education

অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রতি সর্তকতামূলক পরামর্শ

অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রতি সর্তকতামূলক পরামর্শ

অন্তবর্তী সরকারের ৩ মাস ইতোমধ্যে পার হয়ে গিয়েছে। সরকার অনেকগুলো শুভ সূচনা করেছে। কিন্তু এই সরকারের কাছে জনগতের প্রত্যাশার পর্বত অনেক বড়। তাই এই সরকারের ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং এই সরকারের গতিহীনতার কোনো সুযোগ নেই। এই দুটোই যেকোনো একটি সরকারকে প্রশ্ন এমনকি ধ্বংসের মুখে ফেলে দিতে পারে।
তাই সরকারের মেয়াদ, লক্ষ্য উদ্দেশ্য এবং কর্মকান্ড আরো স্পষ্ঠ, সুনির্দিষ্ট, তীক্ষ্ন ও ফলদায়ক হতে হবে। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে নানারকম প্রতিপক্ষ মোকাবিলা করে সরকারকে এগিয়ে যেতে হবে। সরকারের একটি বিপ্লবী চরিত্র থাকতে হবে। তা না হলে সরকারকে অপরাধী এবং দুষ্কৃতিকারীর দূবর্বলভেবে নানাবিধ অপকর্মের ছক কষতে থাকবে।


ক) সাধারণ বিষয়
১) পুরনো ধাচের নিয়মনীতি:
বাংলাদেশে যেসব আইন ও বিধি রয়েছে এগুলো স্বাধীন, সৎ ও কার্যকরভাবে কাজ করার উপযুক্ত নয়। এসব বিধানের অধীনে কাজ করতে গেলে ফলাফল পরিবর্তে বিপরীত হতে পারে। তাই এসব বিধি হবুহু অনুসরণ করা সহজ হবে না এবং এতে কোনো উন্নয়ন ও পরিবর্তন সম্ভব হবে না। তাই ক্ষেত্রে বিশেষে এসব বিধির কার্যকারিতা সাময়িক স্থগিত করে স্বাধীনভাবে কাজ করার উপায় বের করতে হবে।
২) গোড়ায় ড়লদ:
বাংলাদেশের আইন ও বিধিগুলো এমনভাবে তৈরী যাতে এগুলোকে চাইলে সরকারী দপ্তরগুলো এড়িয়ে যেতে পারে অথবা এতে জড়িয়ে ইচ্ছেমত ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ করতে পারে। এতে করে দূর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয়। কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে অথবা দায়িত্বে অসততার আশ্রয় নিলে তাকে দায়ী করা বা জবাবদিহি করার জায়গা খুব সংকীর্ণ। এতে অনিয়ম দূর্নীতির সুযোগ তৈরী হয়।
৩) এবিসি ফরম্যাট:
বলা হয়ে থাকে। আমাদের দেশের সরকারী কর্মকর্তারা এবিসি ফরম্যাটে কাজ করে। কোনো ইস্যু তৈরী হলে প্রথমে তার অ্যাভয়েড করে বা এড়িয়ে চলে। এভাবে চলতে চলতে যখন বিষয়টি জটিল হয়ে যায় বা বড়ো ইস্যু হয়ে যায় তখন বাইপাস করে বা একে অন্যের দিকে চাপিয়ে দেয়। যখন এটা নিয়ে শোরগোল শুরু হয় এবং অন্য কারো উপর ছাপানোর সুযোগ থাকে না। তখন কনফিউশন তৈরী করে। কাজটি এভাবে নাকি ওভাবে। এভাবে সবকিছু দিনশেষে ফলাফল শুণ্য হয়। তাই এই বিষয়টি নজর দিতে হবে।
৪) ভুল পদ্ধতি
যারা ক্ষমতায় আসীন হোন। তারা প্রচুর সময় দেন। মিটিং করেন। সিদ্ধান্ত করেন। কাজ করেন। তাদের দম ফেলার সময় থাকে না। তারা নিজেরা খুশি হয়ে থাকেন যে, তারা দেশের জন্য কাজ করছেন। এভাবে দিনের পর দিন পরিশ্রম করেন। তারপর ২/৪ বছর পর তাদের পরিশ্রমগুলোর কাংখিত ফল দেখা যায়না। তারা নিজেরা অনেক সময় আত্মতৃপ্তিতেও ভোগেন। তাদের অধীনস্থরা তাদেরকে বোঝান তিনিতো অনেক কাজ করছেন অনেক পরিবর্তন করেছেন, অনেক উন্নয়ন করেছেন। তিনিও সেটি মনে করেন। কিন্তু একটা পর্যায়ে আর প্রাপ্তির ঝুলি বেশী বড় দেখায় না। এর কারণ কাজ করার পদ্ধতি। ভুল পদ্ধতিতে কাজ করার কারণে শ্রম ও সময় বেশী যায় কিন্তু লাভ হয় খুব কম। তাই আগে কাজ করার পদ্ধতি পাল্টাতে হবে। বছর বছর ধরে যে পদ্ধতি চলে আসছে সেটি অনুসরণ করলে সে পুরনো তিমিরে পড়ে থাকতে হবে।
৫) নিয়মের বাঁধা:
প্রতিটি কাজের জন্য নানারকম আইন নিয়ম ও বিধি তৈরী করা আছে। বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশের মতো এতো আইন পৃথিবীর কোনো দেশে নেই। অথচ এখানে আইন মানার কোনো বালাই নেই। এখানে আইনগুলো তৈরী করা হয় আইন ভাঙ্গার জন্য এবং সুবিধাজনক ব্যবহার করার জন্য তাই বাস্তবসম্মত আইন তৈরী করতে হবে। আইন নিয়মের দোহাই দিয়ে ইনসাফ, বিচার ও সংস্কারে পথ রুদ্ধ করা যাবে না।
৬) বিধি নিষেধ
কাজ করতে গেল নানারকম নিয়মতান্ত্রিক বাঁধা আসবে। এটা অমুক আইনে নিষেধ। এটা তমুক নিয়মে নেই। এভাবে ৯০ ভাগ নানাকারণে হয়ে উঠবেনা। আরো ৫০% কাজ সঠিক আসবেনা কারণ একটির সাথে আরেকটির সমন্বয় নেই। তাই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। সরকারী কার্যপদ্ধতি পুরোটা ঢেলে না সাজালে মহৎ উদ্যোগও ব্যর্থ হতে পারে।
৭) আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক নির্ভরশীলতা
যদি রাষ্ট্র সংস্কারে বা পরবর্তী পদক্ষেপ আমলাতন্ত্র নির্ভর তাহলে বলা যায় আশার গুড়ে বালি পড়বে। তাই এই প্রক্রিয়াটাকে আমলাতন্ত্র বের করে কাজ করতে হবে। সরকারী আমলারা শুধু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করবেন। এই নীতি মাথায় রেখে সংস্কার কার্যক্রম রচনা করতে হবে।
৮) আইনের সমন্বয়
সরকার যখন বিভিন্ন নীতি ও পলিসি তৈরী করে তখন বার বার একটি ভুল করে। সেটি হলো একটি আইন ও বিধি প্রণয়নের সময় সেটিকে আরেকটি বিধির সাথে মিলিয়ে দেখা হয় সবকিছু পুরনো সব আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা। এই সমন্বয় করতে গিয়ে নতুন আইন ও বিধিগুলো আগেরগুলোর মতো দূর্বল ও ছেদযুক্ত হয়ে যায়। আগের গুলোর মতোই প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। তাই নতুন অদ্যাদেশ নতুন গতি ও নীতির উপর হওয়া প্রয়োজন।

৯) দাপ্তরিক সমন্বয়
কিছু সিদ্ধান্ত রয়েছে যেগুলো বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দপ্তরের পারষ্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় দরকার হয়। কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় এই সমন্বয়গুলো কিভাবে সেটি ঠিক করা হয়না। ফলে হাজারো সিদ্ধান্ত ও নীতিমালা বছরের পর বছর অবাস্তবায়িত থেকে যায়। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
১০) ঘনঘন বদলি
এটা সরকারী কর্মক্ষেত্রে প্রধানতম সমস্যা। ঘন ঘন বদলির কারণে অনেকে যেমন কাজ করতে পারেন না। আবার অনেকে কাজ করতে চান না। তাই সরকারী চাকরী পদ ও বিভাগের ক্যাটাগরি ও স্তর ঠিক করে নতুন বদলী নীতিমালা তৈরী করা প্রয়োজন।

