শিয়ালের ছলনা
এক সময়ের কথা, এক বনে বাস করত এক বুদ্ধিমান কিন্তু ছলনাময় শিয়াল। একদিন তার মনে এক অদ্ভুত শখ জাগলো—সে আর জঙ্গলে নয়, এবার থেকে মানুষের ঘরের পাশে থাকা ঘরোয়া প্রাণীদের মতো জীবন কাটাবে। শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, আর আরামদায়ক!
শিয়াল ভাবলো, “যদি আমি অন্য প্রাণীদের মতো আচরণ করি, তাদের মতো ডাকতে পারি, তবে নিশ্চয়ই তারা আমাকে আপন করে নেবে।”
সেই থেকে শুরু হলো শিয়ালের অভিনয়।
প্রথমে সে একদল বিড়ালের কাছে গিয়ে মিউ মিউ করে বলল,
— “আমি আসলে এক ভালো মেয়ে বিড়াল, একা একা পথ হারিয়েছি।”
তারপর সে কুকুরদের কাছে গিয়ে গম্ভীরভাবে ঘেউ ঘেউ করে বলল,
— “আমি এক বিশ্বস্ত প্রহরী কুকুর। তোমাদের সঙ্গে পাহারা দিতে চাই।”
এরপর ছাগলদের কাছে গিয়ে মায়াভরা চোখে ম্যা ম্যা করে বলল,
— “আমি খুব নিরীহ একটা ছাগল, তোমাদের দলে একটু জায়গা দাও।”
এমনকি হরিণদের কাছে গিয়েও বলল,
— “দেখো না, আমি কত মিষ্টি! আমি তোমাদের হারানো হরিণ বোন, আমাকে নিয়ে চলো।”
সব প্রাণী প্রথমে একটু অবাক হলেও, তার ডাক আর ব্যবহার দেখে ধীরে ধীরে বিশ্বাস করতে শুরু করল।
কিন্তু একদিন ঘটল বিপদ। গভীর রাতে দূরে কোথাও এক বন্য শিয়াল ভয়ংকর হুংকারে ডেকে উঠল—“হুঁ হুঁ হুঁউউউ!”
চারদিক থমথমে হয়ে গেল। ভয় পেয়ে সব প্রাণী নিজেদের নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটে গেল।
ঠিক তখন, না ভেবে শিয়ালও স্বভাববশত জবাব দিয়ে উঠল—
— “হুঁউউউ হুঁউউউ!”
তার ভয়ংকর শেয়ালের ডাক বনের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়লো।
সব প্রাণী থমকে গেল।
“এটা তো শিয়ালের ডাক!” বিড়াল বলল।
“শিয়াল! আমাদের মাঝে?” কুকুর দাঁত খিঁচিয়ে বলল।
“ও আমাদের ঠকিয়েছে!” ছাগল চিৎকার করে উঠল।
“ভয়ংকর প্রতারক!” হরিণরা পালাতে শুরু করল।
সবার মুখে ছড়িয়ে পড়লো সন্দেহ, রাগ আর ঘৃণা।
প্রত্যেকে বুঝে গেল—যে এতদিন তাদের মাঝে ঘুরে বেড়াত, সে আসলে এক ছলনাময় শিয়াল।
এরপর কেউ আর তাকে বিশ্বাস করল না।
সে যেখানেই গেল, সবাই বলল,
— “তুমি তো শিয়াল! আমরা তোমার ফাঁদে আর পড়বো না।”
শিয়াল চুপচাপ জঙ্গলে ফিরে গেল, নিঃসঙ্গ আর লজ্জিত হয়ে।
শিক্ষা:
❝ নিজের পরিচয় লুকিয়ে কারও বিশ্বাস অর্জন করা যায় না। একদিন না একদিন সত্য বেরিয়েই পড়ে। ❞

