স্বাস্থ্য খাত: সংস্কার উন্নয়ন ও পরিবর্তনের রুপরেখা

স্বাস্থ্য খাত: সংস্কার উন্নয়ন ও পরিবর্তনের রুপরেখা

স্বাস্থ্য খাত: সংস্কার উন্নয়ন ও পরিবর্তনের রুপরেখা
জাহাঙ্গীর আলম শোভন

একটি দেশের জন্মের ৫০ বছরেরও বেশী সময় ধরে শুধু কিস্তিতে কিস্তিতে গালভরা বুলি খেয়ে জনগনের অসুখগুলো মহামারিতে পরিণত হয়েছে। সেগুলোর কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়নি। আক্ষরিক অর্থে দেশ এবং দেশের মানুষে নানা রোগে শোকে জর্জরিত। দূর্নীতি থেকে অশিক্ষা, চিকিৎসা হীনতা থেকে ভেজাল খাবার সবকিছু দিয়ে একটা জাতিকে ধ্বংসের কিনারে পৌঁছে দিয়েছে একটি পদ্ধতি এবং তার সাথে যুক্ত মানুষগুলো।

কিন্তু কাউকে না কাউকে এখান থেকে উত্তরনের সূচনা করতে হবে। তা না হলে আমরা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ থাকব। তাই আসুন আমরা নিজের জায়গা থেকে কাজগুলো করার চেষ্টা করি। আমি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমার জায়গা থেকে আমি কেবল আমার ধারণা ও প্রস্তাবগুলো পরামর্শ আকারে পেশ করলাম। হয়তো আমার এরচেয়ে বেশী ক্ষমতা নেই। কিন্তু আপনারা যারা জাতির দায়িত্ব নিয়েছেন। তাদের জন্য অনেক করনীয় আছে।

মানুষ খুন আর টাকা আত্মসাৎ এই দুটো অনিয়ম বাদ দিয়ে আমাদেরকে দেশের জন্য অনিয়ম করলেও দেশের মানুষ হয়তো সেটা ইতিবাচক ভাবে দেখবে। আজ আইন ও সংবিধান রক্ষার নামে যেভাবে সংস্কার ও পরিবর্তন থেমে আছে। তাতে আমাদের এগিয়ে যাওয়া কঠিন হবে। তাই আগ পিছ না ভেবে যদি সত্যিকার সংস্কার ও উন্নয়ন চান তাহলে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মৌলিক পরিবর্তন করতে হবে।

সে লক্ষ্যে আমি আমার তরফ থেকে কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরছি। এই প্রস্তাবনাসমূহ আগামীদিনের জন্য তোলা রইল। হয়তো সব সঠিক নয়, হয়তো সব একসাথে করা যাবেনা, হয়তো কিছু আপনারা ইতোমধ্যে ভেবে রেখেছেন, হয়তো কিছু বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ আছে। তবুও যদি করা যায় তাহলে এখান থেকে শুরু হতে পারে জাতির উত্তরণ। নয়তো আর কখনো নয়।

অবকাঠামো ও প্রান্তিক সুবিধা
১) বিশেষায়িত হাসপাতালের ব্যপ্তি বিভাগীয় পর্যায়ে বিস্তৃত করতে হবে। যাতে করে সব রোগী ঢাকায় নিয়ে আসতে না হয়।
২) সরকারী হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের পাশাপাশি দাতা সংস্থা, মিশনারী ও দাতা রাষ্ট্রগুলোকে ডেকে এক জেলায় একেকটি সংস্থার পক্ষ থেকে ১টি করে মেডিক্যাল কলেজ বা হাসপাতাল স্থাপন করার আহবার এবং সুযোগ দিতে হবে। প্রয়োজনে সরকার ভূমি ব্যবস্থা করে দেবে।
৩) যেকোনো হাসপাতালে ৫% শতাংশ বিদেশী ডাক্তার ও ৫% শতাংশ টেকিনিশিয়ান রাখার অনুমতি দিতে হবে। প্রতিটি ডাক্তার টেকনিশিয়ান নিয়োগের আগে যৌক্তিকতাসহ অনুমোদন নিতে হবে এবং তাদের সম্মানি ও বেতনভাতা দেশীয়মতো মতো হতে হবে।
৪) উপজেলা পর্যায়ে জেনারেল হাসপাতাল স্থাপন করতে হবে। এবং দেশীয় ৫০০ কোম্পানী ও দাতা ব্যক্তিকে ডেকে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে জেনারেল বা বেসরকারী হাসপাতাল দাতব্য হিসেবে স্থাপন করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ভূমি বরাদ্ধ সরকারকে করতে হবে। এসব হাসপাতাল আধা সরকারী হিসেবে বিবেচিত হবে এখানকার সকল সেবামূল্য সরকার কতৃক নির্ধারিত হবে। তবে ব্যবস্থাপনা বেসরকারী খাতে থাকবে। তারা চাইলে এজন্য এনজ্ওি ফরম্যাটে অনুদানও গ্রহণ করতে পারবে। তবে এটা সরকারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স েএর নিকটবর্তী হবে না। এটা উপজেলার অন্য প্রান্তে হবে।

সরকারী হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা
১) হাসপাতালে কোনো ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধির প্রবেশাধিকার থাকবেনা। যে ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধি ১ বার প্রবেশের জন্য ১ লক্ষ টাকার ঔষধ উক্ত হাসপাতালকে বিনামূল্যে প্রদান করতে হবে। এ বিধান লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ঠ আইনে সংযুক্ত থাকবে।
২) হাসপাতালের অনিয়ম দূর করতে হাসপাতালের অভ্যন্তরে অভিযোগ, সালিশী, তদন্ত ও বিচার ব্যবস্থা থাকতে হবে। হাসপাতালের প্রধানের এ ব্যাপারে নির্বাহী ক্ষমতা থাকবে। তার অধীনস্থ পরিচালনা বিভাগ যে সুপারিশ করবে তিনি সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দিবেন। পরিচালনা বিভাগ ৪টি বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত হবে ক) ব্যবস্থাপনা বিভাগ- যারা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত, খ) সেবাগ্রহীতা পরিষদ: হাসপাতালের সেবাগ্রহীতাদের সমিতি, যাদের জন্য হাসপাতালের ভেতরে কার্যালয় থাকবে। গ) নাগরিক সভা: বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার নাগরিকদের নিয়ে গঠিত সেল, ঘ) মনিটরিং সেল: আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সচেতন নাগরিকদের নিয়ে গঠিত উপজেলা পর্যায়ের উধ্বতন কর্মকর্তা ও বেসরকারী পর্যায়ে অবসরপ্রাপ্ত আমলা, ছাত্র প্রতিনিধি এতে যুক্ত থাকবে।
৩) মনিটরিং সেল সার্বক্ষনিক সচল থাকবে। যাতে করে যখনি প্রয়োজন কোনো সেবাগ্রহীতা তার অভিযোগ জানাতে পারে এবং তাৎক্ষনিক ভাবে সমাধান পেতে পারে।
৪) সরকারী ডাক্তারের পাশাপাশি নিবন্ধন এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সংখ্যক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার চাইলে সরকারী হাসপাতালে চেম্বার বা চিকিৎসা সেবা দিতে পারবে। এতে ডাক্তারদের বদলী, অনুপস্থিতি নিয়োগ জটিলতার কারণে কোনো ডাক্তারের অভাব থাকলে তা পূরণ হবে। এক্ষেত্রে তাদের ফি সরকার কতৃক নির্ধারিত হবে। তারা হাসপাতালের একজন সেবাদাতা বা অংশীজন হিসেবে সেবা দিবেন তারা কখনো চাকরী হিসেবে দাবী করতে পারবেন না। বরং কোনো ডাক্তার বেশী ফি নিলে, অপ্রয়োজনীয় টেস্ট দিলে, অপ্রয়োজনীয় ঔষধ দিলে বা প্রাইভেট হাসপাতালে রোগীদের নিয়ে গেলে তার নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে এবং আর্থিক জরিমানাও ধার্য হতে পারে।
৪) হাসপাতালে সেবামুলক পোস্টে ছাত্রদের স্বেচ্চাসেবক হিসেবে কাজ করার সুযোগ থাকতে হবে। ২ ধরনের স্বেচ্চাসেবক থাকতে পারে দৈনিক ভাতা ও সমপূর্ণ স্বেচ্চাশ্রম। তবে সবাইকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে। এজন্য বয়সসীমা থাকবে এবং কতদিন তা করতে পারবে তারও সময়সীমা থাকবে।
৫) হাসপাতালে নিন্ম চাকরীর সুবিধা ও বেতনভাতা বৃদ্ধি করতে হবে। তাদেরকে উপহার, উপটৌকন ও উৎকোচ নির্ভরতা থেকে মুক্তি দিতে হবে। তাদের সাথে স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করলে তাদের কাজের মান বাড়বে।
৬) আয়া, বুয়া, নার্স, সিস্টার, বয় ইত্যাদি ৫০% সরকারী চাকুরী, ২৫% বেতনভূক্ত বেসরকারী চাকুরী, ১০% স্বেচ্ছাসেবক, ১৫% ইন্টার্নী, অতিরিক্ত আরো ১০% এনজিও কতৃক নিয়োগ হবে। ক্ষেত্রে বিশেষে হার কমবেশী হতে পারে। তবে বিভিন্ন সেক্টর থেকে লোক আসলে কম খরচে ভাল সেবা দেয়া যাবে।
৭) যাবতীয় টেস্ট এর ক্ষেত্রে সরকারী অবকাঠামো ব্যবহার করে বেসরকারী উদ্যোক্তাদের সুযোগ দিতে হবে। যেমন- এক্সরে সেবার জন্য বেসরকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দেয়া হবে। সংস্থা মেশিন ও অপারেটর নিয়োগ দিয়ে সেবা প্রদান করবে। সরকার একটি নির্ধারিত মূল্য ঠিক করে দেবে। এজন্য একটি নীতিমালা বা নির্দেশিকা বা বিধি থাকবে। তাহলে সরকারী হাসপাতালের ‘‘মেশিন নষ্ট’’ এর কবলে পড়তে হবে না। এভাবে শৌচাগার পরিষ্কার, অ্যাম্বুলেন্স সেবা ইত্যাদিতে প্রাইভেট খাতকে যুক্ত করা যায়। বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক এনজিও যুক্ত হতে পারে বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার ক্ষেত্রে।
৮) সরকারী হাসপাতালে সরকারী ঔষধ বিক্রি করে দেয়া চুরি করা একটা সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তাই এ সমস্যার সমাধানে ঔষধ ব্যবস্থাপনা প্রাইভেট খাতের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। তারা সরকারী হাসপাতালের অবকাঠামো ব্যবহার করে ঔষধ, সংরক্ষন ও বিতরণ করবে। এবং একটি সেন্ট্রাল ডেটাবেজে রোগীর তথ্য সংরক্ষণ করে ঔষধ প্রদান করবে।
৯) অতিরিক্ত ঔষধ ও টেস্ট নিয়ন্ত্রণ করতে ডাক্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
১০) হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতার জন্য স্থানীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যবিষয়ক সেবা সংগঠন অনুমোদন দিয়ে তাদের কার্যালয় হাসপাতালের ভেতরে রাখার সুযোগ দিয়ে তাদের হাতে পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। হাসপাতালের বাথরুম ও পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা বেসরকারী সংস্খার নিকট ছেড়ে দিতে হবে।
১১) হাসপাতালের বর্তমান কর্মীদের ছাটাই না করে তাদেরকে প্রাইভেট সংস্থার সাথে একীভূত হয়ে কাজ করার নীতিমালা তৈরী করে দিতে হবে। হাসপাতালের জন্য এডমিন পোস্ট তৈরী করে তাতে অ-ডাক্তার নিয়োগ দিতে হবে। যাতে তারা শুধুমাত্র ব্যবস্খাপনা বিষয়ে নজর দিয়ে কাজ করতে পারে।
১২) বিশ্বের উন্নত হাসপাতালগুলোর মতো করে ১টি করে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা করা দরকার। এসব হাসপাতালে ১০% বিদেশী ডাক্তার ও টেকনিশিয়ান কাজ করার অনুমতি দেয়া যেতে পারে। গড়ে প্রতিটি বিভাগে ২ কোটি লোক বসবাস করে। ৫০ লাখ জনসংখ্যার দেশ সিঙ্গাপুরে আন্তজাতিক মানের হাসপাতাল থাকলে ১ কোটি জনসংখ্যার বা সমপরিমাণ জনসংখ্যার জন্য কেন আমরা উন্নত হাসপাতালের পরিকল্পনা করতে পারবনা।

১৩) হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে মেডিকেল কলেগুলোতে ডাক্তার এবং নন ডাক্তারদের জন্য ১ বছরের পোষ্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা চালু করতে হবে।
১৪) বিভাগীয় উন্নত হাসপাতালটি পাবলিক প্রাইভেট ‘‘হাইফাইভ হ্যান্ডশেক’’ পদ্ধতি বা ৫ ধরনের পক্ষ দ্বারা বিনিয়োগ ও ৫ ধরনের পক্ষের প্রতিনিধি দ্বারা পরিচালিত হতে পারে। ৫টি পক্ষ হলো (ক) সরকার (খ) বেসরকারী বিনিয়োগকারী (গ) বিদেশী দাতা সংস্থা বা কোনো বন্ধদেশের সরকারী অনুদান (ঘ) স্থানীয় জনগন ( এলাকার মানুষ হাসপাতালের জন্য ১ হাজার টাকা মূল্যের হেলথকার্ড কিনে এতে বিনিয়োগ করবে।) ঙ) দেশীয় সামাজিক সংগঠন ও অনাবাসী বাংলাদেশী। কে কত শতাংশ বিনিয়োগ করবে সেটা প্রকল্প এলাকা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ঠিক করা যাবে।
১৫) জেলা পর্যায়ে একটি করে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও পিজি হাসপাতাল মানের ১ টি করে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি, অনুমোদন, ভূমি বরাদ্ধ সহযোগিতা ও কমিটি গঠন করতে হবে। এখানেও ‘‘ফাইভ পিলার’’ পদ্ধতিতে চারটি সংস্থার বিনিয়োগ ও পরিচালনায় তা প্রতিষ্ঠা করা যায়। সংস্থাগুলো হলো (ক) সরকার ৩০%, (খ) বেসরকারী বিনিয়োগকারী- ২৫% (গ) বিদেশী দাতা সংস্থা ও এনজিও ২৫% (ঘ) স্থানীয় জনগন-১০% (ঙ) প্রবাসী-১০%। ক্ষেত্রবিশেষে এই অংশীদারিত্ব ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।

প্রাইভেট হাসপাতালের মান উন্নয়ন
১) প্রাইভেট হাসপাতালের ক্ষেত্রে একাধিক ক্যাটাগরি থাকতে হবে। ক) বাণিজ্যিক খ) সামাজিক গ) দাতব্য। এজন্য নীতিমালায় বিধি বিধান যুক্ত করে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকী করতে হবে। যাতে বাণিজ্যিক ও অবানিজ্যিক হাসপাতালের খুববেশী পার্থক্য না থাকে। প্রাইভেট হাসপাতালে সেবামূল্য নির্ধারণ করতে হবে। এটি এলাকা, বিনিয়োগ অনুসারে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে।
২) স্বাস্থ্য বিষয়ক মামলা ও অভিযোগ নিষ্পত্তিতে প্রতিটি জেলায় বিশেষ স্বাস্থ্য বিষয়ক আদালত স্থাপন করতে হবে। উক্ত আদালত সব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কাজ করবে।
৩) সরকারী হাসপাতালের ডাক্তারদের প্রাইভেট হাসপাতালে সেবাদানের ক্ষেত্রে নীতিমালা পরিবর্তন করে সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু সরকারী হাসপাতালের রোগীদের প্রাইভেটে নিয়ে যাওয়া বন্ধ করতে হবে।
৪) প্রাইভেট হাসপাতালের প্রতিটি রোগী ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের পেছনে পূর্বলিখিত হলপনামায় স্বাক্ষর করতে হবে। যেখানে লেখা থাকবে। আমি ———, বয়স———, ফোন: ————–। আমি ডা———– এর কাছে আসার আগে সরকারী হাসপাতালে যাইনি/ গিয়েছি। সেখান থেকে আসার কারণ: সঠিক সেবা না পাওয়/ ভাল সেবার আশায়। কেন? নিজ ইচছায়/ ডাক্তারের প্ররোচনায়। স্বাক্ষর।
৩) সামাজিক শাস্তি আইন নামক আইন পাশ করে এই খাতের ব্যক্তিতের ছোট ছোট অপরাধকে ফৌজদারী অপরাধ বিবেচনা না করে সামাজিক অপরাধ বিবেচনা করে তাতে সামাজিক শাস্তি যেমন বিনামূল্যে ১০০০ রোগী দেখা, ১০০ রোগীর ঔষধ খরচ দেয়া ইত্যাদি নানা শাস্তি ধার্য করা যেতে পারে। এতে অপরাধ প্রবণতা কমবে, আইনগত জটিলতা থাকবেনা, বহু মানুষ বিনামূল্যে সেবা পাবে এবং দূর্নীতি কমবে।
৪) ডাক্তারগণ ঔষধ লেখার বিনিময়ে যে নগদ অর্থ পান তা দ্রুত বন্ধ করতে হবে। এই বিষয়ে আলাদা প্রস্তাবনা পেশ করতে চাই। এজন্য ঔষধ কোম্পানী ও ডাক্তার উভয়কে মোটা অংকের জরিমানা সংক্রান্ত ও চাকুরিচ্যুতি মতো শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বিষয়গুলো ডাক্তাদের সাথে বসে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে।
৫) প্রাইভেট হাসপাতালগুলোকে নিয়মিত তদারকীর মধ্যে রাখতে হবে। এ সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। ছোট অভিযোগের জন্য জরিমানা ও সামাজিক শাস্তি রাখতে হবে। এজন্য আইন অমান্য কর নামে আলাদা কর আরোপ করা যেতে পারে। যাতে একটি আইন একবার অমান্য করলে ১২ মাস ধরে নিয়মিত সে কর দিতে হয়।
৬) সঠিকভাবে নিয়ম মানা হাসপাতালগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভাল সেবা দিয়ে থাকলে সেখানে যদি সরকারী হাসপাতাল খুব দূরে থাকে । প্রাইভেট হাসপতাল প্রতিষ্ঠায় একটি জেলায়, উপজেলায় ও ইউতে কয়টি কি কি সুবিধার হাসপাতাল থাকবে। সেখানে কি কি সুবিধা থাকবে। একটি থেকে আরেকটির দূরত্ব এ ধরনের নীতিমালা থাকতে হবে।
৭) প্রাইভেট হাসপাতালে সুবিধা ও মানের উপর ABC গ্রেডেশানে এর ব্যবস্থা থাকে হবে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি অত্যাধুনিক সুবিধা কম্পিউটারে রোগ নির্ণণয় এসব শব্দের বিষয়ে ব্যবহারের শর্ত থাকতে