শিক্ষা গ্রহণের সঠিক নিয়ম?

শিক্ষা গ্রহণের সঠিক নিয়ম?

সঠিক নিয়মে বিদ্যা অর্জন

‘‘মাস্টার সাব আমি নাম দস্তখত শিখতে চাই
কেউ যেন কোনোদিন বলতে না পারে
তোমার ছাত্রের বিদ্যা নাই ….’’
অশিক্ষিত ছবির এ গানটি যেমন খুব জনপ্রিয়, তেমনি এ ছবিটিও নায়ক রাজ রাজ্জাকের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। গ্রামের এক কিশোরের কাছে সে গ্রামের এক অশিক্ষিত যুবকের পড়তে আসা এবং তাদের মধ্যে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব আর দুষ্ট মোড়ল এটিএমন শাসমসুজ্জামের ষড়যন্ত্রকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছিল এ ছবির কাহিনী। সাদাকালো যুগের এ ছবিটি এখনো অনেকের মনে দাগ কেটে আছে। আমাদের আজকের আলোচনাটা হলো কিভাবে গতানুগতিক শিক্ষা থেকে বের হয়ে আমরা আমাদের শিক্ষাকে জীবনে কাজে লাগাতে পারি তা নিয়ে। আমরা বলতে পারি
‘‘মাস্টার সাব আমি জীবন গড়তে চাই, কেউ যেন কোনো বলতে না পারে
লেখাপড়া করে তোমার ছাত্রের কোনে গতি নেই।’’
আমরা অনেকেই নিজে নিজে কবি-শিল্পী আর মানুষের সামনে মেন্দামরা। আবার অনেকে নিজের কাজে কাজি আর অন্য সময় নিমরাজি। মানে মানুষের সামনে নিজেকে সাবলীল ও আত্মপ্রত্যয়ীরুপে প্রকাশ করতে পারি না। কেউ কেউ আছে ছাপায় খুব চালু মাইকের সামনে তোতলা। অথবা কথার খই ফুটে মুখে, ক্যামেরার সামনে গেলে হাবা। কেউ আবার চাকরীর ইন্টারভিউতে গেলে খুব গোবেচারা হয়ে যায়। কেউ বিপরীত লিঙ্গের লোকদের সামনে লজ্জায় একেবারে লজ্জাতুন্নেসা। তোমার উপরের যেকোনো একটি সমস্যা থাকতে পারে। আর চাইলে তুমি তা কাটিয়ে উঠতে পারো।

জানার কোনো শেষ নাই মাইর খাওয়ার বয়স নাই
ভাবছো ফান করছি! মোটেই না। মাইর খাওয়াতো বিভিন্ন রকম হতে পারে। তুমি ব্যবসায় মার খেতে পারো। রাস্তায় বের হয়ে ছিন্তাইয়ের শিকার হতে পারো। কারো দ্বারা প্রতারিত হতে পারো। চাকরীর বাজারে বার বার পরাজিত হতে পারো। সেটাও এক ধরনের মার। টিভি এবং ফেসবুকের চেয়ে পত্রিকা এবং বইকে সময় বেশী সময় দাও। ফেসবুকে বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক গ্রুপে নিজেকে এড করে নাও। গুগলকে কাজে লাগাও। জানার পরিধিটা যখন বড়ো হবে। তোমার ভেতর থেকে কেউ একজন তোমাকে বলবে ‘‘এগিয়ে যাও’’। আর তা না হলে বলবে ‘‘পিছিয়ে যাও’’ অথবা ‘‘তুমি মোটেও তৈরী নও’’।

