Bangladesh, joy Bangla

মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থান: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থান: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ও পার্থক্য

ইতিহাস কখনোই শূন্য স্থান থেকে জন্ম নেয় না — তা সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশে পুষে ওঠে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কালভেদে ভিন্ন ঘটনাবলি হলেও, উভয়ে জাতিগত-তথা নাগরিক অস্তিত্ব, নিরাপত্তা ও রাজনীতির অঙ্গনে অংশগ্রহণের বিষয়ে মৌলিক সংকটের প্রতিক্রিয়া।  প্রসঙ্গভিত্তিকভাবে ১৯৭১ সালের কিছু নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক তথ্য এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনের কারণগুলো বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে আমরা একটা পর্যালোচনা করতে পারি।

ক্ষমতার পালাবদলকে বাধাগ্রস্থ করা

১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ীদের হাতে ক্ষমতাদিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ক্ষমতার স্বাভাবিক পালাবদলকে বাধাগ্রস্থ করেছিল পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠি।

২০১৪ সালের একপক্ষীয় নির্বাচন, ২০১৮ সালের রাতের ভোট, ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচন একইভাবে গণতন্ত্র ও  নাগরিক অধিকারকে কবর দিয়ে জুলুম নির্যাতনের এক মহাকাব্য রচনা করেছিল।

গণহত্যার এফিটাফ

১৯৭১ সালের ওপর কয়েকটি নির্ধারণী মুহূর্তের কথা মনে রাখা জরুরি: ৭ মার্চের ভাষণ যা জাতিকে ক্রমশ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানানো হয়েছিল।  ২৫—২৬ মার্চের গণহত্যা বাঙালী বা বাংলাদেশীদের হতবাক করলেও স্বাধীনতা ছড়া আর কোন গত্যন্তর ছিল না। পরবর্তী স্বাধীনতার ঘোষণার ধারাবাহিকতায় একটি রাজনৈতিক সংকট একটি জনযুদ্ধে রুপ নেয়।  নির্বাসিত বাঙালি নেতাদের নেতৃত্বে গঠিত মুজিবনগর সরকার একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্নকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়। প্রতিটি ঘটনা একটির পর একটি এবং একটির সাথে একটি সম্পর্কযুক্ত। একটি ছাড়া অন্যটি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যেতো। আর একই কারণে প্রতিটি ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিগন ইতিহাসের অপরিহার্য চরিত্রও বটে।

অন্যদিকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানটি ছাত্র-কেন্দ্রিক সরকারী চাকরীতে ন্যায্যতার দাবিতে। সেখান শুরু হয়ে দ্রুত শাসক-প্রশাসনিক দমন, গণহত্যার মধ্য দিয়ে এটাকে জাতীয় আন্দোলনে রুপ দেয়। ৭১ এর ২৫ মার্চ এর গণহত্যা যেমন জাতিকে এক করে দিয়েছিল। শাসক আর শোসিতের মধ্যে ব্যবধান দেখিয়েছিল। ঘাতক আর শহীদের মিছিল আলাদা হয়ে গিয়েছিল। ২০২৪ এর জুলাই মাসে একই ঘটনার অবতারণা হয়েছিল।

শুধুমাত্র ৭০ এর নির্বাচনের রায় মেনে নিতে অথবা আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবীকে শাসকগোষ্ঠি গণহত্যার মাধ্যমে একটি চূড়ান্ত স্বাধীনতা আন্দোলনে রুপ দিয়েছিল। ঠিক তেমনি  একটি ন্যায্যতার কর্মসংস্থান আন্দোলনকে ফ্যাসিবাদী সরকার ধারাবাহিক গণহত্যার মাধ্যমে একটি ফ্যাসিবাদ মুক্ত সার্বজনীন আন্দোলনে রুপ দিয়েছিল।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান — ছয়টি নিয়ামক (বিশ্লেষণ ও ইতিহাসগত তুলনা)

নীচে মূলত আপনার শেয়ার করা লেখার ধাঁচকে বজায় রেখে প্রতিটি পয়েন্টকে ঐতিহাসিক তথ্য ও সাম্প্রতিক উৎসের আলোকে বিশ্লেষণ করলাম — যেখানে উপযুক্ত সেখানে রেফারেন্স যোগ করা হয়েছে।

