রাজনৈতিক সংস্কার: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সঙ্কট ও পুনর্গঠনের অনিবার্যতা
‘রাজনীতি’ শব্দটির অর্থই হলো জনগণের কল্যাণে নগররাষ্ট্র পরিচালনার কলা-কৌশল। অ্যারিস্টটল থেকে আমরণ, রাজনীতির মূল বক্তব্য ছিল মানুষের জন্য, সমাজের জন্য একটি সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এসে এই শব্দটি যেন তার মহৎ অর্থ হারিয়ে ফেলেছে। বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা—সবকিছুর কেন্দ্রে ছিল একটি শোষণমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে রাজনৈতিক চর্চার যে রূপান্তর ঘটেছে, তা আজ রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে এক ভয়াবহ সঙ্কটের জন্ম দিয়েছে।
স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও আমরা রাজনীতির নামে যা দেখছি, তা মূলত ক্ষমতা দখলের এক লাগামহীন প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় জনকল্যাণ, নীতি-আদর্শ, এমনকি মানবিক মূল্যবোধ পর্যন্ত বলি হয়ে গেছে। রাজনীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে এক ‘জিরো-সাম গেম’-এ, যেখানে এক পক্ষের জয় মানেই অপর পক্ষের সম্পূর্ণ ধ্বংস। এই ধ্বংসাত্মক চর্চার ফলেই রাজপথ থেকে সংসদ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রশাসন—সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে এক বিষাক্ত ছায়া। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের রাজনৈতিক সংস্কার কেবল একটি দাবি নয়; এটি রাষ্ট্র ও সমাজের টিকে থাকার অনিবার্য শর্ত। এই নিবন্ধে আমরা বাংলাদেশের রাজনীতি চর্চার জটিল সমস্যা ও তার কারণগুলোর গভীরে প্রবেশ করে, একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ সন্ধানের চেষ্টা করবো।
১. দলীয় সংঘাতপূর্ণ রাজনীতি ও অসহিষ্ণুতা
বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় বাধা হলো দলীয় সংঘাত এবং অসহিষ্ণুতার সংস্কৃতি। রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিপক্ষকে কেবল ভিন্নমতাবলম্বী নয়, শত্রু হিসেবে দেখে। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা হামলা, মামলা ও হেনস্তার শিকার হন। জনমত গঠনের পরিবর্তে হরতাল-অবরোধের মতো সহিংস কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের দাবি আদায়ের প্রবণতা রাজনীতির স্বাভাবিক গতিপথকে বাধাগ্রস্ত করে।
এই সংকটের শেকড় অনেক গভীরে। ১৯৭১ সালের পর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন তীব্র আকার ধারণ করে । ধীরে ধীরে এই আদর্শিক বিভাজন ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও দলকেন্দ্রিক ক্ষমতার লড়াইয়ে পরিণত হয়। ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণের প্রবণতা এবং দলীয় স্বার্থকে রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার মানসিকতা থেকে এই অসহিষ্ণুতা জন্ম নেয়। ক্ষমতাসীন দলের নিবিড় সহযোগী হলে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করেও পার পাওয়া যায়—এই ধারণা সুশাসন ও আইনের শাসনকে ক্ষুণ্ন করেছে ।
২. বহু নির্বাচনে অংশ না নেওয়া বা নির্বাচন বর্জন
গণতন্ত্রের মূলভিত্তি হল সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। কিন্তু বাংলাদেশে নির্বাচন দীর্ঘদিন ধরে আস্থার সংকটে ভুগছে। বিগত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে বিরোধী দলের অনুপস্থিতি বা অংশগ্রহণ না করার কারণে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে। একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের প্রবণতা প্রতিষ্ঠার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট পত্র ছিনতাই, জাল ভোটের মাধ্যমে ফলাফল নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রাজনীতির অঙ্গন থেকে মুছে যাচ্ছে না ।
এর মূল কারণ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর গভীর অনাস্থা। প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে দেখা গেছে। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সবখানে ক্ষমতাসীন দলের ‘অলিখিত সহযোগিতা চুক্তি’র কারণে বিরোধী দল নিজেদের নিরাপদ মনে করে না । বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী ব্যবস্থা ও নিরপেক্ষ প্রশাসনের অভাবে নির্বাচন উৎসবের পরিবর্তে ‘ক্ষমতা ধরে রাখার মহড়া’তে পরিণত হয়েছে।
৩. ছাত্র ও যুব রাজনীতির অপরাধীকরণ
একসময়ের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের আন্দোলনের সুতিকাগার ছিল ছাত্র রাজনীতি । কিন্তু বর্তমানে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র রাজনীতির নামে চলছে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীরা রাজনীতির নামে অস্ত্র হাতে তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছে। হলের সিট দখল থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের আধিপত্য বিস্তার—সবকিছুই এখন দলীয় সমর্থকদের শক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা বাদ দিয়ে জোর করে মিছিলে যেতে বাধ্য করা হয়, যা শিক্ষার পরিবেশকে নষ্ট করছে ।
