st martin shovon

সেন্টমার্টিন দ্বীপে আমাদের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও অন্যান্য

সেন্টমার্টিন দ্বীপে আমাদের পরিচ্ছন্নতা অভিযান 

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

 

একটা প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি। আপনাকে এক হাজার কোটি টাকা দিলে আপনি কি করতেন? জানি আমাদের অনেকের অনেক পরিকল্পনা আছে। টাকা নিয়ে কারো এক কোটির কারো একশ কোটির কারো বা আরো বেশীর। আর না থাকলেও টাকা হাতে পেলে পরিকল্পনা করাই যাবে। কিন্তু নিশ্চয়তা দিয়ে বলা যায়না যে, সেটা সঠিক পরিকল্পনা হবে কিনা? টাকার হিসেবটা সহজ। কারণ টাকা এমন এক মাধ্যম যা অন্য যেকোনো সম্পদ বা রিসোর্স এর সাথে বিনিময় করা যায়।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, সরাসরি টাকাকে ভোগ করা যায়না। মানে একে দিয়ে শরবত বানানো যায়না কিংবা গায়ের জামাও নয়। তবে সব উপযোগিতায় তাকে পরিবর্তন করা যায় বলে তার এতো চাহিদা। কিন্তু আপনি যদি একজন স্বপ্নচারি মানুষের কাছে জানতে চান। আপনাকে একটা দেশ দিলে আপনি কি করবেন। সত্যিকারের বদল-কারিগর বা চেঞ্জ ম্যাকাররা হয়তো তাতে নতুন পৃথিবীর জন্য কিছু উপহারই দিতে পারবেন।

আচ্ছা আপনাকে যদি একটি ছোট দ্বীপ দেয়া হয় তাহলে আপনি কি করবেন? আমি নিজে অহোরাত্র এই স্বপ্নটা দেখেছি। আমার একটি নিজের দ্বীপ থাকবে। আহা সেটা নিয়ে আমার কতো না স্বপ্ন। সেতো অনেক বড়ো কথা। যে কাউকে আপনি একটা দ্বীপ দিলে তা এক লাইনে হয়তো সে বলতে পারবেনা তার সেখানে কি করার আছে। আর যদি বলা যায় হয়তো বলবে আমি একটি শান্তির আবাসন বানাতে চাইবো। আর যাই করুক অন্তত সেটা নষ্ট হতো দিতো না।

মানে আমার আপনার যদি একটা ছোট সুন্দর দ্বীপ থাকে। তাহলে আমরা সেটাতে আর যাই করি অন্তত তা নষ্ট হতে দেবনা।

২০১৬ সাল। ১২ ফ্রেব্রুয়ারী আমি পায়ে হেঁটে পদযাত্রা শুরু করি বাংলাবান্দা জিরোপয়েন্ট থেকে এটা ২৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে শেষ হলেও। পরের দিন আমি সেন্টমার্টিনে গিয়ে দ্বীপের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে যাই।

আমার এই সফরটা সুন্দর ছিল। কিন্তু আনন্দটা বিষাদে রুপ নিয়েছিল। কারণ ততদিনে আমরা এই দ্বীপটাকে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করেছিলাম। বিশেষ করে দ্বীপের সর্বত্র প্লাস্টিকের বোতল আর চিপসের প্যাকেট ও কারেন্ট জালের বজ্য মিলে সে এক ত্রাহি অবস্থা।

পরের বছর থেকে আমি শুরু করি সেন্টমার্টিন পরিচ্ছন্নতা অভিযান। সাথে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্প। আমার ডাকে সাড়া দিল ভলানটিয়ার বাংলাদেশ ট্রাস্ট। তাদের সদস্যরা যোগ দিয়ে প্রতি বছর এই আয়োজনকে সফল করে তুলে। চলতি বছর ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ৯০ জনের দল নিয়ে আমরা সেন্টমার্টিন পরিচ্ছন্নতা অভিযান সম্পন্ন করি।

