Act, Law
High Court of Bangladesh

দুইটি রুমের বন্ধকী দলিল

দুইটি রুমের বন্ধকী দলিল

বন্ধকী দলিল একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দলিল, যার মাধ্যমে কোনো সম্পত্তি জামানত রেখে ঋণ নেওয়া হয়। এই দলিলে ঋণগ্রহীতা (বন্ধকদাত্রী) এবং ঋণদাতা (বন্ধকগ্রহীতা) উভয়ের অধিকার ও দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। নিম্নে একটি আদর্শ বন্ধকী দলিলের নমুনা প্রদান করা হলো, যা শুধুমাত্র শিক্ষণীয় উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। কোনো বাস্তব transaction-এর জন্য অবশ্যই একজন যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া অত্যাবশ্যক।

 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

দুইটি রুম বন্ধকী দলিল

প্রথম পক্ষ/ বন্ধকগ্রহীতা (ঋণদাতা)
নাম: মো: সাকিব হাসান

পিতা: মো: জাহিদ হোসেন

ঠিকানা: বাড়ি নং- ৩০, রোড নং- ৭, ব্লক- সি, বনানী, ঢাকা।

জাতীয়তা- বাংলাদেশী, ধর্ম- ইসলাম, পেশা- ব্যবসা।

দ্বিতীয় পক্ষ/ বন্ধকদাত্রী (ঋণগ্রহীতা)
নাম: মো: রবিউল ইসলাম

পিতা: মো: জালাল উদ্দিন

ঠিকানা: বাড়ি নং- ৬৬/১, পূর্ব নন্দীপাড়া, খিলগাঁও, ঢাকা।

জাতীয়তা- বাংলাদেশী, ধর্ম- ইসলাম, পেশা- চাকরি।

পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালার নাম নিয়ে দুইটি রুমের বন্ধকীনামা দলিলের আইনসম্মত বর্ণনা শুরু করছি।

যেহেতু আমি, দ্বিতীয় পক্ষ (মো: রবিউল ইসলাম), নিচের তফসিলে বর্ণিত সম্পত্তি আমার মাতার ওয়ারিশ সূত্রে মালিক। আমি উক্ত জমিতে আমার নিজস্ব অর্থায়নে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করে সেখানে বসবাস ও ভোগদখল করে আসছি।

বর্তমানে আমার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে নগদ টাকার দরকার হওয়ায়, আমি উক্ত ভবনের নিচতলার দুইটি রুম বন্ধক রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে আলোচনায় আপনি, প্রথম পক্ষ (মো: সাকিব হাসান), ২,৪০,০০০/- (দুই লক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকার বিনিময়ে এই রুম দুইটি বন্ধক নিতে রাজি হন।

সেইমতো, আজ ৩১/০৭/২০১৬ ইং তারিখে, হাজিরা মজলিসে উপস্থিত সাক্ষীগণের সামনে, আমি, দ্বিতীয় পক্ষ, আপনার (প্রথম পক্ষের) কাছ থেকে উপরোল্লিখিত ২,৪০,০০০/- (দুই লক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকা নগদ হাতে হাতে গ্রহণ করলাম এবং পুরোপুরি বুঝে নিলাম। এর বিনিময়ে আমি নিচের তফসিলে বর্ণিত দাগে অবস্থিত আমার ভবনের নিচতলার দুইটি রুম আপনাকে বন্ধক রাখলাম।

আমি, দ্বিতীয় পক্ষ, এই দুইটি রুম বন্ধক রাখার মাধ্যমে স্বীকার, অঙ্গীকার ও ঘোষণা করছি যে, আমি যখনই আপনার কাছ থেকে নেওয়া বন্ধকী টাকা পরিশোধ করতে পারব, তখনই আপনি উক্ত রুম দুইটি আমার কাছে ফেরত ছেড়ে দিতে এবং দখল বুঝিয়ে দিতে বাধ্য থাকবেন। এ বিষয়ে আপনি, প্রথম পক্ষ, কোনো ধরনের ওজর-আপত্তি, দাবি-দাওয়া করতে পারবেন না। যদি করেন, তাহলে তা যেকোনো আইন আদালতে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য ও বাতিল বলে গণ্য হবে।

ভোগাধিকার: এটা উল্লেখ্য যে, এই বন্ধকী মেয়াদে আপনি, প্রথম পক্ষ, উক্ত দুইটি রুম ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার রাখেন। আমি, দ্বিতীয় পক্ষ, এতে কোনো রকম বাধা বা আপত্তি করতে পারব না। করলেও তা কার্যকর বা গ্রহণযোগ্য হবে না।

পরিশোধের শর্ত: আরও উল্লেখ্য যে, এই দলিল স্বাক্ষরের তারিখ থেকে ঠিক এক (০১) বছরের মধ্যে আমি, দ্বিতীয় পক্ষ, যদি গৃহীত ২,৪০,০০০/- (দুই লক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকা ফেরত দিতে না পারি, তাহলে আপনি, প্রথম পক্ষ, সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রুম দুইটি বাজারমূল্যে প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করার অধিকার রাখবেন। বিক্রয়লব্ধ টাকা থেকে আপনি আপনার প্রাপ্য বন্ধকী টাকা ও আনুষঙ্গিক খরচাদি কেটে নেবেন। বাকি টাকা (যদি থেকে থাকে) অবশ্যই আমার কাছে ফেরত দিতে হবে।

সাধারণ ধারা:

  • এই বন্ধকী চুক্তি কোনোভাবেই ভাড়া বা লিজ চুক্তি হিসেবে গণ্য হবে না।

  • এই দলিলের কোনো clause যদি কোনো কারণে অবৈধ বা অকার্যকর হয়, তাহলে বাকি clauses গুলো সম্পূর্ণভাবে কার্যকর থাকবে।

এতদ্ব্যতীত, আমি সম্পূর্ণ সুস্থ শরীর ও সুস্থ মস্তিষ্কে, কারোর কোনো প্ররোচনা ছাড়াই, নিজের ইচ্ছায় এই বন্ধকীনামা দলিলটি পড়ে ও বুঝে, উপস্থিত সাক্ষীগণের সামনে নিজের নাম স্বাক্ষর করে সম্পাদন করলাম।

ইতি তারিখ: ৩১/০৭/২০১৬ ইং

বন্ধকী নামা দলিলের তফসিল পরিচয়:

জেলা: ঢাকা, থানা: খিলগাঁও, হোল্ডিং নং: ৬৬/১, অবস্থান: পূর্ব নন্দীপাড়ার ৬নং রোড সংলগ্ন। উক্ত ভবনের নিচতলার দক্ষিণ-পূর্ব কোণের ২টি কক্ষ (রুম নং- ১ ও ২) এই দলিলের মাধ্যমে বন্ধক দেওয়া হলো।

এই বন্ধকী দলিলটি মোট ৩ (তিন) পাতায় কম্পিউটারে টাইপ করা হয়েছে এবং এতে ০৪ (চার) জন সাক্ষী রয়েছে।

স্বাক্ষীগণের নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর:

১. নাম: মো: করিম, পিতা: মো: সিরাজুল ইসলাম, ঠিকানা: মিরপুর, ঢাকা।
স্বাক্ষর: ___________________

২. নাম: মো: সেলিম, পিতা: মো: নুরুল আমিন, ঠিকানা: খিলগাঁও, ঢাকা।
স্বাক্ষর: ___________________

৩. নাম: মো: আলমগীর হোসেন, পিতা: মো: ওবায়দুল হক, ঠিকানা: মগবাজার, ঢাকা।
স্বাক্ষর: ___________________

৪. নাম: মিসেস নাসরিন আক্তার, পতি: মো: শহিদ, ঠিকানা: নন্দীপাড়া, খিলগাঁও, ঢাকা।
স্বাক্ষর: ___________________

দ্বিতীয় পক্ষ (বন্ধকদাত্রী)-এর স্বাক্ষর:

 

___________________

(মো: রবিউল ইসলাম)

প্রথম পক্ষ (বন্ধকগ্রহীতা)-এর স্বাক্ষর:

 

___________________

(মো: সাকিব হাসান)

পরামর্শ:

আইনজীবীর পরামর্শ: বন্ধকী দলিল একটি অত্যন্ত গুরুতর আইনী দলিল। স্বাক্ষরের আগে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীকে সমস্ত শর্তাদি সম্পূর্ণভাবে যাচাই করতে দিন। তারা নিশ্চিত করতে পারবেন যে আপনার অধিকার সুরক্ষিত আছে এবং দলিলটি সকল স্থানীয় আইন অনুসারে প্রযোজ্য।

মূল্যায়ন: সম্পত্তির একটি স্বাধীন এবং পেশাদার মূল্যায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি নিশ্চিত করে যে ঋণের পরিমাণ (বন্ধকী টাকা) সম্পত্তির মূল্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং উভয় পক্ষের জন্য ন্যায্য।

নিলামের শর্তাবলী স্পষ্টকরণ: যদিও বিক্রির বিষয়টি উল্লেখ আছে, তবে নিলামের প্রক্রিয়া আরও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা উচিত। বিশেষ করে, বাজারমূল্য নির্ধারণ, ঋণগ্রহীতাকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং বিক্রির সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বিশেষ আইনী শর্তাদি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

দস্তাবেজ সংরক্ষণ: স্বাক্ষরের পর, নিশ্চিত করুন যে উভয় পক্ষের কাছে একটি করে স্বীকৃত কপি (attested copy) সংরক্ষিত আছে। সব লেনদেন ব্যাংক চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পন্ন করুন এবং রসিদ সংরক্ষণ করুন, যাতে ভবিষ্যতে পরিষ্কার রেকর্ড থাকে।

বিমা: বন্ধক দেওয়া সম্পত্তির জন্য অগ্নি বা প্রাকৃতিক বিপর্যয় ইত্যাদির ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে বিমা করার বিষয়টি বিবেচনা করুন। এছাড়া দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন যে, বিমার প্রিমিয়াম প্রদান করার দায়িত্ব কার।

নোট: এটি একটি নমূনামাত্র, আইনজীবি অথবা অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শে কার্য সম্পাদন উত্তম।
সৌজন্যে: টিম শোভনীয়
ছবি: ইন্টারনেট

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply