শিক্ষার সংস্কার কতটা জরুরী

শিক্ষার সংস্কার কতটা জরুরী

শিক্ষাখাতে সংস্কার হোক অগ্রাধিকার বিষয়
– জাহাঙ্গীর আলম শোভন

শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কিত পরামর্শনামা পড়ার আগে কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে। প্রথমত আমি যেসব পরামর্শ দিয়েছি এগুলো শেষ কথা নয়। এবং সব কিছুই যথার্থ তাও নয় কারণ এটা আমার একক মস্তিস্ক প্রসূত।

 

এসব সমস্যার আলোকে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তনের প্রস্তাব করছি।
পরিবর্তনের মৌলিক বিষয়সমূহ

ক) শিক্ষার নীতি, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য

১) শিক্ষার নীতি, উদ্দ্যেশ্য ও লক্ষ্য বহুমুখী হবে প্রথমত, মানবিক মূল্যবোধ, দ্বিতীয়ত- সামাজিক চেতনা, তৃতীয়ত- আদর্শিক জাগরণ, চতুর্থত আত্ম উন্নন এবং পঞ্চমত জীবন ও জীবিকা।
২) প্রতিটি পাঠক্রম, পাঠ্যবই, প্রশ্নপত্র, শ্রেণী কার্যক্রম, এসাইনমেন্ট, প্রশিক্ষণ এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে সাজাতে হবে।
৩) পঞ্চম শ্রেণীর পর মুখস্থ করা, এক পড়া প্রত্যেক শ্রেণীতে পড়া, একই কবি লেখকদের লেখা প্রতি ক্লাসে থাকা, গ্রন্থভিত্তিক ১শ ভাগ পাঠদান, পুরনো আমলের সিলেবাস ইত্যাদি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
৪) সিলেবাসে নতুন প্রযুক্তি, নতুন পেশা, নতুন চ্যালেঞ্জ এসব বিষয় বিভিন্নভাবে অন্তভ’ক্ত করতে হবে।
৫) শিক্ষার নীতি, উদ্দ্যেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে শিক্ষাখাতের সাথে জড়িত সবাইকে সজাগ ও সচেতন করতে হবে। শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকও এর বাইরে থাকবেনা।
৬) প্রতিটি বিষয় ও বিভাগের নীতি, উদ্দ্যেশ্য ও লক্ষ্য পাঠক্রমে উল্লেখ থাকবে। শিক্ষদের প্রশিক্ষণ, দেয়ালিকা, পত্রিকা ও পরীক্ষায় সেগুলো পুনরাবৃত্তি হবে।
৭) শিক্ষা ১ মুখী হবে না। সরকারী শিক্ষাও বহুমুখী হবে। বিজ্ঞানভিত্তিক, ধর্মভিত্তিক, ক্যারিয়ার ভিত্তিক, শিল্পচর্চা ভিত্তিক বিভিন্ন রকম হতে পারে। কিন্তু কিছু মৌলিক বিষয় সব জায়গায় থাকবে। যেমন নীতিগত শিক্ষা, দেশীয় সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ইত্যাদি।
৮) সরকারী এবং বেসরকারী উভয় পর্যায়ে একাধিক বোর্ড থাকতে পারে। শিক্ষায় প্রাইভেট সেক্টরকে সুযোগ দেয়া যেতে পারে। যাতে তারা নির্দিষ্ট সিলেবাস ও শিক্ষাক্রমের ভিত্তিতে আলাদা শিক্ষা চেইন গড়ে তুলতে পারে। এটা জাতীয় হতে পারে কিংবা বিভাগ ভিত্তিক হতে পারে। হতে পারে ভাষা ভিত্তিক। এটা বর্তমানে নীতিমালায় না থাকলেও হচ্ছে। যেমন কওমী মাদ্রাসা ও ব্রিটিশ ক্যারিকুলাম, ভারতীয় ক্যারিকুলাম, কানাডিয় ক্যারিকুলাম, অ্েরষ্ট্রলিয় ক্যারিকুলাম আর আমেরিকান ক্যারিকুলাম। অথচ কারো মাথাব্যাথা নেই। সবই করতে পারবে কিন্তু তাদের জন্য বেসিক একটা নীতিমালা প্রদান করা হবে। তাহলে বাংলাদেশী একটা প্রাইভেট ক্যারিকুলাম দাড়াবে আবার কেউ কেউ হয়তো সিঙ্গাপুর ক্যারিকুলামও নিয়ে আসতে পারে। যেটা আসলে বিশ^সেরা ও বাস্তবসম্মত ক্যারিকুলাম।
৯) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক ক্যারিকুলাম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে বিভাগ বা প্রদেশ ভিত্তিক করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি নির্দেশিকা দেবে তার আলোকে বিভাগগুলোতে পাঠ্যপুস্তক ও ক্যারিকুলাম তৈরী হবে। কেউ চাইলে জাতীয় ক্যারিকুলাম অনুসরণ করতে পারে অথবা ২ বোর্ড মিলে ১টা ক্যারিকুলামও বানাতে পারে। অথবা ১ বোর্ড এর ক্যারিকুলাম অন্য বোর্ড অনুসরণ করতে পারে। এতে করে দেশে প্রতিযোগিতামূলক পরিবর্তন আসবে। প্রাইভেট সেক্টর ও প্রবাস থেকে নতুন নতুন বিশেষজ্ঞ এনে একে সম্পৃক্ত করা যাবে।
১০) কারিগরি শিক্ষাবোর্ড এর পুরো স্ট্রাকচার ঢেলে সাজাতে হবে। এখানে কারিগরি শিক্ষার জন্য ফুলটাইমের শিক্ষক রাখা হয়, কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় যারা সংশ্লিষ্ঠ বিষয়ে কাজ করার মতো দক্ষ নয় তারাই শিক্ষকতাকে বেছে নেন। এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা সার্বক্ষনিক শ্রেণীতে পাঠদান রত থাকার কারণে তারা নিজেরা যা শিখেছেন হাতে কলমে সেটাও তারা ভুলে গেছেন আবার কর্মক্ষেত্রে না থাকার কারণে সর্বশেষ প্রযুক্তিও তারা জানে না।
১১) কারিগরি শিক্ষাবোর্ড এর প্রতিটি বিষয়ের সিলেবাস প্রতিবছর ১০% থেকে ৩০% শতাংশ পর্যন্ত পরিবর্তন করতে হবে।
১২) প্রতিবছর যারা বিভিন্ন পর্যায়ে ঝরে যাবে তাদের জন্য আলাদা কোর্স ও বিশেষ যত্ন এবং বিশেষ ক্যারিয়ার চেইন ডিজাইন করতে হবে।
১৩) শিক্ষাজীবন শেষ করার একটা নির্দিষ্ঠ সময়ের মধ্যে যারা ক্যারিয়ার করতে পারছেন না। তাদের জন্য ১ বছরের পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমাসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। অথবা স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পরীক্ষার পর পর তাদের জন্য সংশ্লিষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই কোর্সগুলো চালু রাখতে হবে।
১৪) পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা, ডিপ্লোমা, কারিগরি বিষয়, পেশাগত ডিগ্রি, প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে কোনো বেতনভূক্ত ও নিয়মিত শিক্ষক নিয়োগ দেয়া যাবে না। একজন কোর্স কো-অডিনেটর থাকবে বাকীদেরকে শিল্পখাতকে অতিথি শিক্ষক হিসেবে সংযুক্ত করতে হবে।
১৫) বর্তমান শিক্ষকদের চাকুরীচ্যত না করে তাদেরকে নতুন প্রতিষ্ঠানে ও নতুন বিষয়ের জন্য কোর্স কো-অডিনেটর হিসেবে নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। এই সময়ের মধ্যে তারা নিজেদেরকে খাপ খাইয়ে নিতে বিভিন্ন বিষয়ে ১ বছরের ডিপ্লোমা করে নেবে। সেটা অনলাইন ডিপ্লোমা হলেও অনুমোদিত হবে বা কাছাকাছি বিষয় হলেও চলবে বা কোনো প্রশিক্ষণ হলেও গ্রহণযোগ্য হবে।
১৬) শিক্ষাখাতে কয়েক ধরনের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যেতে পারে এজন্য সরকার নীতি ও পদ্ধতিগত সহযোগিতা নিশ্চিত করবে। এখানে সরকারী নীতির আওতায় বাণিজ্যিক বিনিয়োগ, সামাজিক বিনিয়োগ, দাতব্য প্রতিষ্ঠান, মিশনারী প্রতিষ্ঠান ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের সহায়ক হিসেবে ৫ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনুমোদন এর ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারী ও আধা সরকারী ব্যতিত অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠক্রম নির্বাচনে তাদের স্বাধীনতা দিতে হবে। তবে সেটাও সরকারী নীতির মধ্যে থেকে।
১৭) প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে ১০% বিদেশী শিক্ষক অনুমোদন দেয়া যেতে পারে। প্রতি জেলায় ১ টি করে বিদেশী বিশ^বিদ্যালয়ও অনুমোদন দেয়া যেতে পারে যাদের ১০% এর বেশী বিদেশী শিক্ষক থাকবেনা। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে বিদেশী ও প্রবাসী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা জরুরী।
১৮) অলাভ জনক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় দেশী বিদেশী বড় ধরনের অনুদান ও পরিকল্পনা আসলে সরকার থেকে ভূমি উপহার বা অধিগ্রহণে সহযোগিতা করা যেতে পারে।
১৯) প্রাইভেট খাতে কারিগরি শিক্ষাবোর্ড অনুমোদন দেয়া যেতে পারে নীতিমালার আলোকে। এটা ১ বিভাগে ২ থেকে ৩ টি হতে পারে। তাহলে কারিগরি শিক্ষার মান আরো উন্নত হবে। শিক্ষাবোর্ড হওয়ার জন্য কমপক্ষে প্রতিটি বোর্ডের অধীনে ১০০টি ইনস্টিটিউট ও ১০ হাজার শিক্ষার্থী থাকতে হবে। তারা যেসব বিষয় পড়াবে বা অনুমোদন নিবে প্রতিটি বিষয়ে বিভিন্ন ইনস্টিটিউট মিলে কমপক্ষে ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। প্রাথমিকভাবে এ ধরনের বিধি থাকতে পারে। এসব বিধি নিয়মিত পরিবর্তন করা হবে। তবে নতুন বিধির সাথে সামঞ্জস্য না হওয়ার জন্য পুরনো প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল হবে না।
২০) দেশে সরকারী ও বেসরকারী একাধিক পাঠক্রম চালু থাকবে। বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে ভিন্ন ভিন্ন কোর্স বা ক্লাসের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ক্যারিকুলাম অনুসরণ করতে পারবে।
২১) কোর্সগুলো ঘন্টা দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকবে। দিনের হিসেবে নয়। কে ক্লাস নিচ্ছে কে ক্লাস করছে। সেটা বিবেচ্য হবে না। কে শিখতে পারছে সেটা বিবেচ্য হবে। আইইএলটিএস এর ক্ষেত্রে যেটা হয়। বোর্ডগুলো পরীক্ষা পদ্ধতি ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করবে।
২১) জাতীয় শিক্ষা পোর্টালে প্রতিটি বোর্ড, পদ্ধতি ও প্রতিষ্ঠানের রিভিউ ও রেটিং থাকবে। তাদের পাশের হার শুধু নয়। সরকারী ও বেসরকারী খাতে কোন পদ্ধতি, বোর্ড ও প্রতিষ্ঠান থেকে কতজন এবং কত শতাংশ তাদের মোট শিক্ষার্থীর কত শতাংশ ক্যারিয়ার গঠন করেছে। সেসব ডেটাও থাকবে।
২২) কোনো বিশেষ বিষয়ে শিক্ষাবোর্ড থাকতে পারে। যেমন ভ’মি জরিপ ও আমিনশীপ, ফার্নিচার শিক্ষা, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং। অথবা বিশ^বিদ্যালয় থাকবে যারা অধীনে সারাদেশে একাডেমী, স্কুল ও ই›ন্সটিটিউট থাকবে। বিষয়ভিত্তিক হলে ১০০টি প্রষ্ঠিানের বদলে ১০টি করা যেতে পারে। তবে অনুমোদন এর ক্ষেত্রে এই পেশা দেশে ও বিদেশে কতটা প্রয়োজন সেটা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
২৩) ইন্সটিটিউটগুলোকে সীমিত পরিসরে বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সাথে ক্রেডিট ট্রান্সফার ও অন্যান্য বিনিময়ের সুযোগ দিতে হবে।
২৪) গ্রামীণ পর্যায়ে মান সম্মত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিস্তারে অনুকূল নীতি গ্রহণ করতে হবে।
২৫) সমাজবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান অর্থনীতি এ ধরনের বিষয়ে আসন সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে। নতুন নতুন বিষয় চালু করতে হবে। শিক্ষকদের বিষয়ে সুন্দর একটি সমাধান এই প্রস্তাবনায় দেয়া হয়েছে।
২৬) শিক্ষার্থীদের বিদেশী যাওয়ার ক্ষেত্রে বাঁধাগুলো অপসারণ করতে হবে।
২৭) নীতি ও পদ্ধতি বাস্তবায়নে জরুরী (১ বছরে করনীয়) স্বল্পমেয়াদী (২-৫ বছরে করনীয়) মধ্য মেয়াদী (৬-৯ বছরে করনীয়) দশক মেয়াদী (১০ বছরে করনীয়), রজত মেয়াদী (২৫ বছরে মেয়াদী), সূবর্ণমেয়াদী (৫০ বছরে করনীয়), শতক মেয়াদী (১০০ বছরে করনীয়) এই কাঠামোতে পরিকল্পনা ও একশন প্লান তৈরী করতে হবে।

