর, থানাঃ ফুলগাজী, জেলাঃ ফেনী। আমরা অত্যন্ত গরিব পরিবার। স্বামীর অস্থায়ী কাজের আয়ে সংসার চলে না। কিন্তু তার পরও আমি আমার সন্তানদের লেখাপড়া শেখানোর জন্য সর্বদা চেষ্টা করে যাচ্ছি।
আমার ছেলে সোহেল রানা (২০) অত্যন্ত মেধাবী। ফেনী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (ফাইভ) পেয়ে পাশ করেছে। সম্প্রতি সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ই’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে মেধা তালিকায় সুযোগ পেয়েছে। গরিব ঘরের ছেলে হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখতে পারাটাই তার জন্য অনেক বড় কথা। আমি ও আমার স্বামী খুবই আনন্দিত হয়েছিলাম।
কিন্তু ভর্তির ফর্ম ফিলাপ, ভর্তি ফি (প্রায় ১৫,০০০ টাকা), হলের আবেদন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ (বইপত্র, কাপড়চোপড়) মিলিয়ে প্রায় ৩০,০০০ টাকা প্রয়োজন। আমাদের সামর্থ্যের বাইরে এই টাকা জোগাড় করা। আমরা যা পাই, তাতে খেয়ে না খেয়ে দিন চলে। আমরা ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু এত টাকা কেউ দিতে চায় না।
ছেলেটি দিনরাত পড়াশোনা করে এই স্বপ্ন দেখেছে। টাকার অভাবে যদি তার স্বপ্ন ভেঙে যায়, তবে সেটা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হবে। আপনার দাতব্য প্রতিষ্ঠানটি অসহায় মেধাবীদের পাশে থাকে বলে জেনেছি। সোহেল লেখাপড়া শিখে বড় হয়ে দেশের সেবা করতে চায়। তার এই স্বপ্ন পূরণে আপনারা সাহায্যের হাত বাড়ালে আমি ও আমার পরিবার চিরকৃতজ্ঞ থাকব।
একজন অসহায় মায়ের আবেদনটি মানবিকভাবে বিবেচনা করে সাহায্য করলে আমি আপনার কাছে ঋণী থাকব।
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতাসহ,
[স্বাক্ষর]
মোসাম্মৎ জরিনা খাতুন
পিতার নাম: মোঃ হাবিবুর রহমান
গ্রাম: পূর্ব শালিধারা, ডাকঘর: সোনাপুর
থানা: ফুলগাজী, জেলা: ফেনী
মোবাইল: ০১৮৫৫-৭৭২২৩৩ (কাল্পনিক)
ঘ) নিজের বিদেশ গমনের জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদন
তারিখ: ০৫ আগস্ট, ২০২৬
প্রতি,
চেয়ারম্যান মহোদয়
দুস্থ জনকল্যাণ সংস্থা (ডিজাকস)
বাড়ি # ২৩৪, রোড # ০৮, বায়তুল আমান হাউজিং, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
বিষয়: চাকরির সন্ধানে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার জন্য আর্থিক সাহায্য প্রার্থনা
জনাব চেয়ারম্যান,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি মোঃ বেল্লাল হোসেন, পিতাঃ মৃত ছমির উদ্দিন, বর্তমান ঠিকানাঃ ৪৫৬, পশ্চিম আগারগাঁও, ঢাকা-১২০৭। আমি একটি ভাড়া বাসায় থেকে ছোটখাটো কাজ করি। বয়স ৩২ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বেকার থাকার পর সম্প্রতি একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় একটি কোম্পানিতে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে চাকরির সুযোগ এসেছে। চিঠি পেয়েছি, মাসিক বেতন ৮০০ রিংগিট (প্রায় ২০,০০০ টাকা)।
এটি আমার জন্য একটি বড় সুযোগ। এই চাকরিটি পেলে আমি আমার সংসারের ভরণপোষণ ও ছোট ভাইবোনের লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারব। কিন্তু সমস্যা হলো, এজেন্সিকে পরিশোধ করতে হবে প্রায় ৮০,০০০ টাকা (ভিসা, টিকিট ও এজেন্সি ফি বাবদ)। আমার কাছে নিজের কোনো জমিজমা নেই। বাবা মারা যাওয়ার পর সব শেষ হয়ে গেছে। আত্মীয়স্বজনও অসহায়। এই টাকা জোগাড় করা আমার পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।
ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার কথাও ভেবেছিলাম, কিন্তু জামানত বা নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো কিছুই নেই। এই চাকরিটাই আমার জীবনের একমাত্র ভরসা। এই সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেলে আমি হয়তো আর কখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারব না।