প্রকাশভঙ্গিতে প্রাণসঞ্চার করো
তুমি যা করছো বা বলছো তাতে প্রাণের সঞ্চার করো। তোমার কথা শুনে বা তোমাকে দেখে যেন মনে হয় কোনো রোবট নির্দেশ পালন করছে বা কেউ ফরমায়েশ তামিল করছে। যেন মনে হয় তুমি যা করছো মন থেকে করছো। সেজন্য হেঁসে কথা বল। যার সাথে কথা বলছো চোখে চোখ রাখো। হাত নাড়াও। বডি ল্যাঙ্গুয়েজকে বক্তব্যের সাথে সংযুক্ত করো। খুব বেশী দ্রুত ও আস্তে না বলে স্বাভাবিক একটি ভঙ্গি বজায় রাখো। অবশ্যই হাঁসিমুখে কথা বলতে ভুলে যাবেনা।

সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করো
সামাজিক যোগাযোগ শুধু ফেসবুক বা অন্যকোনো সামাজিক মাধ্যমে বৃদ্ধি করলে হবে না। মানুষ সামাজিক জীব সামাজিক অনুষ্ঠান ও আচারে তাকে যোগ দিতে হয়। অবশ্যই মাসে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চেষ্টা করো। কোন বন্ধুর জন্মদিন কিংবা আত্মীয়ের বিয়ে অথবা শিল্পকলা একাডেমীতে কোনো অনুষ্ঠান। এগুলো তোমার সামাজিক আচরণকে আরো আগুয়ান করে তুলবে। পারলে সামাজিক অনুষ্ঠানে রোল প্লে করো। বাহবা পেলে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। তবে মূল কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করে কম প্রয়োজনীয় কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া জরুরী নয়।

নিয়মিতি
পরিমিতি, জ্যামিতি, আর ন্যায়-নীতির চেয়ে কোনো অংশেই কম গুরুত্বপূর্ন নয় নিয়মিতি। আমাদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি আর নিয়মিত টেবিলে পড়তে বসা। নিয়মিত পড়ার টেবিলে বসলে পড়া ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। আর নিয়মিত শেণীকক্ষে উপস্থিতি পড়া মনে থাকার পাশপাশি আমাদের মানসিক গঠনে ও মেধার বিকাশে বিরাট ভূমিকা রাখে। বইয়ের পাতায় অনেক কিছু লেখা থাকে না। তবুও তুমি দেখবে তোমার এলাকায় যে ছেলেটা লেখাপড়া করে না আর যে লেখাপড়া করে তার কথাবার্তা আর চাল চলনে ব্যাপক পার্থক্য। আর সেটাই আমরা আমাদের শিক্ষক ও সহপাঠিদের কাছ থেকে শিখি। স্কুল কলেজে না গিয়েওতো কেউ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। খুব ভালো এ আর উদার মস্তিস্ক, ব্যাপক জ্ঞান ক্ষুধা থাকলেও কেউ কেউ সেটাও করতে পারে বটে। কিন্তু কিছু কমতি থেকে যায়।

যখন আমরা বিদ্যালয়ে যাই তখন আমাদের মন এবং মস্তিস্ক শিক্ষা গ্রহণের জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে তৈরী থাকে। আমরা বিনা বাক্য ব্যয়ে সেখান থেকে অনেক কিছু শিখি বা গ্রহণ করি। সময়ের সাথে কিছু ব্যাপার আমরা আমাদের অবচেতন মনেই আয়ত্ত করে থাকি। যা অনেক সময় পাড়ার মুরুব্বিরা সবক দিলে আমরা নিতে চাইনা।
যেমন একটি ৫/৬ বছরের শিশু যখন স্কুলে যায়। স্কুলের মিস যা শেখায় সে সেটাই সঠিক মনে করে। যদি কখনো কোনো কারণে স্কুলের টিচার কোনো একটা শব্দ ভুল শেখালে বাসায় আসার পর মা বা বাবা সেটা তাকে শুধরে দেয়ার চেষ্টা করল। তখন সে বলে ‘‘তোমরা কিচ্ছু জানো না। ওমুক মিস বলেেেছ এটা এভাবেই পড়তে হবে’’। এর থেকে বুঝতে পারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার পরিবেশ আমাদের মনোজগতে পাঠ্যবইয়ের বাইরে অনেক ভূমিকা রাখে।

লেখা: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

ছবি: উইকিহাউ

 

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply