বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার: একটি সমন্বিত রূপরেখা
(শিক্ষার পদ্ধতি ও কারিকুলাম পুনর্বিন্যাস)
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও গতিশীল করতে একটি সামগ্রিক কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য। নিম্নে প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা, কারিগরি ও বিশেষ শিক্ষা পর্যন্ত সকল স্তরের জন্য একটি সমন্বিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হলো।
প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা
প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যসূচি
প্রাথমিক বিদ্যালয় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণ করতে হবে। প্রাথমিক স্তরে যেসব বিদ্যালয় সম্ভব, সেগুলো দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হবে। মূল্যায়ন পদ্ধতি হবে নিম্নরূপ:
-
শিক্ষার্থীদের চারটি মৌলিক দক্ষতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে:
-
ক) ব্যবহারিক দক্ষতা (Practical Skills)
-
খ) সামাজিক ও যোগাযোগ দক্ষতা (Social & Communication Skills)
-
গ) সাংস্কৃতিক দক্ষতা (Cultural Skills)
-
ঘ) পাঠাভ্যাস দক্ষতা (Reading Skills)
-
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ, বিদ্যালয় কমিটি, অভিভাবক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে এই মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষোত্তর বিশেষ কর্মসূচি
“জীবনমুখী পাঠ” কর্মসূচি
অষ্টম শ্রেণি শেষে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ছয় মাসব্যাপী “জীবনমুখী পাঠ” শীর্ষক একটি বিশেষ কোর্স চালু করতে হবে।
কোর্স পরিচালনা:
-
একজন সমন্বয়ক এই কর্মসূচির দায়িত্বে থাকবেন
-
এলাকার সফল ব্যক্তি ও পেশাজীবীরা এখানে প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নেবেন
-
কোর্সটি মেয়াদোত্তীর্ণ হবে না (নন-এক্সপায়ারেবল)
কোর্সে অংশগ্রহণে যোগ্য:
-
যারা পরীক্ষায় অংশ নেবেন (নিয়মিত শিক্ষার্থী)
-
যারা পূর্বে অষ্টম শ্রেণি পাস করেছেন
-
যারা স্বেচ্ছায় কোর্সটি করতে চান
কোর্সের বিষয়বস্তু:
-
ক) সাধারণ জ্ঞান: দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় বিষয়
-
খ) কৃষি, উদ্যান ও বনায়ন
-
গ) মাছ চাষ ও প্রাণিসম্পদ
-
ঘ) ড্রাইভিং ও ট্রাফিক আইন
-
ঙ) সফট স্কিল: যোগাযোগ দক্ষতা, সিভি রাইটিং, উপস্থাপনা কৌশল
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা
মাধ্যমিক স্তরের কাঠামো
মাধ্যমিক শিক্ষা শুরু হবে নবম শ্রেণি থেকে এবং শেষ হবে দ্বাদশ শ্রেণিতে। এ স্তরে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বাংলার পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা (যেমন ইংরেজি, আরবি, ফরাসি, চায়না, মালয়, কোরিয়ান) অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
চারটি মৌলিক দক্ষতা:
-
সামাজিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা
-
পারিবারিক ও প্রতিষ্ঠানগত দায়িত্ব পালন
-
বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জন
মাধ্যমিকোত্তর ডিপ্লোমা কোর্স
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষে এক বছর মেয়াদি একটি বিষয়ভিত্তিক ডিপ্লোমা কোর্স চালু করতে হবে। এতে অংশগ্রহণকারীরা পরবর্তীতে সরাসরি কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত হতে পারবেন অথবা স্নাতক পর্যায়ে প্রবেশ করতে পারবেন।
কোর্সের বৈশিষ্ট্য:
-
প্রবন্ধ রচনা, রিপোর্ট তৈরি, ই-মেইল, ডাটাবেজ, মাইক্রোসফট অফিস, আইসিটি বেসিক
-
ব্যবহারিক কাজ: ড্রইংস, ড্রাইভিং, ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্ক
-
বিষয়ভিত্তিক ডিপ্লোমা (শিক্ষা ও বয়সের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ)
-
মূল্যায়ন পদ্ধতি: ২৫% লিখিত, ২৫% মৌখিক ও মানসিক, ২৫% অ্যাসাইনমেন্ট ও কারিকুলামভিত্তিক, ২৫% ব্যবহারিক
সম্ভাব্য ডিপ্লোমা বিষয়:
-
মার্কেটিং ম্যানেজমেন্ট
-
ট্রাভেলজিজম
-
ইংরেজি, জার্মান, ফ্রেন্স, জাপানি ভাষা
-
ডিজিটাল মিডিয়া
উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়
উচ্চমাধ্যমিক স্তর
উচ্চমাধ্যমিক স্তরে বয়স অনুযায়ী শিক্ষার্থীর জন্য পাঠ্যবইয়ের বাইরে কিছু বিষয় আবশ্যক করতে হবে, যেমন:
-
সিভি তৈরি
-
ব্যক্তিগত দক্ষতা (গান বাজনা, চিত্রাঙ্কন)
স্নাতক পর্যায়ের সার্টিফিকেট কোর্স
উচ্চমাধ্যমিক শেষে বিভিন্ন বিষয়ে এক বছরের ট্রেড ভিত্তিক সার্টিফিকেট কোর্স চালু করা যেতে পারে। বিশ্বব্যাপী হাজারো বিষয়ে সার্টিফিকেট কোর্স বিদ্যমান। প্রতিবছর ১০টি করে শুরু করা যেতে পারে।
কোর্সের বৈশিষ্ট্য:
-
কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই
-
নির্দিষ্ট পাঠ্যপুস্তক নেই
-
মেয়াদোত্তীর্ণ নয়, চাকরির জন্য প্রযোজ্য
-
যেখানে শিক্ষার্থী বেশি, সেখানে কোর্স সংখ্যা বাড়বে
-
উচ্চশিক্ষা কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ও বার্ষিক সমন্বিত
-
৫০% ব্যবহারিক ও বাস্তব জ্ঞানের ওপর গুরুত্ব
কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা
কারিগরি শিক্ষার পাঠ্যসূচি
কারিগরি শিক্ষার বর্তমান পাঠ্যসূচি হালনাগাদ করতে হবে। এটি এমন হতে হবে যেন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়।
একাধিক পাঠ্যসূচির সুযোগ
দেশে সরকারি ও বেসরকারি একাধিক পাঠ্যসূচি প্রচলন করা যেতে পারে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চাইলে ভিন্ন ভিন্ন কোর্সের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কারিকুলাম অনুসরণ করতে পারবে।
সনদ নিশ্চিতকরণ
কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে কোর্স শেষে ও পাঠ্যসূচি শেষে সনদ নিশ্চিত করতে হবে। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়ার সময় এটি শর্ত হিসেবে রাখতে হবে।
পেশাভিত্তিক বিষয় অন্তর্ভুক্তি
গ্রাফিক ডিজাইন, অ্যানিমেশন, ই-কমার্স বিষয়েও সার্টিফিকেট কোর্স চালু করতে হবে।
শর্ট কোর্সের ব্যবস্থা
সনদপ্রাপ্তির অযোগ্য হলে প্রতিটি ইনস্টিটিউটে স্বল্পকালীন ও ব্যবহারিক শর্ট কোর্সের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
স্নাতকোত্তর পর্যায়
স্নাতকোত্তর স্তরে আবশ্যক বিষয়
স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে বিষয়ভিত্তিক পাঠের সাথে সাথে আবশ্যক বিষয় হিসেবে আইসিটি, যোগাযোগ দক্ষতা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে (অতিরিক্ত বিষয় হিসেবে)।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ
প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের বেসরকারি ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।
স্নাতকোত্তরে ডিপ্লোমা কোর্স
স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পূর্বোক্ত তালিকা অনুযায়ী এক বছরের বিষয়ভিত্তিক ডিপ্লোমার সুযোগ রাখতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জন্য ডিপ্লোমা আবশ্যক করতে হবে। অন্যদের জন্য ঐচ্ছিক করা যেতে পারে।