আপনি এবং আপনার সংস্থা মানবতার কল্যাণে কাজ করছেন জেনে আপনার নিকট আবেদন জানাচ্ছি। আমি ট্রাভেল এজেন্সির কাগজপত্র ও জব অফার লেটারের কপি জমা দিতে প্রস্তুত আছি। আপনি যদি আমাকে এই ৮০,০০০ টাকা সাহায্য করেন, আমি চাকরি পেয়ে দেশে ফিরে তা পরিশোধ করার চেষ্টা করব। এই অর্থ আমার জীবনের দিশা খুঁজে দেবে।
আমার আবেদনটি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। আমি আপনার নিকট চিরকৃতজ্ঞ থাকব।
শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতাসহ,
[স্বাক্ষর]
মোঃ বেল্লাল হোসেন
ঠিকানা: ৪৫৬, পশ্চিম আগারগাঁও, ঢাকা-১২০৭
মোবাইল: ০১৬২২-৮৮৯৯০০ (কাল্পনিক)
জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর: ১৯৯২১২৩৪৫৬৭৮৯০ (কাল্পনিক)
ঙ) গ্রামের দরিদ্র বিধবা বয়স্ক নারীর ঘর মেরামতের জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদন
তারিখ: ০১ নভেম্বর, ২০২৬
প্রতি,
সহযোগী পরিচালক
গ্রামীণ পুনর্বাসন ও উন্নয়ন সংস্থা (গ্রাউস)
বাইপাইল, সাভার, ঢাকা
বিষয়: গ্রামের এক অসহায় বৃদ্ধা বিধবার জরাজীর্ণ ঘর মেরামতের জন্য আর্থিক সাহায্য প্রার্থনা
জনাব সহযোগী পরিচালক,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি মোঃ জালাল উদ্দিন, সাংবাদিক, গ্রামঃ পশ্চিম ভাদাইল, ইউনিয়নঃ তেঁতুলঝোড়া, উপজেলাঃ সদর, জেলাঃ টাঙ্গাইলের বাসিন্দা। আমি আমার গ্রামের একজন ক্ষুদ্র সাংবাদিক হিসেবে এলাকার দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরে সমাজের বিত্তবানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করি।
আমার গ্রামের এক অতি দরিদ্র বিধবা মহিলা মোছাঃ আমেনা খাতুন (বয়স প্রায় ৭০ বছর)। তার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি একেবারে একা। কোনো সন্তান নেই, নেই কোনো জমিজমা। এলাকার মানুষের দেয়া খেয়ে ও অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে দিন চালান তিনি। বর্তমানে তিনি একটি জরাজীর্ণ টিনসেড ঘরে থাকেন, যার অবস্থা খুবই শোচনীয়।
গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও ঝড়ে তার ঘরটি প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। টিনের চালা উড়ে গেছে অনেকটা, দেওয়ালে বড় ফুটো, চারদিক থেকে বাতাস-পানি ঢোকে। তিনি বলছিলেন, “আরেকটু বৃষ্টি হলেই হয়তো ঘরটা আমার মাথায় ভেঙে পড়বে। এত বুড়ো বয়সে মরতে ভয় লাগে না, কিন্তু মরার আগে মাথার ওপর একটু খড়-টড় চাই।” এই কথা শুনে আমার খুব কষ্ট হয়েছে।
তার ঘরটি মেরামত করতে সামান্য কিছু টিন, বাঁশ ও খরচ লাগবে—প্রায় ১৫,০০০ (পনের হাজার) টাকা। স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করেছি, কিন্তু টাকা জোগাড় করতে পারিনি। তাই একজন অসহায় বৃদ্ধার মুখের দিকে তাকিয়ে আপনার এই মানবিক সংস্থার নিকট সাহায্য চাইতে বাধ্য হলাম। তিনি নিজে কোনো আবেদন করতে পারেন না, তাই একজন সাংবাদিক হিসেবে তার প্রতিনিধি হয়ে এই আবেদন করছি।
আমরা যদি তাকে এই সামান্য সাহায্যটুকু করতে পারি, তাহলে তিনি তার শেষ বয়সে মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ ঠাঁই পাবেন। আপনার মানবিক সংস্থার পক্ষ থেকে এই মহৎ কাজে এগিয়ে এলে আমি এবং পুরো গ্রামবাসী আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।
আমার আবেদনটি বিবেচনা করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাই।
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতাসহ,
[স্বাক্ষর]
মোঃ জালাল উদ্দিন
সাংবাদিক
গ্রাম: পশ্চিম ভাদাইল, ডাকঘর: ভাদাইল
থানা: সদর, জেলা: টাঙ্গাইল
মোবাইল: ০১৭৪৪-৯৯৮৮৭৭ (কাল্পনিক)
ইমেইল: jalal.tangail@email.com
