বিএনপি

এই সময়ে বিএনপির করনীয় কী? (২০২৫)

এই সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এর করনীয়

( সেপ্টেম্বর ২০২৫)

১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। সামরিক শাসনের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে হলে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল গঠন জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন।

বিএনপির মূল দর্শন ছিল বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। এটি একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ হিসেবে জিয়াউর রহমান উপস্থাপন করেন, যেখানে ধর্মীয় মূল্যবোধ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে প্রধান করে দেখা হয়। আওয়ামী লীগের “বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ” যেখানে মূলত ভাষা ও সংস্কৃতিনির্ভর ছিল, বিএনপির “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ” সেখানে ভৌগোলিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়।

বিএনপি শুরু থেকেই একটি বৃহৎ জোটধর্মী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এতে সাবেক মুসলিম লীগার, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর অংশ, বামপন্থী, ডানপন্থী, মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন পেশাজীবীকে একত্রিত করা হয়। এর ফলে দলটি দ্রুতই সারা দেশে বিস্তার লাভ করে।

বাংলাদেশে একটি মত প্রতিষ্ঠিত হয় যে, মধ্যপন্থী দল হিসেবে বিএনপিকে শক্তভাবে টিকিয়ে রাখতে হবে।  এবং সত্যিকার অর্থে তারা এরশাদ ও হাসিনার দু:শাসনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশী প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে আসছিলো। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতা সামনে আসার আগে বিএনপি জামাত জোট আওয়ামী লীগের মুল প্রতিপক্ষ হিসেবে কাজ করেছিল। এবং মুলত বিএনপি’র জন সমর্থনের ভয়ে হাসিনা ওয়াজেদ পরপর তিনটা ডামি নির্বাচন করেছে যাতে জনগনকে ভোট দেয়ার সুযোগ দেয়নি।

১৯৭৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। এরপর দলটি বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে দলটি একাধিকবার সরকার গঠন করে এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে টিকে থাকে।

এবং এই জনসমর্থন তাদেরকে আওয়ামী লীগের নির্যাতনের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয় এই জন সমর্থন বিএনপিকে ডুবিয়েছে। জনসমর্থনের আশায় বিএনপি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো কৌশলগত রাজনীতি ডিজাইন করতে পারেনি। যেটা জামায়াত পেরেছে। যদিও জামায়াতের কৌশল বিএনপির জন্য যথার্থ হতো না তবে তারা অন্য কৌশল নিতে পারতো।

বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিবিরের একচ্ছত্র বিজয় এবং ছাত্রদলের গোহারা পরাজয় বা শূন্যফল এমনকি বিপুল কম ভোট পাওয়া নিয়ে দলের মধ্যে অস্বস্তি ও আগামী নির্বাচন নিয়ে আতংক শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় তাদের করনীয় কি?

 

এই সময়ে বিএনপি’র করণীয় কি?

আজ থেকে ১৫ বছর আগের অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে ১৪-১৫ শতাংশ ভাসমান ভোটার থাকতো তারা ভোটোর ফলাফল নির্ধারণ করতো। বর্মানে অন্তত ৪৫% ভাসমান ভোটার রয়েছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। এই ভোটার যারা টানবে তারাই হাসবে শেষ হাসি। তাই সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে।

১) দলের সবাইকে মিডিয়াতে কথা বলতে না গিয়ে শুধু কয়েকজনকে নির্ধারণ করতে হবে। যাতে কেউ এমন কোনো কথা না বলে যাতে কোনো দল বা গোষ্টি নাখোশ হয়।

২) এই মুহুর্তে বাংলাদেশের ৮৫ শতাংশ মানুষ জুলাই আন্দোলন এর পক্ষে এবং নতুন বাংলাদেশের পক্ষে তাই। তাদেরকেও সেদিকে থাকতে হবে।

৩) দলের গঠনতন্ত্র দ্রুত পরিবর্তন করে আধুনিক বিশ্বের সাথে মিলিয়ে তৈরী করতে হবে। এমনভাবে তৈরী করতে হবে যেন বাজে লোকেরা দলের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হতে না পারে। এটা হবে তাদের মূল কাজ। তাহলে তাদের ৭০% সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

৪) তাদের প্রতিটি কমিটি অন্তত ৩ স্তরের নির্বাচিত পদ্ধতির মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। তাহলে দলের মধ্যে গ্রুপিং ও মারামারি হবেনা।

৫) জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে নানা কর্মসূচী দিতে হবে।

৬) বড়ো বড়ো শোডাউনের চেয়ে ছোট ছোট এলাকা ও ইউনিটভিত্তিক সভা দিতে হবে। যাতে জনগনের কাছে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলা যায় এবং তাদের কথা শোনা যায়।