খ) সাম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা
এই অন্তবর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য নানাবিধ ষড়যন্ত্র চলতে থাকবে। এগুলো সম্পর্কে সতর্ক হয়ে মোকাবিলা করতে হবে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং বাস্তবায়নে বিশ্বস্থ লোক নিয়োগ দিতে হবে।
১) দ্রব্যমূল্যের দাম:
বাজারে দ্রব্যমূলের দাম বাড়িয়ে সরকারকে বিপদে ফেলতে পারে। এই বিষয় নজরদারীর জন্য বিশেষ টিম গঠন করতে হবে। প্রয়োজনে এতে স্বেচ্চাসেবক ও খন্ডকালীন কর্মী নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। এই বিষয়ে আমি ভিন্ন প্রস্তাবপত্র জমা দিয়েছি। (যদিও আমি এই লেখাটি আগষ্ট মাসে মানে সরকারের প্রথম মাসেই লিখেছিলাম। পাঠাতে দেরী হয়েছে বলে তারিখ বদলে দিয়েছি। এটা দ্বারা প্রমাণ হলো যে আমার আশংকা সঠিক।
২) আইনশৃংখলা অবনতি
দুষ্কৃতিকারীদের সবচেয়ে বড়ো অস্ত্র হবে আইন শৃংখলা নষ্ট করা। এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে এবং দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আদালতের রায়ের দীর্ঘসূত্রিতা দূর করতে হবে। এই কাজগুলো কিভাবে করতে হবে। তার রুপরেখা আমি আলাদা প্রস্তাবপত্রে উপস্থাপন করেছি।
৩) বিচারহীনতার অব্যাহত চর্চা
এই কাজটি চলমান রয়েছে। প্রকৃত অপরাধীদের ধরা হচ্ছে কম। সাথে ধরা হচ্ছে সহযোগীদের। যে ব্যক্তি যে অপরাধে জড়িত তাকে সে বিষয়ে মামলা না দিয়ে অন্য মামলা দেয়া হচ্ছে। যাতে করে সুবিধামতো তাকে ছেড়ে দেয়া যায়। এধরনের সংস্কৃতি অপরাধীদের উৎসাহিত করবে। এছাড়া আদালতের রায়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরো বাড়িয়ে দেবে।

৪) মেয়াদ সংক্রান্ত ধারণা
অন্তবর্তী সরকারের মেয়াদ যাইহোক। বাজারে যদি ছড়িয়ে পড়ে এই সরকার বেশীদিন থাকবেনা। দেড়বছর ২ বছর থাকবে তাহলে অধস্তনেরা সরকারের হুকুম তামিল করবে না। সরকারের কাজের গতি কমে যাবে অন্যদিকে অপরাধীরা দ্বিগুন উৎসাহে কাজে নেমে পড়বে। এতে করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

৫) ছদ্মবেশী
সরকারের ভেতরে ছদ্মবেশী শত্রুর গুপ্তচর ঘাপটিমেরে বসে থাকতে পারে। তাই এই ব্যাপারে সজাগ থেকে পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য প্রতিটি সরকারী কার্যালয়ে আভ্যন্তরীন একটি পর্যালোচনা কমিটি ও পর্যবেক্ষন কমিটি গঠন করে রাখতে হবে। যাতে যে দপ্তরের সমস্যা সে দপ্তরের মধ্যেই সমাধান করা যায়।

গ) জনবল সংকট
পরিস্থিতি ও আশংকা অনুযায়ী অন্তবর্তী সরকারের প্রথম চ্যালেঞ্জ হবে জনবল সংকট। এই জনবল সংকট এর চারটি স্তর থাকবে। প্রথম স্তর হবে পর্যাপ্ত জনবল সংকট দ্বিতীয় স্তর হবে দক্ষ জনবল সংকট, তৃতীয় স্তর হবে বিশ্বস্থ জনবল সংকট এবং চতুর্থ স্তর হবে সৎ জনবল সংকট। এসব সংকট কাটিয়ে উঠতে কিছু পরামর্শ প্রদান করছি।
১) সরকারী দপ্তরে জনবল সংকট কাটাতে সিনিয়র পর্যায়ে অবসরপ্রাপ্তদের মধ্য হতে সৎ, নিরপেক্ষ, দেশপ্রেমিক ও আন্তরিক অফিসারদের আগামী ২/১ বছরের জন্য চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দেয়া যেতে পারে।
২) মধ্যপর্যায়ে কাজ করার জন্য শিক্ষা, আইন, ছাত্র, পেশাজীবি, বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। এজন্য যিনি যে বিষয়ে কাজ করবেন সে বিষয়ে তার জন্য সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এটি বেসরকারী চাকরী বা খন্ডকালীন চাকরী হিসেবে গণ্য হতে পারে। এদেরকে মূল্যায়নের জন্য সরকারী চাকরীতে তারা যখন আবেদন করবে তখন তাদের এ ধরনের চাকরীর ক্ষেত্রে পয়েন্ট গণনার ব্যবস্থা থাকতে পারে।
৩) মাঠ পর্যায়ে এবং বাস্তবায়ন পর্যায়ে স্বেচ্চাসেবক ও মাঠকর্মী নিয়োগ করা যেতে পারে। এগুলো বার্ষিক নিয়োগ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এদের চাকরীও সরকারী হবে না। এরাও নিজেরা যখন সরকারী চাকরির জন্য আবেদন করবে তখন তাদের ১ বছরের অভিজ্ঞতাকে ১টি পয়েন্ট হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
৪) কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেমন গবেষণা, প্রকল্প বাস্তবায়ন এসব ক্ষেত্রে বেসরকারী খাতকে যুক্ত করা যেতে পারে। যুক্ত করা যেতে পারে এনজিওগুলোকে এর মাধ্যমে কাজের গতি ও মান দুটোই বাড়তে পারে।
ঘ) সিদ্ধান্তগ্রহণে স্থবিরতা
১) সিদ্ধান্তগ্রহণে স্থবিরতা দূর করার জন্য সিদ্ধান্ত ও সমস্যাগুলোকে বুঝতে হবে যে, কোনটি কোন ধরনের যেগুলো নিরাপত্তা সম্পর্কিত, স্পর্শকাতর জনগনের স্বার্থের সার্থে সম্পর্কিত সেগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে। অন্যগুলো দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে সমাধান করতে হবে। প্রয়োজনে টিমকে সেভাবে তৈরী করতে হবে যেমন রেপিড রেসপন্স টিম, একশন টিম এবং ডেভলপমেন্ট টিম।
২) সাধারণ সরকারী মিটিং এ দেখা যায়। যে ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা করা যে সম্পর্কিত লোক ও তথ্য আগে থেকে রাখা হয়না। ফলে প্রথম মিটিং সিদ্ধান্ত হয় পরের মিটিং এ তথ্য ও প্রতিনিধি রাখার। তারপরের মিটিং এ সিদ্ধান্ত হয় যাচাই করার এভাবে একটি সিদ্ধান্তের পেছনে মিটিং এর পর মিটিং চলি যায় তাই সমস্ত হোমওয়ার্ক সংশ্লিষ্ঠদের উপস্তিতি ও প্রয়োজনীয় তথ্য নিশ্চিত করতে হবে প্রতিটি সভার পূর্বে।
৩) প্রতি সপ্তাহে ক্যাবিনেট মিটিং জরুরী। এটা মিস করা যাবে না। ক্যাবিনেট মিটিং এর আগের দিন যদি কোনো যুক্ত মন্ত্রণালয় ইস্যু থাকে তাহলে সেটিও আগেই সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তারা বসে ঠিক করে নিবেন।
৪) কাজটি না করে শুধু দায়সারার অযুহাত খোজার প্রবণতা থাকে। সকলকে মানসিকভাবে তৈরী করতে হবে যে, যে উপায়ে কাজটি করা যাবে সে উপায় বের করতে করতে হবে এই কাজের আর কোনো অপশন নেই।

