যানজট নিরসন ও সড়ক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে নাগরিক প্রস্তাবনা
বিগত ৫৬ বছর ধরে এই সমস্যার সমাধানতো হয়নি বরং সমস্যাটি আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিগত দিনে সরকারগুলো এসব বিষয়ে কাজও করেছে এবং অর্থও ব্যয় করেছে কিন্তু ফল এসেছে কম । হয়তো বিগত দিনের উদ্যোগগুলো না আসলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারতো। সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধানের অনেক কারণ রয়েছে অযোগ্য নেতৃত্ব, সঠিক চিন্তার ঘাটতি এবং পরিকল্পিত ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার অভাবের পাশাপাশি রয়েছে দূর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা।
কিন্তু একটি জাতি বছরের পর বছর যুগের পর যুগ এই দুষ্টুচক্রে আটকে থাকতে পারে না। আজ আমাদের দায়িত্ব রয়েছে তা না হলে ভবিষ্যত প্রজন্ম আমাদেরকে প্রশ্ন করবে যে ‘‘ তোমরা যখন সমস্যাটি দেখতে পেয়েছো তখন তোমরা এর সমাধানে কি দায়িত্ব পালন করেছো। আর সড়ক ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়ে সমস্যা সমাধান করতে না পারলে আজকের বাংলাদেশ কোনো একদিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে যেতে পারে। সেদিন আমাদেরকে সকলকে এর দায় নিতে হবে।
তাই, আমাদের সকলকে নিজ নিজ জায়গা থেকে কিছুনা কিছু করার আছে বলে আমি মনে করি। সে চিন্তা থেকে আমার ধারণা, অভিজ্ঞতা, পড়াশোনা, ভ্রমণ সকল ধরনের ক্ষেত্র থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানের আলোকে ১ গুছ্ছ পরামর্শ পেশ করছি।
ক) ঢাকার উপর চাপ হ্রাস ও নগর ব্যবস্থাপনা
আমরা একটা বিষয় পরিষ্কার দেখতে পাই যে, দেশের সমস্ত কাজের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ঢাকা শহর। ১৭ কোটি মানুষের দেশে যখন একটি শহরের উপর নির্ভরশীলতা তৈরী হয়। তখন কোনো পদক্ষেপই কাজে আসে না। মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এর মতো উদ্যোগ এই নগরীর যানজট কমাতে পারেনি। তখন বুঝতে হবে সমস্যা অন্যত্র। তাই ঢাকার উপর চাপ কমাতে পেশ করছি এক গুচ্ছ পরামর্শ।
১) সকল সরকারী নিয়োগ পরীক্ষা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠান করতে হবে। এতে ঢাকার উপর চাপ কমবে।
লিখিত পরীক্ষার জন্য স্থানীয় কলেজ ও কলেজ শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারে তদারকীতে থাকবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারী প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাবৃন্দ।
২) বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করে প্রশাসনে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। ঢাকার উপর চাপ কমাতে হবে।
প্রাথমিকভাবে, যে যে মন্ত্রণালয়ের কাজের চাপ বেশী এবং প্রান্তিক জনগন সম্পৃক্ত সেগুলো উপদপ্তর খুলতে হবে।
পরবর্তীতে, যেসব দপ্তরে কাজ ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন সেগুলোকে বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে।
