Week Government

কেন কিভাবে অন্তবর্তী সরকার ব্যর্থ হতে চলেছে?

কেন কিভাবে অন্তবর্তী সরকার ব্যর্থ হতে চলেছে?

 

২০২৪ এর পরিবর্তনের আগে এক ধরনের একদলীয় ও এক ব্যক্তিকেন্দ্রীক রাষ্ট্র ও সরকারব্যবস্থা তৈরী হয়েছিল। এ ধরনের সরকার ব্যবস্থার একটা সুবিধা ছিল যে সিদ্ধান্ত নিতে পারা ও বাস্তবায়ন করা। কিন্তু যদি নেতৃত্ব সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক না হয় তাহলে ব্যাপারটা বিপরীত হয়ে যায়।

যদিও একটি রাজনৈতিক সরকার ও তাদের অতীতের ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাগ্রহণের ইতিহাস জনগনকে কখনো আশ্বস্থ করেনি যে, ভাল কিছু হতে চলেছে। শুধু একটা ভরসা ছিলো, যে তুমি যদি চুপ থাকো তুমি নিরাপদ এবং কিছু কাজ সিদ্ধান্ত ও উন্নয়ন হবে বিরোধী দমননীতি সত্বেও। যদিও সে আশার গুড়েও বালি পড়েছে।

তারপরতো তখত উল্টে সে অধ্যায়ের অবসান হয়েছে। অনেকে বলে আন্দোলনকারীরা জনগনকে ব্যবহার করেছে। আমার কাছে ব্যাপারটা মনে হয়, জনগন ধৈর্যহারা হয়ে শুধু অপেক্ষা করেছিল যে কেউ এসে তাদেরকে উদ্ধার করুক। কেউ সাহস করে ঘোষণা দেয়ার মানে ১ দফা দাবী ঘোষণার পর জনতার জোয়ার তা প্রমাণ করে।

কিন্তু ৫ আগষ্ট পরবর্তী সরকার জনগনের সকল আশা ভুলুন্ঠিত করেছে। যাদের কাছে আশা ছিলো না তারা কি করেছে? সেটার চেয়ে যাদের কাছে আশা ছিল তারা কি করেছে তার বেশী হতাশার।

যদিও হতে পারত একটি বিপ্লবী সরকার, হতে পারত একটি নাগরিক সরকার। তা না হয়ে হয়ে গেল একটি এনজিও সরকার, একটি ফেসুক সরকার (কারণ ফেসবুক দেখে সিদ্ধান্ত নেয়) হয়ে গেল একটি টাইমপাস সরকার, হয়ে গেল একটি নির্বাচনী সরকার। যদিও এই সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারবে   কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এই বিষয়ে অন্য লেখা সত্বেও এই সরকারের ব্যর্থতার কারণগুলো লিখতে চাই।

১) গণঅভ্যুথ্থান এর সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে সরকার গঠন একটি ভাল লক্ষণ ছিলো না। যদিও অনেক দেশে এমনটা হয়েছে। এখানে সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব গোটা সরকারে একটি অস্বস্তিকর পরিবেশ দিয়েছে এবং তাতে আন্দোলনের পুরো স্পিরিট নষ্ট হয়ে গেছে।

যদিও সেনা সমন্বয় না থাকলে ভাল সরকার হতো। সে নিশ্চয়তা দেয়া যায়না। পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট এটাই বলে।

২)  প্রধান উপদেষ্ঠার কার্যালয়ে ৭৬ জনের মধ্যে ১১ জন সেনাবাহিনীর। সেনারা লোকেরা কোনো কাঠামোগত জিনিসকে ভালভাবে চালাতে পারে। কিন্তু নতুন কাঠামো বা সৃজনশীলতা চর্চা তেমন একটা দেখা যায়না।  এই অস্বস্তিটা বোঝা যায় যখন দেখা প্রধান উপদেষ্ঠা দেশে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি কিন্তু বিদেশের সাথে অনেক কিছু করার চেষ্টা করেছেন।

৩) উপদেষ্ঠাগণ বিভিন্ন সেক্টর থেকে এসেছেন। এখানে একটি যোগ্য টিম হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের বিশেষজ্ঞ থাকার কারণে। কিন্তু তারা নিজেরা একটা দল হয়ে উঠতে পারেনি। যেকোনো ভাল টিমের জন্য একটা একটা বিষয়।

৪) যারা আন্দোলনে ছিলেন তারা সরকারে থাকার কারণে স্বভাবতই দেশের রাজনীতিবিদ ও জনগনের একটা অংশ অখুশি হয়েছে, কেউ ঈর্ষান্বিত হয়েছে কেউবা তাদের পেছনে লেগেছে। কিন্তু তারা যদি উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা বা পরিবর্তন আনতে পারতেন হয়তো সেটা একটা জবাব হতো। কিন্তু সেটা হয়নি। যদিও তারা হয়তো বলবেন, তারা না থাকলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতো। এছাড়া তাদের নিয়ে যে সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরী হয়েছে। তাতে সরকার শক্তি হারিয়েছে বলে আমার মনে হয়।

৫) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৪৫০টির বেশী অভ্যুথ্থান হয়েছে। ২৫০টির বেশী ছিল গণঅভ্যুত্থান। ক্ষমতার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান হলো, ক্ষমতাধারীরা পালিয়ে গেলে শীর্ষ ব্যক্তি বসে থাকে। এটা ছিল ব্যত্রিক্রম। হতাশাজনক এবং সকল সমস্যার মূল। যদিও সেনাপ্রধান ও কিছু রাজনৈতিক দলের কারণে হয়েছে। জনগনের প্রত্যাশা পুরণ না হওয়ার দায় তাই শুধু সরকারের নয়। যারা সংবিধানের দোহাই দিয়ে তাকে বসিয়ে রেখেছে। তাদেরকেও নিতে হবে।  ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবেনা। কারণ এটি অভ্যুত্থান ও বিপ্লবের সাথে সাংঘর্ষিক। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহুদেশে এই ‍শূণ্যতা পূরনো নজির আছে। এটা সংবিধানের বিষয় নয় এটা রাষ্ট্রের পরিচয়ের প্রশ্ন।

রাষ্ট্রপতিকে সংবিধানের দোহাই দিয়ে বসিয়ে রাখা ছিল আত্মঘাতি। কেউ না বুঝে করেছে। কেউ দালালী কন্টাক্ট নিয়ে কাজটা করেছে। কারণ তাদের কাছে দেশের চেয়ে দালালী বড় ছিল।

না রাষ্ট্রপতি এখন পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য অঘটন ঘটাননি। কিন্তু রাষ্ট্রপতি সিটে থাকার কারণে প্রশাসনের সর্বস্তরে একটা বার্তা গিয়েছে যে, অভ্যুত্থান হলেও পরিবর্তন হয়নি। সূতরাং সবকিছু আগের মতোই চলবে। এবং প্রতিটি কাজে সেটা লক্ষ্য করা গেছে। সরকার কখনো প্রশাসনের উপর তার কতৃত্ব দেখাতে পারেনি। সরকারও রুটিন ওয়ার্ক করেছে। প্রশাসনও রুটিন ওয়ার্ক কয়েছে। ফলে জনগনের সকল প্রত্যাশাকে এভাবে সকলে মিলে হত্যা করেছে।

৬) প্রস্তুতিহীন ছিল পুরো সরকার। কারণ তারা কেউ জানতেন না। তারা এখানে আসবেন। দেশ নিয়ে তাদের কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। যেখানে এমপিদেরও একই অবস্থা থাকে। তারা হয়তো আইন ও কাঠামোর চেয়ে টেন্টার ও দখলবাজি নিয়ে ব্যস্ত থাকে আর এই সরকার শুধু জনগনের মোটিভ কি সেটা বোঝার জন্য ব্যস্ত ছিল।

৭) দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে সমালোচনা ও ঐক্যমত্য না হওয়ার ভয়ে তারা বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। যেমন-

ক) তারা কালো টাকা সাদা করার ঘোষণা দিয়ে বিদেশ থেকে প্রচুর টাকা নিয়ে আসতো পারতো। কারণ টাকা তাদের সরকার পাচার করেনি। আগের সরকার করেছে। তাদের কাজ ছিলো ফেরত আনা।

খ) এক হাজার নোট বাতিল করতে পারত। যা হতো একটি বিপ্লবী সিদ্ধান্ত এর দ্বারা শত শত বস্তা টাকা অচল হতো এবং জিনিসপত্রের দাম, জমির দাম কমে আসতো।

গ) তারা একটি নাগরিক পরামর্শক কমিটি গঠন করে জেলা উপজেলা পর্যায়ে শাখা করে। জনগনকে ফেসবুকে সমালোচনা করার চেয়ে কমিটির শুনানীতে এসে পরামর্শ দেয়ার মাধ্যমে তাদেরকে রাষ্ট্র পরিচালনার অংশ বানাতে পারতো। যে সুযোগ তারা চরমভাবে হাতছাড়া করেছেন।

ঘ) সরকার গঠনের সাথে সাথে চারদিকে, যে আন্দোলন সংগ্রাম শুরু হয়েছে। তারকার চাইলে এগুলো নিয়ন্ত্রণ ও কাঠামোবদ্ধ করতে পারতো। প্রথমত রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমিত করতে পারতো। মানে রাস্তায় ও খোলা জায়গায় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচী হবে না। পুলিশের অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভ হবে না। যেকোনো দাবী আদায়ের জন্য পূর্বাচলে প্রস্তাবিত ক্রিকেট মাঠকে সাময়িকভাবে গণদাবী মাঠ ঘোষণা করে সেখানে জড়ো করার সুযোগ নিতে পারতো। সেখানে একটি থানা বানিয়ে সেখানে দাবী জানানোর জায়গা করে দিতে পারতো।

ঙ) একটি ‘‘গণদাবী পরিষদ’’ গঠন করে জনগনের সকল দাবী সেখানে জমা দেয়ার ঘোষনা ও মুক্ত আলোচনার সুযোগ করে জনগনকে গঠনমূলক রাজনীতি, তথ্যভিত্তিক আলোচনা ও সরকারের সাথে বোঝাপড়ার সুযোগ দিতে পারতো।

তারা ভুল ট্রেনে উঠে ক্রমশ ভুল স্টেশনের দিকে চলে গিয়েছে। তাদেরকে এগুলো লিখিতভাবে জানিয়েছিলাম।

৭) বিপ্লব পরবর্তী অস্থিরতা খুব স্বাভাবিক বিষয়। একদিকে পতিত শক্তি নানা ষড়যন্ত্র করবে। তাছাড়া যেহেতু তাদের দলীয় প্রধান সরাসরি হত্যা ও ধ্বংসের নির্দেশ দেয় সূতরাং তারাও আরো খারাপ কিছু করতে পারতো। এদিকে ১৫ বছরের নির্যাতনের কারণে আন্দোলনে আস্তিক-নাস্তিক, রক্ষণশীল উদার সবাই এক হয়ে গেছে। সূতরাং আন্দোলন পরবর্তী তাদের সাথে সংঘর্ষ অনিবার্য। কিন্তু তা মোকাবিলায় সরকারের কোনো কৌশলগত পরিকল্পনা ছিল না।

৯) এটা জানা কথা যারা সরকারে থাকে ৩০% তাদের সমর্থন থাকে। আর সরকারে বসে গেলে আরো ৩০% লোক তাদের দালারী করে। বিগত ১৫ বছরে আরো ৩০% লোক নিয়োগ দিয়ে তারা শক্ত ভিত্তি নিয়ে বসে আছে। এখন ক্ষমতা না থাকার কারণে ৩০% ঘুরে গিয়েছে। আর গণহত্যার কারণে তাদের ৩০% এর ১৫% নিরব হয়ে আছে, হয়তো ৫% পালিয়েছে বা ১%।

কিন্তু আরো অন্তত ৪৫% লোক প্রশাসনে রয়েছে যারা কৌশলে বাঁধা সৃষ্টি করবে।

ক) প্রথমত তারা বোঝাবে এটা আইনে নাই ,ওটা সংবিধানে নেই। তাই করা যাবে না।

খ) দ্বিতীয়ত তারা সব কাজে ধীরতা দেখাবে সময়মতো কাজ করবে না। যাতে সরকার লক্ষ্য অর্জন করতে না পারে।

গ) তৃতীয়ত, তারা ভিতরে কি হচ্ছে সব তথ্য পাচার করতে থাকবে।

ঘ) চর্তুথত, তারা নিজেরা যেহেতু অনেকে অপরাধী তাই তারা সরকার পতনেও কাজ করতে পারে।

ঙ) এছাড়া তাদরে একটি অংশ ধ্বংসকারীদরে সাথে যোগ দিতেও পারে।

অথচ সরকার চাইলে এটা থেকে বের হতে পারতো। সরকার তাদরে বেতন ও সুযোগ সুবধিা বাড়িয়ে দিলে ৪৫% থেকে ২০% সরকাররে সর্মথনে আসতো। এবং বাকী ২৫% খুব বেশী সুবিধা করতে পারতোনা।

১০) আর যারা সরকারে রয়েছে প্রধান উপদেষ্ঠাসহ সবার নিজস্ব এনজিও বা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের মাথায় একটা বিষয় ঢুকে বসে আছে। সেটা হলো তারা যদি পরের সরকারের লোকদের বিরাগভাজন হন তাহলে পরে তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। এবং তারাও বিপদে পড়তে পারেন।

অথচ এই জন্য তাদের প্রয়োজন ছিলো,রাষ্ট্রের কাঠামো শক্তিশালি করা যাতে সকলের সুরক্ষা হয়। তারা তা না করে আপোষকামিতার পথ বেছে নিয়েছেন বলে মনে হয়।

বলাবাহুল্য প্রধান উপদেষ্ঠারও একটি দূর্বলতা আছেন। তিনি শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন এবং শান্তির বার্তা প্রচার করেন। তাই তার প্রশাসন অন্তত মানুষ মারবেনা। এ কারণে পতিতরা নানা অপকর্ম করেছে আর দুষ্কৃতিকারীরা করেছে মব-বাজি আর লুটপাট।

