বাংলাদেশে জৈব প্রযুক্তি চর্চা
জৈব প্রযুক্তি বা বায়োটেকনোলজি (Biotechnology) এমন একটি বিজ্ঞানের শাখা, যেখানে জীবের (বিশেষত: অণুজীব, উদ্ভিদ ও প্রাণীর) কোষ, এনজাইম, ডিএনএ, প্রোটিন ইত্যাদি ব্যবহার করে নানা ধরণের পণ্য, ওষুধ, খাদ্য, কৃষি উপকরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ পদ্ধতি ও চিকিৎসা প্রযুক্তি তৈরি করা হয়।
জৈব প্রযুক্তি হল জীববিজ্ঞান, রসায়ন, জিন প্রকৌশল এবং তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয়ে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি, যা জীবন্ত কোষ বা জৈব উপাদানকে ব্যবহার করে কার্যকর ও প্রয়োজনীয় পণ্য তৈরি করে।
জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার:
ক) জিএম (GM) বা জিএম (GM) বা জেনেটিক্যালি মডিফায়েড (Genetically Modified) ফসল, যেমন: ব্যাকটেরিয়ার জিন ঢুকিয়ে পোকামাকড় প্রতিরোধী ধান বা ভুট্টা ও বিভিন্ন ফসল উৎপাদন।
খ) জৈব সার বা কম্পোস্ট উৎপাদন যেমন ভার্মি কম্পোষ্ট
গ) ডিএনএ টেস্ট ও ফরেনসিক সায়েন্সে ব্যবহার
ঘ) কোষ সংস্কৃতি (cell culture) – টিস্যু উন্নয়ন ও গবেষণার
ঙ) বায়োফার্মাসিউটিক্যালস – টিকা, অ্যান্টিবডি, চিকিৎসা উপকরণ
চ) পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে জীবাণু ব্যবহার (Bioremediation)
ছ) ইনসুলিন উৎপাদন যা জিন প্রকৌশল ব্যবহার করে করা হয়েছে।
জ) মনোসেক্স তেলাপিয়ার মতো নতুন ধরনের বৈশিস্ঠ্য সম্পন্ন অধিক বর্ধনশীল আমিষ উৎপাদন।
ঝ) কৃত্রিম মুক্তার উৎপাদনে ঝিনুক চাষের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে জৈব প্রযুক্তি প্রসারিত হচ্ছে।
ঞ) মাছ চাষেও সীমিত পরিসরে জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে।
ট) টিস্যু কালচার প্রযুক্তির দ্বারা জার্মপ্লাজম সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মাধ্যমেও উদ্ভিদের জেনেটিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য নতুন বৈশিষ্ট্যের বীজ তৈরি।
জৈব প্রযুক্তির পরিধি:
জৈব প্রযুক্তির ব্যাপ্তি বিশাল এবং তা ৫টি বড় খাতে বিভক্ত:
ক) লাল জৈব প্রযুক্তি (Red Biotech): চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যবহৃত (ঔষধ, টিকা, জিন থেরাপি)
খ) সবুজ জৈব প্রযুক্তি (Green Biotech): কৃষিখাতে ব্যবহৃত (জিন পরিবর্তিত ফসল, জৈব সার, টিস্যু কালচার)
গ) সাদা জৈব প্রযুক্তি (White Biotech): শিল্পখাতে ব্যবহৃত (এনজাইম, জৈব জ্বালানি, বায়োপ্লাস্টিক)
ঘ) নীল জৈব প্রযুক্তি (Blue Biotech): জলজ সম্পদ বা সামুদ্রিক জীব ব্যবহারে (অ্যালজি ভিত্তিক বায়োফুয়েল)
ঙ) গাঢ় জৈব প্রযুক্তি (Dark/Environmental Biotech): দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইত্যাদিতে জীবাণু ব্যবহার
বাংলাদেশে জৈব প্রযুক্তির চর্চা
ক) জৈব প্রযুক্তি গবেষণা: বাংলাদেশে জৈব প্রযুক্তির চর্চা ধীরে ধীরে বাড়ছে। মূলত গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান ও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাড়াও কৃষি ক্ষেত্রে এর ব্যবহার বাড়ছে বিশেষ করে জৈব সার উৎপাদন ও মুক্তা চাষে এর ব্যবহার বাংলাদেশের বেশকিছু জেলায় ছড়িয়ে রয়েছে। কৃষি ও চিকিৎসায় বাংলাদেশে বেশকিছু সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান কাজ করে। রয়েছে বেশকিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠান। তাদের গবেষণার বিষয় জিন পরিবর্তন (GM crops), টিস্যু কালচার, মাইক্রোবায়াল বায়োফার্মিং, বায়োফার্টিলাইজার ও বায়োপেস্টিসাইড, ইনসুলিন ও টিকা উৎপাদন,
খ) শিল্পক্ষেত্রে জৈব প্রযুক্তির প্রয়োগ: বায়োফার্মা কোম্পানিগুলো ইনসুলিন, টিকা উৎপাদনে জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার করছে। Agri-biotech: নন-জিএম টিস্যু কালচার চারা উৎপাদন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে এনজাইম ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি।
গ) জিএম প্রযুক্তিতে ফসল: জিএম জেনেটিক্যালি মডিফায়েড (Genetically Modified) প্রযুক্তি হলো ফসল জিন গবেষণা ও পরিবর্তন এর মাধ্যমে বৈশিস্ঠ্য পরিবর্তন করা। জিএম ফসল হলো এমন ফসল যা বিজ্ঞানীরা বিশেষ গবেষণাগারে জিন পরিবর্তন করে তৈরি করেছেন। এর উদ্দেশ্য হতে পারে—পোকামাকড় প্রতিরোধ, অধিক ফলন, খরা বা লবণাক্ততা সহ্যক্ষমতা, দ্রুত বেড়ে ওঠা, অধিক পুষ্টিগুণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে অভিযোজন সক্ষমতা অর্জন করা। যেমন
- i) Bt Cotton: ব্যাকটেরিয়ার (Bacillus thuringiensis) জিন ঢুকিয়ে এমন তুলা তৈরি যা পোকামাকড় মারে।
- ii) Golden Rice: ভিটামিন A এর পূর্বধর্মী (B-carotene) যুক্ত চাল, রাতকানা প্রতিরোধে
iii) GM টমেটো: দীর্ঘ সময় সতেজ থাকে
- ix) Bt Eggplant (Bt Begun): বাংলাদেশে অনুমোদিত প্রথম জিএম ফসল যা Bt Brinjal (Bt Begun) বিটি বেগুন নামে পরিচিত। ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি কৃষক বিটি বেগুন চাষ করেছেন
- x) আরো যেসব ফষল গবেষণাধীন রয়েছে, Golden Rice (স্বাস্থ্যকর চাল), লবণ সহিষ্ণু ধান, পোকামাকড় প্রতিরোধী আলু ইত্যাদি।
জিএম প্রযুক্তি হলো আধুনিক কৃষির ভবিষ্যৎ, তবে এটি ব্যবহারে প্রয়োজন সঠিক গবেষণা, নীতিমালা, জনসচেতনতা এবং স্বচ্ছতা। বাংলাদেশ যদি বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে জিএম প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিতে বড় বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।
ঘ) টিস্যু কালচার (Tissue Culture) উন্নয়ন প্রযুক্তি: এটি বায়োটেকনোলজির একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি। বাংলাদেশে কলা, আলু, আদা, গাঁদাফুল, অর্কিড ইত্যাদির রোগমুক্ত, উচ্চফলনশীল চারা তৈরি করা হচ্ছে। জার্মপ্লাজম সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মাধ্যমেও উদ্ভিদের জেনেটিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য নতুন বৈশিষ্ট্যের বীজ তৈরি।
