স্বাধীনতা অমূল্য এটা সে বোঝে যে স্বাধীনতা পায়নি
স্বাধীনতা অমূল্য। স্বাধীনতা কতটা অমূল্য তা বুঝতে ফিলিস্তিনের জনগন ও তাদের ৭৮ বছরের জীবন ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম দেখলে বুঝা যাবে। স্বাধীনতা কতটা অমূল্য তা বুঝতে ভারতের বাংলাভাষীদের সংগ্রাম দেখলেও বুঝতে পারি। তাদের ভিন্ন ও নিজস্ব দেশ হলে আজ ভাষার জন্য সংগ্রাম করতে হতো না।
১৯৪৭ সালে যারা স্বদেশী বিপ্লব করে ভারত পাকিস্তানকে ব্রিটিশ মুক্ত করে নিজেদের দেশ বানিয়েছে। তাদের আকাংখার প্রতিফলন ঘটেনি। ভারতে আসেনি সাধারণ মানুষের অধিকার, পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠা হয়নি ইনসাফ। বরং নিজেরা বিভক্ত হয়েছে ধর্ম বর্ণ আর দলে। তবুও স্বাধীনতা অমূল্য কারণ যদি সেদিন ভারত ভাগ না হতো ৭১ এ বাংলাদেশ হতো না। তার প্রমাণ ভারতের অধিভূক্ত সেসব রাজ্য সেগুলো স্বাধীন হওয়া সত্বেও পরে ভারতের অংশ হয়েছে।
স্বাধীনতা অমূল্য। ১৯৭১ সালে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে শুধুমাত্র মুক্তির জন্য জীবন দিয়েছে বাংলার দামাল ছেলেরা। সে যুদ্ধের পর ক্ষমতাসীনরা হরণ করেছে মানুষের মুক্তির অধিকার, কায়েম হয়েছে বিদেশী আধিপত্যবাদ। মুক্তিযোদ্ধারা বিভক্ত হয়ে দলে, পার্টিতে আর লীগে। নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে নিয়েছে ভাই ভাইয়ের প্রাণ। কেবল একটি আলাদা মানচিত্র আর পতাকা পেয়েছে। তবুও স্বাধীনতা অমূল্য।
১৭৫৭ থেকে ১৯৭১ শত শত অভ্যুত্থান, আন্দোলন, সংগ্রাম হয়েছে। অনেকে কিছু কিছু আন্দোলনকে বিপ্লব বলেছেন। আমি বিপ্লব বলতে চাই না। কারণ সেগুলো জনগনের ভাগ্য বদলাতে পারেনি। এমনকি ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবও শাসনতন্ত্রকে বদলে দিয়েছিল। ইতিহাস তাই একে বিপ্লবের স্বীকৃতি দিয়েছে। তাদের সে ত্যাগও কম নয়। যদিও জনগনের ভাগ্যের পান্ডুলিপি এক বাক্স থেকে অন্য বাক্সে গিয়েছে মাত্র।
৭১ এর পরেও বাংলার মানুষকে আন্দোলন অভ্যুত্থান করতে হয়েছে। হয়তো আরো করতে হবে। কিন্তু ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ এসব ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বড়ো। এর সাথে অন্যটির তুলনা চলে না। এরমাধ্যেমে আমরা নিজেদের একটা দেশ পেয়েছি। কোথায় যেন পড়েছিলাম অন্নদা শংকর রায় একবার কাকে যেন বলেছিলেন, তোমরা বাঙালী মুসলমানেরা সফল জাতি নিজেদের জন্য একটা দেশ তৈরী করতে পেরেছো। মুক্তিযুদ্ধের অনেক আকাংখা ব্যর্থ হওয়া সত্বেও আমি বলব ‘‘স্বাধীনতা অমুল্য‘‘।
এটাও মনে রাখতে হবে ৭১ এর ৪৭ এর গুরুত্ব কমে গিয়েছে। ২৪ এর পর ৭১ এর গুরুত্ব না কমলেও স্পেস কমে যাবে। এটা স্বীকার করতে হবে, মানতে হবে এবং বুঝতে হবে। বিষয়টি বুঝিয়ে বলা যাক। ধরা যাক একটা পরীক্ষায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের উপর ৫টি প্রশ্ন আসবে। ২৪ এর ঘটনা না ঘটলে ৭১ নিয়ে যে কয়টি প্রশ্ন আসতো তারচেয়ে ২টি বা ১টি কম আসবে। আরেকটি উদাহরণ দেই, কোনো বইতে যদি বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে লেখার জন্য ১০০ পাতা বরাদ্ধ থাকে সেখানে এখন অন্তত ৫টি পাতা ২৪ নিয়ে লিখতে হবে এবং অতীতের ইতিহাস থেকে সেটা কমবে। আরো বাস্তবিক উদাহরণ দেয়া যাক, আমরা আমাদের দৈনিন্দিন জীবনে যেসব রাজনৈতিক আলাপ করি ২৪ এর ঘটনা না ঘটলে অন্য যে বিষয়গুলো বেশী আলোচনা হতো সেগুলোর সময় কমে গিয়ে ২৪ নিয়ে বেশী চর্চা হবে। আর এটা সত্য। তাই ২৪ এর এই মর্যাদা অমূল্য।
১৯৪৭ সালে যারা জীবন দিয়েছে বিপ্লব করেছে নতুন দেশের জন্য সংগ্রাম করেছে। তাদের মধ্যে যারা ৭১ এর বেঁচে ছিলেন তারা অনেকে ‘‘নতুন স্বাধীনতা‘‘ চিনতে পারেননি। তারা ৪৭ এর স্বাধীনতাকে আসল স্বাধীনতা মনে করে পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। ৭১ এবং তার পর তাদেরকে রাষ্ট্র, সমাজ ও তারুন্য আর স্বাধীনতাকামী হিসেবে সম্মান করেনি। এটা ভুল নাকি শুদ্ধ? তার চেয়ে বড়ো কথা এটাই বাস্তবতা।
২৪ সালে এসে যারা বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে ছিল, মুক্তির বিপক্ষে ছিল। লুট, খুন ও গুমের সমর্থক ছিল, বিদেশী আধিপত্য কায়েমকে জারি রাখতে চেয়েছিল। তাদের ঠিক একই পরিণতি হবে। যেমনি করে ৪৭ এর যোদ্ধা এবং ৭১ এর স্বাধীনতাবিরোধীদের জন্য করা হয়েছিল। ৪৭ এর দালাল হলেও কেউ ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকলে জনগন তাকে মুক্তিরজনতাই বলেছিল। ইতিহাসে এভাবে পূনরাবৃত্তি হবে। যদি স্বাধীনতা ও মুক্তির পক্ষ-বিপক্ষ কেউ বুঝতে না পেরে নিজের ভুল অবস্থান নিয়ে থাকে।
৭১ এর স্বাধীনতার আগে, সময়ে এবং পরে এদেশের মানুষের, মুক্তির যোদ্ধাদের, নেতাদের ভুল ও দোষ থাকতে পারে। সেগুলো নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা, বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন হতে পারে কিন্তু স্বাধীনতাকে খাটো করা, ভিন্ন নাম দেয়া ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা, মানষিকতা ও অভিপ্রায় সুখকর ও ইতিবাচক নয়। এই চর্চা বর্তমান ও ভবিষ্যতের দেশের বীর নায়কদের সম্মানে ব্যাঘাত ঘটবে। দেশের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা হারাবে প্রজন্ম। তাই যে বা যারা এটা করবে তা হবে দেশ জাতি ও সমাজের জন্য আত্মঘাতি। আগুন যেমন বুঝে লাগালেও সে জ্বলবে তেমনি না বুঝে লাগালেও জ্বলবে। এটাই আগুনের ধর্ম। তাই সাধু সাবধান।
৪৭ সালে যারা ব্রিটিশ এর পক্ষে ছিলেন কেউ দেশ ত্যাগ করেছেন কেউ চিন্তা বদলে বা না বদলে এদেশে নিজেদের আত্মীকরণ করেছেন। কেউ কেউ নতুন যুদ্ধে দেশের পক্ষে কাজ করেছেন বা তাদের উত্তরসূরীরা বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় নাম লিখিয়েছেন। কিন্তু যারা দেশের বিপক্ষে ছিলেন ইতিহাসে তাদের অবস্থান ও মূল্যায়ন তেমনিই থেকে যাবে যেমনটা তারা করেছিলেন।
৭১ সালেও পক্ষ বিপক্ষ ছিলো। সরাসারি জড়িত ও পক্ষাবলম্বনকারীরা নিজেদের অবস্থান থেকে পক্ষে ও বিপক্ষে ভূমিকা রেখেছে। তার দায় তাদের থাকবে। যতটা করেছে তার বেশীও নয় কমও নয়। কিন্তু আজকের যা বর্তমান, আগামীকাল তা হবে ইতিহাস। ইতিহাস তার নিজের গতিতে চলবে। হয়তো আজকে যারা ভিলেন কোনো একদিন তারা নায়ক হবে। কিন্তু নায়ক হবেই এটা হলফ করে বলা যায়না। কারণ অতীতে তারাই নায়ক হয়েছে যারা সময় ও জনতার সাথে মিলিয়ে নিজেরা ইতিবাচক ধারায় ফিরে এসেছে এবং জনগনের পক্ষ নিয়েছে। যারা তা না করে জনগনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল তারা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।
