বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ২০২৫ একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা
১৯৯৪ সালে কোম্পানী আইনের নতুন সংষ্করণের সাথে বাণিজ্য সংগঠন আইন ও বিধি প্রণীত হয়েছিল। বাণিজ্য সংগঠন আইন ২০২২ সালে সংশোধন হলেও বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ২০২৫ পাস হতে আরো ৩ বছর সময় লেগে গিয়েছিল, কিছু ব্যবসায়ী ব্যবসায়ী ও অনান্যদের মতদ্বৈততার কারণে।
যাই হোক গত ১৯ মে ২০২৫ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ২০২৫ পাস হয়। এখানে বেশ কয়েকটি নতুন সংশোধনী আসে। সেগুলোর কতটা সুবিধা আর কতটা অসুবিধা হলো সেটা নিয়ে একটু পর্যালোচনা করা যাক। এখানে এসোসিয়েশন এর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হলো- চেম্বার ও ফেডারেশন নিয়ে অন্য লেখায় আলোচনা করব। তবে কিছু কিছু বিষয় চেম্বারের সাথেও মিলে যেতে পারে।
ক) বাণিজ্য সংগঠনের ছাড়পত্র ও অনুমোদন
১। আরজেএসসি কতৃক নির্ধারিত ফি প্রদান করে আবেদন করতে হবে। ফি এর পরিমাণ আর্টিকেল অব এসোসিয়েশন সংযোজন: ৩০০ টাকা। নিবন্ধন ফি হলো – ৭টি ডকুমেন্ট ফাইল করার জন্য (ডকুমেন্ট প্রতি ৪০০ টাকা x ৭)= ২৮০০ টাকা। সংস্থার সদস্য সংখ্যার জন্য : ১- ২০ জন পর্যন্ত হলে ১০০০ টাকা। ২১ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত ২৫০০ টাকা। (সূত্র: আরজেএসসি ওয়েবসাইট)
১০০ জনের অধিক প্রতি ১০০ জন বা এর এর অংশের জন্য ৩০০ টাকা করে। তারবেশী সদস্য হলে ৭৫০০ টাকা।
২ । সদস্য সংখ্যা কমপক্ষে ১১ হতে হবে। যা পূর্বে ১৩ জন ছিল। আর কমিটির লোকসংখ্যা হবে সর্বনিন্ম ৭ জন যা কোম্পানী আইনে আছে। তবে সাধারণত কমিটির সদস্য সংখ্যা মোট সদস্য সংখ্যার ৩ ভাগের ১ ভাগ হলে ভাল। মানে ৭ জনের কমিটি হলে ২১ জন সদস্য থাকলে ভাল। যদিও ১১ জন সংখ্যার শর্তও অন্যান্য কিছু বিষয়ের কারণে প্রযোজ্যক্ষেত্রে শিথিল করা হয়েছে।
৩। গঠন তন্ত্র ও কার্যালয় থাকতে হবে।
৪। প্রাথমিক সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্র ট্রেড লাইসেন্স, টিআইন, আয়কর রিটার্ণ জমা দিতে হবে।
৫। এছাড়া সাধারণ সভায় সংগঠন বিষয়ে একমত হওয়ার রেজুলেশন, লক্ষ্য উদ্দ্যেশ্য, অবদান ও সফলতা এসব আলাদাভাবে তুলে ধরতে হবে।
৬। নামের ছাড়পত্র পাওয়ার ৬ মাসের মধ্যে সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে লাইসেন্স নিতে হবে। যা আগে মাত্র ৩০ দিন ছিল।
৭। লাইসেন্স প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে ফেডারেশনে অন্তভূক্তি হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ফেডারেশন অন্তভূক্তি ফি: ক শ্রেণী এসোসিয়েশনের জন্য ০০০ টাকা, খ শ্রেণীর জন্য – ০০০০ টাকা। এছাড়া প্রতিনিধিদের জন্য ২ বছরের প্রতি মেয়াদে ২০,০০০ টাকা করে।
৮। ক ও খ শ্রেণী ঠিক করার জন্য সদস্য সংখ্যা বলা হয়েছে ক শ্রেণী ৫০০ এর কম ও খ শ্রেণী ৫০০ এর বেশী। যদিও অন্যান্য কিছু শর্তে সদস্য সংখ্যা শিথিল করা হয়েছে।
৯। একই খাতে বা একই নামে একাধিক বাণিজ্য সংগঠন না হওয়া সহ অন্যান্য বিধি আগের মতোই আছে।
১০। বাণিজ্য সংগঠনের সদস্যদের জন্য নূন্যতম চাঁদা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। যা ৩১ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশী। সাধারণ ও এসোসিয়েট সদস্যের ক্ষেত্রে ক শ্রেণীর জন্য ভর্তি ১৫,০০০ টাকা ও বার্ষিক ফি ৫,০০০ টাকা, এছাড়া খ শ্রেণীর ভর্তি ১০,০০০ টাকা ও বার্ষিক ফি ৩,০০০ টাকা।
