বিশ্বের যেসব দেশে ১৬ বছর বয়সে ভোট দেয়া যায়
যদি আপনি আমার ব্যক্তিগত মতামত চান তাহলে আমি বলব। অন্যদেশে যাই হোক বাংলাদেশে ১৬ বছরে ভোট চাইনা। বাংলাদেশের যে নোংরা রাজনীতি তা ১৬ বছরে শিখিয়ে কিশোরদের নষ্ট করা আত্মঘাতি হবে। অন্য কোন দেশের কি প্রেক্ষাপট সেটা ভিন্ন। তবু যেসব দেশে ১৬ বছরে ভোটের অনুমতি আছে সেগুলো নিয়ে এই প্রতিবেদন।
বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে ১৬ বছর বয়সেই নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রদান করা হয়েছে, যদিও তা এখনো একটি তুলনামূলকভাবে বিরল ঘটনা। এই দেশগুলোর মধ্যে কেউ কেউ আংশিকভাবে, কেউবা পূর্ণাঙ্গভাবে ১৬ বছর বয়সীদের ভোটাধিকার দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও নীতিগত প্রেক্ষাপট। নিচে এ বিষয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী ও বিস্তারিত আলোচনা উপস্থাপন করা হলো।
কোন কোন দেশে ১৬ বছর বয়সে ভোট দেওয়া যায়?
১. অস্ট্রিয়া
-
ভোটাধিকার বয়স: ১৬ বছর
-
প্রযোজ্য: জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন উভয় ক্ষেত্রেই
-
বছর: ২০০৭ সাল থেকে
-
প্রেক্ষাপট: অস্ট্রিয়া বিশ্বের প্রথম উন্নত দেশ যারা জাতীয় পর্যায়ে ১৬ বছর বয়সীদের ভোটাধিকার দেয়। এটি মূলত যুব সমাজকে রাজনৈতিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার এবং তাদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবার একটি প্রয়াস।
২. স্কটল্যান্ড (যুক্তরাজ্যের অংশ)
-
ভোটাধিকার বয়স: ১৬ বছর (স্থানীয় নির্বাচন ও স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচন)
-
প্রযোজ্য নয়: যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে
-
বছর: ২০১4 সাল থেকে
-
প্রেক্ষাপট: ২০১৪ সালের স্কটিশ স্বাধীনতা গণভোটে ১৬-১৭ বছর বয়সীদের ভোটাধিকার প্রদান করা হয়, এবং এরপর স্থায়ীভাবে স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনেও তা বজায় রাখা হয়। স্কটল্যান্ড মনে করে, তরুণরা সমাজের ভবিষ্যৎ, তাই তাদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
৩. আর্জেন্টিনা
-
ভোটাধিকার বয়স: ১৬ বছর
-
প্রযোজ্য: জাতীয় নির্বাচন (ভোট দেওয়া ঐচ্ছিক ১৬-১৮ বছর বয়সীদের জন্য)
-
বছর: ২০১২ সাল থেকে
-
প্রেক্ষাপট: তরুণদের রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়াতে এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
৪. জার্মানি
-
ভোটাধিকার বয়স: ১৬ বছর (কিছু রাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনে), যেমনঃ বার্লিন, ব্রেমেন, হামবুর্গ, শ্লেসভিগ-হলস্টাইন, ব্রান্ডেনবুর্গ
-
প্রেক্ষাপট: স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের যুক্ত করা, যাতে তারা তাদের পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। জাতীয় পর্যায়ে এখনো ১৮ বছরের বেশি নাগরিকদেরই ভোটাধিকার আছে।
৫. ব্রাজিল
-
ভোটাধিকার বয়স: ১৬ বছর (ঐচ্ছিক ভোট)
-
প্রেক্ষাপট: তরুণদের প্রাথমিকভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার চেষ্টা। তবে ১৮ বছরের পরে ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক।
৬. ইকুয়েডর , নিকারাগুয়া
-
ভোটাধিকার বয়স: ১৬ বছর (ঐচ্ছিক ভোট)
-
প্রেক্ষাপট: সমমর্যাদাভিত্তিক সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যে তরুণদের সম্পৃক্ত করা।
৭. এস্তোনিয়া
-
ভোটাধিকার বয়স: ১৬ বছর (শুধুমাত্র স্থানীয় নির্বাচনে)
-
প্রেক্ষাপট: ই-ভোটিং সুবিধা সম্পন্ন এই দেশটি তরুণদের প্রযুক্তি এবং রাজনীতির সংযোগ ঘটাতে উদ্যোগ নিয়েছে।
কেন কিছু দেশ ১৬ বছর বয়সে ভোটাধিকার দেয়?
১. রাজনৈতিক সচেতনতা ও শিক্ষা
তরুণদের অনেক সময়েই রাজনৈতিক বিষয়ে আগ্রহ থাকে, এবং তারা স্কুলে নাগরিক শিক্ষা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে। এ কারণে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে তারা যোগ্য বলে বিবেচিত হয়।
২. গণতন্ত্রের প্রসার ও অন্তর্ভুক্তি
তরুণদের ক্ষমতায়ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করে। ভবিষ্যতের নাগরিকরা যেন দায়িত্ববান হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই অন্তর্ভুক্তি।
৩. প্রযুক্তিতে অভ্যস্ততা
বর্তমান তরুণ প্রজন্ম ডিজিটাল নেটওয়ার্কে অভ্যস্ত। তারা তথ্য সংগ্রহে পারদর্শী এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে জানে।
৪. পরিবর্তনের বাহক হিসেবে তরুণরা
বেশ কিছু আন্দোলন ও পরিবর্তনের নেতৃত্ব তরুণরাই দিয়েছে (যেমনঃ জলবায়ু আন্দোলন)। তাই তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা দেওয়া হলে তারা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সমালোচনার দিক
অপরিপক্বতা
সমালোচকরা বলেন, ১৬ বছর বয়সীরা জীবনের জটিল বাস্তবতা বা অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন নয়, তাই তারা দায়িত্বপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারবে না।
রাজনৈতিক প্রভাব
অনেকে আশঙ্কা করেন, তরুণরা পরিবার বা সামাজিক চাপের কারণে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে নাও পারে।
পক্ষে যুক্তি
-
১৬ বছর বয়সে চাকরি করা যায়, কর পরিশোধ করা যায়, এমনকি কিছু দেশে বিয়ে করা যায়। তাহলে ভোট কেন নয়?
-
তরুণদের অংশগ্রহণ সমাজকে অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল করে তোলে।
১৬ বছর বয়সে ভোটাধিকার প্রদান একটি সাহসী ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। এটি শুধু ভোট দেওয়ার অনুমতি নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণের একটি দরজা। যদিও এখনো এটি বিতর্কিত বিষয়, তবুও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও দেশ এই উদ্যোগে যুক্ত হতে পারে।