ছাত্র রাজনীতির এই অধঃপতনের প্রধান কারণ হলো একে আদর্শগত না করে ক্ষমতা ও সুবিধাভিত্তিক করে তোলা। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় অপরাধীরা দায়মুক্তি পায় এবং ছাত্র সংগঠনের নেতা হয়ে দলের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে গড়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রশাসনের দলীয়করণও এই অপরাধীকরণকে উৎসাহিত করেছে । ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আজ ছাত্র রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং নিজেদের অধিকার আদায়ে কোটা সংস্কার বা নিরাপদ সড়কের মতো স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনে ঝুঁকছে ।
৪. দলীয়করণ ও পক্ষপাতমূলক প্রশাসন
প্রশাসনকে সব সময় নিরপেক্ষ ও পেশাদার থাকার কথা। কিন্তু বাংলাদেশে প্রশাসনকে ক্ষমতাসীন দলের অনুগত করার একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তাদের রদবদল, নিজেদের পছন্দের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়ে ‘ফিট তালিকা’ তৈরির প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে । এই প্রক্রিয়ায় মেধা ও দক্ষতার চেয়ে দলের প্রতি আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
১৯৯০-এর দশক থেকে প্রশাসনের এই দলীয়করণের প্রবণতা আরও প্রকট হয়। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ—উভয় দলই ক্ষমতায় এসে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নিজেদের অনুগত কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে সুশাসনের পথে বাধা সৃষ্টি করেছে । এতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নষ্ট হয়ে যায় এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের সেবক না থেকে ক্ষমতাসীন দলের ‘দলীয় কর্মী’তে পরিণত হয়। নির্বাচনের সময় এই পক্ষপাতদুষ্ট প্রশাসন ভোট ডাকাতির মতো অভিযোগের জন্ম দেয়, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে।
৫. দুর্নীতি ও কালো টাকার প্রভাব
রাজনীতিতে দুর্নীতি ও কালো টাকার প্রভাব এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলো সরাসরি রাজনীতিতে অর্থায়ন করে এবং বিনিময়ে নীতিগত সুবিধা আদায় করে নেয় । নির্বাচনী খরচের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এবং দলীয় অর্থায়নের স্বচ্ছতার অভাবে কালো টাকার মালিকরা নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তার করে। এর ফলে দরিদ্র কিন্তু সৎ প্রার্থীরা নির্বাচনে টিকতেই পারেন না ।
বাংলাদেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কালো টাকা সৃষ্টি হয়। চিকিৎসক, প্রকৌশলীদের অপ্রদর্শিত আয়, ঘুষ-দুর্নীতি, অর্থপাচার, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা, জমি ক্রয়-বিক্রয়ে অনিয়ম—সব মিলিয়ে এই কালো টাকার পরিমাণ জিডিপির ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে । এই কালো টাকা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে এবং রাজনীতিকে করে তোলে পুঁজিপতি শ্রেণির হাতের খেলনা। তাই দুর্নীতি ও কালো টাকা নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে রাজনৈতিক সংস্কার সম্ভব নয়।
৬. সংসদের কার্যকারিতা দুর্বল
গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র হলো জাতীয় সংসদ। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশের সংসদ কার্যত সরকারের কথা বলার একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বিরোধী দলের সদস্যদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয় না। সংসদীয় কমিটিগুলোতে সরকারের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকায় আইন প্রণয়ন ও সরকারি কার্যক্রমের ওপর কার্যকর তদারকি সম্ভব হয় না ।
একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা থাকে ক্ষীণ। বিরোধীরা সরকারের নানা দমন-নিপীড়নের শিকার হয়। ফলে সংসদে গঠনমূলক আলোচনার পরিবর্তে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও দলীয় সংঘাতই বেশি চোখে পড়ে। এই অবস্থায় সংসদ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয় এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ হওয়ার পরিবর্তে ক্ষমতাসীন দলের ইচ্ছানুযায়ী পরিচালিত হয়।
৭. রাজনীতিতে পরিবারের আধিপত্য ও বংশগত নেতৃত্ব
বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলই মূলত পরিবারকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগে যেমন শেখ পরিবারের প্রভাব সর্বত্র, তেমনি বিএনপিও জিয়া পরিবারের হাতে আবর্তিত হচ্ছে । এই বংশগত নেতৃত্বের কারণে দলের ভেতরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। নতুন ও মেধাবী নেতৃত্ব গড়ে ওঠার সুযোগ পায় না। প্রবীণ নেতারা пожизненный জন্য পদে আঁকড়ে থাকেন এবং নবীনদের সামনে এগিয়ে আসার পথ বন্ধ করে দেন ।
দলীয় কাউন্সিল ও নির্বাচন নিয়মিত না হওয়ায় এই পরিবারতন্ত্র আরও মজবুত হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশে পরিবারতন্ত্রের উদাহরণ থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তা প্রশমিত হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে দলগুলো নিজেদের স্বার্থে এই কাঠামো টিকিয়ে রাখতে চায় । এর ফলে রাজনীতি হয়ে ওঠে একচেটিয়া কারবার, যার সঙ্গে সাধারণ মানুষের কোনো সম্পর্ক থাকে না।
৮. রাজনীতিতে ধর্ম ও মুক্তিযুদ্ধের ব্যবহার
বাংলাদেশের রাজনীতির আরেকটি মারাত্মক সমস্যা হলো ধর্ম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভোটব্যাংকের রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা। একদিকে যেমন ধর্মীয় লেবাস ধারণ করে সহজ সরল মানুষদের সাথে প্রতারণা করা। অন্যদিকে অন্যদিকে ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ধর্মবিরোধী কার্যকলাপ চালিয়ে সমাজে বিভক্তি সৃষ্টি করা হয় ।
একইভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে যা এই জাতিকে বিভক্ত করা এবং বিদেশী শক্তির কাছে দেশের নিরাপত্তা তুলে দিয়ে দেশের অস্তিত্বকে সংকটে ফেলা হয়।
একাত্তরের চেতনাকে পুঁজি করে দলীয় স্বার্থ চরিতার্থ করা হয়। এই দ্বিচারিতা মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাকে ক্ষুণ্ন করে এবং সমাজে মৌলবাদ ও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি করে। আইনের প্রয়োগে পক্ষপাতিত্ব এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
৯. রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সহিংসতা ও জনদুর্ভোগ
হরতাল, অবরোধ, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ—এই সব কর্মসূচির নামে রাজনৈতিক দলগুলো যখন রাস্তায় নামে, তখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ। গণপরিবহন বন্ধ, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ—এসবের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতে চায়, কিন্তু এর মূল্য দিতে হয় দেশের অর্থনীতিকে এবং সাধারণ নাগরিকদের ।
এই কর্মসূচিগুলোতে জনমতের কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয় না। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে, জনগণকে তাদের এই লড়াইয়ের পণবন্দী করে রেখে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মনে রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও অনাস্থা তৈরি হয়।
১০. স্বাধীন গণমাধ্যম ও নাগরিক মতামতের প্রতি অশ্রদ্ধা
গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ হলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম এবং নাগরিকদের স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার। কিন্তু বাংলাদেশে ভিন্নমত দমন করার জন্য সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করার নানা অপচেষ্টা চোখে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মতপ্রকাশ করলে ফৌজদারি মামলা ও হয়রানির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে ।
ক্ষমতার সমালোচনা সহ্য না করার মানসিকতা থেকেই এই প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বাকস্বাধীনতাকে প্রায়ই রাষ্ট্রদ্রোহের মতো মনে করা হয়। যদিও অপসাংবাদিকতা ও গুজব ছড়ানোর প্রবণতা থেকেও যায়, তার সমাধান গণমাধ্যমের ওপর লাগাম টেনে ধরার মাধ্যমে নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে হওয়া উচিত।
উপরোক্ত সমস্যাগুলো ইঙ্গিত করে, বাংলাদেশের রাজনীতি একটি গভীর সাংগঠনিক ও নৈতিক সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। দলীয় স্বার্থ, অসহিষ্ণুতা, দুর্নীতি ও সহিংসতার এই চক্র ভাঙতে প্রয়োজন গভীর ও বহুমাত্রিক রাজনৈতিক সংস্কার। নির্বাচন ব্যবস্থা ও প্রশাসনের সংস্কার যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ গঠনতন্ত্রকে গণতান্ত্রিক করা, নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের জন্য সুযোগ তৈরি করা এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা। এই সংস্কার কার্যকর না হলে, শুধু শাসকের হাত বদল হবে, কিন্তু রাজনীতির এই রোগমুক্ত চর্চা কখনো বদলাবে না—যা শেষ পর্যন্ত দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করবে। তাই রাজনৈতিক সংস্কার কেবল একটি তাত্ত্বিক আলোচনা নয়; এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি।
লেখাটি জাহাঙ্গীর আলম শোভনের দেয়া পয়েন্ট বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পূণলিখন করা হয়েছে।
