স্মরণশক্তি
স্মরণশক্তি

স্মরণশক্তি কীভাবে কাজ করে ?

স্মরণশক্তি কীভাবে কাজ করে ?

আমাদের অনেকেরই অভিযোগ, স্মরণশক্তি খুব দুর্বল। কিছু মনে রাখতে পারি না, অল্প সময়ের মধ্যেই সব ভুলে যাই। এই ভুলোমন নিয়ে অনেক ঝামেলাতেও পড়তে হয়। অথচ আবার এমন মানুষও আছেন, যাদের স্মৃতি এতটাই প্রখর যে একবার কিছু বললে দীর্ঘদিন তা মনে থাকে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, স্মরণশক্তি নির্ভর করে মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতার ওপর। যার মস্তিষ্ক যত বেশি তথ্য ধারণ করতে পারে, তার স্মৃতি ও মেধাশক্তি তত বেশি প্রখর হয়। তবে মস্তিষ্ক কীভাবে তথ্য ধরে রাখে বা ভুলে যায়, এ রহস্য আজও পুরোপুরি উদ্‌ঘাটন হয়নি।

যদি মানুষের মস্তিষ্ক কাগজ বা রেকর্ডের মতো হতো, তাহলে একবার লেখা বা রেকর্ড করা তথ্য কখনো হারিয়ে যেত না। কিন্তু মস্তিষ্কে তথ্য ধারণের কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। কিছু কথা অনেকদিন মনে থাকে, আবার কিছু কথা মুহূর্তেই হারিয়ে যায়। কখনো আবার অনেক খোঁজাখুঁজির পর হঠাৎ করে ভুলে যাওয়া কোনো কথা মনে পড়ে যায়।

বিজ্ঞানীদের মতে, স্মৃতি তৈরি হয় মস্তিষ্কের কোষে এক ধরনের “দাগ” ফেলে। দাগ যত গভীর হয়, তথ্য ততদিন মনে থাকে। তবে দাগ যদি হালকা হয়, তা অল্প সময়েই মুছে যায়। আনন্দদায়ক বা গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা মস্তিষ্কে বেশি সময় ধরে থাকে, কিন্তু সাধারণ বা অনাকর্ষণীয় তথ্য দ্রুত হারিয়ে যায়।

মানুষের মস্তিষ্কই প্রাণিজগতের সবচেয়ে উন্নত ও কার্যক্ষম। এটি একসঙ্গে নানা ধরনের শিক্ষা ও তথ্য ধারণ করতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, স্মৃতি ধারণের মূল ভূমিকা পালন করে মস্তিষ্কের বহিরাবরণ, যাকে বলা হয় ঘিলু (Cortex)। এই ঘিলু অসংখ্য ভাঁজ, রেখা ও গ্রন্থিতে পূর্ণ একটি জটিল অংশ।

যখন আমরা কোনো কিছু মনে করার চেষ্টা করি, তখন ঘিলুতে সূক্ষ্ম মাত্রার বৈদ্যুতিক প্রবাহ সৃষ্টি হয়। সেই প্রবাহের মাধ্যমেই মস্তিষ্কের কোষে সঞ্চিত পুরোনো তথ্য পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়। কিন্তু এই ঘিলুতে যদি আঘাত লাগে, তখন স্মৃতি পুনরুদ্ধারের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। গুরুতর ক্ষেত্রে মানুষ পুরো স্মৃতিশক্তিই হারাতে পারে।

বৃদ্ধ বয়সে মস্তিষ্কের পুনরুৎপাদন ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণেই অনেকে ভুলে যেতে থাকেন। তবে বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত নন, মস্তিষ্কের কোন অংশে এবং কীভাবে তথ্য স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত হয়। কেউ বলেন এটি একধরনের রাসায়নিক প্রক্রিয়া, আবার কেউ মনে করেন এটি শিরার গঠনের পরিবর্তনের ফল।

তবে এখনো কোনো ব্যাখাই পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তাই বলা যায়, মানুষের স্মৃতিশক্তির রহস্য আজও বিজ্ঞানের কাছে এক অনসন্ধিত ধাঁধা।

সূত্র: জ্ঞানের কথা
সৌজন্যে: টিম শোভনীয়

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply