সংস্কৃতির উজ্জীবনে লোকজ পর্যটন

সংস্কৃতির উজ্জীবনে লোকজ পর্যটন

সংস্কৃতির উজ্জীবনে লোকজ পর্যটন

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

মানুষ কেন ভ্রমণ করে। পর্যটন সংক্রান্ত এই প্রশ্নের যতো উত্তর আছে। তারমধ্যে গুরুত্বপূর্ন উত্তর হলো। মানুষ এক দেশ থেকে অন্য দেশে এক অঞ্ছল থেকে অন্য অঞ্ছল দেখতে যায়। মানুষ যেখানে ঘুরতে যায়, সেখানখান মানুষের জীবন, তাদের আচার অনুষ্ঠান, তাদের বিশ্বাস, তাদের চলচলন ইত্যাদি দেখতে যায়। এবং তাদের কৃষ্টি কালচার, তাদের খাদ্য ও তাদের দেশ-সমাজ সম্পর্কে জানতে যায়। শুধু তাই মানুষ অন্য এলাকার মানুষের খাবারের স্বাদ নিতে যায়, কখনো কখনো কেবল খাবার থেতেও যায়। তেমনি যায় পোষাকের টানে এবং জীবন ধারার টানেও মানুষ দূর দূরান্তে ছুটে যায়। এমনকি স্থানীয় জনগনের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের জড়িত এমন জিনিস কিনেও নিয়ে আসে। তাকে আমরা বলি সুভ্যেনির বা স্মারক পন্য। যে পন্যটি পর্যটককে সে স্থানের কথা ভ্রমণ করে আসার পরেও স্মরণ করিয়ে দেয়।

 

কিন্তু আমাদের দেশে আমরা ভুলেই যাই যে, একজন বিদেশী বা প্রতিবেশী দেশের মানুষ আমার দেশটা দেখতে এসেছে। তারমানে এই নয়যে, তিনি শুধু দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে চান। আমাদের ছোট একটি দেশ এখানে বিধাতার অঢেল সৌন্দর্য় সাজানো আছে। তবুও পৃথিবীজুড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অভাব নেই। পৃথিবীটাই একটা সুন্দরের ডিব্বা।

আমাদের যা আমাদেরকে অন্য জাতিদের চেয়ে আলাদা এবং মহিয়ান গরিয়ান করেছে।তাহলে হলো আমাদের লোকসাহিত্য। এর মধ্যে কিছু বিষয় আছে একেবারেই আমাদের নিজস্ব, কিছু গান, কিছু খেলা, কিছু আচার অনুষ্ঠান আর মেলা।

বাঙালীর বারো মাসে তেরো পার্বণ কি আর সাধে বলে?

 

বৈশাখী মেলা

শত  বছর ধরে বাঙালী জীবনের নানা রংকে ধারণ করে  বাংলা নববর্ষকে সাজিয়েছে আপনার মতো করে।  ওই  নতুনের কেতন ওড়ে কাল বৈশাখীর ঝড় কিংবা এসো হে বৈশাখ এসো এসো এমন গানে মাতিয়ে বৈশাখী মেলা আসে বাংলায়। হালখাতার আয়োজনকে বিদায় দিয়ে কাল বৈশাখীর ঝনঝন আগমনী আশংকার মাঝে ঢাকার রাস্তায় লাল সবুজ পোশাকে মাতে বাংলার নরনারী।

সৌর পঞ্জিকা অনুসারে বাংলা বার মাস অনেককাল আগে থেকেই পালিত হতো। এই সৌর পঞ্জিকার শুরু হতো গ্রেগরীয় পঞ্জিকায় এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় হতে। এক সময় নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ আর্তব উৎসব তথা ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে পালিত হত। তখন এর মূল তাৎপর্য ছিল কৃষি ও ফসল। কারণ সকল অর্ধনৈতিক কর্মকান্ড নির্ভর করতো ফসল তোলাকে কেন্দ্র করে এবং ফসলের ফলনের উপর এসব নির্ভরশীল ছিলো।

ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে আকবর বাদশার দরবার থেকে বাংলা সনের ঘোষনা। আজ বৈশাখী মেলা ছিলো বৈশাখ উদযাপনের প্রধান মাধ্যম। গ্রামীন এই মেলা মূল আয়োজনে হিন্দু সমাজ হলেও মুসলিমসহ অন্যান্যদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিলো। আমার মনে আছে ছোটবেলায় বৈশাখী মেলায় যেটাকে আমাদের এলাকায় বলে গড়ইয়া সেখানে আমি ঘুড়ি বানিয়ে বিক্রি করেছিলাম। গ্রামীন জীবনের নানা প্রয়োজনীয় বস্তু বিকিকিনি হয়ে উঠে এই মেলার প্রাণ। সেইসাথে মৌসুমী ফল আর শিশুদের খেলনা, মহিলাদের প্রসাদন আর বিনোদন আয়োজনে মেলা হয়ে উঠে বাঙময়।

আনুষ্ঠানিক বাংলা নববর্ষ উদযাপনের খবর প্রথম পাওয়া যায় ১৯১৭ সালে। এরপর ১৯৩৮ সালে। ১৮৬৪ সালে জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িতে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানের কথা জানা যায়। ১৯৭৭ সালে সাহিত্যপত্র ‘সমকাল’-এর সহযোগিতায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রথম বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। তারপর বাকীটা ইতিহাস বলি আর বর্তমান বলি সেটা স্মৃতির চেয়ে বাস্তবতায় বেশী।

গ্রামে কয়েক রাস্তা ও নদীর মিলনস্থলে এসব মেলায় স্থানীয় মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়। এসবমেলায় কাঁচের চুড়ি, রঙীন ফিতা, তাঁতের শাড়ি, নকশা পাখা, ঘুড়ি মুড়ি, চিড়া, দই, খই, সন্দেশ, পিঠা, মিষ্টি, খেলনা, পুতুল, লাটিম, অলংকার, বাঁশি, ফলমূল আর ছনাভাজি কিংবা হাতের তৈরী আরো কতোকিছুর পসরা সাজায় স্থানীয় পেশাদার ও ননপেশাদার বিক্রেতারা। আনন্দ বিনোদনের জন্যে একসময় যাত্রাপালা, পুতুলনাচ, নাগরদোলা, বায়োস্কোপ, জারি-সারি-ভাটিয়ালি গানের আসর, কবিগান, নৌকাবাইচ, ষাড়ের লড়াই, লাঠিখেলা, কুস্তি খেলা এসব দেখা গেলেও আজকাল এগুলো তেমন একটা চোখে পড়ে না। এসবের স্থান করে নিয়েছে মোটর খেলা, ম্যাজিক শো, ভিডিও প্রদর্শনী, লটারী ও কনসার্ট। বর্তমানে ঢাকার বৈশাখী মেলার প্রাণকেন্দ্র রমনার বটমূলকে।সেখানকার সব আয়োজন জানতে এই বইয়ের পাতার চেয়ে বর্তমানের টেলিভিশনের পর্দা আর পত্রিকার পাতাই ভালো হবে। একসময় বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত সোনারগাঁওয়ের ‘বউমেলা’র কথা জানা যায়।  সোনারগাঁও থানার পেরাব গ্রামের পাশে অনুষ্ঠিত হতো ‘ঘোড়া মেলা’। নৌকার ভেতর খিচুড়ি রান্না করা হয়। তারপর কলাপাতায় সেই খিচুড়ি সবাইকে পরিবেশন করা হয়। দিনাজপুরের ফুলতলী, রাণীশংকৈল, রাজশাহীর শিবতলীর বৈশাখী মেলাও বর্তমানে বিরাট উৎসবের রূপ নিয়েছে। চচট্টগ্রামের বৈশাখী মেলা ও মেলাকে ঘিয়ে শতবছরের জব্বারের বলীখেলা এখন এক উৎসবের উপলক্ষ হয়ে গিয়েছে।

 

চৈত্র সংক্রান্তি

চৈত্র মাসের শেষ দিন, যা চৈত্র সংক্রান্তি বা মহাবিষুব সংক্রান্তি নামে পরিচিত, এদিন গাজন উৎসবের অংশ হিসেবে চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পূজায় শিবের উপাসনা করা হয় এবং সূর্যের মীন রাশি ত্যাগ করে মেষ রাশিতে প্রবেশের সঙ্গে এর জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য যুক্ত। গ্রামবাংলার বিভিন্ন স্থানে চড়ক মেলা বসে, যেখানে সন্ন্যাসী ও ভক্তরা শারীরিক কসরৎ প্রদর্শন করে দেবতার সন্তুষ্টি ও সাধারণ মানুষের বিনোদনের ব্যবস্থা করেন।

এছাড়া, বছরের শেষ দিন হিসেবে অনেক পরিবারে টক ও তিতা খাবার খাওয়ার প্রথা রয়েছে, যা সম্পর্কের সব তিক্ততা দূর করার প্রতীক। পরদিন, পয়লা বৈশাখে সবাই স্নান করে বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রণাম করে এবং বাড়িতে-মার্কেটে মিষ্টান্ন ভোজনের উৎসব চলে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এদিন নতুন হিসাবের খাতা, অর্থাৎ হালখাতা খোলে এবং লক্ষ্মী-গণেশের পূজা করে। হালখাতার শুভ সূচনার প্রতীক হিসেবে নতুন খাতায় স্বস্তিক চিহ্ন অঙ্কন করা হয়, যা সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়।

ঈদমেলা

যতটুকু জানা যায়, উনিশ শতকের শেষ দিকে ঈদগা বা ঈদের নামাযের সাথে সম্পর্কিত এক স্থানীয় মেলার সূচনা হয়। শিশু-কিশোরদের জন্য এই মেলা ছিল এক ধরনের আনন্দ উৎসব, যার ফলে মেলা দ্রুত দেশের নানা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। মফস্বল থেকে গ্রামাঞ্চল, সব জায়গায় ঈদ মেলা হয়ে ওঠে ঈদের অপরিহার্য অঙ্গ। ছোটবেলায় আমাদের কাছে ঈদের দিন মানে ছিলো ঈদমেলা, যেখানে নানা ধরনের বাঁশির পেঁ-ফুঁ শব্দ এবং বল লাটিমের খেলার স্মৃতিই ছিল ঈদের আনন্দ।

একসময় ঈদে নতুন খাওয়ার পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি বেড়ানো ছিল সাধারণ। তবে বর্তমানে ঈদে নতুন জামা এবং মেলার আনন্দই প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের জীবনে ঈদের প্রস্তুতি, কেনাকাটা এবং মেলার পরিবেশের মাঝে সময় কেটে গেলেও, গ্রামাঞ্চলে ঈদমেলা এখনো ঈদ আনন্দের প্রাণ।

ঢাকায় উনিশ শতকের দিকে ঈদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল ঈদ মিছিল। ঈদের চাঁদ দেখে সালাম দেওয়া, কদমবুসি করার মতো ঐতিহ্যগুলোও ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে তোলে।

বিশ শতকের ত্রিশ-চল্লিশ দশকে ঢাকায় ঈদের দিন রমনা, আরমানিটোলা বা অন্যান্য মাঠে ‘খটক’ নাচ অনুষ্ঠিত হতো। এছাড়া ছিল নৌকা বাইচ, ঘুড়ি উড়ানো, ঘোড়দৌড়, হিজরা নাচ ইত্যাদি। ঘোড়দৌড় এবং হিজরা নাচ ছিল ঢাকার বাবু কালচারের অঙ্গ, যা ঈদ উৎসবের সাথে যুক্ত হয়েছিল।

লোকজ খেলাধুলা

লোকজ ক্রীড়া বা খেলাধুলার সংখ্যা অনেক, তবে এখানে আমরা কিছু নির্দিষ্ট এবং ঐতিহ্যবাহী খেলার উল্লেখ করবো, যা সাধারণত উৎসবের অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নৌকা বাইচ, ষাড়ের লড়াই, মোরগ লড়াই, ঘুড়ি উড়ানো, কবুতর উড়ানো, কড়িখেলা, বলীখেলা, হাড়ুড়ু প্রভৃতি। এসব খেলা মূলত আনন্দ-উৎসবের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাচীন গ্রীসে দেবতা জিউসের অলিম্পিয়া মন্দিরের আশপাশে মল্লযুদ্ধ, ঘোড়দৌড়, রথ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। গল্পমতে, দেবতা হেরাক্লিস প্রতি চার বছর পর পর এই গেমস আয়োজনের সূচনা করেছিলেন। আমাদের দেশের প্রাচীন খেলাগুলোর ইতিহাস অনুসন্ধান করলে হয়তো এমন কিছু কাহিনী মিলতে পারে। তবে এসবের পেছনে শুধুমাত্র দেবতাদের কাহিনী নয়, মানুষের গল্পও থাকতে পারে। যেমন অনেক লোককথায় শোনা যায়, রাজকন্যাকে বিয়ে করার জন্য দেশের রাজপুত্ররা এসে বিভিন্ন খেলায় অংশ নিতো, যেখানে মল্লযুদ্ধ, তীর ছোড়া, ধাঁধাঁ, ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আজও আমাদের দেশে বিভিন্ন এলাকায় লোকজ ক্রীড়ার আয়োজন হয়। যেমন চট্টগ্রামে মেট্রোপলিটন ক্রীড়াসংস্থার মাধ্যমে নিয়মিত জব্বারের বলিখেলা, নড়াইল ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে সুলতান মেলায় লোকজ ক্রীড়ার উৎসব, মানিকগঞ্জের পদ্মাপাড়ে ঘোড়দৌড়, পাবনা সাথিয়া-আতাইকুলায় ষাঁড়ের লড়াই, গরুর গাড়ির দৌড়, কুষ্টিয়ার লাঠি খেলা, পঞ্চগড়ের ঘোড়দৌড়, দাঁড়িয়াবান্ধা ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয়। তবে এসব খেলার ব্যাপক জনপ্রিয়তা একসময় যেমন ছিল, এখন তা কিছুটা কমে গিয়ে শুধুমাত্র হাতেগোনা আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