রিসার্চের স্বীকৃতি
যে বিষয়ে রিসার্চ করবেন, সে বিষয়ে কেউ ডিপ্লোমা করলে তার আলাদা ওয়েভার পাইভিের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
স্নাতকোত্তর পরবর্তী পর্যায়
এ পর্যায়ে এমফিল ছাড়া কোনো বিশেষ শিক্ষা থাকবে না। সবাইকে আগে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করতে হবে। সেমিনারের মাধ্যমে তা শেষ করতে হবে।
তৃতীয় ভাষা: এটি চতুর্থ বিষয় হিসেবে থাকবে। থাকবে যেকোনো ১টি বিষয়ে ১ বছরের ট্রেড ভিত্তিক সার্টিফিকেট কোর্স (যদি তার কোর্সটি সাধারণ বা কারিগরি না হয়)।
যাদের পেশাভিত্তিক বা কারিগরি ডিগ্রি নেই এবং যারা সাধারণ ডিগ্রিধারী, তাদের জন্য সেমিনারের পূর্বে ১টি ট্রেড ভিত্তিক সার্টিফিকেট কোর্স আবশ্যক করতে হবে।
বিশেষ শিক্ষা
সরকারি চাকরির জন্য বিশেষ কোর্স
সরকারি কাজের জন্য বিশেষ ধরনের কোর্স রচনা করা প্রয়োজন।
বিভিন্ন পেশাজীবীর জন্য কোর্স
শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীদের মতো আইনপ্রণেতা, সমাজকর্মী, ধর্মীয় নেতাদের জন্য স্বল্পকালীন কিছু কোর্স থাকা জরুরি।
পরিবহন ও যানবাহন সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ
-
পরিবহন ডিভাইস, বাস টার্মিনাল, ড্রাইভারদের পেশাগত প্রশিক্ষণ
-
আইন ও আচরণ সংশ্লিষ্ট কোর্স
-
গাড়িতে যাত্রী পরিবহনের জন্য নির্ধারিত স্থানে লিখিত নির্দেশনা
-
ড্রাইভিং দক্ষতা, সচেতনতা, প্রশিক্ষণ সম্পর্কিত তথ্য
বিদেশগামী কর্মীদের জন্য ব্যবস্থা
বিদেশে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিতদের অগ্রাধিকার, ভিসা ও টিকিটিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। তাদের জন্য সাধারণ আইন ও আচরণ সংশ্লিষ্ট বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ আবশ্যক করতে হবে।
৮.৫ সাধারণ নাগরিকের জন্য সুযোগ
উপরোক্ত প্রশিক্ষণের সুযোগ সাধারণ বেসরকারি নাগরিকদের জন্যও উন্মুক্ত রাখা যেতে পারে।
প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য ব্যবস্থা
প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য জেলা পর্যায়ে বিশেষ উইংস সেন্টার থাকবে। সেখানে কোনো ভর্তি পরীক্ষা নয়, বরং ধর্ম, আচরণ, নিয়মের সাথে ভাষাগত দক্ষতা, সফট স্কিলসহ অন্যান্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।
সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রম
অঙ্গীভূত শিক্ষা
কিছু কিছু কারিগরি শিক্ষাকে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে অঙ্গীভূত করে সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।
স্কুলভিত্তিক কোর্স
স্কুলগুলোতে শর্ট কোর্স, সার্টিফিকেট কোর্স ও ১ বছরের ডিপ্লোমা কোর্স চালু করা যেতে পারে। এসব কোর্সে স্কুলে একজন সমন্বয়ক নিয়োগ দেবে। বাকি সকল শিক্ষক হবেন খাতসংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ অতিথি শিক্ষক। তারা ক্লাসভিত্তিক সম্মানি পাবেন। সরকার সিলেবাস প্রণয়ন, পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার দায়িত্বে থাকবে।
অনিয়মিত শিক্ষা কর্মসূচি
বয়সভিত্তিক অনিয়মিত শিক্ষার্থী
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বয়সভিত্তিক নিয়মিত শিক্ষার্থী ছাড়া যেকোনো বয়সের শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে। তারা অনিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে এবং শুধু পরীক্ষা দেবে (ক্লাস করবে না)।
কোচিং সেন্টারভিত্তিক কোর্স
দক্ষতামূলক কিছু কোর্সে সরকার শুধু সিলেবাস, পরীক্ষা ও ফলাফল প্রদান করবে। এর জন্য শিক্ষার্থীরা নিজে অথবা কোচিং সেন্টারে প্রস্তুতি নেবে।
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষণ
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষণ কার্যক্রমের অধীনে বিভিন্ন কারিগরি, আধা-কারিগরি ও কোমল দক্ষতাভিত্তিক কোর্স চালু করতে হবে।
পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কার
ক) ১ম থেকে ৪র্থ শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা নিরুৎসাহিত করতে হবে এবং বাধ্যতামূলক করা যাবে না। এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর ছেড়ে দিতে হবে।
খ) ৫ম থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা অনুসারে শিক্ষার্থীদের ২ ধরনের দল থাকবে। কেউ চাইলে পরীক্ষা দিতে পারবে, আবার না চাইলে পরীক্ষা না দিলেও পারবে। সেক্ষেত্রে তাকে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি ও অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।
গ) পরবর্তী স্তরে যথারীতি পরীক্ষা থাকবে। তবে বিষয়ভেদে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য ক্লাস করা বাধ্যতামূলক হবে না। তবে একটি বিদ্যালয়ে ন্যূনতম কত শতাংশ বা কতজন নিয়মিত শিক্ষার্থী থাকতে হবে, তা বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে।
অল্প শিক্ষার্থীর স্কুল ব্যবস্থাপনা
যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৩০ জনের কম, সেসব বিদ্যালয়কে সরকারি ব্যবস্থাপনা থেকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ছেড়ে দিতে হবে। তবে সরকার চাইলে সেখানে সরকারি শিক্ষক রাখতে পারে, নাও রাখতে পারে।
শর্তাবলি:
-
প্রতি ৩০ জনের জন্য ১ জন শিক্ষক থাকবেন
-
শিক্ষার্থী অনুপাতে সরকার বেতন দেবে
-
স্কুল পরিচালনায় থাকবে স্থানীয় পরিষদ
-
শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫০ ছাড়ালে সরকার তা গ্রহণ করবে
-
সরকার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বার্ষিক অনুদান প্রদান করবে
আঞ্চলিক শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক
সরকারি স্কুলগুলোর জন্য সরকার অঞ্চল, বোর্ড ও বিভাগভিত্তিক আলাদা শিক্ষাক্রম ও ভিন্ন ভিন্ন পাঠ্যপুস্তক রচনা করবে। শিক্ষাক্ষেত্রে বৈচিত্র্য, বেশি অন্তর্ভুক্তি, শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের বৈচিত্র্য ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মানোন্নয়নের জন্য এমনটা করা হবে।
সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের জন্য: জাতীয় শিক্ষাবোর্ড বা ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের সাথে মিলে কোনো বোর্ড চাইলে যৌথ পাঠক্রম ও বই তৈরি করতে পারবে। অথবা অন্য বোর্ডের বই কিছুটা সম্পাদনা করে নিজেদের জন্য তৈরি করতে পারবে। তবে তা অধিদপ্তর কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশিকার আলোকে হবে এবং সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হবে।
অন্যান্য প্রসঙ্গ
প্রযুক্তি শিক্ষার সঠিক ধারণা
শিক্ষা ও কারিগরি ক্ষেত্রে ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে হবে। যেমন—কম্পিউটার প্রশিক্ষণ। কম্পিউটারের নামে কোনো কাজ হয় না। এটি একটি টুল, যা