২ দিনে আমরা দুটো সৈকত পরিষ্কার করি। সাথে আমরা ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্প করি সেখান বিএন হাইস্কুল ও বাজার এলাকায় যেমনটা প্রতিবছর করি। এবার আমরা ২ জন ডাক্তার নিয়েগিয়েছিলাম একজন মেডিসিন ও একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ। তারাও দুইদিনই ক্যাম্প পরিচালনা করেছেন। সাথে কিছু ঔষধও বিতরণ করেছি আমাদের সামান্য সামার্থ ও সহযোগিতার জেরে।

আমরা মনে করতে পারি, এখানে মানুষের বসতি স্থাপিত হয় ১৮৯০ সালের দিকে। তারপর বিগত ২শ বছর আমরা তেমন একটা তাদের খোজ খবর রাখিনি। বাংলাদেশের অংশ হয়েও তারা তেমন কিছু পায়নি। নিজেরা এই দ্বীপকে গড়েছে এবং রক্ষা করেছে। সর্বশেষ ১৯৯১ সালের প্রাকৃতিক দূর্যোগে কিছু ক্ষতি হলেও বড়ো ধরনের দূর্ঘটনা থেকে এই দ্বীপ নিজেকে নিরাপদই রেখেছে বলা যায়।

সেন্টমার্টিন জনপ্রিয় হয়ে উঠে কয়েকটি কারণে, ১. আধুনিক যুগে কিছু গবেষক, সাংবাদিক ও আলোকচিত্রি এর ছবি জনসম্মুখে নিয়ে আসেন। ২. ১৯৯৩ সালের পর প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমানশাহ ও মৌসুমী অভিনীত ও শিবলী সাদিক পরিচালিত ‘‘অন্তরে অন্তরে সিনেমার ভিডিওতে সেন্টমার্টিন ও শাহপরীর দ্বীপের সৌন্দর্য চ লমান ছবিতে ধরা দেয়। ৩. জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হুমায়ন আহমেদ সেখানে একটি বাড়ি করার পর মানুষের আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। ৪ এবং সর্বশেষ ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক মীর কাসিম আলী তার চট্টগ্রাম টু কক্সবাজারে একটি বিনোদতরী চালু করার পর এটি জনপ্রিয় না হলে তিনি টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন রুটে এটিকে স্থানান্তর করার পর শুরু হয় সেন্টমার্টিনে নিয়মিত পর্যটন।

তার আগে এখানে হাজার তিনেক মানুষ ছিলেন যারা এর আশপাশে মাছ ধরে দিব্যি তাদের জীবন চালিয়ে নিয়েছেন। এখন একদিকে জনসংখ্যা হয়ে গেছে ৮ হাজার, সমূদ্র এলাকায় মাছ পাওয়া যায় কম তার উপর তাদের বেশীর ভাগ আবার পর্যটন নির্ভর হ|য়ে পড়েছে।

সম্প্রতি সরকার দ্বীপে পর্যটন নিয়ন্ত্রণ করলে বিতর্ক ও আলেোচনায় রয়েছে সেন্টমার্টিন।

বিগত বছরগুলোতে পর্যটন, স্থানীয় জনগনের স্বার্থ এবং পরিবেশ এই তিনটি জিনিস ঠিক রেখে কিভাবে কি করা যায় এই নিয়ে আমি অনেকবার কথা বলেছি স্থানীয় লোকজন থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রী পর্যন্ত। মজার ব্যাপার হলো সরকারের কোনো দপ্তর বা স্তর কেউ দায়িত্বিই নিতে চাইনি। সবাই বলল এটা নাকি তাদের কাজ না।

অন্তবর্তী সরকারের সময় পরিবেশ অধিদপ্তর দায়িত্ব নিয়ে নানা অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত দিয়েছে। সেগুলো কেন জনপ্রিয় নয় তা পরে আসছি। প্রথমে বলে নিই। আমি এমন কি বলেছি যার জন্য কেউ দায়িত্ব নিতে চায়নি।

আমি বলেছিলাম,  ৫৫০ টাকার সাথে (তখনকার জাহাজ ভাড়া) ১০০ টাকা যোগ করে সে টাকা দিয়ে স্থানীয় প্রশাসন অথবা পরিচ্ছন্নতা সমিতি করে তাদের মাধ্যমে দ্বীপ পরিষ্কার রাখতে এবং কিছূ অর্থ দ্বীপের উন্নয়নে ব্যয় করতে।  রিজোর্ট থেকে সিএসআর বাবদ কিছু অনুদান গ্রহণ করে সাথে সরকারী বরাদ্ধ নিয়ে বাঁধ নির্মাণ করতে।  দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় একটা অংশকে অভয়ারন্য বা অপর্যটন এলাকা ঘোষনা করতে।  বিপন্ন কচ্ছপ, জলের নিচে রঙীন মাছ আর বিরল কুকুরের জাত রক্ষার বিষয়টিও ছিল।