এবং প্রতিরক্ষাসহ স্পর্শকাতর দপ্তর বাদ দিয়ে সকল দপ্তরকে জনগনের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।
৩) জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল স্থাপন করতে হবে। পিজি হাসপাতাল মানের একটি করে হাসপাতাল প্রতিটি বৃহত্তর জেলায় ১টি করে থাকা জরুরী। আগামী ৩ -৫ বছরের পরিকল্পনায় এটি বাস্তবায়ন করতে হবে।
প্রথম বছর: ভূমি বরাদ্ধ ও উন্নয়ন
দ্বিতীয় বছর: অবকাঠামো উন্নয়ন
তৃতীয় বছর: নিয়োগ ও যন্ত্রপাতি স্থাপন
চতুর্থ বছর : সেবা চালু
পঞ্চম বছর: পূর্ণাঙ্গ সেবা
৪) শিল্পক্ষেত্রে একেকটি শিল্পের জন্য একেকটি শহরকে নির্ধারণ করতে হবে। এখানে আসলে শহরের নিকটবর্তী এলাকা বোঝাবে। যেমন- এটা হতে পারে সিরামিক ও সমজাতীয় শিল্পের জন্য- হবিগঞ্জ, চামড়া ও সমজাতীয় শিল্পের জন্য সাভার ইত্যাদি।
৫) পর্যটন বোর্ডকে ভেঙ্গে ৮টি বিভাগে ৮টি বোর্ড তৈরী করতে হবে। এতে করে বোর্ডগুলোর মধ্যে আভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা হবে সকলে নিজ নিজ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তা অর্জনের জন্য কাজ করবে।
৬) প্রতিটি বিভাগে একটি করে হাইকোর্ট স্খাপন করতে হবে। দেশে ১টি সুপ্রীম কোর্ট এবং ৮টি হাইকোর্ট থাকবে। ১৬ লক্ষ মামলার জট খুলতে এটি ভূমিকা রাখবে। এবং হাইকোর্টের মামলাসমূহের জন্য সারাদেশে থেকে ঢাকার আসার প্রবণতা কমবে।
৭) প্রতিটি বিভাগে একটি করে বিকেএসপি থাকতে হবে। এছাড়া প্রতি জেলায় একটি করে খেলাভিত্তিক একাডেমী গড়ে তুলতে হবে। যেমন- চট্টগ্রামে কাবাড়ি বলিখেলা একাডেমী, কক্সবাজারে সার্ফিং ও সাতার একাডেমী ইত্যাদি।
৮) জেলা সংযোগ সড়কের পরিমাণ বাড়াতে হবে এবং জেলা সংযোগ সড়ক এর লেন বাড়াতে হবে।
৯) ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার মাত্র একটি রাস্তা। বিকল্প রাস্তা হিসেবে চাঁদপুর, লক্ষীপুর, নোয়াখালী, মিরশ্বরাই উপকূল এলাকা দিয়ে অন্য একটি রাস্তা জরুরী প্রয়োজন।
খ) সড়ক ব্যবস্থাপনা
১) সড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্য শহরে ও জেলায় নতুন সড়ক তৈরী ও সম্প্রসারণ করতে হবে।
২) সড়কে দোকান, দখলদারী, গাড়ি পার্কিং, মিটিং মিছিল বন্ধ করতে হবে।
৩) সড়কের পাশে স্থাপনা নির্মানের ক্ষেত্রে নিরাপদ দূরত্ব ঠিক করতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
৪) দেশে অধিক সম্পদ অর্জন বিশেষ করে ভূমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে চক্রবৃদ্ধি হারে কর ধার্য করতে হবে।
৫) প্রয়োজন ছাড়া গাড়ি ক্রয়, আয়ের সাথে সামঞ্জস্য ছাড়া গাড়ি ক্রয় এবং একাধিক গাড়ির মালিক হওয়ার ক্ষেত্রের সংখ্যাবৃদ্ধি হারে কর নির্ধারণ করতে হবে।
৬) সড়কে ট্রাফিক আইন অমান্য করার ক্ষেত্রে ব্যাংক থেকে স্বয়ংক্রিয় জরিমানা কর্তন এর বিধান জারি করতে হবে।
৭) শব্দদূষণ রোধে হর্ণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং সে লক্ষ্যে প্রি-পেইড হর্ণমিটার চালু করতে হবে।
৮) হর্ণমিটার সংক্রান্ত গবেষণা ও উন্নয়নে বুয়েটকে কাজে লাগানো যেতে পারে।
