Banned Note 1k

১ হাজার টাকার নোট নিষিদ্ধকরণ প্রসঙ্গে

১ হাজার টাকা নোট নিষিদ্ধ করার কৌশল ও করনীয় প্রসঙ্গে

 

সরকার যদি ১,০০০ টাকার নোট নিষিদ্ধ করে, তাহলে এটি একটি বড় ধরনের মুদ্রানীতি ও আর্থিক শৃঙ্খলা আনা, কালো টাকার প্রভাব রোধ, বিভিন্ন স্খানে টাকা অবৈধ টাকা অচল করা, দ্রব্যমূল্য ও জমির দাম কমানোর উদ্দেশ্যে একটি কঠোর ও উপযুক্ত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে সরকারের উদ্দেশ্য ও নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি কী হতে পারে, তা বিশ্লেষণ করলে মূলত নিচের বিষয়গুলো উঠে আসে:

  কেন ১ হাজার টাকার নোট নিষিদ্ধ হতে পারে।

 

১. কালো টাকার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান:

  • এই সিদ্ধান্ত কালো টাকা, অবৈধ লেনদেন ও ঘুষবাজির প্রবণতা কমানোর একটি চেষ্টার অংশ হতে পারে।
  • উচ্চ মূল্যের নোট সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় দুর্নীতিবাজরা এ ধরনের নোট বেশি ব্যবহার করে।

 

২. মজুদ থাকা কালো টাকা অচল করণ:

  • বিগত সময়গুলোতে অবৈধভাবে উপার্জিত কালো টাকা যেসব জায়গায় বস্তাবন্দী রয়েছে। সেগুলো অচল করা।
  • ব্যাংক ছাড়া অন্যত্র টাকা জমাট রাখাকে নিরুৎসাহিত করা।

 

৩. ডিজিটাল লেনদেন উৎসাহিতকরণ:

  • ক্যাশলেস বা কম-ক্যাশ অর্থনীতির দিকে যাত্রা শুরু করার ইঙ্গিত।
  • মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) যেমন বিকাশ, নগদ, রকেট, ব্যাংকিং ও ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে মানুষের নির্ভরতা বাড়বে।

 

৪. টাকা ছাপানোর ব্যয় কমানো ও জালিয়াতি প্রতিরোধ:

  • বড় মূল্যের নোট জাল করার প্রবণতা বেশি। তাই এই পদক্ষেপে জাল নোটের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
  • ছোট মূল্যের নোটের ক্ষেত্রে জাল নোট তৈরির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।

 

৫. মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক:

  • বাজারে বেশি অর্থ থাকলে জিনিসের দাম বেড়ে যায়। উচ্চ মূল্যমানের নোট নিষিদ্ধ করলে তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
  • বিশেষ করে কালো টাকার মালিকেরা বেশী করে জমি কেনে। ফলে জমির দাম বেড়ে যায়। জমির দাম বাড়লে ভূমিহীন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং দামী জমিতে শিল্প ও কৃষি করা হলে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। ঘরভাড়া, অফিস ভাড়া বেড়ে যায়।

 

৬. মানি সাপ্লাই পুনর্বিন্যাস:

  • সরকারের অভ্যন্তরীণ বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক মুদ্রার সরবরাহে (money supply) একটি পুনর্বিন্যাস ঘটানো হবে।
  • নিষিদ্ধ টাকা জমা নিলে কত টাকা নতুন ছাপতে হবে তার ধারণা পাওয়া যাবে।

 

৭.  টাকা জমা সংক্রান্ত রাজস্ব আয়

  • টাকা জমা নেয়ার জন্য একটি স্লাব ভিত্তিক ফি নির্ধারণ করলে সরকারের রাজস্ব আয় হবে।
  • এবং টাকা জমা নেয়ার একটি সীমা পর্যন্ত আয়কর দিয়ে টাকা জমা বা পরিবর্তন করার মাধ্যমে আয়কর আদায় হবে।

 

৬. দূর্নীতির দমন

  • দূর্ণীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকা অচল করা যাবে।
  • হয়তো আংশিক কালো টাকা সরকারের কোষাগার বা ব্যাংকে জমা হয়ে যাবে।
  • ভবিষ্যতে কালো টাকা বস্তাবন্ধী করার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হবে।

 

নীতির সম্ভাব্য ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ ও তার মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা

চ্যালেঞ্জ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নোট বদলের নীতি
হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নিলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্নবিত্ত, গ্রামাঞ্চল বা ব্যাংক-বহির্ভূত জনগণ সমস্যায় পড়বে। তাই একটি সময়সীমা থাকবে (যেমন ৩০ দিন) এবং কত টাকা বদল করতে পারবে তারও একটি সীমা থাকবে। (যা ১০ হাজার টাকা থেকে ৫ লাখ)

 

বাজারে অস্থিরতা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে।

 

যেজন্য আগে থেকে ঘোষণা দেয়া হবে এবং ভাল সময়সীমা থাকবে। ব্যবসায়ীদের জন্য টাকা বদলী সীমা অন্যদের চেয়ে বেশী হবে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নগদ নির্ভর জনগণের ক্ষতি হতে পারে।

 

