হায়রে কপাল মন্দ চোখ থাকিতে অন্ধ
এক গ্রামে একজন শিক্ষিত ও জ্ঞানী লোক থাকতেন। তিনি শিক্ষা-দীক্ষায় যেমনি সবার চেয়ে এগিয়ে তেমনি দেশবিদেশের নানা তথ্য ও তত্ব তার নখদর্পনে। সভা সমিতিতে তিনি কথার খই ফোটান। এভাবে আশপাশের গ্রামে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন তার কাছ থেকে জ্ঞান বুদ্ধি নিতে আসেন। তাকেও সভা সমাবেশে ডাকেন। আসলেই তিনি জ্ঞানে মানে অতুলনীয়। এভাবে চলতে থাকলো তিনি নিজেও বুঝে গেলেন যে গ্রামের লোকদের মধ্যে তিনিই বিজ্ঞ।
ফলে সব সময় তিনি বলেন, আর লোকেরা শোনে। তিনি জানেন বলে সবাই শোনে। আবার অন্যরা তেমন জানে না বলে তিনি অন্যদেরটা শোনেন না। এভাবে কিছু বছর কেটে গেল।
একদিন গ্রামে শহর থেকে কিছু লোক গ্রামে এলো। তারা এ গ্রামে একজন জ্ঞানী লোকের সন্ধান করলো। গ্রামের লোকেরা সেই সবজান্তা লোকটিকে সবার সামনে নিয়ে হাজির হলো। এবং তারা বলল যে তিনিই সবার চেয়ে বেশী জানেন। তারা এই বিষয়ে একটি টেভিভিশন শো এর জন্য একটি প্রতিযোগীতামূলক অনুষ্ঠান বানাতে চান। এধরনের প্রোগ্রাম সবসময় শহরের চারদেয়ালের মধ্যে হলেও এবার তারা গ্রামের মুক্ত মাঠে তা করতে চান। তারা দেখাতে চান প্রযুক্তির আলোয় গ্রামে পৌঁঝে গেছে জ্ঞান চর্চার প্রসারতা।
অনুষ্ঠানের নিয়ম অনুসারে গ্রামের সমাগত লোকেরাই উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন প্রশ্ন করবেন আর যারা প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে তারা সেসব প্রশ্নের জবাব দেবে। যে ব্যক্তি বেশী প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারবেন তিনিই জ্ঞানী লোক হিসেবে গন্য হবেন। পুরষ্কার ছাড়াও সরকারের পক্ষ থেকে এবং তাকে একটি গুরুদায়িত্ব অর্পন করা হবে। স্বভাবতই সবাই খুশি হলো। জ্ঞাণীভাইও আশ্বস্ত হলেন যে এতদিন পর তার জ্ঞানের সঠিক মূল্যায়ন হবে।
শুরু হলো প্রশ্ন উত্তর পর্ব। প্রথম দিকের বেশকিছু প্রশ্নের জবাব দিয়ে সর্বজান্তা সকলের হাততালী কেড়ে নিলেন। আস্তে আস্তে তিনি থতমত খেতে শুরু করলেন। দেখাগেলো তুলনামূলক কম বয়সী, চুপচাপ এবং পেছন দিক থেকে ২/৩টা ছেলে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তাদের মধ্য থেকে একজন বিজয়ী হলো। নতুন প্রজন্মের ছেলেরা তাকে অভিনন্দন জানালো।
বিজয়ীর তার কাছে জানতে চাওয়া হলো: তার সাফল্যের রহস্য কি?
জবাবে সে বলল, তার প্রথম কৃতজ্ঞতা রানার্স আপ ও আমাদের গ্রামের সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষটির প্রতি, তিনি যা জানতেন সব সময় বলতেন এবং সেটা আমি শিখে নিতাম। এর বাইরেও পত্র. পত্রিকা, টিভি, ইন্টারনেট ও বই পড়ে আমি শিখি। সব সময় অন্যকে কথা বলার সুযোগ দিতাম যাতে অনেকের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখা যায়।
তখন আয়োজকরা জানতে চাইলো যে তুমি যার কাছ থেকে শিখেছো তার চেয়ে বেশী জানলে কভাবে?। তখন সে বলল, কারণ আমি লক্ষ্য করেছি গত কয়েক বছর যাবত তিনি শুধু বলতে থাকেন। শুনেন না। পৃথিবীতে প্রতিদিন অনেক কিছু বদলে যাচ্ছে ব্যস্ততার কারণে হোক বা আমার আর জানার দরকার নেই এ মানসিকতা থেকে হোক তিনি সেগুলোর খবর রাখছেন না। আমার কাছে মনে হলো একজন জ্ঞানপিপাসু মানষকে সব সময় জানার মধ্যে থাকতে হয়। তাই আমি জ্ঞান অর্জনের প্রতি মনোযোগী ছিলাম, নতুন নতুন তথ্য সংগ্রহ করতাম। ফলে আমি একদিকে তার কাছ থেকে পুরনো জ্ঞান নিয়েছি এবং নিজে নতুন জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়েছি।
লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, তাহলে কেন সে পেছনে ছিলো সামনে এগিয়ে আসেনি। তখন তরুন জ্ঞানী জবাব দিলো যে, আমিতো জানতাম না যে আমি এতো জানি। আমার ধারণা আমি যা জানি নিশ্চই লোকেরা আরো অনেক বেশী জানে।
এবার নাম দেয়া যাক, পুরনো জ্ঞানী নাম সিধু ভাই, নব্য জ্ঞানীর নাম দিলাম জিতু ভাই। এভাবে আমরাও পিছিয়ে পড়ি। আমি নিজে কিছুদিন শখের বশে খন্ডকালীন শিক্ষকতা করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে নতুন জিনিস শিখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে শিক্ষকরা। দু’চারজন ব্যতিক্রম বাদ দিলে বাকীরা কিন্তু পাস করে চাকরী পাওয়ার পর আর তেমন লেখাপড়া করে না। শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের জন্য তারা যেটুকু লেখাপড়া করেন সেটাও পাঠ্যবই ভিত্তিক তাও আবার শত বছরের পুরনো। ফলে আমাদের শিক্ষার্থীরাও নতুন জানার অনুপ্রেরণা হারিয়ে ফেলেন। আর আমরাও সময়ের সাথে আমরা কেন এগুতে পারি না। এতে আমাদের দোষত্রুটি গুলো কি কি? সেগুলোর দিকে আমরা একটু চোখ পাকিয়ে নিই-
যা জানি তার উপর সন্তুষ্ট থাকা
সমস্যাটা শুরু হয় তখন থেকে যখন আমরা মনে করি আমি যা জানার জেনে গেছি। আমার আর কিছু জানার নেই। বিশেষ করে কখনো কখনো আমরা কোনো কোনো বইয়ের অংশবিশেষ পড়ে মনে করি। আচ্চা এ কথা। মূল বিষয়টা তাহলে বোঝা গেল। আর পড়ার দরকার নেই। পরে কোনো অবসরে বাকী অংশ পড়ার পর বোঝা যায় আমার আগের সিদ্বান্ত সঠিক ছিল না। এখানে এমনন কিছু শিখেছি বা বইয়ের কনটেন্ট দেখে আমার মাথায় এমননকিছু এসেছে। যা আমি আগে জানতাম বা কখনো ভাবিনি।
আমরা আজকাল ভাবি দৈনিক পত্রিকার কি দরকার আমার ফেসবুক ও ইন্টারনেটতো রয়েছে। ১ মাস পত্রিকা না পড়ে শুধু নেট ঘেটে পরে পত্রিকা নিয়ে বসার পর আমি দেখেছি, আমি অন্তত ০ থেকে ৯০ সংবাদ মিস করেছি যেগুলোর ব্যাাপারে আমার জানার আগ্রহ রয়েছে। কিছু কিছুতো থাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা সময়মতো জানলে ভালো হতো।