সরকারী দপ্তরগুলেোর প্রথম কথা এটি তাদের কাজ নয়। দ্বিতীয় কথা কে করবে? তৃতীয় কথা মানুষ কথা শোনে না আর শেষ কথা হলো সরকার মাস্টার প্লান করবে তখন সব ঠিক হয়ে যাবে। সেই মাষ্টার প্লানের চক্করে পড়ে আজ দ্বীপে ২শ এর বেশী অবৈধ রিজোর্ট হয়েছে। কচ্ছপ হারিয়ে গেছে প্রায়, কুকুর টিকে আছে সমস্যার কারণ হয়ে, মাছ চলে গেছে গভীর সমুদ্র। জীবিকা চলে না জেলেদের। পুরো দ্বীপ হয়ে গেছে একটা ময়লার ভাগাড়। কে করেছে। প্রতিটি মানুষ মিলে করেছে। আর মাষ্টার প্লান সেতো প্রগার পার। শুধু যদি একটি ময়লার ফেলার নির্দিষ্ট জায়গাও ঠিক করা যেত অথবা একটি সমিতি করে বাড়ি, রিজোর্ট আর পর্যটকের চাঁদার টাকা দিয়ে ময়লাগুলো বাইরে নিয়ে আসা যেত। তবুও কচ্ছপ আর প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হলেও কৃত্রিম পরিবেশটা অন্তত সুন্দর থাকতো। কিন্তু আসলে কারো সে সময় নেই।

সর্বশেষ বলেছিলাম। সেখানে প্লাস্টিক বোতল নিষিদ্ধ করতে। কিন্তু পানির বোতল শুধু নিষিদ্ধ করে লাভ কি? আরো কতো রকম প্লাস্টিক মোড়ক রয়েছে। তাই বলেছিলাম। সেখানে সকল প্লাস্টিক মোড়কের সাথে বাড়তি ১০ থেকে ১০০ টাকা গ্রহণ রেখে সেগুলো ফেরত দিতে বাধ্য করা যেতে পারে। এজন্য পরিচয় নিশ্চিত করতে দ্বীপের সকল প্লাস্টিক মোড়কে নকল রোধক স্টিকার ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে কয়েকটা লাভ।

এর মাধ্যমে প্লাস্টিক বোতল বহন নিষিদ্ধ থাকবে মানুষ প্লাস্ক নিয়ে যাবে। পৃথিবীর বহু দ্বীপে এমন রয়েছে। ওখান থেকে যেগুলো কিনবে সেগুলোতে বাড়তি টাকা রাখবে যাতে ফেরত দিলে টাকা ফেরত পাবে। এতে করে ২০% লোক ফেরত দিতে ভুলে গেলে দোকানী লাভবান হবে। সেখান থেকে স্থানীয় শিশুরা কুড়িয়ে আনতে পারলে সে টাকা তারা পেতে পারতো। টিকেটের সাথে বাড়তি টাকার ব্যবহার নিয়ে আগে লিখেছি।

এছাড়া পর্যটকদের একটি প্রতিশ্রুতিফর্ম দেয়া যেত। পর্যটক সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ অবশ্যেই করতে হবে। কিন্তু যতটা নিয়ন্ত্রণ করলে স্থানীয় জনগনের জীবিকা এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ঠদের ব্যবসায়িক ক্ষতি হয় ততটা করতে গেলে তা বিতর্ক তৈরী করতে বটে।

আমার প্রস্তাবনা নিন্মরুপ

সময় মেয়াদ এলাকা সংখ্যা রাত্রিযাপন
নভেম্বর-ফ্রেব্রুয়ারী ৪ মাস

পুরো মৌসুম

সর্বত্র পর্যটক যাবে (অভয়ারন্য বাদে) ৩০০০ জন প্রতিদিন ২০০০ জনের জন্য অনুমোদিত
সেপ্টেম্বর-অক্টোবর