সবাই ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা দেবে এবং ব্যাংক একাউন্ট থেকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন টাকা তুলতে পারবে। আর যারা অল্প টাকা ব্যাংক হিসেব ছাড়া বদল করবে। তার নাম এন্ট্রি করে নগদে সম্পন্ন করতে পারবে।
টাকার সংকট তৈরী হতে পারে। সেজন্য নতুন টাকা আসার পর করা যেতে পারে এবং বিকল্প হিসাবে ৫০০ ও ২০০ টাকার নোটের সহজলভ্যতা বৃদ্ধি করতে হবে অথবা নতুন নোট দিতে হবে। ডিজিটাল লেনদেনের উপর প্রণোদনা ঘোষণা করতে হবে।
কালোটাকার মালিকেরা তখন টাকা ছেড়ে দিয়ে বদলে নিতে পারে।

তারা ভিন্ন লোককে দিয়ে এই কাজ করতে পারে।

 

নগদে ১০ হাজার টাকার বেশী একজন ব্যক্তি বদল করতে পারবে না। ব্যাংকের মাধ্যমে কে কতটা করতে পারবে তার একটা চার্ট থাকবে।

যেমন- একক ব্যক্তির ক্ষেত্রে তিনি কতটাকা বেতন পান তার উপর তার সীমা অথবা তিনি কতটাকা আয়কর দেন।

ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে তিনি মাসে কত টাকা নগদে লেনদেন করেন তার উপর নির্ভর করে সীমা ঠিক করা হবে।

তারপরও কিছু কালো টাকা সাদা হয়ে যেতে পারে। প্রতিটি নাগরিকের ৩টি সীমা থাকবে। সার্ভিস চার্জ ছাড়া সীমা, সার্ভিস চার্জ সহ সীমা, এবং করযুক্ত সীমা। মানে তৃতীয় সীমার উপর কর দিতে হবে। যা ব্যাংক নগদে আদায় করবে।
একজনের টাকা আরেকজনকে দিয়ে বদলাবে যেহেতু সীমা দেয়া আছে। তাই খুব সুযোগ নেই। আর সীমিত সুযোগের মধ্যে কিছু হতে পারে। তবে সব টাকা ব্যাংকে হিসেব হয়ে যাবে এটাই বড় কথা।
লোকে সমালোচনা করবে। ১ বছরেতো সব টাকা পাচার হয়ে গেছে। এখন করে কি লাভ সমালোচনা হবেই। কিন্তু এখন করেও যদি কিছু টাকা ঠেকানো যায়। তাছাড়া আগেতো নতুন টাকা ছিল না। এখন তা আছে।

 

 

যার নীতি হবে নিন্মরুপ

ক্রম শ্রেণী শর্ত সর্বোচ্চ সীমা
NID TIN TL BIN ITR চার্জ ফ্রি চার্জযুক্ত করযুক্ত চার্জ কর
জনসাধারণ Y N N N N 5,000 10,000 20,00 2% 3%
জনসাধারণ Y Y N N N 10,000 15,000 25,00 2% 4%
চাকরিজীবি Y Y N N Y 15,000 20,000 30,000 1% 3%
চাকরিজীবি Y Y N N -10k 20,000 30,000 40,000 1% 3%
চাকরিজীবি Y Y N N -20k 25,000 30,000 50,000 1% 4%
চাকরিজীবি Y Y N N -50k 40,000 40,000 60,000 1% 5%
চাকরিজীবি Y Y N N -100k 50,000 50,000 75,000 2% 5%
চাকরিজীবি Y Y N N -250k 75,000 75,000 100,000 2% 6%
চাকরিজীবি Y Y N N -500k 100,000 100,000 100,000 2% 7%
১০ চাকরিজীবি Y Y N N +500k 100,000 100,000 100,000 4% 9%
১১ পেশাজীবি Y N N N N 20,000 30,000 50,00 2% 3%
১২ পেশাজীবি Y Y N N -10k 20,000 30,000 40,000 1% 3%
১৩ পেশাজীবি Y Y N N -20k 25,000 30,000 50,000 1% 4%
১৪ পেশাজীবি Y Y N N -50k 40,000 40,000 60,000 1% 5%
১৫ পেশাজীবি Y Y N N -100k 50,000 50,000 75,000 2% 5%
১৬ পেশাজীবি Y Y N N -250k 75,000 75,000 100,000 2% 6%
১৭ পেশাজীবি Y Y N N -500k 100,000 100,000 100,000 2% 7%
১৮ পেশাজীবি Y Y N N +500k 100,000 100,000 100,000 4% 9%
১৯ ব্যবসায়ী Y N Y N N 30,000 40,000 50,00 2% 3%
২০ ব্যবসায়ী Y Y Y N -10k 50,000 75,000 100,000 1% 3%
২১ ব্যবসায়ী Y Y Y N -20k 100,000 150,000 200,000 1% 4%
২২ ব্যবসায়ী Y Y Y N -50k 150,000 200,000 250,000 1% 5%
২৩ ব্যবসায়ী Y Y Y N -100k 200,000 250,000 300,000 2% 5%
২৪ ব্যবসায়ী Y Y Y N -250k 250,000 300,000 350,000 2% 6%
২৫ ব্যবসায়ী Y Y Y N -500k 300,000 350,000 400,000 2% 7%
২৬ ব্যবসায়ী Y Y Y N +500k 500,000 500,000 500,000 4% 9%

 

* ব্যবসায়ীদের তার ব্যবসায় দৈনিক টার্নওভারের উপর নির্ভর করবে। একটা প্রথম একটা অ্যামাউন্ট উপর চার্জ হবে না।