শুধু পরীক্ষা পাসের চিন্তা করা
এটা একটা মহামারি আকার ধারণ করেছে। পরীক্ষা পাসের হয়তো প্রয়োজন আছে। শুধু পরীক্ষা পাস করলেই বা সাটিফিকেট পেলেই কি সব সমস্যার সমাধান হবে? তোমাকে একটা সহজ উদাহরণ দেই। ধরো, তুমি ড্রাইভিং বিষয়ে পরীক্ষা দিলে আর পাস করে একটা লাইসেন্সও পেয়ে গেলে। আসলে তুমি তখনো ভালো ড্রাইভ করতে পারনা। জীবনের প্রয়োজনে যখন তুমি ড্রাইভ করবে তখন তোমার দর্ঘটনায় পতিত হওয়ার সমূহ আশংকা থাকবে। তুমি নিশ্চই চাইবেনা এমননটা হোক। লেখাপড়ার বা শিক্ষার সনদটাও তোমার জন্য তেমন। কারণ সত্যি বলতে কি? তুমিতো এটাকে তোমার জীবন ও জীবিকার মাধ্যমও ভেবেছো। এটা কোনো অংশে প্রকৃত গাড়ি চালানোর চেয়ে জানার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এ গাড়ী যে জীবন গাড়ি। একজন ড্রাইভার যেমন যেকোনোভাবে একটা লাইসেন্স পেলেও তাকে তা পাওয়ার আগে অথবা পরে ড্রাইভিং ভালোভাবে শিখে নিতে হয়। তোমাকেও জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাটা শিখে নিতে হবে। সার্টিফিকেট পাওয়ার আগে হলে ভালো। নয়তো পরে যেন বাদ না পড়ে।
নিজের চারদিকে দেয়াল তৈরী করা
সোহেলকে আমি উপকার করলাম, সে আমার জন্য কিছু করলনা। শিপনকে আমি সভাপতির ভোট দিলাম এখন সে আমাকে আগের মতো তোয়াজ করে না। আলমকে আমি বন্ধুদের সাথে পরিচিত করালাম, এখন সে আমাকে বাদ দিয়ে সবার সাথে যোগাযোগ করে। পার্থ আমার গ্রুপের লোকজন বাদ দিয়ে অন্যগ্রুপের লোকের সাথে মেশে। আফসা সুমনের সাথে সেলফি তুলেছে। সুমন কবিরের সাথে ঘুরতে গেছে। আলীর জামা কাপড় দামী নয়। মাসুমের কথা আঞ্চলিকতার টান। এভাবে তুমি যদি একেকজনকে একেকটা নেগেটিভ মার্ক দিয়ে চিহ্নিত করে তারপর তাদের সাথে দূরত্ব তৈরী করলে। এটা আসলে নিজেই নিজের চারপাশে দেয়াল তুলে সে দেয়ালে বানানো বন্ধী ঘরে বদ্ধ হয়ে থাকার শামিল।
আমরা আমাদের দেশকে ভালোবাসি। সবাই তার দেশকে ভালোভাসে। এজন্য নিশ্চই অন্য দেশকে ঘৃণা করতে হবেনা। অথচ আমরা বিভিন্ন দেশ, সেসব দেশের মানুষ ও সংস্কৃতি নিয়ে নাক তুলে ছ্যা ছ্যা করছি। মানে দেয়াল তুলে দিলাম দেশের সীমান্ত দিয়ে মনের সীমান্তে।
তুমি তোমার ধর্মে বিশ্বাস করো। হাঁ তাতো করতে হবে। বিশ্বাস না করলেতো আর তুমি সে ধর্মের অনুসারী বা সমাজবদ্ধ বিবেচিত হতে না। সাথে সাথে কি তুমি অন্য ধর্ম বিশ্বাস ও জীবন ধারা নিয়ে কুৎসা করছো? ঘৃণা করছেন? লোকে এটাকে সাম্প্রদায়িকতা বলে। তুমি তাহলে আরো কিছু লোকের কাছ থেকে দূরে সরার জন্য আরো একটা দেয়াল তুললে।
তুমি তোমার এলাকার মানুষের প্রতি ভালোবাসা রাখো। সেটাই রাখা উচিত। তুমিতো সারা পৃথিবীর সমস্যা সমাধান করতে পারবে না। অন্তত নিজের এলাকার মানুষের সমস্যার সমাধান করতে পারলে সেটাই বা কম কিসে। তোমার অঞ্চলকে ভালোবাসতে গিয়ে তুমি অন্য জেলাকে নিয়ে মজা করো, নাক সিটকাও? এটা কোনো অর্থেই ইতিবাচক নয়। এভাবে তুমি নিজ সীমানায় প্রতিনিয়ত বদ্ধ হয়ে থাকতে পারো না।
তুমি তোমার আত্মীয় স্বজনের জন্য কিছু করতে চাও। সেটা করা উচিত। তাদের হক আছে তোমার উপর। সেটা করতে গিয়ে অন্যকে ঠকাচ্ছো নাতো? যে তোমার আত্মীয় নয় তার পাওনা কেড়ে তোমার আত্মীয়কে দিচ্ছোনাতো?
