মোটরসাইকেল বন্ধকনামা দলিল
অনেক সময় জরুরি নগদ টাকার প্রয়োজন মেটানোর জন্য দ্রুত স্থাবর সম্পত্তি, যেমন মোটরসাইকেল, বন্ধক রাখা হয়ে থাকে। এটি একটি দ্রুত এবং তুলনামূলক সহজ লেনদেন। তবে, যেকোনো আর্থিক চুক্তির মতোই একটি স্পষ্ট, আইনসম্মত ও সুস্পষ্ট দলিল উভয় পক্ষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নমুনা দলিলটি আপনাকে বন্ধকনামার সাধারণ কাঠামো এবং কোন কোন তথ্য ও শর্তাবলি তাতে থাকা উচিত, তা বুঝতে সাহায্য করবে। মনে রাখবেন, এটি কেবলমাত্র একটি গাইডলাইন; বাস্তবে প্রয়োগ এর আগে সচেতনতা অবলম্বন করুন।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
মোটরসাইকেল বন্ধকনামা দলিল
প্রথম পক্ষ/ বন্ধকদাতা
নাম: সুমাইয়া আক্তার, পিতা: মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকানা: মদিনাবাদ, হালিশহর, চট্টগ্রাম। জাতীয়তা- বাংলাদেশী, ধর্ম- ইসলাম, পেশা- গৃহিণী।
দ্বিতীয় পক্ষ/ বন্ধকগ্রহিতা
নাম: মোঃ রকিব হাসান, পিতা: মোঃ ইলিয়াস মিয়া, ঠিকানা: নাসিরাবাদ, হালিশহর, চট্টগ্রাম। জাতীয়তা- বাংলাদেশী, ধর্ম- ইসলাম, পেশা- ব্যবসা।
পরম করুণাময় মহান আল্লাহতায়ালার নাম নিয়ে আমি, প্রথম পক্ষ, নিচের বর্ণিত মোটরসাইকেলটি বন্ধক রাখার এই দলিলটি লিখতে শুরু করছি। আমার স্বামীর মালিকানাধীন একটি মোটরসাইকেল আমি ব্যবহার করতাম।
বর্তমানে আমার বাসার ভাড়া জমা দেওয়ার জন্য নগদ টাকার বিশেষ প্রয়োজন হওয়ায়, আমি বাসার মালিক দ্বিতীয় পক্ষের কাছে উক্ত মোটরসাইকেলটি বন্ধক রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করি। তিনি ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকার বিনিময়ে এটি বন্ধক নিতে রাজি হন। তাই, ০১/০২/২০২৩ ইং তারিখে, উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে, আমি প্রথম পক্ষ দ্বিতীয় পক্ষের কাছ থেকে ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা আমার বাসা ভাড়া বাবদ পরিশোধ করার জন্য নিলাম এবং উক্ত মোটরসাইকেলটি বন্ধক রাখলাম।
আমি স্বীকার, অঙ্গীকার এবং ঘোষণা করছি যে, আমি প্রথম পক্ষ যখনই দ্বিতীয় পক্ষকে এই বন্ধকের টাকা ফেরত দিতে পারব, তখনই দ্বিতীয় পক্ষকে আমার মোটরসাইকেলটি আমাকে ফেরত দিতে হবে। এতে দ্বিতীয় পক্ষ কোনো ধরনের অজুহাত, আপত্তি, দাবি-দাওয়া ইত্যাদি করতে পারবেন না। করলেও তা কোনো আইন আদালতে সম্পূর্ণরূপে অগ্রাহ্য এবং বাতিল বলে গণ্য হবে।
শর্তাবলী:
০১। আমি প্রথম পক্ষ ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা নগদ ঋণ হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং এর বিনিময়ে আমার মোটরসাইকেলটি বন্ধক রাখলাম।