১১। বাণিজ্য সংগঠন এসোসিয়েশন ফেডারেশনকে অধিভূক্তি ফি বা এককালীন চাঁদা প্রদান করবে ক শ্রেণী ৪ লাখ ও খ শ্রেণী ২ লাখ। এছাড়া বার্ষিক চাঁদা ট্রদান করতে ক শ্রেণী ৭৫,০০০ ও খ শ্রেণী ৬০,০০০ টাকা। যা আগে ক শ্রেণীর জন্য ৩৫,০০০ টাকা ছিল। এছাড়া ফেডারেশন এর জিবি সদস্যরা প্রতি ২ বছর মেয়াদের জন্য জনপ্রতি আরো ২০ হাজার টাকা করে প্রদান করবেন।
খ): বাণিজ্য সংগঠনে (এসোসিয়েশন) নির্বাচন ও কমিটি গঠন:
১। এক্ষেত্রে কাঠামোগত কোনো পরিবর্তন হয়নি তবে ২/১ জায়গায় কিছু পরিধিগত পরিবর্তন হয়েছে। এরমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো আগে যেখানে নির্বাচনের ১২০ আগে অন্তভূক্ত হওয়া সদস্যরা ভোটার ও প্রার্থী হতে পারতেন সেটা এখন ১৮০ দিন করা হয়েছে। এছাড়া পূর্বে যেখানে নির্বাচনের ৬০ দিন আগে সদস্যপদ নবায়নকৃতরা সদস্য হতে পারতেন সেখানে তা ১২০ দিন করা হয়েছে। তবে প্রথমবার নির্বাচনের জন্য এসব সময় সীমা আগেরমতো রাখা হয়েছে।
এখানে একদিকে ভাল হয়েছে যে নির্বাচনের আগে আগে সদস্য হয়ে উদ্দেশ্যমূলক নির্বাচনে অংশ নেবে সে প্রবণতা কমে আসছে। তবে অনেকে মনে করেন প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে সময়সীমা ১ বছর হলে সেটা আরো ভাল হতো অন্তত পুরনো এসোসিয়েশনগুলোর জন্য। আরেকটি বিষয় একটু সমন্বয়হীন হয়েছে বলা যায় কিছুটা। সেটা হলো যেখানে নির্বাচন বোর্ড গঠন করা হবে আগের মতো কমপক্ষে নির্বাচনের ৯০ দিন আগে ও তফসিল ঘোষণা হবে কমপক্ষে ৮০ দিন সেখানে নবায়নের শেষ সময় ১২০ দিন আগে। এতে নির্বাচন বোর্ডের উপর কোনো ঝামেলা রাখা হয়নি কাজ আগেই শেষ করা হবে। কিন্তু নির্বাচন বোর্ড গঠন করার আগে যখন নির্বাহী কমিটি এককভাবে ক্ষমতাসীন থাকবে তখন তারা এই প্রক্রিয়াটি প্রভাবিত করতে পারেন। তারা তাদের অপছন্দের লোকদের সদস্যপদ নবায়ন করতে কালক্ষেপন করতে পারেন। এতে করে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে সমস্যা হতে পারে।
২। শুধুমাত্র প্রত্যক্ষ ও গোপন ব্যালটের মাধ্যমে কমিটি নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ড ছাড়াও নির্বাচন পর্যবেক্ষনের জন্য মনিটরিং সেল গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে। যা সুষ্ঠু নির্বাচনের সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়। এতে করে নির্বাচন বোর্ড বা আপিল বোর্ড নিয়ে ডিটিওতে অভিযোগ কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
৩। নির্বাচনে প্রার্থীতা আগের তুলনায় কঠিন করে ফেলা হয়েছে। ফেডারেশন এর মতো এসোসিয়েশন ও চেম্বারের নির্বাচনেও ঋণ খেলাপী না হওয়ার প্রমাণস্বরুপ বাংলদেশ ব্যাংক থেকে সিবিও সনদ এবং কোনো ফৌজদারী অপরাধভূক্ত নয় কিংবা হলেও তা সাজাভোগের মেয়াদ ৫ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে মর্মে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স লাগবে। আপাতত দৃষ্টিতে এটা ভাল হতে পারে যে, কোনো ঋণখেলাপী ও অপরাধী নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেনা। কিন্তু সমস্যা হলো বাংলাদেশ ব্যাংক এই সনদ সময়মতো দেবে কিনা আর এটা পুলিশের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ হলো কিনা?
৪। একাধিক ভোটের নীতি আগে বিভিন্ন এসোসিয়েশনে বিভিন্ন রকম থাকলেও এখন এটা একই নিয়ম হয়ে গেছে। কারো একাধিক সদস্যপদ থাকলেও ভোট ১টা। তবে যদি তার প্রতিষ্ঠানের নামে আলাদা TIN ও BIN থাকে তাহলে তিনি একাধিক ভোট দিতে পারবেন। কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী প্রতিনিধি হিসেবে ভোটার হতে পারবেনা আর ফক্সি ভোট না দেয়ার বিধানটা আগের মতোই আছে।
৫। যে বিধির জন্য এতদিন ধরে আটকে ছিল এই বিধিমালা প্রকাশ। অবশেষে সেটি অবমূক্ত হয়েছে। এসোসিয়েশন এর নির্বাহী কমিটিতে কেউ পর পর ২ বারের বেশী থাকতে পারবেন না। তবে ২ বারের পর ১ বার বিরতি দিয়ে পরে আবার পর পর ২ বার আসতে পারবেন। ব্যবসায়ী নেতাদের একটি অংশ এতদিন এই বিধির করে আসছেন। শেষতক এটা পাস হলো।
৬। বিধি ১৮ এর ২ এ বলা হয়েছে- ‘‘সকল বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাহী কমিটি বা পরিচালনা পরিষদের সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি যে নামেই অভিহিত হইক না কেন, এবং পরিচালক বা নির্বাহী কমিটির সদস্যগণ অন্যান্য অন্যান্য সদস্যগণের প্রত্যক্ষ ও গোপন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হইবেন। ’’ এই বিধিটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাধারণত, কিছু এসোসিয়েশনে- সভাপতি, জৈষ্ঠ্য সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক, সহ সাধারণ সম্পাদক, অর্থ সম্পাদক, সহ অর্থ সম্পাদক ক্ষেত্র বিশেষে সাংগঠনিক সম্পাদক ইত্যাদি শীর্ষপদে বা অফিস বেয়ারার পদে কোনো সংগঠন সরাসরি হেড টু হেড নির্বাচন হয়। মানে এসব পদে সরাসরি প্রতিদ্ধন্ধিতা হয়। তখন প্রতিটি পদের বিপরীতে মনোনোয়ন পত্র নিতে হয়। ব্যালটে এগুলো আলাদা থাকে। আলাদা ভোট গণনা হয়। এক পদের বিপরীতে একাধিক প্রার্থী থাকলে নির্বাচনে ভোটাভোটি হয় এবং একজন নির্বাচিত হয় বাকীরা পরাজিত হয়।
তবে, বেশীরভাগ এসোসিয়েশনে প্রথম নির্বাহী পরিষদ সদস্য বা কার্যকরি পরিষদ সদস্য বা পরিচালক পদে নির্বাচন হয়। পরিষদের সমান সংখ্যক সদস্যের বিপরীতে যতজন প্রার্থী দরকার তারচেয়ে বেশী ১ জন প্রার্থীও নির্বাচন করলে সবার মধ্যে ভোটাভোটি হয়। ভোটার গণ একটি ব্যালটে ৭ জন বা ১১ জন স্ব স্ব এসোসিয়েশনের কাঠামো অনুসারে ভোট প্রদান করে। তারপর তারা পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হোন। অতপর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষনার পূর্বে যথানিয়মে তারা শীর্ষপদ বা অফিস বেয়ারার পদের জন্য মনোনোয়ন পত্র গ্রহণ করেন নির্বাচন বোর্ড এর উপস্থিতি নির্বাচিত কমিটি সদস্যগণ প্রতিদ্ভন্ধিতা ও ভোট প্রদান করেন। প্রত্যক্ষ ও গোপন ভোটের এই অনুষ্ঠানিকতা শেষে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
এই বিধির ভাষা অনুসারে অনেকে মনে করতে পারেন। এখন থেকে আর অফিস বেয়ারার বা শীর্ষপদে আলাদা নির্বাচনের সুযোগ নেই। প্রথমবারেই হেড টু হেড নির্বাচন হতে হবে।
আমার দৃষ্টিতে এখানে প্রথমবার পরিষদ নির্বাচন ও পরে শীর্ষপদে নির্বাচনে কোনো বাধা নেই। এই বিধান দ্বারা শুধু এটুকু বলার চেষ্টা করা হয়েছে যে, ‘‘সদস্যদের সরাসরি ভোট ব্যতিত কোনো পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারবে না’’ প্রথমে পরিষদ সদস্য বা পরিচালক এবং পরে নিজেদের মধ্যে ভোটাভোটি করে শীর্ষপদে বা অফিস বেয়ারার পদে নির্বাচন হতে আমি বিধিমালা সঙ্গত কোনো বাঁধা আছে বলে আমি করি না। এই বিধিমালার কোনো স্টেক হোল্ডার মিটিং এ না থাকাতে আমি এটি নিশ্চিত করতে বলতে পারছিনা। তবে আইনজীবিরা এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে পারবেন এবং সকলের স্বার্থে মহাপরিচালক কোনো নোটিশ জারি করতে পারবেন। এবং বিধি ৩৪ অনুসারে কেউ চাইলে ১৫ হাজার টাকা ফি প্রদান করে এ ব্যাপারে মহাপরিচালক বরাবরে আপিল আবেদনও করতে পারেন।
গ। এসোসিয়েশন সভা ও মেয়াদ
১। আগে কোনো সংগঠন অথর্বছর আবার কোনো সংগঠন পঞ্জিকা বছর অনুসরণ করতো কিন্তু এবার সকলের জন্য পঞ্জিকা বছর বা ক্যালেন্ডার ইয়ার অনুসরনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া সদস্যপদ নবায়নের সময় পরের বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত বা মেয়াদপূর্তির ৩ মাস পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যারা সদস্যপদ নবায়ন করবেন তাদেরকে বৈধ সদস্য বলা হয়েছে।
১। এজিএম আয়োজনের জন্য ২ এজিএমের দূরত্ব ০৯ মাসের বিধানটি তুলে দেয়া হয়েছে। শুধু এক এজিএম থেকে আরেক এজিএম ১৫ মাসের বেশী দেরী হবে না সে বিধানটা নতুন বিধিতে রাখা হয়েছে। বৈধ সদস্যের এক তৃতীয়াংশ এজিএম উপস্থিত হয়ে কোরাম পূর্ণ করার কথা বলা হয়েছে।
সাধারণত এজিএম উপস্থিত থাকতে চায়না সদস্যরা। এজন্য অনেকের প্রস্তাব ছিল নিয়মটি যেন হয়- এক তৃতীয়াংশের উপস্থিতিতে ইজিএমে সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। আর এক চতুর্থাংশ বা পঞ্চমাংশ সদস্যের উপস্থিতিতেও এজিএম করা যাবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে গৃহিত সিদ্ধান্ত কোনো বৈধ সদস্য কতৃক চ্যালেঞ্জ করলে পূনরায় ই-জি-এম করার বিধান থাকতে পারে।
