Bangladesh Jamaat-e-Islami

 জামায়াতের এখনকার কৌশল কি?

 জামায়াতের এখনকার কৌশল কি?

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল, যার মূল শেকড় পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী সংগঠনের মধ্যে নিহিত। ভারতবর্ষে ১৯৪১ সালে মাওলানা আবুল আ’লা মওদূদীর হাতে প্রতিষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী উপমহাদেশে ইসলামী রাজনীতির নতুন ধারা নিয়ে আসে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পাকিস্তানি জামায়াত থেকে আলাদা হয়ে “জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ” নামে দলটি নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করে। দলটির মূল লক্ষ্য ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করা। ১৯৭৯ সালের পর প্রকাশ্যে রাজনীতি শুরু করে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান ভূমিকা কারণে বাংলাদেশে জামায়াত বিতর্কিত হয়ে ওঠে। স্বাধীনতার পর দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়, তবে ১৯৭৯ সালে রাজনৈতিক অঙ্গনে পুনরায় ফিরে আসে। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে দলটি আওয়ামী লীগ-বিরোধী জোটের অংশ হয়ে রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করে এবং বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে অংশ নিয়ে জামায়াত সরকারে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ও পায়। ২০১৩ সালে জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন বাতিল করা হয়। এরপর থেকে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম অপ্রকাশ্যে চলে যায়। জামায়াত রাজনৈতিক অঙ্গনে সরাসরি নিবন্ধিত না হলেও ইসলামী আন্দোলনের অংশ হিসেবে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের উপস্থিতি বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতের অবস্থান একদিকে দলটি ইসলামী আন্দোলন ও সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম চালায়, অন্যদিকে ক্ষমতার রাজনীতির একটা অংশ হিসেবে আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যে রয়েছে। বিগত ফ্যাসিবাদ সরকারের একটি বিতর্কিত ও ক্যাঙারু কোর্ট মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করে দলটির শীর্ষ কয়েকজন নেতাকে মৃত্যুদণ্ড বা কারাদণ্ড দেয়। যা দেশে বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

বাংলাদেশে দলটি বিশেষত গ্রামীণ ও ধর্মীয় রক্ষণশীল মহলে কিছু সমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এতে এই দলটি নিয়ে একটি নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যদিও কিছু মানুষ তাতে আতংক বোধ করছে। যারা মনে করে একটি ইসলামী সরকারের অধীনে দেশে মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা ব্যাঘাত ঘটবে। যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে  এসব বিষয়ে আশ্বস্থ করা হয়েছে।

তারা বলছে দূর্নীতি ও দারিদ্রতামূলক্ত বাংলাদেশ, সৎলোকের শাসন ও শরীয়া আইন তাদের লক্ষ্য। বিধর্মী ও যারা ইসলামে জীবন যাপন করবে না। তাদের সরকার সেসব লোকদের উপর কোনো জবরদস্তি করবেনা।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তাদের আসলে কি করা উচিৎ?

আজ থেকে ১৫ বছর আগের অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে ১৪-১৫ শতাংশ ভাসমান ভোটার থাকতো তারা ভোটোর ফলাফল নির্ধারণ করতো। বর্মানে অন্তত ৪৫% ভাসমান ভোটার রয়েছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। এই ভোটার যারা টানবে তারাই হাসবে শেষ হাসি। তাই সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে।

১) দলের সবাইকে মিডিয়াতে কথা বলতে না গিয়ে শুধু কয়েকজনকে নির্ধারণ করতে হবে। যাতে কেউ এমন কোনো কথা না বলে যাতে কোনো দল বা গোষ্টি নাখোশ হয়। এবং শুধু যে টপিকে তারা কথা বলতে চায়। সে টপিকে কোনো শো হলে যাবে। অন্যগুলোতে যাওয়ার দরকার নেই। এমনকি কোনো টকশোতে না গেলেও কোনো সমস্যা নেই। টকশো এর গ্যাপটা অন্যভাবে পূরণ করার পরিকল্পনা করতে হবে।