আমি মনে করি, আজ মৃত দেশনেতাদের নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে, এটা কাম্য নয়। তাদের মূর্তি বানানো আর ভাঙ্গা এই রাজনীতি দেশকে পিছিয়ে দেবে। তারা ইতিহাসের পাতায় থাকুক। যার যতটা সম্মান ততটা নিয়ে। তারা যেহেতু দেবতা কিংবা নবী নন। তাদের ভালো মন্দ সফলতা ব্যর্থতা থাকবে। তাদের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন ইতিহাসের পাতায় হোক। তারা যেহেতু আর নির্বাচনে দাড়াবেন না। তাদের চরিত্রের চুলছেরা রাজনীতি শুধু নিজেদের দেশ গড়ার কথা ভুলিয়ে দিতে ভূমিকা রাখবে। আর কিছুতে নয়। কোনো নেতাই দেশের চেয়ে বড় নয়। কেউ যদি দেশগড়া বাদ দিয়ে কোনো নেতাকে বেচতে বা ভাঙতে কিংবা পঁচাতেই ব্যস্ত থাকে। এটাকেই নিজেদের কাজ মনে করে। তাহলে জেনে হোক না জেনে হোক সে ভুল পথে আছে।
তবু স্বাধীনতা অমূল্য। ২৪ এই স্বাধীনতাও অমূল্য। ১৯৪৭ এর দেশভাগ হয়েছিল বলে ১৯৭১ সালের জনতার মুক্তি ও দেশের স্বাধীনতা হয়েছিল। ১৯৭১ এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল বলে ২০২৪ নিজেদের আত্মপরিচয়ের সন্ধানে ১৪শ জীবন রাজপথে ঝরে পড়েছে শরতের শিউলীফোটা বাগানের মতো।
২৪ এর পরও একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি হলো। আন্দোলনের স্বপক্ষীয়দের বিভক্তি। পারষ্পরিক দোষারোপ প্রতিদ্ধন্ধিতা। স্বার্থন্বেষি মহলের স্বার্থ সিঞ্চনের বিশ্বাস ঘাতকতা। তবুও এই ত্যাগ অমূল্য। এই ত্যাগ জন আকাংখা পূরণ করতে পারেনি। হয়তো আরো একটা বেহাত বিপ্লব হয়েছে। তবুও এর মহানত্ব ঘোষনা করতে হবে। না হলে নিজেদের জীবনের চেয়ে যারা দেশকে বড় করে দেখেছে তাদের প্রতি অসম্মান করা হবে। জন আকাংখা পূরণ না হলেও একধাপ অগ্রগতি হয়েছে। কারণ জন আকাংখার সব চাহিদা পূরণ হলেও তার প্রথম ধাপ হতো ফ্যাসিবাদের পতন। যেটা অনিবার্য ও অপরিহার্য ছিল।
আফসোস, সুযোগ ছিল ১৯৪৭ সালেই ব্রিটিশ আইন সংবিধা ও কাঠামো ভেঙ্গে নতুন ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র কায়েম করা। কিন্তু তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন সে সময়ের রাজনীতিবিদেরা। একইভাবে ১৯৭১ সালে সুযোগছিল দেশটাকে নিজেদের জন্য নিজেদের মতো করে নতুন আইন, বিচার, সংবিধান ও প্রশাসনিক কাঠামো বিনির্মাণ করা। কিন্তু তখনকার ক্ষমতাবানেরা তা করেননি বা করতে চাননি। ২০২৪ এ সুযোগ এসেছে সংষ্কারের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার। কিন্তু এক শ্রেণীর মানুষ বাঁধা হয়ে দাড়ালো, আরেক শ্রেণীর মানুষ তামাশা দেখলো, বিশেষ এক শ্রেণী নানারকম ষড়যন্ত্র করলো, আরো এক শ্রেণীর মানুষের যোগ্যতায়ও কুলালো না পরিস্থিতি সামলে এগিয়ে যাওয়ার। গুটি কয়েক মানুষের কন্ঠ ও ইচ্ছা প্রতিদিনের চিৎকারের নিচে হারিয়ে গেল।
আগামী প্রজন্ম ঠিক করবে এদের মধ্যে কারা গাদ্দার ছিল, কারা কাপুরুষ ছিল, কারা সমযোতাকারি ছিল আর কারা পথ হারিয়ে ফেলেছিল। তবুও সংগ্রাম চলবে। কারো জীবনের বিনিময়ে হয়তো আরো একধাপ আগাবে।