৯) গাড়ির ফিটনেস, রং, গাড়িতে আসনসংখ্যা ইত্যাদি কাঠামোবদ্ধ করে নির্দেশিকা জারি করতে হবে।
১০) প্রশিক্ষণ ছাড়া গাড়ির ড্রাইভার ও স্টাফ নিয়োগ রহিত করতে হবে। স্টাফদেরকে আচরণ, দেশের আইন, ট্রাফিক আইন, মানবিকতা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও দায়িত্বশীলতার প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এ ধরনের প্রশিক্ষণের সিলেবাস তৈরী করে তা বেসরকারী প্রশিক্ষণ একাডেমীর দায়িত্বে দেয়া যেতে পারে।
১১) দেশের সেবা ও সুবিধা ঢাকা কিংবা বড় বড় শহুরে সীমাবদ্ধ না রেখে জেলা শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে হবে। যাতে করে ছোটখাটো কাজের জন্য জনগনকে ঢাকায় বা বড় শহরে আসতে না হয়।
১২) সেবাসমূহকে সত্যিকার অর্থে ডিজিটাল করতে হবে। যাতে করে মানুষকে সেবাকেন্দ্রে গমন করতে না হয়। এতে চলাচলের প্রয়োজন কম হবে এবং পরিবহন এর উপর চাপ কমবে।
গ) পরিবহন ব্যবস্থাপনা
১) ফিটনেসবিহীন গাড়িতে ফিটনেস দেয়া হয়েছে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ঠ সকলকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এবং প্রাথমিক অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরী ও ফিটনেস দুটোই স্থগিত করতে হবে।
২) ফিটনেসবিহীন গাড়ি শুধু মোবাইল কোর্টে নয়। যেখান থেকে গাড়ি নাম্বার নেয় সেখান থেকেই বন্ধ করতে হবে।
৩) ফিটনেসবিহীন গাড়ির সকল জরিমানা স্বাভাবিক গাড়ির চেয়ে দ্বিগুন করতে হবে।
৪) পরিবহনগুলোকে আইন মানার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে তাদের কাছ থেকে টাকা অগ্রিম আদায়ের বিধান আরোপ করা যেতে পারে। যেমন বাস ট্রাক বার্ষিক ৫০,০০০ টাকা, কার ও মাইক্রো ৩০,০০০ টাকা, সিএনজি ও বাইক ১০,০০০ টাকা বছরপ্রতি জমা দেবে। তারা কোনো আইন অমান্য করলে এই জমা থেকে কর্তিত হবে। যারা অগ্রিম টাকা জমা দিয়ে রাখবে তারা জরিমানার ২৫% ছাড় পাবে এবং টানা ৬ মাস কোনো আইন অমান্য না করলে ৬% হারে মুনাফা পাবে। তাদের জমাকৃত অর্থ দ্বিতীয় পদ্মাসেতুর কাজ শুরু করা যাবে।
৬। প্রতিটি গাড়ির নেমপ্লেট, ছাদ ও দরজার পাশে তার নাম্বারের বিপরীতে প্রদত্ত কিউআর কোড দেয়া থাকবে। কোডগুলো রিড করে ক্যামেরা ও মেশিন দ্বারা তাদের আইন অমান্যের বিষয়টি নিশ্চিত করে নোটিশ প্রদান করে ১৫দিন সময় দিয়ে জরিমানা কর্তন করা হবে। শুধুমাত্র যারা ১৫র দিনের মধ্যে চ্যালেঞ্জ করবে তাদের বিষয়টি স্বাক্ষ্য প্রমাণ ও আদালতে গড়াবে।
৭। একইভাবে শুধু মেশিন নয় নাগরিক অভিযোগ নামে যেকোনো নাগরিককে দেশের যেকোনো জায়গা থেকে যেকোনো পরিস্থিতিতে আইন অমান্যকারী গাড়ি যেমন, বেআইনি ওভারটেকিং, ওভারস্পিড, অন্য গাড়িতে সাইড না দেয়া, ধাক্কা দেয়া এসব অভিযোগ গ্রহণ করা হবে। একটি অ্যাপ ও সিস্টেমের মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তি নাগরিক কিংবা ভুক্তভোগী বা অন্য গাড়ির স্টাফ এ ধরনের অভিযোগ দিতে পারবে।
