আইনি_দস্তাবেজ
আইনি_দস্তাবেজ

দোকান ভাড়া চুক্তিপত্র

দোকান ভাড়া চুক্তিপত্র

একটি স্পষ্ট ও আইনসম্মত ভাড়া চুক্তি মালিক ও ভাড়াটিয়া উভয়ের জন্যই নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এই দলিলটি ভাড়ার শর্তাবলী, মেয়াদ, জামানতের টাকা এবং উভয় পক্ষের দায়িত্ব সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেয়, যা ভবিষ্যতে কোনো বিরোধ বা বিভ্রান্তি রোধ করতে সহায়ক। নিচে একটি আদর্শ দোকান ভাড়া চুক্তির নমুনা দেওয়া হলো।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

ভাড়ার মেয়াদ: ২ (দুই) বছর ৯ (নয়) মাস।
(০১/০৯/২০২৪ তারিখ থেকে ৩১/০৫/২০২৭ তারিখ পর্যন্ত)
অগ্রিম বাবদ: ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা
মাসিক ভাড়া: ২,৫০০/- (দুই হাজার পাঁচশত) টাকা।

প্রথম পক্ষ / মালিক
নাম: মোঃ রফিকুল ইসলাম, পিতা: মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকানা: বাড়ি নং- ১১৪, পশ্চিম নন্দীপাড়া, খিলগাঁও, ঢাকা। জাতীয়তা- বাংলাদেশী, ধর্ম- ইসলাম, পেশা- ব্যবসা।

দ্বিতীয় পক্ষ / ভাড়াটিয়া
নাম: মোঃ সোহেল রানা, পিতা- মোঃ আমিনুল হক, ঠিকানা: গ্রাম- নয়াটোলা, ডাকঘর- সূত্রাপুর, উপজেলা- কেরানীগঞ্জ, জেলা- ঢাকা। জাতীয়তা- বাংলাদেশী, ধর্ম- ইসলাম, পেশা- ব্যবসা।

পরম করুণাময় মহান আল্লাহ তা’য়ালার নামে এই ভাড়া চুক্তিপত্রের বয়ান শুরু করছি। আমি প্রথম পক্ষ আমার নিজ মালিকানাধীন দোকানটি প্রকাশ্যে ভাড়া দিতে চাইলে, আপনি দ্বিতীয় পক্ষ নিচের শর্তগুলো মেনে এটি ভাড়া নিতে সম্মত হয়েছেন। এ কারণে উভয় পক্ষের মধ্যে এই চুক্তিপত্র সম্পাদিত হলো। যা ০১/০৯/২০২৪ তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

শর্তাবলী:

(১) এই দোকান ঘরের ভাড়া চুক্তি আজ ০১/০৯/২০২৪ তারিখ থেকে শুরু হয়ে আগামী ২ (দুই) বছর ৯ (নয়) মাস, অর্থাৎ ৩১/০৫/২০২৭ তারিখ পর্যন্ত কার্যকর ও বলবৎ থাকবে।

(২) নিচের তফসিলে বর্ণিত সম্পত্তির দোকান ঘরটিতে আপনি দ্বিতীয় পক্ষ উচ্ছেদযোগ্য ভাড়াটিয়া হিসেবে এবং আমি প্রথম পক্ষ মালিক হিসেবে বিবেচিত হব।

(৩) নিচের তফসিলে বর্ণিত দোকান ঘরের অগ্রিম জামানত বাবদ আপনি দ্বিতীয় পক্ষ, আমি প্রথম পক্ষকে এককালীন ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা প্রদান করেছেন। এর মাসিক ভাড়া ২,৫০০/- (দুই হাজার পাঁচশত) টাকা ধার্য করা হলো। উল্লেখিত অগ্রিম টাকা থেকে কোনো কর্তন যাবে না। ভাড়ার টাকা প্রতি মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

(৪) নিচের তফসিলে বর্ণিত দোকান ঘরে আপনি দ্বিতীয় পক্ষ আপনার নিজ খরচে যাবতীয় বিদ্যুৎ বিল, ট্রেড লাইসেন্স ফি ইত্যাদি নিয়মিত পরিশোধ করবেন।

(৫) আমি প্রথম পক্ষ/আপনি দ্বিতীয় পক্ষ, দোকান ঘরের উপরোক্ত সময়সীমায় ব্যবসা চলাকালে যদি কারো কাছে কোনো প্রকার লেনদেন (দেনা) থাকে, তাহলে আপনি দ্বিতীয় পক্ষ নিজ দায়িত্বে তা পরিশোধ করবেন।

(৬) নিচের তফসিলে বর্ণিত দোকান ঘরটি আপনি দ্বিতীয় পক্ষ শুধুমাত্র কসমেটিক্সের দোকান হিসেবে ব্যবহার করবেন এবং কাউকে উপ-ভাড়াটিয়া হিসেবে বসাতে পারবেন না। আবার কারো কাছে দখলও হস্তান্তর করতে পারবেন না।

(৭) যদি কোনো কারণে আমাদের যেকোনো এক পক্ষের দোকান ঘরটি পরিত্যাগ বা ফেরত নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে উভয় পক্ষ একে অপরকে কমপক্ষে ০৩ (তিন) মাস আগে লিখিতভাবে জানাতে বাধ্য থাকবেন। এই নোটিশ যেকোনো মাসের ০১ তারিখে দিতে হবে এবং হিসাব-নিকাশ করে আপনার পাওনা বাকি টাকা নিয়ে যাবেন।

(৮) এই চুক্তিপত্রের মেয়াদ ৩১/০৫/২০২৭ তারিখ শেষ হওয়ার পর এই চুক্তিনামা দলিলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। আপনি দ্বিতীয় পক্ষ নতুন চুক্তি করতে ইচ্ছুক না হলে, দোকান ঘরটি আমি প্রথম পক্ষকে খালি করে বুঝিয়ে দিয়ে আপনার জামানতের টাকা নিয়ে যাবেন।

(৯) নিচের তফসিলে বর্ণিত দোকান ঘরটিতে আপনি এমন কোনো ব্যবসা করতে পারবেন না, যা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। যদি এরকম যেকোনো অপরাধমূলক ঘটনা ঘটে, তাহলে আপনি দ্বিতীয় পক্ষই তার জন্য সম্পূর্ণরূপে দায়ী থাকবেন।

(১০) ভাড়াটিয়া দোকানের গাঠনিক কোনো পরিবর্তন, রং বা মেরামতের কাজ করার আগে মালিকের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নেবেন।

(১১) ভবনের সাধারণ নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ভাড়াটিয়া মালিক ও অন্যান্য ভাড়াটিয়াদের সাথে সাধ্যমতো সহযোগিতা করবেন।

এতদ্ব্যতীত, আমরা উভয় পক্ষ স্বেচ্ছায়, সম্পূর্ণ সজ্ঞানে, সুস্থ শরীরে এবং কারোর দ্বারা প্ররোচিত না হয়ে এই ভাড়া চুক্তিনামা দলিলটি পড়ে, বুঝে ও শুনে একত্রে সর্বসম্মতভাবে একমত হয়ে নিচের সাক্ষীদের সমুখে এই চুক্তিনামা দলিলে স্বাক্ষর সম্পাদন করলাম।

ইতি তারিখ: ০১/০৯/২০২৪ ইং

তফসিল পরিচয়:
জেলা- ঢাকা, থানা- খিলগাঁও, অধীন ১১৪ নং, পশ্চিম নন্দীপাড়াস্থিত ১০৩৮ নং দাগের উপর অবস্থিত কসমেটিক্স দোকান ঘরটি। বাড়ির দক্ষিণ গেটের পূর্ব পাশের ৪ নং দোকান ঘরটি এই চুক্তিপত্র দ্বারা ভাড়া দেওয়া হলো।

এই চুক্তিপত্রটি ২ (দুই) ফর্দে (পৃষ্ঠায়) তৈরি করা হয়েছে এবং সাক্ষীর সংখ্যা ৩ (তিন) জন।

স্বাক্ষীগণের নাম ও স্বাক্ষর:

১. নাম: মোঃ কামাল হোসেন, ঠিকানা- মিরপুর, ঢাকা।
স্বাক্ষর: …………………..

২. নাম: মোছাঃ সেলিনা আক্তার, ঠিকানা- খিলগাঁও, ঢাকা।
স্বাক্ষর: …………………..

৩. নাম: মোঃ ইমরান হোসেন, ঠিকানা- নন্দীপাড়া, খিলगাঁও, ঢাকা।
স্বাক্ষর: …………………..

 

__________________

প্রথম পক্ষ / মালিকের স্বাক্ষর
(মোঃ রফিকুল ইসলাম)

 

__________________

দ্বিতীয় পক্ষ / ভাড়াটিয়ার স্বাক্ষর
(মোঃ সোহেল রানা)

পরামর্শ: এই ধরনের চুক্তি সম্পাদন ও সংরক্ষণের সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মেনে চলা উচিত:

  • চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উভয় পক্ষ এবং কমপক্ষে দু’জন সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করুন। সাক্ষীদের পরিচয়পত্রের বিবরণ নথিভুক্ত করুন।

  • জামানতের টাকা নেওয়া-দেওয়ার সময় একটি স্বাক্ষরযুক্ত রসিদ বা রিসিট অবশ্যই তৈরি করুন।

  • চুক্তির একটি কপি উভয় পক্ষই সুরক্ষিত স্থানে সংরক্ষণ করবেন।

  • চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে এক মাস আগেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা (নবায়ন বা খালি করা) সম্পর্কে আলোচনা শুরু করুন।

  • যেকোনো বড় ধরনের পরিবর্তন বা বিভ্রান্তি দেখা দিলে আইনজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।

 

নোট: এটি একটি নমূনামাত্র, আইনজীবি অথবা অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শে কার্য সম্পাদন উত্তম।
সৌজন্যে: টিম শোভনীয়
ছবি: ইন্টারনেট

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply