বাংলায় ব্রিটিশ বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ উপস্থাপিত হলো:
১. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ (১৭৬০-১৮০০):
পটভূমি: পলাশীর যুদ্ধের পর ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বাংলার ফকির ও সন্ন্যাসীরা বিদ্রোহ করেন। করের বোঝা ও দুর্ভিক্ষের কারণে স্থানীয় জনগণও তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়।
পক্ষসমূহ: ফকির ও সন্ন্যাসী নেতৃবৃন্দ বনাম ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
নিহতের সংখ্যা: ১৭৭১ সালে দেড়শ জন ফকিরকে হত্যা করা হয়।
সূত্র: BANGLANEWS24.COM
সময়ের ব্যপ্তি: প্রায় ৪০ বছর (১৭৬০-১৮০০)।
ফলাফল: বিদ্রোহীরা বিভিন্ন সময়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সফল আক্রমণ চালালেও শেষ পর্যন্ত ১৮০০ সালে বিদ্রোহ দমন করা হয়।
২. সিপাহী বিদ্রোহ (১৮৫৭):
পটভূমি: ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ভারতীয় সিপাহীদের মধ্যে ধর্মীয় ও সামাজিক অসন্তোষ থেকে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত।
পক্ষসমূহ: ভারতীয় সিপাহী ও সাধারণ জনগণ বনাম ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
নিহতের সংখ্যা: প্রায় ১০,০০,০০০ মানুষ নিহত হয়েছিল।
সময়ের ব্যপ্তি: মে ১৮৫৭ থেকে জুলাই ১৮৫৯ পর্যন্ত।
ফলাফল: বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়; তবে এর ফলে ব্রিটিশ সরকার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন বাতিল করে সরাসরি ভারতের শাসনভার গ্রহণ করে।
৩. নীল বিদ্রোহ (১৮৫৯-১৮৬০):
পটভূমি: নীল চাষে ব্রিটিশদের অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে বাংলার কৃষকদের বিদ্রোহ।
পক্ষসমূহ: বাংলার নীলচাষী কৃষক বনাম ব্রিটিশ নীলকর ও জমিদার।
নিহতের সংখ্যা: নির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায় না; তবে বহু কৃষক নিহত ও আহত হয়েছিলেন।
সময়ের ব্যপ্তি: প্রায় ২ বছর (১৮৫৯-১৮৬০)।
ফলাফল: বিদ্রোহের ফলে নীলচাষ প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্রিটিশ সরকার নীলচাষীদের প্রতি কিছুটা সহানুভূতিশীল হয়।
৪. চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন (১৯৩০):
পটভূমি: ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিপ্লবের অংশ হিসেবে মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার আক্রমণ।
পক্ষসমূহ: ভারতীয় বিপ্লবী দল বনাম ব্রিটিশ সরকার।
নিহতের সংখ্যা: কিছু ব্রিটিশ সৈন্য ও বিপ্লবী নিহত হন; সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায় না।
সময়ের ব্যপ্তি: ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল।
ফলাফল: আক্রমণটি সাময়িক সাফল্য অর্জন করলেও পরবর্তীতে বিপ্লবীরা গ্রেফতার ও মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন।
৫. ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪২):
পটভূমি: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ব্রিটিশদের ভারত ত্যাগের আহ্বান।
পক্ষসমূহ: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও সাধারণ জনগণ বনাম ব্রিটিশ সরকার।
নিহতের সংখ্যা: প্রায় ১০০০ জন নিহত ও ৬০,০০০ এর বেশি গ্রেফতার।
সময়ের ব্যপ্তি: আগস্ট ১৯৪২ থেকে ১৯৪৫ পর্যন্ত।
ফলাফল: আন্দোলনটি ব্রিটিশ শাসনের প্রতি ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে, যা পরবর্তীতে ভারতের স্বাধীনতার পথ সুগম করে।
উপরোক্ত আন্দোলনসমূহ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বাংলার জনগণের সংগ্রামের প্রতিফলন, যা ভারতের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