 

১১) আরকেটি বড়ো কারণ হলো, সরকার আশা করছিলো বিপ্লবী নেতারা সরকারকে সহযোগতিা করবে এবং সরকাররে জন্য জনমত গঠন করবে। কিন্তু তারা রাজনতৈকি দল গঠন করার কারণে তারা সবার আগে কোনঠাসা হয়ে পড়ছে। অধিকন্তু তারা কি ধরনের দেশ ও সরকার গঠন করতে পারবে। তার কোনো রুপরেখা জনগনের সামনে তুলে ধরতে পারেনি।

ফলে সরকার আর তাদরে উপর ভরসা করতে না পেরে বৃহৎ রাজনতৈকি শক্তির দিকে ঝুকে পড়েছে এবং তাদের ইচ্ছার বাস্তবায়ন করছে।

১২) অন্য একটি খুব সুক্ষ্ম এবং গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও বিভ্রান্তি। জটিলতা আমরা জানি কিন্তু বিভ্রান্তিটা হলো, যেহেতু সাইকো রিজিমে প্রচুর হত্যা নির্যাতন হয়েছে। তো তার পতনের পরও হয়েছে। কিন্তু পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে আগে বেশী হয়েছে এখন কম। পুলিশ ও আমলারা সরকারকে এটা বুঝিয়েছে যে, পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভাল। আর তারা সে আত্মতৃপ্তিতে প্রতিদিন বিভ্রান্ত হয়েছে।

১৩) যে কারণ প্রধান এবং গভীর সেটি হলো, আইনের শাসন না থাকা ও আইনি কাঠামোর দূর্বলতা। কারণ আইনগুলো এমনভাবে লেখা যাতে যারা আইন প্রয়োগ করবে তারা তাদের মতো করতে পারে। চাইলে কাউকে ফাসাতে পারে আবার চাইলে কাউকে বাঁচাতে পারে। ব্রিটিশ আমল থেকে  এভাবে চলে আসছে। ব্রিটিশদের বাঁচানোর রাস্তা রাখতে এভাবে তৈরী করা হয়েছে। তাই সরকার নিয়মতান্ত্রিকভাবে কখনো প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে না। যথন কোনো সরকার নেয় তারা গায়ের জোরে নেয়। আর এই সরকারের যেহেতু মাঠকর্মী নেই। তাই তাদের গায়ের জোরও নেই।

১৪)  রাজনৈতিক ঐক্যমত্য সৃষ্টি করতে না পারা। এখানে সরকার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক নানাবিধ বাস্তবতার কারণে সেটা হয়নি। কিন্তু ব্যর্থতারতো কোনো ডাক নাম নেই। ব্যর্থতাতো ব্যর্থতা।

আপনারা বলবেন ভারত আর আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র ছিল। আমি সেটাকে স্বাভাবিক ভাবে নিয়েছি। (ভাল নয় কিন্তু অস্বাভাবিক নয়) তাই সেটা গণ্য করেনি। সেটাতো থাকতেই পারে। আপনি যখন দায়িত্ব নেবেন। তখন আপনাকেতো আপনার কাজ করতে হবে।

এছাড়া এমনটাও সত্য যে, এত এত সমস্যা আর অস্থিরতার মধ্যে পরিস্থিতি আরো খারাপ ও মারাত্মক হতে পারতো। সরকার কৌশলে অনেক কিছু সামাল দিয়েছে। আমি সরকারের এই সক্ষমতা ও সদিচ্ছাকেও অস্বীকার করছি না।

কিন্তু আপনাকে মনে রাখতে হবে এ ধরনের অভ্যুত্থানের পর সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্র চলে না। আর এ ধরনের ‍সুযোগ হয়তো ১শ বছরে বা ৫০ বছরে একবার আসে। হয়তো আগামী ৩০-৪০ বছরেও আসবেনা। তাই সংবিধানের দোহাই ও নিয়মের বালাই না দেখিয়ে সরকারের উচিৎ ছিল সংষ্কারে যাওয়া।

বিপ্লবী রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ছিল এবং সংষ্কারপন্থী জোট গঠন করে জনমত দিয়ে সরকারের পাশে থাকা। সেনাবাহিনীর উচিৎ ছিল রাষ্ট্রপতির পরিবর্তনে সহযোগিতা করা। যারা যারা তাদের সঠিক কাজটি করতে পারেন নি।  জনগনের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া ও কাংখিত সংষ্কার না হওয়ার জন্য তাদের দায়ী করে গেলাম।

সরকাররে এই র্ব্যথতার জন্য কারা কারা দায়ী বলে আপনি মনে করনে।।।