ঙ) দায়সার কর্মকান্ড
দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রযন্ত্র এভাবে চলে আসছে এর প্রথম কারণ হলো, আমরাতান্ত্রিক, যেহেতু আমলাদের সম্মানি, পদন্নতি এসব কাজের ফলাফলের উপর নির্ভর করে না তাই তাদের কাজটি সঠিক সম্পন্ন করার বিষয়টি প্ররোচিত করে না। তাছাড়া কোথাও অনিয়ম হওয়ার বা অনিয়মের অভিযোগ তৈরী হওয়ার আশংকা দেখা দিলে সেখানে তারা গতি কমিয়ে দেন অথবা দায়সারাভাবে কাজটি করেন। ফলে যে লক্ষ্যে কাজটি করার কথা রয়েছে সে লক্ষ্য পূরণ হয়না। তাই এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
১) এজন্য প্রতিটি কাজের ফলাফল বিশ্লেষণ ফরম্যাট তৈরী করতে হবে এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
২) কাজটি সঠিকভাবে না হওয়ার কারণে কোনো ক্ষতি হয়ে থাকলে সেজন্য কারে না কারো জবাবদিহিতা থাকতে হবে।
৩) দায়সারা কাজ করা লোকদের চিহ্নিত করে তাদেরকে গতিশীল কর্মকান্ড থেকে সরিয়ে অন্যত্র বদলি করতে হবে।
৪) কাজের প্রতি আন্তরিকতা, সততা, দায়সারার সভাব এসবের উপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন প্রতিবেদন েএর ব্যবস্থা থাকতে হবে যা থাকবে গোপনীয়।

ঘ) সমালোচনা ও ভয়ভীতি
১) সমালোচনার ভয়ে কাজ থেকে বিরত থাকা যাবে না। সমালোচনা হবেই। নিজেদের কাজের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হলে কাজ করে যেতে হবে এবং সমালোচনারও জবাব দিতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করতে পারলে সেটাই হবে সমালোচনার আসল জবাব।
২) উপদেষ্ঠা ও উচ্চ পর্যায়ের লোকদের মিডিয়ার সামনে আসার প্রবণতা কমাতে হবে বা বাদ দিতে হবে। প্রথমত েএতে নিজের কাজের সময় নষ্ট হয় দ্বিতীয়ত এতে মানসিক অস্থিরতা তৈরী হয়। মনের মধ্যে সব সময় েএকটা ভয় কাজ করে। এতে সিদ্ধান্তগ্রহণে সমস্যা হয়।
৩) মিডিয়াতে তথ্য দেয়ার জন্য কাজ করতে হবে। একদিন মিডিয়াতে ভাল তথ্য এমনিতে চলে যাবে। কাজেই হবে সমালোচনার জবাব।
৪) উপদেষ্ঠাগণ যদি ভয় পান যে, আমার সমালোচনা হবে, আমার দীর্ঘদিনের সুনাম নষ্ট হবে, কিংবা পরবর্তী সরকার আমাকে জেলে নিয়ে যাবে তাহলে এই দেশ আর বদলে যাওয়ার সুযোগ পাবে না। তাই আর্থিক দূর্নীতির সুযোগ না রেখে মানুষ মারা পরিস্থিতি সৃষ্টি যেন না হয় এই দুটো মূলনীতি মেনে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

শেষ কথা:
১) যারা রাষট্র পরিচালনা করবেন তাদের যেন এই ভীতি না থাকে যখন সরকারে থাকবোনা তখন আমার এনজিও বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হতে পারে কিংবা আমাকে জেলে দিতে পারে। সব ভয়ের উর্ধ্বে কাজ করতে হবে। জাতীয় স্বার্থের উপরে আর কোনো স্বার্থ থাকতে পারে না। মানুষ খুন এবং টাকালুট এ ধরনের অনিয়মগুলো বাদে বাদবাকী আমলাতান্ত্রিক নিয়ম পদ্ধতি আমলে নেয়া যাবে না। সকল উপদেষ্ঠাকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।
২) প্রতিটি দপ্তরে একটি শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে। দূর্নীতিবাজ ও দালালদের চিহ্নিত করার জন্য। এটা একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিৎ যাতে কোনো অবিচার না হয়। প্রাথমিক অভিযুক্তকে যেমনি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া উচিৎ তেমনি প