বই পড়ি, জীবন গড়ি

ব্যস্ত ব্যক্তিরা কিভাবে বই পড়েন?

অতি ব্যস্ত ব্যক্তিদের বই পড়া

পাঠোদ্দেশ্য: ব্যস্ততা সত্বেও কিভাবে বই পড়া যায় বা বই পড়ার জন্য সময় বের করা যায়।

আমারা সাধারণত ধরে নিই যে, যারা অতিব্যস্ত থাকেন তারা বই পড়েন না বা বই পড়ার সময় পান না। এই কথাটা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যতটা সত্য অন্যদের ক্ষেত্রে ততটা নয়। এমনিতে বাঙালী বই পড়ে না বলে বদনাম আছে। এটা নিয়ে অনেকে নানা প্রবন্ধ লিখেছে। বিশেষ করে প্রমথ চৌধুরী আর সৈয়দ মুজতবা আলীর বাঙালীর বই পড়ার বিশ্লেষণ আমরা জানি। বোধকরি ভারতের বাঙালীর চেয়ে বাংলাদেশের বাঙালীর বই পড়ার হার ও পরিমাণ আরো অনেক কম। কারণ যাই হোক এটা সত্য।
উনিশ শতকের প্রথমে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বিকাশের সাথে যে মধ্য বিত্ত শ্রেণীর বিকাশ হয়েছে সে শ্রেণী বইপাঠক তৈরী করেছে। বই পড়ার অভ্যাস যেকোনো শ্রেনী পেশা ও সম্প্রদায়ের থাকতে পারে। কিন্তু বাঙালী মুসলিম সমাজে মধ্যবিত্ত শ্রেণী হলো এর পথিকৃত। বর্তমান আর্থ-সামাজিক অবস্থায় মধ্যবিত্তের একটা অংশ অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার দৌড়ে অস্থির আরো একটা অংশ বিচ্ছিন্ন এবং দ্ধিাধান্বিত। আর ছোট একটা একটা অংশ বই পড়ছে।
অনলাইন কনটেন্ট তাদের একটা অংশ দখল করে নিয়েছে। যেটা টেলিভিশন কিংবা স্যাটেলাইট পারে নিসে সেটা করেছে মোবাইল ফোন এবং ক্লাউড কনটেন্ট।

ব্যস্তরা আসলে কি করেন?

যাই হোক মূল আলোচনায় ফিরে আসি। বাস্তবতা হলো ব্যস্তরা বই পড়ে। ব্যস্ত বলতে আমরা যদি সেইসব লোকদের বুঝে থাকি যারা দিনে এতো কাজ করে যে খুব একটা অবসর পায়না। তাহলেও আমি বলবো যে, তারা বই পড়ে। মানে তাদের মধ্যে যারা জানে বা বোঝে বই পড়ার গুরুত্ব এবং যারা বই পড়ে কিছু পেয়েছে তারা ব্যস্ত হলেও তারা বই পড়ে।
ব্যস্তরা কিভাবে কাজ করে?
এখন প্রশ্ন হলো ১৫/১৬/১৮ ঘন্টা কাজ করে তারা কিভাবে বই পড়ে? আমরা যদি একমত হই যে, আমরা ব্যস্ত বলতে সেইসব লোকদের কথা বলছি যাদের প্রতিদিন অনেক কাজ থাকে এবং অনেক পরিমাণ ও অনেক ধরনের কাজ থাকে। তাহলে আমরা এটাও একমত হবো যে, এই অনেক ধরনের অনেক কাজ করার জন্য তাদেরকে সময়সুচী মেনে চলতে হয়। তাদের প্রতিদিন মিটিং থাকে কিছু সিদ্ধান্ত দিতে হয়, কিছু জানতে শিখতে বুঝতে হয়, কিছু মানুষকে সময় দিতে হয়, কিছু সভা ও স্থানে উপস্থিত থাকতে হয় আবার এসব কাজ করার জন্য প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা করতে হয় শুধু তাই নয় এজন্য তাদেরকে সহযোগি নিয়োগ করে তাদের সহযোগিতা নিতে হয়।

কিভাবে ব্যস্তরা তাদের জন্য সময় বের করে?