তবুও বলি, ১৮৫৭ এর আগে পরের সকল বিদ্রোহ বিপ্লব এমনকি ১৯৪৭ সালের স্বদেশী বিপ্লব আমাদের চেতনা অন্য সকল বিদ্রোহ বিপ্লবে সেগুলোই ছিল আমাদের জ্বালানি। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের গান ২৪ এর ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যেভাবে প্রেরণা দিয়েছে সেটাই তার প্রমাণ। সেখান থেকেইতো আমাদের স্লোগান ‘‘ ইনকিলাব জিন্দাবাদ, কিংবা ‘‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।‘‘
১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ আমাদের প্রেরণা তা ২৪ এর আন্দোলনের সূতা। কারণ ৭১ সালে অর্জিত লাল সবুজের পতাকাই ২৪ মিছিলে সলতে হয়েছে। জাগরণকে পরিণত করেছে লাল সবুজের মাঠে। তাই অন্তত আমি বলব ‘‘জয় বাংলা‘‘। জয়বাংলা কোনো দলের স্লোগান নয়। এটি মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। কেউ এটাকে নিয়ে ব্যবসা, লুট কিংবা খুন করলেই এটা তার হয়ে যায়না। এসব স্লোগান দিয়ে কেউ ভুল বা দোষ করে সে দায় তার। স্লোগানের নয়। তাই স্বাধীনতা অমূল্য।
আর মুজিব বাদ বলে যা বলা হচ্ছে। তাও সঠিক নয়। মুজিব বাহিনী ছিল কিন্তু মুজিব বাদ ছিলো না। যদি মুজিব নামের কোনো ব্যক্তির নিজস্ব কোনো চিন্তা, দর্শন ও আদর্শ থাকতো তাহলে মুজিববাদ বলা যেতো। কিন্তু তেমন কিছু ছিল না। যা ছিল তা প্রথম দিকে ছিল মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম পরে হয়েছিল ১ দলীয় শাষন। সূতরাং মুজিব বাদ বলে এটাকে মার্কেটিং করার কোনো মানে নেই।
দুষ্টু রাজনীতিকে মোকাবিলার জন্য ইতিবাচক ও মানবিক রাজনীতি যথেষ্ঠ। তার জন্য ছায়াকে কায়া বানিয়ে যুদ্ধ করার কোনো মানে নেই। যেমন যুদ্ধ পতিত এক রক্তলোলুপ ও ক্ষমতাসক্তও করছে।
বলে রাখা ভাল ‘‘আল্লাহু আকবর‘‘ ইসলামী জাগরণ ও আহবানের স্লোগান। কেউ এটা ব্যবহার করলে এটা তার হয়ে যাবে না। এমনকি এটা শুধু মুসলিমদের বললেও সঠিক হবে না। সৃষ্টি জগতের একচ্ছত্র অধিপতি মহান আল্লাহর মহাত্ম যে কেউ ঘোষণা করতে পারে। সূতরাং কোনো ব্যক্তি তার আদর্শের বিরোধীতা করার জন্য তার কোনো ভাল অভ্যাস বা অর্জন বিরোধীতা করা এক ধরনের স্ব-বিরোধীতা করার শামিল।
এই ধরনের স্ববিরোধীতা সমাজতন্ত্রের সাম্যবাদী আদর্শও ক্ষমতার কাছাকাছি গিয়ে পরাস্ত হয়েছে। কারণ নিজেরা স্ব-উদ্যোগে ধর্মকে নিজেদের শত্রু বানিয়ে জনগনের সামনে উপস্খাপন করছে। আবার ধর্মীয় রাজনীতির নামে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তিকে ভুল বোঝে নিজেরা প্রতিপক্ষ সেজে একটি প্রজন্মের কাছে খলনায়ক হয়ে গিয়েছিল। এখনো মুক্তিযুদ্ধের সেসব সৈনিকেরা যখন পথভুলে শুধু লুট, খুন ও গুমে মশগুল ছিলো না। তারা মুক্তিকামী জনতার বিপক্ষে গিয়ে তাদের প্রাণবধ করেছে শত শত নয় হাজার হাজার। আহারে! কে তাদের পরিণতি আর ঠেকাবে।
একশ্রেণীর সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী খুনি সন্ত্রাসী অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। আপনি যদি তাদের প্রশাসন নিয়ে মোকাবিলা করেন তাহলে আপনি ফ্যাসিবাদী হবেন আর সামাজিকভাবে মোকাবিলা করলে বলা হবে মব করছেন। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করলে কোনো লাভ নেই কারণ তার ভূমিকা খুনিদের উৎসাহিত করছে যা সাধারণ চোখে দেখা যাচ্ছে। তাহলে তাদের মোকাবিলার উপায় কি? এটাই শাসকের চ্যালেঞ্জ এটা না জানলে সবকাজ কঠিন হয়ে যাবে।
ভবিষ্যতে একই ঘটনার পদধ্বনি শোনা যায়?