১) ক্ষমতার হস্তান্তরের প্রচলিত রাজনৈতিক পথের অবরুদ্ধ হওয়া

বাংলাদেশে ঐতিহ্যগতভাবে ক্ষমতা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ভূমিকা ছিল। যখন সেটি সংকুচিত বা কার্যত মার্জিত হয়ে পড়ে, তখন জনগণ অন্য পথ খুঁজে নেয় — অসন্তুষ্টির জোয়ার ইতিবাচকভাবে বা নেতিবাচকভাবে বিস্ফোরিত হয়। ২০২৪-এ প্রশাসনিক স্বীকারোক্তি ও রাজনৈতিক প্রতিবাদে সীমাবদ্ধতার কারণে লোকসভ্যতা রাস্তায় নামল — এটি ইতিহাসে পূর্বের রাজনৈতিক সংকটগুলোর সঙ্গে সরাসরি মিল রাখে।

২) তরুণ জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক বঞ্চনা ও জমে থাকা ক্ষোভ

দেশের জনসংখ্যার বড় অংশ তরুণ; তাদের ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ-অধিকার প্রয়োগে সীমিততা তাঁদের হতাশ করে। ১৯৭১-এ তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং ২০২৪-এ ছাত্র-তরুণ নেতৃত্ব দুটো ক্ষেত্রেই সমান্তরাল। তরুণরা রাস্তায় এলে আন্দোলন দ্রুত ভরাট হয়।

৩) ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ধারাবাহিক প্রভাব

২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সফল সংগঠন, জানমালের ফেরৎ দাবি ও শহরের রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে একটি সিদ্ধান্তমুখী তরুণ নেতৃত্ব গড়েছে — ২০২৪-এ সেই অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংবাদ/তথ্য ২০১৮ আন্দোলনের সূত্র হিসেবে আছে।

সরকারের মূল ভুলটি হয়েছে এখানে, ২০১৮ সালে তারা যেমন- ঠান্ডা মাথায় চুপ থেকে ছাত্রদের আন্দোলন কৌশলে সামলে নিয়েছিল। আওয়ামী লীগের নীতি সাধারণত কোনো আন্দোলন হলে তারা যা করে।

ক) আন্দোলনকারী উপর দলীয় হামলা চালায়। এলাকা দখল করে তাদেরকে কোনঠাসা করে রাখে।

খ) বাসায় বাসায় গিয়ে হুমকি দেয়। নেতারা প্রচ্ছন্ন হুমকিমূলক বার্তা দেয়।

গ) পুলিশ কয়েক হাজার লোককে গ্রেফতার করে। টার্গেট লোকদের না পেলে তাদের পরিবারের লোকদের উপর জুলুম নির্যাতন চালায়। হয়রানি করে মিথ্যা মামলা দেয়।

ঘ) বিশেষ ও গোপনবাহিনীগুলো কিছু মানুষকে গুম করে নিয়ে যায়। তাদের কাউকে হত্যা করে কাউকে আবার আয়নাঘরে রাখে।

ঘ) মিডিয়া ট্রায়াল করে নিজেদের অনুগত মিডিয়ার দ্বারা নানারকম বিভ্রান্তি  ও বিভক্তি ছড়ায়।

ঙ) নিজেরা বিভিন্ন স্থাপনা পুড়িয়ে বাসে আগুন দিয়ে বিরোধীদের ফাঁসায়। প্রতিটি আন্দোলনে এগুলো করেছে। অনেকক্ষেত্রে এখন তথ্যপ্রমাণ বের হচ্ছে।

কিন্তু- ২০১৮ সালে তারা বিচক্ষণতার পরিচয় দেয়। ছাত্রদের হাতে নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের থানায় নিয়ে অভিভাবক ডেকে তাদের মুচলেকা নিয়েছে।

অথচ তারা ক্ষমতার নেশায় ২০২৪ এ লাশ ফেলার নীতি অবলম্বন করেছে। আর এর কারণও ছিল-

ক) ৭২-৭৪ জনগনের উপর সকল ধরনের নির্যাতন এবং সকল ধরনের লুট এর মাধ্যমে দূর্ভিক্ষ ও একদলীয় শাসন উপহার দেয়ার পরও ২১ বছর পর জনগন ও কিছু নেতা তাদেরকে পূণবাসন করেছে। এটা তাদের অপকর্ম করার জন্য একটা সবুজ সংকেত হিসেবে বিবেচনা করেছে।

খ) ৮১ থেকে ৯১ এই সময়ের বেশীরভাগ অংশে এরশাদের সহযোগি হিসেবে কাজ করে। দেশের মানুষের বিরুদ্ধে রাজনীতি করে ৯১তে প্রত্যাখ্যাত হলেও তাদের লোক দেখানো অভিনয় ও অনুশোচনা দ্বারা মানুষকে বিভ্রান্ত করে তারা তাদের কাজকে সঠিক বলে ধরে নিয়েছিল।

গ) ১৯৯১-৯৬ সালে ১৭৩ দিন হরতাল জ্বালাও পোড়াও করে ক্ষমতায় আসে। এটা তাদেরকে এ ধরনের কর্মকান্ডে উৎসাহ দিয়েছিল।

ঘ) ৯৬ থেকে ২০০১ এই সময়ে মালিবাগ হত্যাকান্ড মিছিলে গুলিসহ নানা জুলুম নিযার্তন করেও তাদের কিছু হয়নি। জনগনের কাছে জবাবদিহি করতে হয়নি।

ঙ) ২০০১ থেকে ২০০৬ একই নিয়মে রাজনীতি করেছে। লগি বৈঠার হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে পরে ক্ষমতায় এসেছে। সূতরাং মানুষ হত্যা আর নির্যাতনকে তারা তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম হিসেবে নিয়েছে।

চ) পিলখানা হত্যাকান্ডের মতো ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে একটাই হয়তো আছে। নিজ দেশের সরকার বিদেশের সাথে মিলে তার নিজেরদ অফিসার হত্যা এবং সে হত্যার মাধ্যমে একই কৌশলে একটি বাহিনীকে পঙ্গু করে দেয়া। এই ঘটনা তাদেরকে বার্তা দিয়েছে তারা বার বার দেশের মানুষের বিরুদ্ধে জয়লাভ করবে।

ছ) ২০১৩ সালে শাপলাচত্বর গণহত্যা এবং তারজন্য কোনো জবাবদিহিতা না থাকার কারণে তারা ঔদ্ভত্য বেড়ে গিয়েছিল।

জ) এক হাজারের বেশী মানুষকে গুম করার সফলতা তাদেরকে রাক্ষসে পরিণত করেছিল।

ঝ) ৫ হাজার বিরোধী হত্যা, ৫০ লাখকে নির্যাতন তাদের মধ্যে এই ধারণা সৃষ্টি করেছে যে তারা মানুষের মুখ বন্ধ করতে সফল হয়েছে।

দমন, গুম ও মতপ্রকাশের সীমাবদ্ধতা — প্রতিবাদী সমাজ তৈরির ভূমিকা

গুম, মামলা ও নির্যাতনের আশংকা যদি বেড়ে যায়, ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশে ভয় পায়; ফলত কর্তৃত্ববিরোধী চাপে সমাজ দ্রুত বিক্ষিপ্ত হয়। ২০২৪-এও মানবাধিকার সংস্থাগুলো সরকারের “হেভি-হ্যান্ডেড” প্রতিক্রিয়া নিয়ে সতর্ক করে জানিয়েছে।

জনগণের অরাজনৈতিক—সার্বজনীন দাবিতে আন্দোলনে অংশগ্রহণ

বাংলাদেশে ঐতিহ্যগতভাবে রাজনৈতিক দলীয় আন্দোলনকে ছাপিয়ে সাধারণ জনস্বার্থভিত্তিক (যেমন নিরাপত্তা, গণহত্যার প্রতিবাদ, চাকরিতে কোটা ইত্যাদি) দাবিতে মানুষ মাঠে নামা দেখাচ্ছে যে—যদি দাবি ‘সামগ্রিক’ হয় এবং ব্যক্তি/পরিবারের নিরাপত্তা-অস্তিত্ব যুক্ত থাকে, তবে জনগণ দলীয় রেখাকে অতিক্রম করে আন্দোলনে নামবে। ২০২৪-এ কোটা পুনঃপ্রবর্তনের বিরোধিতায় ছাত্ররা রাস্তায় নামলে সেটি দ্রুত সার্বজনীন হয়েছে।