৩। পূর্বে ২ বছর ও ৩ বছর এই দুই ধরনের মেয়াদের কথা থাকলেও নতুন বিধিতে মেয়াদ নির্দিষ্ঠভাবে ২৪ মাস করা হয়েছে। অন্যান্য বিধি আগের মতোই আছে।
ঘ) নতুন ধরনের বিভিন্ন ফি:
আগে ডিটিওতে আবেদনের জন্য কোনো ধরনের ফি এর বিধান ছিলনা। কিন্তু এবার কিছু ফি রাখা হয়েছে। আপাত দৃষ্টিতে দুটো কারণে এটা ইতিবাচক প্রথমত কথায় কথায় আবেদন আপিল এগুলো কেউ বকরবে না। দ্বিতীয়ত সরকারের একটি আয়ের উৎস তৈরী করা হয়েছে। ফিগুলো নিন্মরুপ-
১। লাইসেন্স আবেদন ফি- ১০ হাজার টাকা (বিধি ৬ এর ১ অনুসারে বাণিজ্য সংগঠনের ছাড়পত্র পাওয়ার ৬ মাসের মধ্যে লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করতে হবে প্রয়োজনীয় শর্তপূরণ নথি জমাদানের শর্তে)
২। না-মঞ্জুর লাইসেন্স এর জন্য রিভিউ আবেদন- ২০,০০০ টাকা। (বিধি ৬ এর ৮ অনুসারে নামঞ্জুর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে। )
৩। বাতিলকৃত লাইসেন্স এর বিপরীতে পূনরায় আবেদন ফি- ২০,০০০ টাকা। (বিধি ৭ এর ২ অনুসারে কোনো বিদ্যমান বাণিজ্য সংগঠন এর লাইসেন্স বাতিল করা হলে নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)
৪। মহাপরিচালকের নিকট আপলি আবেদন ১৫,০০০ টাকা।
( বিধি-৩৫) প্রশাসকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে মহাপরিচালক বরাবরে আবেদন ফি। এবং (বিধি ৩৪) অনুসারে বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ২০২৫ এর অধীন কোনো বিষয়ে মহা-পরিচালকের নিকট আবেদন ফি)
৫। সরকারের নিকট আপিল আবেদন ২০,০০০ টাকা।
৬। সংঘবিধি সংশোধন আবেদন ফি- ২০,০০০ টাকা (বিধি -১৭-০১- খ)
৭। নির্বাচন আপিল বোর্ড এর নিকট আবেদন- ১০,০০০ টাকা।
( নির্বাচনের ফলাফল সংক্রান্ত আপত্তির জন্য বিধি ২৫ (৯)। )
৮। সাধারণ সভার সময় বৃদ্বির আবেদন – ২০,০০০ টাকা (বিধি ৩১ এর ২ অনুসারে)
৯। অভিযোগ দাখিল- ১০ হাজার টাকা।
(তবে এসব ফি কোন দপ্তরে বা কোন ব্যাংকে কার বরাবরে কিভাবে (ব্যাংক ড্রাপ্ট, ব্যাংক জমা) জমা দিতে হবে তা উল্লেখ করা হয়নি। আশা করি বাণিজ্য সংগঠন বিভাগ এই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে সকলকে জানিয়ে দেবে।
ঙ) যে বিষয়গুলো কিছুটা জটিল করা হয়েছে-
যেসব সংগঠনের নির্বাচন ইতোমধ্যে হয়ে গেছে এবং যেসব সংগঠনের তফসিল ১৯ মে এর আগে ঘোষণা করা হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে পূর্বের নিয়মে নির্বাচন ও কমিটি গঠন হলেও ‘‘বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ২০২৫’’ এর বিধি ৩৩ এর উপবিধি (১) অনুসারে ১২০ দিনের মধ্যে বাণিজ্য সংগঠনগুলো তাদের সংঘবিধি সংশোধন মহাপরিচালকের নিকট জমা দিতে হবে। যদিও বিধির ভাষায় যা