খ) শিক্ষার কাঠামো

শিক্ষা কেন শিখবে। প্রত্যেক শ্রেণীতে পাঠক্রমে এই সংক্রান্ত অধ্যায় দরকার। প্রতি অধ্যায়ের শুরুতে ভূমিকা দরকার। প্রতি ক্লাসে ২ মিনিটের পাঠ দরকার। প্রতিটি পাঠ কেন শিখবে। তার কারিগরি দিক, মানবিক দিক এবং ব্যক্তিগত দক্ষতার দিক। শিক্ষার্থী তার সামাজিক, মানবিক ও নাগরিক দিক সম্পর্কে সচেতন থাকবে। তাকে সেগুলো স্কুলে ও শ্রেণীকক্ষে হাতে কলমে শেখাতে হবে।
১) প্রতিটি বিষয় শেখার সাথে সাথে তার প্রয়োগ দেখাতে হবে।
২) শ্রেণীকক্ষ ভিত্তিক পোস্টারিং বুকসেল্প, ক্যালেন্ডার, পত্রিকা ও ম্যাগাজিন থাকবে।
৩) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার ক্লাব, বুক ক্লাব, মুভি ক্লাব, ডিবেট ক্লাব এর পাশাপাশি শখের ক্লাব, ফটোক্লাব, আর্টক্লাব, ট্যুর ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব, লিটারেচার ক্লাব, এন্টারপ্রেনার্স ক্লাব, সোস্যাল ক্লাবসহ তাদের শিক্ষা ও দক্ষতা সম্পর্কিত সকল ক্লাব থাকতে হবে। এজন্য একটি নীতি থাকবে। কোনো বিষয়ে ৩ জন আগ্রহী শিক্ষার্থী থাকলে সে বিষয়ে ক্লাব থাকবে।
৪) দেশে ও বিদেশে কোন বিষয়ে লোকবল দরকার সে বিষয়গুলো প্রতিবছর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হবে। প্রতি বছর নতুন বিষয় আসবে এবং পুরনো বিষয় বাদ যাবে। এসব ক্ষেত্রে ১ বিষয়ে ১ জন শিক্ষক বা ইন্সট্রাকটর থাকা যথেষ্ঠ। বাকী অতিথি শিক্ষক দিয়ে শেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষার মান নিশ্চিত করবে শিক্ষার্থীর মানসিকা, সিলেবাস, পরীক্ষা এবং ব্যবহারিক কাজ। বেতনভূক্ত প্রথাগত শিক্ষক আপনার শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে পারবেনা। বেকার হয়ে যাওয়া শিক্ষকদের একাংশকে তাদের ইচেছয় সারাজীবনের বেতনভাতা দিয়ে অবসরে পাঠাতে হবে। (ধরে নিলাম ২০% যাবে)। পরীক্ষার মাধ্যমে ( লিখিত পরীক্ষা নয় মনস্তাত্বিক পরীক্ষা) কিছু শিক্ষককে অন্য চাকুরীতে স্থানান্তর করতে হবে (ধরে নিলাম ২৫% করা যাবে)। কিছু সংখ্যক শিক্ষককে তাদের ইচ্ছায় ব্যবস্থাপনা পদে নিয়োজিত করতে হবে (এটা হতে পারে ৫%)। কিছু শিক্ষককে অন্য বিষয়ের উপর ১ বছরে ডিপ্লোমা কোর্স অথবা একটি বিশেষ পরীক্ষা নিয়ে অন্য কোনো ডিসিপ্লিনের একটি নির্দিষ্ঠ বিষয়ে স্থানান্তর করতে হবে। ( ধরে নিলাম ১৫% করা যাবে), কিছু শিক্ষককে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওই বিষয়গুলো কিছু থাকবে সেখানে স্থানান্তর করা যাবে ( ধরে নিলাম ৫% কে নেয়া যাবে) নতুন শিক্ষক নিয়োগ না দেয়ার ফলে কিছু শিক্ষকের সুযোগ সৃষ্টি হবে। (ধরে নিলাম এটাও ৫%)। বাকী ২৫% রাখতে হবে। মানে প্রতিবছর এমনভাবে বিষয় গুলো বাদ দিতে হবে যাতে ২৫% আসন থাকবে বা যতসংখ্যক শিক্ষক বাদ দেয়া না যায় বা অন্যত্র পাঠানো না যায় ততসংখ্যক আসন রাখা যেতে পারে বা ততসংখ্যক আসনের বিপরীতে নতুন বিষয় যুক্ত করা যেতে পারে। যদি প্রতিবছর অপ্রয়োজনীয় বা কম প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর ২০% শিক্ষক কমানো যায় নতুন নিয়োগ না দিয়ে বা অন্যত্র স্থানান্তর করে তাতে দেখা যাবে ৫ বছরে আমি সেসব বিষয়ের আসন সংখ্যা যৌক্তিক সংখ্যায় নামিয়ে আনতে পেরেছি।
৫) যদি মনে করি একজন শিক্ষক গড়ে ২৭ বছর বয়সে পেশায় যুক্ত হয় এবং ৬০ বছরে অবসরে যায়। তাহলে ১০০ জন শিক্ষকের মধ্যে (২৭-৬০=৩৩) ধরনের বয়স রয়েছ। একটি বয়সের মোট ৩জন শিক্ষক আছেন। মানে ২৭ বছর থেকে ৬০ বছর প্রতিটি বয়সের ৩ জন করে শিক্ষক রয়েছেন। মানে প্রতি বছর ৩% শিক্ষক অবসরে যায়। কিন্তু বাস্তবে এই সংখ্যা আরো অনেক বেশী। কার