মেশিনের মাধ্যমে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে মেশিন দ্বারাই রায় ও জরিমানা নির্ধারিত হবে। এক্ষেত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করে নোটিশ প্রদান করে ১৫দিন সময় দিয়ে জরিমানা কর্তন করা হবে। শুধুমাত্র যারা ১৫র দিনের মধ্যে চ্যালেঞ্জ করবে তাদের বিষয়টি স্বাক্ষ্য প্রমাণ ও আদালতে গড়াবে।
এছাড়া যদি নিশ্চিত হওয়া না যায় তাহলে স্বাক্ষ্য প্রমাণ বা শুনানির মাধ্যমে পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে। এবং যদি মনে হয় মিথ্যা অভিযোগ তাহলে বাদীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ থাকবে
তবে সকল অভিযোগের ক্ষেত্রে যদি বাদীকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার ঝামেলা পোহাতে হয় তাহলে এই উদ্যোগ মাঠে মারা যাবে।
৮। সকল জেলা শহরের টাউন সার্ভিসের গাড়িগুলো একটি সমবায় কাঠামোবদ্ধ বা পিপিপি কোম্পানীর আওতায় এনে একই লোগোর আওতায় পরিচালনা করতে হবে। তবে গাড়ির সামনে পেছনে এবং ২ পাশে রুট এর নাম্বার বা রুট এর জন্য কোনো কালার বা চিহ্ন থাকলে তা প্রদর্শণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৯। এলাকা ভিত্তিক চাঁদাবাজ লাইনম্যানদের একটি পদ্ধতির মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। তাদের স্বাক্ষরতা যোগ্যতা ও সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ থাকবে, তাদের নিয়োগ ও নিবন্ধন পদ্ধতি থাকবে তাদের পরিচয়পত্র ও নির্দিষ্ট ড্রেসকোড থাকবে। তারা ইজারাদার কোম্পানী কতৃক নিয়োজিত হবে। ইজারাদারের প্রতিনিধি হিসেবে লাইনম্যান যে কালেকাশান করবে তা সরকারী নকলরোধী স্টিকারদিয়ে করতে হবে। তাতে প্রতিটি স্টিকারের টাকা সরকারী খাতায় জমা হবে এবং প্রতিটি স্টিকারের ভ্যাটের টাকা আদায়ও নিশ্চিত হবে। উক্ত ফি এর অংশ বিশেষ ইজারাদার বা বেসরকারী সংস্থা পাবে। তাতে কথিত চাঁদাবাজদের সম্মানজনক পেশা হবে। তারা সড়কে পরিচ্ছন্নতা, যত্রতত্র পার্কিং, পরিবহনের নিরাপত্তা, চুরি রোধ, যন্ত্রাংশ চুরি রোধ ইত্যাদি তদারক করবে।
ঘ) চালক ব্যবস্থাপনা ও দক্ষতা উন্নয়ন
১) যেকোনো সরকারী চাকুরিতে আবেদনকারীদের গাড়ি চালনা ও ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে। অথবা জীবনযাপন দক্ষতা হিসেবে বিসিএস ও সরকারী চাকুরিতে আলাদা বিষয় বা টপিক যুক্ত করে সেখানে ড্রাইভিং দক্ষতার জন্য আলাদা নাম্বার যুক্ত করতে হবে, সমাজসেবার জন্য আলাদা নাম্বার, অগ্নি নির্বাপন প্রশিক্ষণ, স্কাউটিং, ক্যাডেটিং, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষন ইত্যাদি ১০টির মতো বিষয় ঠিক করে ১০০ মার্ক এর একটি জীবণধারণ দক্ষতা নামক বিষয় নির্ধারণ করতে হবে।
২) চালকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। যেহেতু এ ব্যাপারে দেশে ঘাটতি রয়েছে। শিক্ষিত যুবকেরা এই সেবায় কম আসে তাই বিকল্প হিসেবে ১ বছরের সড়ক আইন ও যোগাযোগ ডিপ্লোমা বা ৬ মাসের সড়ক সড়ক যোগাযোগ বিষয় সার্টিফিকেট কোর্স চালু করা যেতে পারে। এসব কোর্স সরকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারী প্রশিক্ষণ সংস্খাকে পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে তবে মূল্যায়ন ও সনদ প্রদান থাকবে সরকারী প্রতিষ্ঠানের হাতে। এসএসএসরি বদলে ৮ম শ্রেণী পাস করে অভিজ্ঞদের জন্য শিথিল করা যেতে পারে।
৩) চালকদের আচরণ বিষয়ক শর্ট প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। সহকারীদের প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। হোক সেটা মৌখিক কিংবা লিখিত। পাশাপাশি প্রতিটি কর্মীর নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে। যাতে তথ্য পাওয়া যায়।
৪) বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঐচ্চিক বিষয় হিসেবে গাড়ি চালনা যুক্ত করতে হবে। চূড়ান্ত পরীক্ষার পর ১ মাসের মধ্যে এই কোর্স এবং পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে এটা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা কারিগরি শিক্ষাবোর্ড এর বর্তমান প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যাবে না। তাতে পুরো পদক্ষেপ নিশ্চিত ব্যর্থ হবে। তাই এটা বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক সমন্বয় করবেন এবং ১টি ট্রেড লাইসেন্স আছে এমন ড্রাইভিং প্রতিষ্ঠান ও নিজের ড্রাইভিং ও ট্রেনিং লাইসেন্স আছে এমন কাউকে খন্ডকালিত ও চুক্তিভিত্তিক যুক্ত করতে পারবেন। শিক্ষার্থী সঠিকভাবে শিখলো কিনা তা সরকারী লাইসেন্সদাতা প্রতিষ্ঠান কতৃক পরীক্ষাগ্রহণের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
৫) এছাড়া ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উপর সকল শিক্ষার্থীদের জন্য নিজ নিজ ক্যাম্পাসে ৭ দিনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া অগ্নি নির্বাপন, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনার নিয়ে প্রশিক্ষণ আয়োজন করতে হবে।
৬) চালকেদর দক্ষতার জন্য গ্রেড ও পুরষ্কারের ব্যবস্থা করতে হবে। অপরাধের তারতম্য ভেদে কিছু চালককে এই পেশা থেকে কালো তালিকাভূক্ত করা যেতে পারে। এমনকি গাড়ির মালিক ও অন্য কর্মীদের জন্যও এটা প্রযোজ্য হতে পারে।
৭) প্রতিটি বাস টার্মিনালে পুলিশ ক্যাম্প ও তদারিক আদালত নামে বিশেষ আদালত থাকতে পারে। একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট সালিশি পদ্ধতিতে প্রাক আদালত হিসেবে যেকোনো সমস্যার তাৎক্ষনিক সুরাহার ব্যবস্থা করতে পারেন।
৮) কোনো যাত্রী আইন অমান্য করলেও উক্ত আদালত তার বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে আসতে পারেন। এই আদালতকে ভার্চুয়ালও করা যেতে পারে। বাদী বিবাদী অনলাইনে অংশ নিয়ে এর সুরাহা করতে পারেন।
৯) চালকদের সমিতি পদ্ধতিতে পেনশন স্কিম ও জীবনবীমা বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। পরিবহন খাতের জরিমানার টাকা থেকে চালকদের ‘‘লেবার ব্যাংক’’ চালু করে বিশেষ ঋণ, তাদের সন্তানদের জন্য শিক্ষাভাতা, বৃত্তি চালু করা যেতে পারে। অথবা কর্মসংস্থান ব্যাংকে এই প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত করা যেতে পারে।
ঙ) শব্দদূষণ, লেন ও হর্ণ
১) শ