দুঃখজনকভাবে, আমরা এখনও আমাদের লোকজ খেলাধুলার উৎসবগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করতে সক্ষম হয়নি, কিংবা সংগঠিত ও সম্মিলিতভাবে এগুলোকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে পারিনি।

 

বৈসাবি

বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের তিনটি উপজাতি বা আদিবাসী সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব রীতিতে বর্ষবরণ উৎসব বৈসাবি পালন করে। ত্রিপুরারা এটি বৈসু, মারমারা সাংগ্রাই, এবং চাকমারা বিজু নামে পরিচিতি দেয়। এই তিন উৎসবের আদ্যাক্ষর নিয়ে গঠিত হয়েছে বৈসাবি উৎসব, যা পার্বত্য অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ত্রিপুরাদের বৈসু

ত্রিপুরাদের মধ্যে বৈসু উৎসবটি তিন দিনব্যাপী পালন করা হয় এবং এটি তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। বৈসু উৎসবের প্রথম দিনটি হারি বৈসু হিসেবে পরিচিত। এ দিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে বাড়ি পরিষ্কার করে, ফুল দিয়ে সাজানো হয়। তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে ফুল দেয় এবং পূজা দেওয়া হয়। পুরুষেরা এই দিন খেলাধুলায় মেতে ওঠে, আর ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন শুরু হয়। নববর্ষকে স্বাগত জানাতে ধূপ, চন্দন ও প্রদীপ জ্বেলে পূজা ও উপাসনা করা হয়। খাবারে থাকে কলাপিঠা, চুয়ানপিঠা, জালপিঠা, উনপিঠা ও মায়ুংপিঠা।

মারমাদের সাংগ্রাই

মারমাদের কাছে পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করার উৎসবটি সাংগ্রাই নামে পরিচিত। বৈশাখের প্রথম দিনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই উৎসব পালন করা হয়। খাবারের মধ্যে থাকে পাচন, পিঠা এবং অন্যান্য প্রিয় খাবার, নতুন পোশাক, সম্মিলিত গানের পরিবেশন এবং অষ্টশীল পূজা। সাংগ্রাই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হলো জল কেলি বা পানি খেলা, যা মারমা ভাষায় রিলংপোয়ে নামে পরিচিত। যুবকরা বাদ্যযন্ত্র ও গানের তালে তালে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয় এবং তরুণীরা ফুল দিয়ে সজ্জিত স্থান থেকে পানি নিয়ে জল খেলা শুরু করে। বর্তমানে এই উৎসবটি দেখতে অনেক পর্যটক এখানে আসেন।

চাকমাদের বিজু

চাকমা সম্প্রদায়ের মধ্যে বিজু উৎসব তিন দিনব্যাপী উদযাপিত হয়। চৈত্র মাসের ২৯ তারিখে ফুল বিজু, ৩০ তারিখে মূল বিজু, এবং বৈশাখের প্রথম দিনে গজ্যাপজ্যা বিজু পালন করা হয়। মূল বিজুর দিনে, নানা ধরনের কাঁচা তরকারি মিশিয়ে পাচন বা ঘণ্ট তৈরি করা হয়। এছাড়া পায়েস, পিঠা, মাছ-মাংস রান্না এবং বিন্নি ধানের খই, নাড়ু, সেমাই, পাহাড়ি মদ (দৌ-চুয়ানি) পরিবেশন করা হয়। এই দিনটি পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি-বাঙালি জনগণের মিলনমেলার দিন।

বৈসাবি উৎসবসমূহ পার্বত্