ও মার্চ এপ্রিল

৪ মাস

আধা মৌসুম

শুধুমাত্র কিছু এলাকায় পর্যটক যাবে প্রতিদিন ১০০০ জন ৫০০ জনের জন্য অনুমোদিত
মে-আগষ্ট ৪ মাস পর্যটক যেতে পারবেনা।

শুধুমাত্র গবেষক ও স্বেচ্চাসেবীরা যাবে। অনুমোদিত এলাতকায় থাকবে।

প্রতি সপ্তাহে ১০০ জনের বেশী নয় রাত্রিযাপন অনুমোদিত

 

সবাইকে অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন করে যেতে হবে এবং একটা এলাকা সব সময় পর্যটকদের থেকে দূরে রাখতে হবে। কারণ আমরা নিজেরা অতটা সভ্য হয়নি। তা বোঝা যাবে বান্দরবানের গহীনে আমরা কেমন নোংরা করতেছি। আর ১ দিনে কক্সবাজারের বিচে কেমন ময়লা করি তা দেখলে।

কারণ শুধু নিয়ন্ত্রণ নয় সেখানে কারা যাচ্ছে সে তথ্য থাকা দরকার। যারা এটাকে পাসপোর্ট বলে কটাক্ষ করছেন। তারা পৃথিবীর খবর জানেন না। যে সারা পৃথিবীতে এ ধরনের দ্বীপ ও বিশেষ প্রাকৃতিক এলাকা গমনে এমন নিয়ম রয়েছে।

যেসব রিজোর্ট হয়ে গেছে সেগুলো মাষ্টার প্লান হওয়া পর্যন্ত অপারেশন চালানোর সুযোগ দেয়া উচিৎ। অনেকগুলেো আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্বেও তৈরী হয়েছে মানে তারা আইন ভঙ্গ করেছে। কিন্তু সরকারের একটা প্লান বানাতে যদি ৫৫ বছর লেগে যায়। তাহলে শুধু মানুষকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। এছাড়া নতুন রিজোর্ট না হওয়ার জন্য তাদের ট্রেড লাইসেন্স না দেয়া, বুকিং অনুমোদন না দেয়া এমন নানা অপশন আছে।

কেন আমি এসব বিকল্প অপশনের কথা বলছি। তার কারণ হলো এখানের পরিস্থিতি দেশের অন্য এলাকার মতো নয়। এখানে রিজোর্ট ভাঙতে আসলে সারা দ্বীপের মানুষ ঘেরাও করবে। তখন পরিস্থিতি হিতে বিপরীত হতে পারে। মনে রাখতে হবে, এখানে সরকারী আইনের চেয়ে বড় হুযুর কি বলছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্বীপের মানুষকে কিছু বোঝাতে হলে আগে বসতে হবে সেখানকার আলেম বা হুজুরদের সাথে।

তাদেরকে এটাও বোঝাতে হবে, তাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে। এবার ২০২৫ সালে গত ফ্রেব্রুয়ারী থেকে পর্যটক নেই। আমরা গিয়ে সৈকতে বোতলের সংখ্যা বলতে গেলে ৯০% কম দেখেছি। কিন্তু বাজারে প্রতিটি অলিগলি এবং সর্বত্র প্লাস্টিক বজ্য যা-তা অবস্থা। যদিও এটা সারা বাংলাদেশের চিত্র। আমাদের হোটেল থেকে থেকে বাজার ২৫০ মিটার রাস্তার মধ্যে আমি ৩৮টি ছবি তুলেছি। যেগুলেোতে ময়লার স্তুপ রয়েছে। তাহলে বোঝা যায় গোটা দ্বীপই এখন ময়লার ভাগাড়। কারণ এখানকার লোকদের জীবনযাত্রা বদলেছে। শিশুদের হাতে হাতে জুস আর চিপসের প্যাকেট, তরুনদের হাতে হাতে কোল্ড আর এনার্জি ড্রিংস, এছাড়া জালের নানা বস্তুসহ আরো নানা প্লাস্টিক ময়লাতে আছেই।

এরা বাইরের মানুষদের কাছ এমন খারাপ অনেক কিছুই গ্রহণ করেছে যা আগে তাদের এ|খানে ছিলো না।

একসময় দ্বীপের মানুষ কোনো একজন সংষ্কৃতি কর্মীকে বোতল (মদ) বহন করার অভিযোগে দ্বীপছাড়া করলেও এখন এসব নিয়ে তাদের ভাবার সময় নেই। সালমান শাহ মৌসুমীর মুভি শ্যুটিং এ বাঁধা দিয়েছিল ইসলামবিরোধী কাজ বলে এখন কার সাথে কোর জোড় এসব তারা দেখে না। একদিকে তাদের জীবন ধারা বদলে গিয়ে তারা কাঁচা পয়সার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এটাই এখন বাস্তবতা। তাই শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এখানকার সমস্যার সমাধান হবে না।

সরকারকে কিছু সহযোগিতা করতে হবে এবং কিছু নীতি পলিসি তৈরী করে দিতে হবে যাতে অন্যরা কাজ করতে পারে। স্থানীয় লোক এবং পর্যটক উভয়ের সচেতনতাও জরুরী।

এবার ২০২৫ সালে আমরা নতুন কয়েকটি অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হই। প্রথমটি হলো নানা দপ্তর থেকে অনুমতি। দ্বিতীয়টি হলো- দ্বীপবাসির স্বাস্থ্য।

আমাদের ডাক্তারগণ জানান যে, দ্বীপবাসীর ৯০% এর বেশী চর্মরোগে আক্রান্ত। বিশেষ করে চুলকানী বা স্ক্যাবিচ এ ভুগছে শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলে। সিলক আইল্যান্ড এবং সেখানে কোনো ডাক্তার নেই। ফার্মাসি আছে। যাতে ঔষধ দেয়া হয়, বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ভুল ঔষধ এবং নকল ঔষধ। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপবাসীর এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

ফলে এখানে এই মুতুর্হে মেডিক্যাল ক্যাম্প করে লোকদের ফ্রি চিকিৎসা ও ঔষধ দেয়া দরকার। সম্ভব হলে ডিসেম্বরে রাত্রি যাপনের অনুমোদন পাওয়ার আগেই করতে হবে। এছাড়া স্থানীয় লোকদেরকে স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক উঠান বৈঠকে নিয়ে বোঝাতে হবে। সাথে সাথে অন্তত শ খানেক তরুনকে দিতে হবে প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং অন্তত ৫ জনকে দিতে গ্রাম্য চিকিৎসকের প্রশিক্ষণ।

আমরা দেখতে পাই, এখানকার ফার্মেসীতে প্রচুর নকল ও ভেজাল ঔষধ। এছাড়া ফার্মেসীর দোকানদার ভুল ঔষধ দিচ্ছেন বিশেষ করে শিশুদেরকেও মারাত্বক ঝূকিপূর্ণ ঔষধ দিচ্ছেন।

আমরা ফার্মাসিতে গিয়ে তাকে অনুরোধ করেছি সে যেন এসে ডাক্তারের কাছ থেকে কিছু পরামর্ম নিয়ে যায়। বিশেষ শিশুদের বিষয়ে এবং মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া স্ক্যাবিচ এর বিষয়ে কিন্তু তারা সাড়া দেয়নি।

আমরা বিগত বছরগুলোতে পরিচিত ২/১ জন ছাড়া কোনো স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা পাই না। এমনকি কোথাও থাকা বা ভাড়া কিছু কমও দেয়া যায়না। আমরা কিছু স্বেচ্চাসেবী নিজেদের যার যার টাকা খরচ করে তাদের দ্বীপে গিয়ে তাদের জন্য কাজ করছি। এটা তারা ধারণাও করতে পারে না এমনকি বিশ্বাসও করে না। তাদের ধারণা আমাদেরকে বিদেশী কোম্পানী কোটি কোটি টাকা দেয়। সেখান থেকে আমরা বেশীরভাগ টাকা মেরে খাই অল্প কিছু টাকা দিয়ে কিছু নাটক করি।

আমি তাদেরকে দোষ দেই না। কারণ আমরা যারা ভ্রমণ করি তারা কখনো স্থানীয় লোকদের দুঃ