২) এই মুহুর্তে বাংলাদেশের ৮৫ শতাংশ মানুষ জুলাই আন্দোলন এর পক্ষে এবং নতুন বাংলাদেশের পক্ষে তাই। জুলাই আন্দোলনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এ সংক্রান্ত গবেষণা ও থিসিস সেইসাথে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ইসলামী মতবাদসহ বিভিন্ন যেসব বিষয় কাজে লাগবে এরকম বিষয়গুলোতে গবেষণা ও থিথিস এর জন্য মেধাবীদের সহযোগিতা করা দরকার। যা ভবিষ্যতে কাজে আসবে।

৩)  রাজনীতি ছাড়াও অন্যান্য খাতে মনোযোগ দিতে হবে। যেমন ব্যবসা সংগঠন, পেশাজীবি সংগঠন ইত্যাদি। জামায়াত বর্তমানে কিছু শাখা সংগঠন চালায় যা নিজেদের লোক দিয়ে এবং নিজস্ব কাঠামো রয়েছে। কাঠামোর বিষয়টি অন্যদের চেয়ে ভাল। কিন্তু খাত অনুসারে এই কাঠামোর শিথিলতা লাগবে। কারণ, যদি আপনি একটি আইসিটি পেশাজীবি ফোরাম তৈরী করেন। তাহলে এটার থানা কমিটির চেয়ে বেশী যুক্তিযুক্ত হবে এর ভেতরের সাব সেক্টর ভিত্তিক কমিটি। যেমন- সফ্টওয়ার, ই-কমার্স, হার্ডওয়ার, কলসেন্টার, ট্রেনিং, এআই ইত্যাদি।

৪) জনসাধারণকে দলের সম্পৃক্ত করতে একটি প্যারালাল সংগঠন থাকা দরকার। কারণ যেহেতু স্তর সংগঠন কাঠামো রয়েছে। এবং সেটি বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য অনেক বেশী দরকার ও প্রয়োজন। স্তরভিত্তিক কাঠামোর কারণে দেশের বেশীরভাগ মানুষ সংগঠনের সাথে যুক্ত হবে না। তাই এলাকাভিত্তিক জামায়াত সাপোর্টার ফোরাম সৃষ্টি করা যেতে পারে।

৫) প্রথাগত রাজনৈতিক দলের মতো শো-ডাইন ও মিছিল করার চেয়ে এলাকাভিত্তিক ছোট ছোট ‘‘পাড়াসভা’’র মাধ্যমে মাস পিপলদের সাথে স্থানীয় নেতাদের মত বিনিময়ের সুযোগ করে দিতে পারে।

৬) দলের গবেষণা ও সমাজকল্যান সেল আরো শক্তিশালী করা দরকার।

৭)  তরুনদেরকে সেক্টর ভিত্তিক প্রশিক্ষণ যেমন যারা চাকুরী করবে তাদেরকে চাকুরির জন্য তৈরী করা, যারা ব্যবসা করবে তাদেরকে ব্যবসার জন্য তৈরী, যারা বিদেশ যাবে তাদেরকে বিদেশ যাওয়ার জন্য তৈরী করতে হবে। যা দীর্ঘমেয়াদে বিশেষ ফল দিবে।

৮) সমাজের গ্রহণযোগ্য কিছু লোককে সময় দিয়ে, কাউন্সেলিং করে, দলীয় যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলের সাথে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। এই কৌশলটি সব দল ও সব দেশের জন্য খুব কাজের।

৯)  অন্তবর্তী সরকারের কি কি বিষয়ে সংষ্কার দরকার তার একটি গোছানো কাঠামো উপস্থাপন করা জরুরী বলে মনে করি।

১০)  সংসদে দুটি কক্ষ। একটির নাম হতে পারে ‘‘প্রতিনিধি সভা’’ একটি ‘‘গণসভা’’ এবং প্রতিনিধি সভা পিআর পদ্ধতিতে, গণসভা প্রচলিত পদ্ধতিতে নির্বাচন করার বিষয়ে পুরো কাঠামোটি উপস্থাপন করা দরকার।

১১) বর্তমান পদ্ধতির যে সীমাবদ্ধতা তা দূর করার জন্য যেমন পিআর পদ্ধতি দরকার। তেমনি পিআর পদ্ধতির সমস্যাগুলো দূর করার জন্য। নির্বাচন ও সংসদ পিআর পদ্ধতিতে হবে সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে হবে। এই বিষয়ে দলকে নিজেরা পরিষ্কার ধারণা প্রাপ্ত হওয়া এবং দেশের মানুষকে বিষয়টি পরিষ্কার করা।

১২) মানুষকে বোঝানোর জন্য পিআর পদ্ধতি শব্দ ব্যবহার না করে। ‘‘দলকে ভোট দেয়া’’ পদ্ধতি বলে এটি পরিচিতি করাতে হবে। এবং প্রচলিত পদ্ধতিকে ‘‘ব্যক্তিকে ভোট দেয়া’’ নাম দিয়ে প্রচার করতে হবে।

১৩) ক্ষমতায় গেলে কিভাবে দেশ পরিচালিত হবে তার একটা ‘‘নতুন বাংলাদেশ রুপরেখা’’ বই আকারে উপস্থাপন করলে অনেকের কাছে ধোয়াশা কেটে যাবে। যদিও ইসলামপন্থী দলসমূহ তা নিয়ে বিতর্ক তৈরী করতে পারে। সেক্ষেত্রে বিতর্কিত বিষয়গুলো সাবধানে উপস্থাপন করা যেতে পারে।

১৪) জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহতের (সকল দলের) পরিবারের জন্য সম্মান ও সহযোগিতা করা।

১৫) প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সংগঠন ও নেটওয়ার্ককে আরো স্মার্ট করা।

বিশেষ ৩টি পরামর্শ

১৬) ২৬ এর নির্বাচনটা ঐক্যবদ্ধভাবে করা:

জুলাই সপক্ষের মাধ্যমে সবার রাজনৈতিক ভিত শক্তিশালী করতে একটি জোট গঠন করা।   আগামী নির্বাচন সকল জুলাই শক্তি একসাথে করা যেতে পারে। এটা একটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হতে পারে। জুলাই শক্তি বিএনপি, হেফাজন, খেলাফত, এনসিটি সবাই অন্তত একটি নির্বাচন একসাথে করতে পারে। যার নাম হবে – জুলাই ঐক্যজোট। এই জোট সঠিক নির্বাচন, নিজেদের ঐক্য ও রাষ্ট সংষ্কারে একটি চুক্তি বা সনদে স্বাক্ষর করতে পারে। নির্বাচনের পর সরকারে কারা থাকবে কিভাবে থাকবে। সে বিষয়ে আগেই সিদ্ধান্ত না করা। এবং জামায়াত সরকারের অংশ না হওয়া।

চুক্তিতে যে শর্তগুলো থাকতে পারে-

ক) আগামী নির্বাচন পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ দলগুলো একসাথে কাজ করবে ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।

খ) দলগুলো নিজেদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি করে নেবে। যেখানে একমত হবেনা সেখানে আলাদা নির্বাচন করবে। তবে প্রত্যেকের নিজেদের প্রতীকে নির্বাচন করবে। অনৈক্য নির্বাচন ১০% এর বেশী আসনে হবেনা।

গ) যে দল সরকার গঠন করবে। তার সাথে কোন দল সরকারে যাবে তা নির্বাচনের ফলাফল ও তখনকার আলোচনা ও ঐক্যমতের উপর নির্ভর করবে। কারা বিরোধী দলে থাকবে সেটাও নির্বাচন পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।

