ই-কমার্সে জাতীয় বাজেট প্রত্যাশা
ই-কমার্স নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ের কিছু বিষয় আর না তুলি শুধু এটুকু বলি যে, কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান চায়না থেকে পণ্য এনে যে দামে অনলাইনে বিক্রি করছে তাদের লাভের শতাংশের হিসেব করা কঠিন। ফেসবুক ভিত্তিক এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো আবার বেশীরভাগ ক্ষেত্রে নাগালের বাইরে। সেজন্য সরকারের উচিৎ যারা প্রকৃত ব্যবসায়ী তাদের কথা মাথায় রেখে রাজস্ব নীতি তৈরী করা উচিৎ। রাজস্ব নির্ধারণের হার যেমন বাস্তবভিত্তিক হওয়া উচিত তেমনি করে সময়সীমা ও বিভিন্ন শর্ত হওয়া উচিত সহজ ও উদ্যোক্তা বান্ধব। কোনো কঠিন সময় ও শর্তের বেড়াজালে ফেলে কোনো প্রতিষ্ঠানকে অনিয়মের দিকে ঠেলে দেয়া কল্যাণ রাষ্ট্রের চরিত্র হতে পারে না।
বিগত বছরের প্রায় কুড়িখানেক দাবীর অনেকগুলোই এখন আর দাবী নেই। কারণ প্রথমত যেগুলো আগে হয়নি সেগুলো এখন আর হবেনা তাই সেগুলো দাবীর তালিকায় রাখা হয়নি। দ্বিতীয়ত, দেশ যেহেতু এলডিসি গ্রাজুয়েশন এর দিকে যাচ্ছে সেটা যেহেতু ক্রমশ নিকটবর্তী হচ্ছে তাই অনেক দাবী আর উত্থাপনের সুযোগ নেই। উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো, একটা ছোট দাবী জাতীয় রাজস্ব বোর্ড পূরণ করেছে সাথে সাথে চারটি এমন নতুন বিষয় যুক্ত করেছে। প্রাপ্তিটি উপভোগ করার চেয়ে নতুন প্যাঁচ খুলতেই হয়রান প্রতিষ্ঠানগুলো। এখন একটি দাবী মানার পর যদি নতুন চারটি প্রতিবন্ধকতা তৈরী হয় দাবীর সংখ্যাতো বছর প্রতি ৩টা বেড়ে যাওয়ার কথা।
রাষ্ট্রে নানা প্রকৃতির মানুষ থাকবে। ব্যবসায়ী নানা ধরনের হতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রকে কল্যানময়ী ও জনবান্ধব হতে হবে। রাষ্ট্র ও সরকারকে অন্যকোনো প্রকারের নীতি গ্রহণের চর্চাবাদী হতে দেয়া যায়না। এই লেখার মাধ্যমে ই-কমার্স খাতের ভ্যাট সংক্রান্ত দাবী ও তার কারণ তুলে ধরা হলো। ই-কমার্সের প্রতিবারের প্রত্যাশার বেলুনগুলো কতদূর যাবে আর কতদূর গিয়ে ফেটে পড়বে এখন তা-ই দেখার বিষয়।
বাজেটে জনসাধারণ চোখ থেকে কোন পণ্যটির দাম বাড়বে আর কোন পণ্যটির দাম কমবে? ব্যসায়ীদের চোখ একটা বাক্সের ভেতরে উঁকি দেয়। তারা জানতে চান কোথায় কোন ট্যাক্স ট্যারিফ উঠে গেল তার জন্য কোন পণ্য সেবার ব্যবসা সহজ বা কঠিন হবে? কিংবা কোন পণ্য সেবার ভ্যাট ট্যাক্স কমলো বাড়লো বলে সেটির লাভ লোকসানের হিসেব সহজ-কঠিন হলো? আর নতুন খাতের উদ্যোক্তারা চায় সরকার তাদের জন্য কি সুবিধা নিয়ে আসছে?