যেহেতু কাজগুলোকে সহজ করার জন্য তাদেরকে সময়সূচী মেনে চলতে হয়। তাই তারা গুচিয়ে কাজ করার মাধ্যমে সময়কে অধিক কাজে লাগিয়ে অন্যদের চেয়ে বেশী কাজ করে এবং উন্নতি সাধন করে। তারা নিজেদের জন্য ও পরিবারের জন্য দেশ বিদেশে ঘোরার জন্য সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য মুভি ও থিয়েটার দেখার জন্য এমনকি বই পড়ার জন্য সময় রাখে বা সময় বের করে।
তারা হয়তো একজন ১০টা-৬টা কর্মীর মতো পরিবারকে সময় দিতে পারে না তবে তারা গুচিয়ে কোয়ালিটি বা মানসম্মত সময় দেন।
তারা হয়তো প্রতি মাসে বা অন্য দলের সাথে নির্ধারিত তারিখে পিকনিকে যোগ দিতে পারি না। কিন্তু তারা কাজ গুচিয়ে বছর বা মাসের কোনো প্রান্তে পরিবার ও বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যান বা সময় কাটান। খুব স্বাভাবিক ব্যাপারযে একজন শখের ঘুরবাজ ট্রাভেলার বা পর্যটকের মতো করে তারা নিয়মিত ঘুরতে পারে না। কিন্তু তারা যেখানে ঘুরতে যান সে জায়গাটা ভালভাবে বাছাই করেন এবং তারা সেখানে এমনভাবে সময় কাটান তাদের জীবন ধারা দেখলে আমি হয়তো ঈর্ষানিত হতে পারি।
আমার কথায় সন্দেহ থাকলে আমি ১০ জন ব্যস্ত বা ব্যবসায়ী বা সিইও এর তালিকা করে সামাজিক মাধ্যমে তাদের ফলো করে দেখতে পারি।
ব্যস্তরা হয়তো সব সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রতিদিন ছবি আপলোড দিতে পারি না। কিন্তু তারা খুব কম সময় পান বলে তারা এমন কিছু সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন যে অনুষ্ঠান তাদের জন্য কোনো ভ্যালু এড করে বা মূল্য যোগ করে। ফলে তারা কম অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েও বেশী ফোকাস পায় এবং এই বিষয়ে তারা হিসেব করে সময় ব্যয় করে এবং প্রতিটি অনুষ্ঠান থেকে অন্যদের চেয়ে বেশী ভ্যালু এড করে তারা ঠিকই এগিয়ে থাকে আমার আমার চেয়ে অনেক বেশী।
তারা হয়তো কোনো সিনেমাপ্রেমী বা আড্ডাবাজ বন্ধুর ন্যায় প্রতি সপ্তাহে মুভি নাটক দেখে আনন্দ কুড়াতে পারে না। কিন্তু তারা ঠিকই মাস্টারফিসটা দেখে। কারণ একজন ব্যস্ত ও সফল ব্যক্তি ঠিকই বুঝতে পারি কোন মুভিটা তার দেখা দরকার। যেহেতু তার সময় কম তাই তিনি নিয়মিত মুভি ও নাটক না দেখে মাঝে মধ্যে বন্ধুদের নিয়ে দেখেন এতে বন্ধুদের সাথে তার যোগাযোগ রক্ষা হয় আবার তারা শুধু বাছাই করা মুভি দেখেন যাতে কিছু শেখার আছে। ফলে দিনশেষে তারাই জিতে যায়। আর আমরা অনেকে হয়তো তাদেরকে বেরসিক বলে সমালোচনা করে দিন গুজরান করে যাই।

ব্যস্তদের বই পড়া

ঠিক একইভাবে ব্যস্ত ব্যক্তিরা হয়তো একজন বই পড়ুয়ার মতো সব বিখ্যাত, জনপ্রিয় বই পড়তে পারি না। তারা হয়তো সাহিত্য সভায় যোগ দিয়ে লেখা ও লেখক নিয়ে জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা করতে পারি না। কিন্তু তারা একটা কাজ করে যা আমরা খালি চোখে দেখতে পাইনা। আমরা হয়তো খেয়াল করলে তাদের কাজের ফলাফলের দিকে তাকালে বুঝতে পারব।

তাহলে তারা কি করেন?

তারা শুধু সেটুকু বই, কনটেন্ট, ফাইল, নথি ও তথ্য পাঠ করেন যেগুলো তাদের প্রয়োজন। এই প্রয়োজনের সাথে মিলিয়ে বই পড়েন বলে তাদের জীবনে বই পড়ার কারণে কখনো সময় নষ্ট হয়না। বরং বইয়ের শিক্ষাগুলো কাজে লাগিয়ে তারা ক্রমশ এগিয়ে যেতে থাকেন। শুধু বিল গেটস কিংবা ওয়ারেন বাফেট নন আমাদের দেশে অনেক শিল্পপতি ও ব্যবসাপতি রয়েছেন যারা নিয়মিত দেশী বিদেশী বই পড়েন।

 

ব্যস্তদের বই পড়ার সময়
ব্যস্তদের মধ্যে যারা বই পড়েন তাদের অনেকে ছুটির দিনে বই পড়েন। মাসের মধ্যে যদি ৫টি ছুটির দিন থাকে চাইলে আমিও এগুলোকে কাজে লাগাতে পারি। আমরা একটা ছকের মধ্যে দেখি। এখানে বলে রাখা ভাল ব্যস্ততের ১ দিন মানে কারো ৩টি কারো ৪টি সেশন। কেউ সকাল ৬টায় দিন শুরু করেন তাদের আসলে ৪টি সেশন। যেমন-
৬টা থেকে ৯টা ব্যক্তিগত সেশন: ব্যায়াম, নামায, বই ও কোরআন পাঠ, দিনের প্রস্তুতি। এই কাজগুলো তারা নিয়মিত করেন। অনেকে এই সময়ে বই পড়েন কারণ সকাল বেলা মন স্থির থাকে পড়ায় মনোযোগ দেয়া যায়। কেউ এই সময় ধর্মগ্রন্থ বা ধর্মীয় গ্রন্থ পড়েন। অনেকে এই সময় লিখেও থাকেন।

০৯টা থেকে ৭টা: অফিস, চাকরী, ব্যবসা বা পেশাগত সেশন। ব্যবসা চাকরী যা যা পেশা তাকে এই সময়ে সেখানে সময় দিতে হয়। এটা কারো ক্ষেত্রে ১ ঘন্টা কম কারো ক্ষেত্রে ১ ঘন্টা বেশী হতে পারে। কোনো অতিব্যস্ত ব্যক্তিদের এই সেশন ২ ভাগে বিভক্ত থাকে বিশেষ করে যারা একাধিক ব্যবসা ও চাকরী করেন।

৮ টা থেকে ১০ টা: উন্নয়ন সেশন। এই সেশনটি কারো জন্য বিনোদন সেশনও বলা যায়। কারণ অনেকে এই সময় আড্ডা দেন। এবং ব্যক্তিগত সময় পার করেন। তবে যারা ভবিষ্যতে ক্যারিয়ার গড়বে বা এখনো ক্যারিয়ারে ভাল অবস্থায় যাননি অথবা ক্যারিয়ারে তুঙ্গে থেকে নানা বিষয় সামাল দিচ্ছেন তাদের জন্য এটা উন্নয়ন সেশন হিসেবে আমি অভিহিত করেছি।

এই সময়ে তারা নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ যেন যেটা তার জন্য ভ্যালু এড করবে, কমিউনিটির সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করবে এবং নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করবে।
এই সময়ে তারা কোর্সেও অংশ নিয়ে থাকেন। অনেকে এই সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করেন এবং জ্ঞান আহরণ করেন।

কেউ কেউ এই সময়ে আড্ডা দেন তবে সেটা কোনো গসিপিং নয়। বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেন কিভাবে জীবনে আরো উন্নতি করা যায়। সংশ্লিষ্ঠ খাত-কর্মীদের সাথে সময় কাটান এবং পরবর্তী প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেন।

রাত ১০টা থেকে ১২টা : ব্যক্তিগত সেশন বা ফ্যামিলি সেশন। যারা ভোরে ঘুম থেকে উঠে সকালে ব্যক্তিগত কাজ করেন তারা এই সময়ে মুলত পরিবারের সাথে সময় কাটাতে পারি। আর যারা সকালের সেশনটা মিস করেন তাদের অনেকে এই সময়ে বই পড়েন ও ব্যায়াম করেন।