ঘ) নির্বাচনের পরে আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্রের সকল আইন পরিবর্তন ও সংষ্কারের বিষয়ে ক্ষমতাসীন দল একমত হয়ে তা কার্যকর করতে হবে।

ঙ) সংষ্কার প্রক্রিয়া শুরু না হলে, সংষ্কার প্রক্রিয়া গতিশীল ও আশানরুপ না হলে। দলগুলো আনুষ্টানিক ভাবে জোট ভেঙ্গে দিতে পারবে।

চ) নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যৌথ কমিটি গঠন করে েএকসাথে কাজ করবে। কাজ করার জন্য একটি কর্মনীতি থাকবে। যাতে কোনো ভুল বোঝাবোঝি সৃষ্টি না হয়। এছাড়া কোনো ভুল বোঝাবোঝি সৃষ্টি হলে তা কমিটি কতৃক সমযোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।

ছ) একটি বার্তা পরিষ্কার করতে হবে সেটা এই চুক্তির উদ্দ্যেশ্য নিয়ে। যেহেতু দলীয় সরকার আসলে সংবিধানের কাজ করতে পারবেনা। যা অন্তবর্তী সুযোগ ছিল। যেহেতু অন্তবর্তী সরকার সংষ্কার করতে পারেনি। তাই দলীয় সরকার সংষ্কার করবে। তখণ সংষ্কারের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ঐকমত্যের জন্য এই জোট গঠন করা হলো।

১৭) মাদার অর্গানাইজেশন ফরম্যাট উন্নয়ন করা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-কে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে রুপান্তর করে। এটিকে একটি ১০০ ভাগ দাওয়াতী সংগঠন হিসেবে রেখে। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশএর রাজনৈতিক শাখা হিসেবে ‘‘নতুন একটি ইসলামী দলের নামে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কি কি সুবিধা থাকবে।

ক) জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে বিশ্বের ইসলামী দল ও অন্যান্য দেশের জামায়াতের সাথে কাজ করার সুযোগ পাবে।

খ) জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে যেসব নেতা প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় পরিপক্ক হবে। তারা ক্রমশ দলে আসবে। দলে যিনি মনে করবেন রাজনীতি করবেন না। তিনি মূল দলে ফিরে যাবে।

গ) জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে রাজনীতিক শাখাকে সমর্থন দিবে। কেউ কারো ভুলের দায় নেবেনা। কারণ সবার কমিটি ও অফিস আলাদা হবে।

ঘ) যেখানে দল দূর্বল হয়ে যাবে সেখান মুল দল থেকে সাপোর্ট দেয়া হবে।

ঙ) তরুন প্রজন্ম নতুন নামে, নতুন উদ্যমে যাত্রা শুরু করবে।

(বিশ্বের যেসব দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মাদার অর্গানাইজেশন রয়েছে। সেগুলো অনেক বেশী মজবুত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। এমনকি ভারতীয় জনতা পার্টির মাদার অর্গানাইবেশন রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘ তাদের মূল শক্তি)

১৮) রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও অপসারণ ত্বরান্বিত করা

নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রপতি অপসারণ জরুরী। প্রথমত একটা অভ্যুত্থানের পর যাদের বিরুদ্ধে অভ্যুথ্থান হয়ে হত্যাকারী পালিয়ে গেছে। তাদের অংশ ক্ষমতায় থাকতে পারে না। এটি পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ঘটনা।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে একাধিকবার রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে আসছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে এটা অবশ্যই হতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীর শতাধিক দেশে ৪৫০টির বেশী অভ্যুত্থান হয়েছে। এরমধ্যে ২শটির বেশী গণ অভ্যুত্থান। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি অপসারিত হয়েছে, পালিয়ে গেছে বা খুন হয়েছে। সেখানে তাৎক্ষনিকভাবে অন্তবর্তী সরকার গঠিত হয়ে স্থায়ী অথবা অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শপথ নিয়েছেন। বিষয়টি জরুরী।