তুমি একটা মতবাদে বিশ্বাসে করো, সেটা হয়তো বুদ্ধিভিত্তিক, ধর্মীয় বা অধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক বা আদর্শিক। তুমি যদি এমনন কর- তোমার মতবাদের বিপরীতে যারা আছে তাদেরকে আঁতেল, বুর্জয়া, দূনিয়বী, নাস্তিক, মৌলবাদী ইত্যাদি বিশেষন দিয়ে তাদের কাছ থেকে দূর থাকলে। নিজের মতের মিল যাদের সাথে আছে তাদের নিয়ে একটা সমাজ গড়ে তুললে। তোমার গল্প, আড্ডা, চা কপি, কেনাকাটা, সংস্কৃতি রাজনীতি সব শুধু তাদের সাথেই করে নিলেন। তোমার মনের ঘরের চারপাশে শক্ত দেয়াল দিয়ে সেখানে নিজেকে বন্ধী করে সে রাজ্যের রাজা বনে গেলেন। আহ কি শান্তি! এতকটু ভাবো তুমিও তাই করছনাতো?
নিজেকে ছোট বলয়ে মূল্যায়ন করা
কেউ বলে, আমার গ্রামের আমি গর্ব। কেউ বলে, অমুক আমার জেলা গর্ব। কেউ বলে তিনিতো দেশের সম্পদ। এমননটা হওয়াও একটা ভালো ব্যাপার। আমার কেন জানি মনে হয়। এরকম বলে বলে আমরা আমাদের স্বপ্নকে ছোট ও পুঞ্জিভূত করে ফেলি। সারা পৃথিবী এখন একটা গ্রাম। আমাকে ইচ্ছা কিংবা অনিচ্ছায় বিশ্ব বাজারের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হয়। একজন অনলাইন ফ্রিল্যান্সারকে বিশ্ব বাজারের সাথে প্রতিযোগিতা করে কাজ পেতে হয়। আমাদের একজন গার্মেন্টস শ্রমিককেও বিশ্ববাজারের সএমনানের পোষাক বানাতে হয়। এমননকি একজন প্রবাসী অল্প শিক্ষিত শ্রমিককেও বিদেশের বাজারে গিয়ে নিজেকে বৈশ্বিকভাবে যোগ্য প্রমাণ করে রুটি রুজির ব্যবস্থা করতে হয়। শুধু তাই নয়, কেউ যদি জীবনে বিদেশ না গিয়ে দেশে বসে টাকা পয়সা কামাতে চায় তাহলে তাকেও বিশ্ব বাজারের উপযুক্ত হয়ে তৈরী হতে হয়। একেতো দেশের চাকরির বাজারে বিশ্বভাষা ইংরেজীতে নিজেকে উপস্থাপন করতে হয় আবার বিভিন্ন দেশ থেকে এখন প্রচুর লোক বাংলাদেশে এসে কাজ করছে। কারণ আমরা নিজেকে কেবল গ্রামের সেরা, জেলার উপযুক্ত ও দেশের একজন হিসেবে তৈরী করেছি। বিশ্ববাজারের একজন নয়। তাই নিজেকে তৈরী করো বিশ্ববাজার বিবেচনায়। সেখানে নাম্বার ওয়ান না হলেও চলবে যদি দশ জনের একজন হয়। আর নাম্বার ওয়ান হতে পারলেতো কথাই নেই। গ্রামের নাম্বার ওয়ান হওয়ার চেয়ে বিশ্বমাপের একজন হওয়া অনেক বেশী প্রয়োজন।
সেজন্য প্রচুর পড়াশোনা থাকা চাই। মানে বড়ো ডিগ্রি আর উচু সব বই পত্র নয়। প্রয়োজনীয় বিষয়ে জ্ঞানের গভীরতা এবং সর্বশেষ তথ্য সমৃদ্ধ হওয়া জরুরী। যাতে তুমি বুঝতে পারো বিশ্ব বাজারের মানদন্ডটি কি? নিজেকে বিশ্ব নাগরিক ভাবার সময় এসে গেছে। সময় এসেছে দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তজাতিক অঙ্গনে নিজেকে প্রমানিত ও প্রতিষ্ঠিত করার। তাতে তোমার নিজের মর্যাদা যেমন প্রতিষ্ঠিত হবে। তেমন তোমার গ্রাম শহর জেলা কিংবা দেশের ভাবমূর্তিও উন্নত হবে।
ছোট বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সময় নষ্ট করা:
সমাজে অনেকে আছেন যারা কষ্ট বা পরিশ্রম করতে চাননা। আজকাল মনে হয় এএইটা করার সুযোগ নেই্ অবশ্যই পরিশ্রম করতে হবে। যেকথাটা খুব কম লোকই বলে। সেটা হলো সঠিক জায়গায় সঠিক পরিশ্রমটি করতে হবে। প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। আর নিজের প্রয়োজনীয় ও সত্যিকার কাজটি চিহ্নিত করতে হবে। এবং সেটাতে ফোকাস করে তাতে বেশী সময় ও শ্রম দিয়ে লক্ষ্য ধরে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা অনেকে সময় অপ্রযোজনীয়, বেদরকারী, হুদা কাজটি আবেগের কারণে করে থাকি। এবং সেটা নিয়ে সময় কাটাই। ফলে আমার আসল কাজটাতে আমাকে কি কি ইনপুট দিতে হবে তা ভুলে যাই। আর এভাবে প্রতিদিন একটু একটু করে পিছিয়ে যাই।
আমি ২০ মিনিট টিকটক ভিডিও দেখে মনে মনে ভাবলাম। যা ২০ মিনিট সময় নষ্ট হলো। আসলে তা নয়। সেটা যদি আমার মনে রেখাপাত করে। ভিডিওটির কথা যদি বার বার আমার মনে পড়তে থাকে তাহলে এর রেশ ২০ ঘন্টাও থাকতে পারে। আর আমার কাজের সময় থেকে সে সময়টা নষ্ট হতে পারে। এজন্য সঠিক কাজে সময় দিয়ে কাজের কাজ ঠিক রেখে বাড়তি সময়েই কেবল আমরা বিনোদন কিংবা অবসরের জন্য রাখতে পারি।
পরে শিখার আশায় বসে থাকে
‘‘পরে তুড়ি মেরে শিখে নেব’’ খুব পরিচিত একটা হাস্যরস। আমাদের ছাত্রসমাজের বিশাল অংশ এ আশায় বসে থাকে যে, চাকরী হওয়ার পর সে সব কিছু তুড়ি মেরে দুই দিনে শিখে নেবে। কোনো আলোচনা বা তর্ক ছাড়াই বলছি। এটা একটা আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত। শেখার কোনো শেষ নেই। পরে শেখা আর আজ এখনি শেখার মাঝে অনেক পার্থক্য রয়েছে। এ বিষয়ে আমি আমার অন্য বইতে আলোচনা করেছি। এখানে আর লম্বা করতে চাইনা। শুধু এটুকু বলবো, কেউ তোমার পথচেয়ে বসে নেইযে, তোমাকে চাকরীতে নিয়ে তারপর সবকিছু শেখাবে। আর তোমাকে যখন তখন খালি সহযোগিতা করবে।
এটা হোক তারপর ওটা করব, এভাবে চিন্তা করা
এটা হোক তারপর ওটা করব। এ কাজটা শেষ হলে সেই কাজটা ধরব। এখন একটু ঝামেলায় আছি এটা শেষ হলে তারপর প্রজেক্টে হাত দেব। এ রোগের নাম্বার ওয়ান রোগী আমি। এখন পেছন ফিরে দেখি হাজার হাজার কাজ বাকী পড়ে আছে। আমার হাতের কাজ কখনো শেষ হয়নি। বছরের পর বছর সময় চলে গেছে। আমার দরকারী কাজ শুরু হয়নি। আর বহুকাজ করেও আমি আজো ব্যস্ততা কমাতে পারিনি। তাই এটা একেবারে আমার জীবন থেকে লিখছি। কখনো একটা কাজের জন্য আরেকটা কাজকে ফেলে রাখবে না। প্রতিটি কাজের প্রয়োজন ও ফলাফল আলাদা। একটার জন্য আরেকটা ফেলে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
তারমানে এটাও নয়যে, সবকাজ একসাথে করতে হবে। যেমন আমি নিয়মিত একটি ব্ল