প্রতিদিনের এই কর্মব্যস্ততার মাঝে ব্যস্তরা যেভাবে বই পড়েন।

১। প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ঠ সময় বই পড়ার জন্য রাখেন সেটা কম সময় হলেও।
২। যখন অফিসে কাজের ছাপ কমে যায় বা হঠাৎ কোনো মিটিং ক্যানসেল হয়ে যায় কিংবা সভা শুরু হতে দেরী অথবা আগেই শেষ হয়ে যায়। তখন কখনো কখনো রয়ে যাওয়া কাজ করেন কিংবা ডেস্কে থাকা বই খুলে বসেন। এজন্য তারা আগেই তাদের ডেস্কে বই রেখে দেন।
৩। তারা যদি বিভিন্ন জটিল ও জ্ঞানভিত্তিক বিষয় নিয়ে কাজ করেন তখন যে বিষয়টি সামনে আসছে সেটা ঘেটে দেখার অযুহাতে বা বিষয়টা বোঝার জন্য তারা সে বিষয়ে ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে প্রয়োজনীয় পড়াশোনা সেরে নেন এবং প্রয়োজনে তারা এই বিষয়ে পিডিএফ, বই, নোট, রিচার্স পেপার পড়ে থাকেন।
৪। তারা অফিসের কর্মীদের নিয়ে পাঠচক্র তৈরী করেন। একজনকে নেতৃত্বে দেয়ার জন্য নিয়োজিত করেন। তারা পাঠচক্রে সহযোগিতা করেন এবং সাপ্তাহিক বা মাসিক চক্রসভা আয়োজন করেন। এর সাথে যুক্ত থেকে তারা নিজেরা পড়েন এবং অন্যদের বই পড়িয়ে তাদের দক্ষতা উন্নয়ন করে সেটাকে প্রতিষ্ঠানের কাজে লাগান।

প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে বই পড়লে এবং মাসে যদি ২০ দিন পড়া যায় তাহলে ১০ ঘন্টা। ১০ ঘন্টায় ৪ থেকে ৫টি বই পড়া যায়। অন্তত ৩টি। আর এই কারণেই বিল গেটস এখনো সপ্তাহে ১ টি বই পড়ে থাকেন।

ব্যস্তদের সপ্তাহ মাস

এটা গেল ব্যস্তদের প্রতিদিনের বই পড়া ও দক্ষতা উন্নয়ন কৌশল। কিন্তু সব ব্যস্তরা কি প্রতিদিন বই পড়ে বা পড়তে পারে? যদি পড়তে না পারে তাহলে মাসে একজন মানুষ যদি যেকোনো ভাবে অন্তত ১ টা বই পড়তে চান তার জন্য আর কি কোনো বিকল্প আছে। সে বিকল্প খোঁজা ব্যস্ত মানুষটির জন্য আমাদের নিচের ছক।

ছুটির দিন কিভাবে যায় মোট ছুটি ৫ দিন

২ দিন ছুটি থাকলেও নানা কারণে অফিসের কাজ করতে হয়। আগেই বলেছি ব্যস্ততের ১ দিনে কমপক্ষে ৩ টি সেশন বা বেলা থাকে। তাহলে ২ দিনে ৬ বেলা। এর মধ্যে ১ বেলা তিনি পরিবারকে সময় দেন এবং ১ বেলা তিনি কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এবং ১ বেলা ১ ঘন্টা হয়তো একটা বই চাইলে পড়তে পারি। ২ দিন ছুটি ভোগ হলো।
১ ঘন্টা বই পড়া হলো।
বাকী রইলো ৩ দিন
১ দিন ঘুম থেকে উঠতে দেরী হয়ে যায় সেদিন আসলে পরিবারকে সময় দেন কখনো কখনো এমন হয়যে, বিছানায় গড়াগড়ি করে দিনটি চলে যায় কোনো কাজই হয়না। তবে কেউ কেউ অবসরে ফোনে কথা বলে কিছু কাজ এগিয়ে রাখেন। কোনো কাজ ছিল না বলে ১ ঘন্টা বই পড়লেন। ৩ দিন ছটি ভোগ হলো। মোট (১+১) ২ ঘন্টা বই পড়া হলো।
রইলো বাকী ২ দিন।
১ দিন বাইরে ঘুরতে গেলেন। এই দিন পড়ার তেমন সুযোগ পেলেন না। তবে কেউ পড়ুয়া হয়ে থাকেন বা পড়া তার জরুরী প্রয়োজন হয়ে থাকে। তাহলে যাবার পথে ৩০ মিনিট সময় বের করে পড়ে নেয়া যায়। ৪ দিন ছটি ভোগ হলো। মোট (১+১+৩০মি) ২:৩০ ঘন্টা বই পড়া হলো।
রইলো বাকী ১ দিন।
হঠাৎ শরীর অসুস্থ্য হয়ে গেল। কোনো বিপদ হলো। কোনো জরুরী কাজে সব এলোমেলো হয়ে গেলো। কোনো কাজ কিংবা বই পড়া কিছুই হলো না। এক্ষেত্রে কোনো বই পড়ুয়া চাইলে মাসে একটি দিন খোলার দিন কোনো মিটিং না থাকলে সেদিন ১ ঘন্টা বা ৩০ মিনিট পড়তে পারে ৫ দিন ছুটি শেষ হয়ে গেলো।
আড়াই বা তিন ঘন্টা বই পড়া হলো। এই সময়ে একটা বই পড়ে শেষ করা যায়।

অন্যান্য:

কেউ যদি সপ্তাহে ২ দিন অফিসের জন্য ছুটির দিন কাজ করেন অথবা না করেন তাহলে তিনি চাইলে কিন্তু মাসে আরো ১ দিন ছুটি পান। সেই হিসেবটা আমরা করতেই চাইনা।

এভাবে একজন অতিব্যস্ত মানুষও চাইলে মাসে অন্তত ১ টা বই পড়তে পারি। ১ টা বই পড়া মানে বইতে যদি ২০ টা অধ্যায় থাকে তাহলে ২০টা শর্টকোর্স কিংবা একটা পুরো ট্রেনিং সেশন এর সমান।
যখন কোনো লেখক একটি বই লিখে থাকেন। তিনি যে বিষয়ে বইটি লিখেন সে বইটিতে তার জীবনের সে বিষয়ে যে শিক্ষা তিনি অর্জন করেছেন তার নির্যাসটুকু থাকে। তা পাঠক ৩ ঘন্টায় বা ৪ ঘন্টায় শুষে নিতে পারি। তাই একটি বই থেকে মাত্র একটি জিনিস শিখতে পারলেও একজন মানুষের জীবন বদলে যেতে পারে।

এই পাঠ থেকে যা শিখলাম

১। ব্যস্ত ব্যক্তিরা অনেক সময় কাজ করেন, পরিমাণে বেশী কাজ করে এবং বেশী অর্জন করেন। তারা মূলত সময়কে ভাগ করে নিয়ে কাজে লাগান এবং তারা অন্য মানুষদের কাজ দিয়ে তাদের ব্যবহার করে নিজেরা লাভবান হয়ে থাকেন। ব্যস্ত ব্যক্তিরা আসলে বই পড়াকে তাদের মূল কাজের ১টি করে নেন। ফলে তারা ব্যস্ত থেকে যেভাবে অন্যান্য কাজ করেন একইভাবে তারা ব্যস্ত থাকার পরও বই পড়ার কাজটা শেষ করে থাকেন।
২। ব্যস্ত ব্যক্তিরা হাতের কাছে যা পান তা পড়েন না কিংবা তাকে যা দেয়া হয় তাই পড়েন না। তারা তাদের বিষয় ও লেখক ঠিক করে তবে পাঠ তালিকা করেন। তারপর বই পড়েন। এতে করে তারা যাই পড়েন তাই তাদের কাজে লাগে । এরমাধ্যমে তারা পড়ার মাধ্যমে একদিকে নিজের দক্ষতা উন্নত করেন অন্যদিকে বই পড়ে যা শিখেন তা পেশাগত কাজে লাগান। এবং তারা কম সময়ে বেশী শেখেন।