৬) নিরাপত্তাহীনতা — ‘‘চুপ করে থাকলে নিরাপদ আছি’’ মিথ্যার উন্মূলন

১৯৭১-এ যেমন নিরপেক্ষ থাকা সত্ত্বেও তরুণরা, সংখ্যালঘুরা টার্গেট হয়েছিল—তেমনি ২০২৪-এও নিরব থাকার পরিণতি প্রখর: মানুষ উপলব্ধি করেছে চুপ থাকলেই বাঁচা যায় না। ১৬–২৮ জুলাইয়ের সৌরভ (July massacre) পরিপ্রেক্ষিতে জনমনে আত্মরক্ষার প্রবণতা দ্রুত আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্তর্জাতিক তদন্ত-প্রতিবেদন ও সংবাদ এ বিষয়ে তথ্য দিচ্ছে।

১৯৭১ ও ২০২৪ — মিল এবং পার্থক্য (সংক্ষেপে)

তরুণ নেতৃত্ব, সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ, নিপীড়ন ও নিরাপত্তাহীনতার বোধ — এগুলো উভয় সংগ্রামে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে।

 ১৯৭১ ছিল জাতিগত-ভিত্তিক স্বাধীনতার সংগ্রাম যেখানে একটি নির্দিষ্ট রাজ্য (পাকিস্তান) ও সেনাশক্তি বিরোধী; ২০২৪ ছিল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক-শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্যবিন্দু সহ নাগরিক অ্যাসপি—হোল্ডিং, যেখানে দাবি প্রাথমিকভাবে সরকারি নীতির অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন ও নির্যাতনের বিরোধিতা ছিল। এছাড়া ১৯৭১-এ আন্তর্জাতিক সামরিক সহায়তা (ভারত) ও বাহ্যিক কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ ছিল; ২০২৪-এ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার ভূমিকা, সংবাদ-ও-রিপোর্টিং ও তথ্যপ্রবাহের আধুনিক মাধ্যম প্রধান প্রভাব ফেলেছে।

ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ ও অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ

  1. ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ বনাম পরিস্থিতির বিস্ফোরণ — প্রাথমিকভাবে সামাজিক-রাজনৈতিক চাপ একটি বিস্ফোরণ তৈরি করে; এরপর যদি কোনো সংগঠন বা অল্প সংখ্যক পরিকল্পনাকারী উপস্থিত থাকে, তারা এই বিস্ফোরণকে সংগঠিত করতে পারে। ১৯৭১-এ মুজিবনগর সরকার কৌশলগত সংগঠন যুগোপযোগী করে তুলেছিল; ২০২৪-এ ‘নিচু-স্তরের’ সংগঠন এবং অনলাইন-অ্যাক্টিভিজম দ্রুত সমন্বয় করেছে।

  2. তরুণদের শিক্ষাগত-প্রশিক্ষণগত অভিজ্ঞতা — ২০১৮–২০২৪ ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতা দেখায় তরুণরা আন্দোলন পরিচালনায় দক্ষতা অর্জন করেছে — রূপান্তরিত নেতৃত্ব এখন পরিণত চাকরিপ্রাপ্ত তরুণ নয়; বরং সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতায় সুসংগঠিত।

  3. ভবিষ্যৎ পথ — ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি দেশের স্থিতিশীলতা ন্যায্য ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কারই গড়ে তুলতে পারে; নতুবা সংক্ষুব্ধ জনগণ আবারও রাস্তায় নামবে।

১৯৭১ ও ২০২৪—উভয় ঘটনাই শিক্ষা দেয় যে গণঅভ্যুত্থানগুলো কেবল কূটনৈতিক বা সামরিক দিক থেকে নয়; সামাজিক অস্থিরতা, তরুণ-ক্ষমিহীনতা, নিরাপত্তাহীনতা ও মৌলিক অধিকার বিঘ্নিত হলে তা সর্বজনীন প্রতিবাদে রূপ নেয়। ইতিহাসের এই পুনরাবৃত্তি আমাদের নির্দেশ করে: দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক প্রতিষ্ঠান, নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ।

রেফারেন্স (উল্লেখিত প্রধান উৎস)

  • ৭ মার্চ ভাষণ — উইকিপিডিয়া (7 March Speech of Sheikh Mujibur Rahman). Wikipedia

  • মুজিবনগর/অস্থায়ী সরকার: Provisional Government of Bangladesh (Banglapedia/Wikipedia)। Wikipedia+1

  • স্বাধীনতার ঘোষণার প্রচার ও মেজর জিয়ার রেডিও ঘোষণা — Proclamation of Bangladeshi Independence (Wikipedia)।