এছাড়া মার্কার সহায়তাযুক্ত নির্বাচন (Marker-Assisted Selection – MAS) :এটি সম্পূর্ণ জিএম না হলেও আধুনিক জৈব প্রযুক্তির মাধ্যমে বীজের কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য জিনগতভাবে শনাক্ত করে বাছাই করা হয়। টিস্যু কালচার প্ল্যান্টলেটের বাণিজ্যিকীকরণের উচ্চফলনশীল ও রোগ প্রতিরোধী জাতের আলু এবং কলা উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
ঙ) জৈব সার: দেশে প্রায় ৬০–৬৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন জৈব সার প্রতি বছর প্রয়োজন, যদি ৬.৩ মিলিয়ন হেক্টর ফসলি জমিতে হেক্টরপ্রতি ১০ টন প্রয়াগ ধরা হয়। আর্থিকভাবে পরিকল্পিতভাবে রূপ দিলে ৬০–৭০% জমিতে জৈব সার প্রয়োগে দেশীয় কাঁচামাল থেকে এই পরিমাণের ৬০–৭০% প্রয়োজন পূরণ করা সম্ভব । ঢাকা শহরের Waste Concern ঢেলে প্রক্রিয়াজাত করে বছরে ৭,৫০০ টন সার এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় প্রায় ৮,০৮৭ টন, মোট ১৫,৫৮৭ টন জৈব সার annually উৎপাদন করে।
চ) মুক্তা চাষ: দেশের কয়েকটি জেলা ও উপজেলায় স্বাদু পানিতে (freshwater) কৃত্রিম/ইমেজ মুক্তা চাষ হয়। যেমন – ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল, ঈশ্বরগঞ্জও ফুলবাড়ী। একই বিভাগের নেত্রকোনা জেলায়। ঢাকা পাশে নারায়ণগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জে ছাড়াও , ঝিনাইদহ, , পিরোজপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, কক্সবাজার ও বরগুনায় মুক্তা চাষ হয়। ৪০টি জেলা ও ৮২ উপজেলা পরিসরে ১৫০ জন উদ্যোক্তা কৃত্রিম মুক্তা চাষে জড়িত বলে জানা গেছে। বিশ্ব বাজারে ক্ষেত্রবিশেষে রিশ-কোয়ালিটি মুক্তা না পারলেও ঔষুধ ও প্রসাধনী শিল্পের জন্য ইমেজ মুক্তা উপযোগী । পশ্চাৎপ্রান্তিক নারী ও যুবক মুক্তা অপারেশনে দক্ষ হয়েছেন ।
বাংলাদেশে চাষ হওয়ার মুক্তার মধ্যে রয়েছে, গোল মুক্তা (round pearls), ইমেজ মুক্তা (image pearls) ও রঙীন মুক্তা যেমন- কমলা, গোলাপি, সাদা ও ছাই । দেশীয় অলংকারে সরাসরি বিক্রয় ও কিছু ক্ষেত্রে বিদেশে সরাসরি এক্সপোর্ট হচ্ছে ।
ছ) মাছ চাষে জৈব প্রযুক্তি: মাছ চাষে:বাংলাদেশে যেসব জৈব প্রযুক্তি বাস্তবায়িত হচ্ছে সেগুলো হলো- Monosex Tilapia Production (একলিঙ্গ তেলাপিয়া উৎপাদন), GIFT Tilapia (Genetically Improved Farmed Tilapia), Biofloc Technology (বায়োফ্লক মাছ চাষ) এবং Hypophysation (হরমোন প্রয়োগে মাছের প্রজনন)। তাছাড়া মাছের জিনোম বিশ্লেষণ ও রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন গবেষণার পর্যায়ে
এছাড়া মাছ চাষ ও অন্যান্য খামার পর্যায়ে সীমিত ও আংশিকভাবে জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে যা বাংলাদেশে ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির ব্যবহারের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে। যেমন Induced Breeding এর আওতায় Hypophysation Technique: মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন মৌসুমের বাইরে হরমোন প্রয়োগ করে ডিম ছাড়ানো হয়। এটি আধা-জৈব প্রযুক্তি হলেও হরমোন সংশ্লেষণ ও প্রয়োগে জেনেটিক নিয়ন্ত্রণ জড়িত।
এছড়া Monosex Tilapia বা একলিঙ্গ তেলাপিয়া উৎপাদন প্রযুক্তির মাধ্যমে হরমোন ট্রিটমেন্ট বা জিন নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। এছাড়া রয়েছে জিনেটিক ইমপ্রুভমেন্ট বা সিলেকটিভ ব্রিডিং পদ্ধতিতে GIFT Tilapia (Genetically Improved Farmed Tilapia উৎপাদন। যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও হচ্ছে।
জ) অন্যান্য
হাঁস-মুরগি খাতে জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার খুব সীমিত বরং উল্লেখযোগ্য নয় বলা যায়। তবুও জৈব প্রযুক্তি দ্বারা উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের ও প্রয়োগ (Biotech-based vaccines), উন্নত জাত উন্নয়ন (Genetic Selection)। বায়োফ্লক প্রযুক্তি (Biofloc Technology)। এটি একটি জৈব প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশবান্ধব চাষ পদ্ধতি যাতে মাছের মল ও অতিরিক্ত খাবার থেকে ব্যাকটেরিয়া ও শৈবাল গঠিত হয়ে পুষ্টি সরবরাহ করে – ফলে আলাদা খাদ্যের প্রয়োজন কমে যায়। এছাড়া বাংলাদেশে জিনোম সিকোয়েন্সিং ও রোগ প্রতিরোধে গবেষণার ক্ষেত্রে DNA মার্কার ও জিনোমিক টুলস ব্যবহার শুরু হয়েছে।
হাঁস-মুরগির GMO feed তৈরীর হরমোন, এনজাইম ও জৈব প্রযুক্তির ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ভ্যাকসিন ও জিনোম প্রযুক্তি আওতায় Marek’s, Gumboro ও Newcastle রোগ প্রতিরোধে recombinant DNA vaccine ব্যবহারের ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে। এছাড়া Selective breeding & CRISPR এর আওতায় প্রতিবেশী দেশ ভারতে রোগ প্রতিরোধী জাত উন্নয়নে গবেষণা চলছে। যা বাংলাদেশেও বিস্তৃত হবে।
মোট কথা মাছ চাষে হরমোন প্রজনন, মনোসেক্স, জিন উন্নয়ন, বায়োফ্লক পদ্ধতি, হাসমুরগী পালনে ভ্যাকসিন, জিন সিলেকশন, খাদ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে ব্যাপক বাড়বে।
জৈব প্রযুক্তি ভবিষ্যতের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। এটি শুধু স্বাস্থ্য ও কৃষি নয়, বরং টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং শিল্পোন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। বাংলাদেশে এর চর্চা ও বিনিয়োগ বাড়লে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
বাংলাদেশে জৈব প্রযুক্তি নির্ভর পণ্য সেবা ও ব্যবসার ব্যপ্তি:
বাংলাদেশের কৃষি, স্বাস্থ্য, খাদ্য, শিল্প ও পরিবেশ খাতে জৈব প্রযুক্তির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে: টেকসই কৃষি, চিকিৎসা ও জেনোম চিকিৎসা (Personalized Medicine) জলবায়ু সহনশীল ফসল, জৈব জ্বালানি, রপ্তানিযোগ্য বায়োটেক পণ্য ইত্যাদি।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর বায়োটেক (বাবায়ো) নামের বাণিজ্য সংগঠনটি সকল ধরনের কৃষি, খাদ্য ও অন্যান্য জৈব প্রযুক্তি ভিত্তিক উৎপাদন, যেমন বীজ, ফসল, মূক্তা, জৈব সার এবং সংক্রান্ত ব্যবসা, বাজারজাতকরণ, গবেষণা, কনসালটেন্সি, সরবরাহ, আমদানী ও রপ্তানীর সাথে জড়ত সকল বাণিজ্যিক কার্যক্রম এই খাতের অন্তভূক্ত বলে বিবেচিত হবে।
বাংলাদেশে Biotechnology–এর ছাতার অধীনে কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্য, প্রাণিসম্পদ ও পরিবেশসহ সামগ্রিকভাবে উন্নয়ন হচ্ছে। এই খাতে সরকার এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো—যেমন NIB, BARI, BRRI, BFRI, BLRI, CVASU ও BAU—মডার্ন টুলস ব্যবহার করে কার্যক্রম চালাচ্ছে ।
ক). কৃষি: জিএম ফসল, উন্নত বীজ ও জৈব সার
I) GM ফসল ও ফল
- Bt বেগুন: 2013 সালে অনুমোদিত। 2018–এ 27,012 কৃষক চাষ করেন; ফলন ও কৃষকের আয় যথাক্রমে ~43% ও ~22% বৃদ্ধি পায়
- GM পটেটো: লেট ব্লাইট প্রতিরোধী পটেটো BARI–এর আবেদন দিয়েছেন
- Golden Rice, GM টমেটো, GM ধান সহ আরও কয়েকটি GE ফসল পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে ।
II) উন্নত বীজ ও বীজ কোম্পানি
- Tissue culture–ভিত্তিক সিড/চারা উৎপাদন করছে
- বিভিন্ন ফসলের জেনোম ভিত্তিক উন্নয়ন করছে— যেমন লবণ-সহিষ্ণু ধান, জিন-এডিটিং জৌলুস রাইস
III) জৈব সার ও বায়ো সার
- Bio-organic fertiliser তৈরি হচ্ছে
- Spirulina, bakers yeast, citric acid, biogas প্ল্যান্টগুলো শিল্পজাত পর্যায়ে চালু আছে ।
খ). মৎস্য: চাষ ও বায়োটেক
I) GIFT ও Monosex Tilapia
- GIFT Tilapia প্রয়োগে ৭০–৮০% বেশি ফলন হচ্ছে ।
- পুরুষ তেলাপিয়া উৎপাদনে হরমোন ও জিন নিয়ন্ত্রিত নির্দেশ ব্যবহার হচ্ছে (একলিঙ্গ)।
II) Biofloc Technology
- শহরতলী অঞ্চলে বায়োফ্লকের মাধ্যমে মাছের স্বয়ংক্রিয় পুষ্টি উৎপন্ন হচ্ছে ।
III) Induced Breeding ও Hybrid মাছ
- Hypophysation–এ হরমোন প্রয়োগ করে স্বতঃস্ফূর্ত প্রজনন হয়।
- রুই, কাতলা, মাগুরের এপ্লাইড হাইব্রিড গবেষণা হচ্ছে ।
IX) মুক্তা চাষ
- দেশজুড়ে freshwater pearl বা ইমেজ মুক্তা চাষ অব্যাহত রয়েছে ও বিপুল অর্থোপার্জন করা হচ্ছে ।
গ). প্রাণিসম্পদ: হাঁস-মুরগি ও ডিম
I) ভ্যাকসিন ও জিন বায়োটেক
- Marek’s, Newcastle, Gumboro সহ আনেক ভ্যাকসিন তৈরিতে Recombinant DNA প্রযুক্তি DLS/BLRI–এর মাধ্যমে ব্যবহৃত হচ্ছে ।
- রেফারেন্স ল্যাব–এ অ্যান্টিজেন শনাক্তকরণ ও আরএফএলপি ব্যবহারে সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।
II) Genetic Selection ও উন্নত জাত
- Kazi Farms, Aftab Hatchery–এর মতো প্রতিষ্ঠান উন্নত জাত তৈরি করছে; তবে CRISPR বা জিএম স্তরে কাজ শুরু হয়নি
ঘ). বায়ো ফার্মা ও ফার্মাসিউটিক
- Insulin & HB-vaccine Incepta Pharmaceuticals–এর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু হয়েছে ।
- Munshiganj API Park–এ অনেক ফার্মা কোম্পানি (Square, Beximco, Acme) API উৎপাদনের উদ্যোগ নিচ্ছে, যার বাজার বর্তমানে Tk27,000 কোটি ও রপ্তানি Tk1,500 কোটি আর বাৎসরিক ৳১৫ বিলিয়ন (US$150 মিলিয়ন)।
ঙ). বাজার, অর্থ ও বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন
I) কৃষি বায়োটেক
- Bt বেগুন, বায়ো সার, উন্নত বীজের বাজার মূল্য হাজার কোটি টাকার সীমা ছুঁয়েছে।
II) মাছ ও মুক্তা
- GIFT ধরনের প্রয়োগে üretim বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- মুক্তা চাষে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বৈদেশিক রেমিট্যান্স আনা হচ্ছে।
III) ফার্মাসিউটিক
- API উৎপ
