ফেনী জেলার বীর প্রতীক মুক্তিযোদ্ধারা: গৌরবময় ইতিহাস
ফেনী নদীর নামে নামকরণ করা ফেনী জেলা, তার ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের জন্য স্মরণীয়। মুক্তিযুদ্ধে এ জেলার বীর সন্তানরা অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শন করেছেন, যার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করা হয়েছে।
বীর প্রতীক মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ও অবদান
১. গাজী মোহাম্মদ আবদুর রশিদ (বীর প্রতীক)
গাজী মোহাম্মদ আবদুর রশিদ ১৯৭১ সালে ফেনী অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনগুলোতে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর সাহসী নেতৃত্ব মুক্তিযোদ্ধাদের সফলতার ভিত্তি স্থাপন করে।
২. আব্দুল মালেক (বীর প্রতীক)
গেরিলা যুদ্ধের কৌশলে দক্ষ আব্দুল মালেক শত্রুপক্ষের ওপর একের পর এক আক্রমণ পরিচালনা করেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে এক বিশেষ স্থান অর্জন করেন।
৩. আব্দুর রহিম (বীর প্রতীক)
গেরিলা আক্রমণের দক্ষ পরিকল্পক আব্দুর রহিম শত্রুদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। যুদ্ধ পরবর্তী সময়েও তিনি সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখেন।
৪. মিজানুর রহমান (বীর প্রতীক)
শত্রুপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করে আক্রমণের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মিজানুর রহমান।
৫-২০: অন্যান্য বীর প্রতীক মুক্তিযোদ্ধারা
৫. গাজী আবদুল মোমেন৬. মোহাম্মদ ইসহাক৭. মোহাম্মদ শামসুল হক৮. কাপ্তান মোল্লা৯. মোহাম্মদ আবুল কাশেম১০. আবুল হোসেন১১. নুরুল ইসলাম১২. খলিলুর রহমান১৩. আবদুল খালেক১৪. আবদুল করিম১৫. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম১৬. কামাল উদ্দিন১৭. রফিক আহমেদ১৮. দেলোয়ার হোসেন১৯. মতিউর রহমান২০. শহিদুল ইসলাম
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও মুক্ত দিবস
ফেনী জেলা ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ। মধ্যযুগে কবি-সাহিত্যিকদের রচনায় এ অঞ্চলের বিশেষ নদী, ফেরীঘাট ও বসতির উল্লেখ পাওয়া যায়। অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি শমসের গাজীর রাজধানী ছিল এই অঞ্চলে।
৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে ফেনী জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাক বাহিনীকে পরাজিত করে ফেনীকে শত্রুমুক্ত করেন। সেই থেকে দিনটি ‘ফেনী মুক্ত দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
উপসংহার
ফেনী জেলার বীর প্রতীক মুক্তিযোদ্ধারা জাতির গৌরবের প্রতীক। তাঁদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তাঁদের বীরত্বপূর্ণ অবদান চিরকাল আমাদের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে।