০২। বন্ধক কালীন সময়ে, মোটরসাইকেলটি দ্বিতীয় পক্ষের কাছে সুরক্ষিত থাকবে। কিন্তু তিনি এটা নিয়মিত ব্যবহার করতে পারবেন না বা এর কোনো ক্ষতি করতে পারবেন না। ক্ষতি হলে তিনি তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী থাকবেন।
০৩। আমি প্রথম পক্ষ যেকোনো সময় টাকা ফেরত দিয়ে আমার মোটরসাইকেল ফেরত নিতে পারব।
০৪। দ্বিতীয় পক্ষ যদি বন্ধকের টাকা ফেরত চান, তবে তাঁকে অন্তত ০৭ (সাত) দিন আগে আমাকে/প্রথম পক্ষকে লিখিত বা মৌখিকভাবে জানাতে হবে।
০৫। বন্ধক কালীন সময়ে মোটরসাইকেলের কোনো ধরনের লাইসেন্স/ট্যাক্স/বিমা নবায়ন এর দায়িত্ব প্রথম পক্ষের থাকবে কিন্তু দ্বিতীয় পক্ষ এটি নিশ্চিত করবেন যে, এগুলো সময়মতো হয়েছে।
০৬। ঋণের উপর কোনো প্রকারের সুধার্য্য (সুদ) এই চুক্তিতে উল্লেখ নেই, সুতরাং দ্বিতীয় পক্ষ শুধুমাত্র তার দেওয়া আসল টাকাটাই ফেরত পাবেন।
এতদ্ব্যতীত, স্বেচ্ছায়, সুস্থ শরীরে ও সুস্থ মনে, অন্য কারোর প্ররোচনা ছাড়াই, এই বন্ধকনামা দলিলটি পড়ে বুঝে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে নিজ নিজ নামে সই করলাম।
তারিখ: ০১/০২/২০২৩ ইং
বন্ধকী মোটরসাইকেলের বিবরণ:
-
রেজিস্ট্রেশন নম্বর: CHA-11-AB-1234
-
চেসিস নং: MB45K87654321XYZ
-
ইঞ্জিন নং: E12A3456789Z
-
মডেল/ব্র্যান্ড: Honda X-Blade 160
(এই দলিলটি মোট ২ (দুই) পৃষ্ঠায় কম্পিউটারে টাইপ করা হয়েছে)।
সাক্ষীগণের নাম ও স্বাক্ষর:
১. __________________ (মোঃ সোহেল রানা), ঠিকানা: নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম
২. __________________ (আনজুমান আরা বেগম), ঠিকানা: মদিনাবাদ, চট্টগ্রাম
__________________
প্রথম পক্ষ/ বন্ধকদাতার স্বাক্ষর
(সুমাইয়া আক্তার)
__________________
দ্বিতীয় পক্ষ/ বন্ধকগ্রহিতার স্বাক্ষর
(মোঃ রকিব হাসান)
পরামর্শ:
-
মূল দলিপত্র যাচাইকরুন: বন্ধক নেওয়ার আগে, মোটরসাইকেলের আসল রেজিস্ট্রেশন কার্ড ব্লু বুক, ট্যাক্স টোকেন, এবং ফিটনেস সার্টিফিকেট দেখে নিশ্চিত হোন যে, প্রথম পক্ষের এটি বন্ধক দেওয়ার আসলেই অধিকার আছে।
-
ফটো তোলা: বন্ধক নেওয়ার আগে মোটরসাইকেলের বর্তমান অবস্থার স্পষ্ট ফটো (বামপাশ, ডানপাশ, সামনে, পিছনে) তুলে রাখুন, যাতে পরে কোনো ক্ষতি বা আঁচড় নিয়ে বিবাদ এড়ানো যায়।
-
লিখিত রসিদ: টাকা দেওয়ার সময়, প্রথম পক্ষের কাছ থেকে একটি রসিদ নিন, যাতে টাকার পরিমাণ, তারিখ, এবং উদ্দেশ্য উল্লেখ থাকে।
-
স্পষ্ট সময়সীমা: চুক্তিতে একটি স্পষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা ভালো, যেমন: “এই চুক্তি ৬ (ছয়) মাসের জন্য কার্যকর থাকবে। এর পরে, উভয় পক্ষ আলোচনা করে এটি নবায়ন করতে পারবেন।”
-
স্থানীয় থানা তে জানানো: বড় অংকের লেনদেন হলে, নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় থানায় এটি সম্পর্কে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে রাখা ভালো অনুশীলন।