তাই, এই বিষয়ে জনমত ও গণ আন্দোলন জোরদার করতে হবে। সব বিষয়ে নিয়ে একসাথে কথা না  একটি সমাধান হওয়ার পর আরেকটি নিয়ে অগ্রসর হওয়া যেতে পারে।

যা যা করা যেতে পারে:

ক) রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে কোনো সাংবিধানিক শুণ্যতা দেখা দেবেনা। এটা একটা ভুল ধারণা। কারণ পৃধিবীতে অভ্যুত্থানের পর শত শতবার রাষ্ট্রপতির পতন হয়েছে। এবং নির্বাচন ছাড়াই স্থায়ী অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হয়েছে। বাংলাদেশের এই ঘটনা কমপক্ষে ৪বার হয়েছে। অভ্যুত্থানের পর সংবিধানের দোহাই যদি কেউ দেয়। সে অবশ্যই অভ্যুত্থান বিরোধী। এটা যুক্তি সহ প্রকাশ করতে হবে। কলাম লিখতে হবে, ভিডিও কনটেন্ট বানাতে হবে, টকশোতে বলতে হবে।

খ) যারা রাষ্ট্রপতি অপসারণ চাইবেনা। তাদের সাথে বির্তকের মাধ্যমে তা পরিষ্কার করতে হবে।

খ) নতুন প্রজন্মের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করতে হবে। সবাইকে একসাথে এগিয়ে এসে এটি বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

এখন আমার উপরের পরামর্শগুলো ভুল না সঠিক। সেটা বোঝার জন্য নিচের জিনিসগুলো নিরপেক্ষভাবে  একবার পর্যালোচনা করা যাক।

নিকট অতীতে জামায়াতের কৌশলগুলো কি ছিল?

১। বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ আন্দোলন করা (সঠিক কৌশল)

২। লীগের সাথে জোটবদ্ধ আন্দোলন করা ( একদিকে সঠিক অন্যদিকে ভুল)

৩। জামায়াত নেতাদের জুডিশিয়াল কিলিং আইনগতভাবে মোকাবিলা করা।

৪। কৌশলগতভাবে লোক দেখানো কর্মসূচী না দিয়ে দল গোছানো।

৫। ইতিবাচক বার্তা দিয়ে রাজনীতিতে ফেরা

দূর  অতীতে জামায়াতের ভুল কৌশলগুলো?

১। পাকিস্তান সৃষ্টির বিরোধীতা করা।  তবে যে আশংকা করা হয়েছিল, পাকিস্তানী নেতাদের সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা কেউ ইসলামী পাকিস্তান বানাবেনা। সে আশংকা সত্যি হয়েছে। কিন্তু অখন্ড ভারত হলে মুসলিমরা কখনো স্বাধীন দেশ পেতনা তাই খারাপ আশংকা সত্বেও নীতিগত বিরোধীতা সঠিক ছিলনা, তা পরে প্রমাণিত হয়েছে।

২। স্বাধীন বাংলাদেশের বিরোধীতা করা: এটা সত্য এর যৌক্তিক কারণ ছিল। প্রথমত যারা স্বাধীনতার জন্য সামনে ছিল তাদের সাথে জামায়াতের আদর্শিক ভিন্নতা ছিল। দ্বিতীয় ভারতের কদররাজ্যে পরিণত হওয়ার আশংকা ছিল। আশংকাটি সত্যি হওয়া সত্বেও বাংলাদেশের বিরোধীতা করা ভুল ছিল। প্রথমত- শুধু ধর্মের ভিত্তিতে দেশ এখনো বাস্তবসম্মত নয়। স্বয়ং আরব দেশ কিংবা ইউরোপে  ভাষা ও ধর্ম এক