৭) প্রতিটি এলাকায় সাম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া দরকার।

৮) ভঙ্গুর দলসমূহ, যেমন জাপা ও অন্যান্যদের কিছু লোককে এবং নির্দণলীয় ও গ্রহণযোগ্য কিছু লোককে দলে টেনে নেয়া দরকার। যে কৌশলটি জিয়াউর রহমান করেছিলেন এবং সফল হয়েছিলেন।

৯) প্রতিটি এলাকায় কিছু সামাজিক কাজ করা দরকার।

১০) আগামী জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে তারা কিভাবে প্রার্থী বাছাই করবে তার একটা নীতিমালা তৈরী করে তা ঘোষনা করা দরকার।

১১) এনসিপি, জামায়াতসহ সকল অগ্রসর দলকে নিয়ে অন্তত আগামী নির্বাচনটা একসাথে করা দরকার। যাতে সবাই মিলে ২০০ এর বেশী আসন পেয়ে সংষ্কার ও সংবিধান পরিবর্তন করা যায়।

১২) নির্বাচনী তফসিল ৩১ দফা কর্মসূচীর এর পাশাপাশি ‘‘জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা’’ এবং ‘‘স্কিল বাংলাদেশ ২০২৫’’ কর্মসূচী ঘোষণা করা ও সংষ্কারের রুপরেখা প্রকাশ করা। যাতে পুলিশ সেনা ও সরকারী কর্মচারীদের সুযোগ সুবিধা ও জবাদিহিতার বিষয়ে উল্লেখ করা।

১৩) জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহতের (সকল দলের) পরিবারের জন্য সম্মান ও সহযোগিতা করা।

১৪) জুলাই আন্দোলনে বিএনপির কর্মীদের অবদান নিয়ে একটি বিশেষ সংখ্যা। নিহত ও আহতদের অবদান তুলে ধরা। এই বই সারা দেশে কর্মীদের মাঝে ও জন সাধারণের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা।

১৫) প্রযুক্তির মাধ্যমে সংগঠনকে গুচিয়ে নতুন যাত্রা শুরু করা।

১৬) তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি গঠন করে সংবিধানকে শক্ত করা। মনে রাখতে হবে। এটাই শেষ সুযোগ। কারণ এখন কেউ আর লীগে যাওয়ার সুযোগ নেই।, জামাতে গিয়ে রাতারাতি নেতা হতে পারবেনা, জাপাতে যাবে না, এনসিপি কিছু লোক নিতে পারে। কিন্তু কিছু নেতা হারিয়ে যদি দলকে ও দলের জনসমর্থনরকে বাচানো যায়। সেটাই ভাল নয় কি?

১৭) দলের মধ্যে সমাজ সেবা ইউনিট, স্বেচ্ছাসেবী ইউনিট, গবেষনা ইউনিট, নারী ইউনিট, আইসিটি ইউনিট, ডিজিটাল মার্কেটিং ইউনিট, পলিসি ইউনিট ও মেধাবী ছাত্র ইউনিটকে সঠিক জনবল দ্বারা সচল করা।

১৮) নতুন গঠনতন্ত্র তৈরী করে কমিটিগুলো নতুন সংবিধান অনুসারে পূনরায় পূণগঠন করা।

নতুন সংবিধান তৈরী -১৫ দিন ও জাতীয় আহবায়ক কমিটি গঠন। একটি অ্যাপ তৈরী-৩০ দিন ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পরীক্ষিতদের দ্বারা আহবায়ক কমিটি গঠন। অ্যাপ দ্বারা নতুন করে সারা দেশে নতুন নিয়মে নেতাকর্মী অন্তভূক্ত করা- ১৫ দিন। ও তৃণমূল পর্যায়ে আহবায়ক কমিটি গঠন। মোট সময় ৩০ দিন। ধরে নিলাম ৯০ দিন বা ৩ মাস।

এবার  ৩০ দিনে একযোগে তৃণমূলে কাউন্সিল ও মূল কমিটি গঠন। পরের দিন ৩০দিনে জেলা, উপজেলা, সিটি ও পৌর কমিটি গঠন। পরের ৩০ দিনে জাতীয় কমিটি গঠন। মোট ৬ মাসের একটি সংগঠন গোচানোর পরিকল্পনা।

এর মাধ্যমে দলে আগাছা দূর হবে। যারা মন্দ তারাও ক্ষুব্দ হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ তারা একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব থেকে বাদ পড়েছে দল থেকে নয়।

এখন যেহেতু আশংকা আছে। কিছু লোক অন্যদলে চলে যাবে। প্রথমত মন্দ লোকেরা চলে গেলে সেটা দলের জন্য ভাল হবে। কারণ কেন্দ্র দখল করে ভোট জেতার দিন শেষ। জনগনের সমর্থন ও ভোট নিয়ে জিততে হবে।

দ্বিতীয়ত, তারপরও লোকেরা যেন অন্যদলে যেতে না পারে। সেজন্য সরকারকে চাপ দিয়ে ‘‘রাজনৈতিক সংগঠন বিধিমালা’’ জারি করে সেখানে এমন কিছু জিনিস যুক্ত করতে হবে। যাতে এটা কোনো ফ্যাক্টর না হয়। যেমন- একদল থেকে আরেকদলে গিয়ে ১ বছরের মধ্যে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেনা। পুরো আইনটি আমি ড্রাপ্ট করে শেয়ার করেছি। রাজনৈতিক সংগঠন বিধিমালা – লিখে গুগল থেকে সার্চ দিলেই পাওয়া যাবে। এবং প্রয়োজনে সরকারকে অনুরোধ করে নির্বাচন পেছালেও খারাপ হয়না। যদি এই ৬ মাসের সঠিক পরিকল্পনা ডিজাইন ও বাস্তবায়ন করা যায়। এজন্য আলাদা কমিটিও করা যেতে পারে।

বিএনপিকে মনে রাখতে হবে-

১) ভারত কখনো কাউকে ক্ষমতায় বসাতে পারে না। তবে ষড়যন্ত্র করে নামাতে পারে যদি তার ভুল থাকে এবং তার বিরুদ্ধে শক্তিশালী সংগঠন থাকে। ২১ বছর লীগ ক্ষমতায় আসেনি ভারত তাকে বসাতে পারেনি। লীগ নিজেরাই ম্যাকানিজম করে বসেছে। তারা শুধু টিকে থাকতে সহযোগিতা করতেছে কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তাই ভারতের কাছে সাহায্য চাওয়ার কিছু নেই। শুধু তাদের একটা বার্তা দিতে হবে। যে বিএনপি ভারতের স্বার্থ ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়। এটা প্রকাশ্যে দেয়ার যেমন দরকার নেই। তেমনি অতীতের প্রতিটি নির্বাচনের আগে যেমন ভারতের নেতাদের কাছে গিয়ে তারা বসেছিল সেভাবে বসে থাকারও দরকার নেই। এটা একটি কূটনৈতিক বার্তা দিলেই শেষ হয়ে যাবে। পাশাপাশি এটাও জানাতে হবে যে, ভারতের হস্তক্ষেপ ও একতরফা মানসিকতাও মেনে নেয়া হবেনা।

২)  যারা বলে লীগের অনেক জনসমর্থন আছে সেটা ভুল। তাদের সমর্থন ১০% থাকলেও তারা মাঠ দখলে রাখতে পারতো। । হিসাবটা সহজ করে দেই। ১৯৭১ সালে তাদের সমর্থন ছিলো ৯০%। ৭২ থেকে ৭৪ এর দ:শাসনে তা ১৫-২০% এর নিচে নেমে আসে। পরে হাসিনা দায়িত্ব নিলে এবং বিএনপি জামাতের অনৈক্যের কারণ এটা ৩০-৩৫% শতাংশ উন্নত হয়। কিন্তু ২০০৯-২০২৪ এর দুশাসনে এটা ২০-২৫% শতাংশে নেমে আসে। এটা ২দি ৩০% থাকতো বাকী আরো ১০% শতাংম মোটিভেট করে তারা সঠিক নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতায় থাকতো। ভোট চুরি করে ক্ষমতায় থাকতো হতো না। ২৪ এর গণহত্যায় এটি ১০ শতাংশের নিচে নেমে যায়। ফলে তাদের বিরুদ্ধে চলে যায় ৯০% শতাংশ মানুষ। ৫-৭% মানুষ রাস্তায় নেমেছে তাতেই তাদের সরকার দল নেতা এমনকি পুলিশ পর্যন্ত পালিয়ে যায়। অথচ জনতার হাতে কোথাও কোনো অস্ত্রও ছিলনা। সূতরাং ১০% সমর্থন থাকলে আর সেখান থেকে ১% শতাংশ মানুষকে রাস্তায় নামাতে পারলেও তারা নিয়ন্ত্রণ নিতে পারতো। তাদের লোকজন একজন ২০টা আইডি খুলে নোংরামি করতেছে। সে লোক ঢাকায় একেকদিন একেক এলাকায় মিছিল করতেছে। তাতে মনে হতে পারে তারা অনেক বেশী আসলে তা নয়। সূতরাং লীগের প্রতি সফট থেকে তাদের সমর্থন ভোটে বাগানোর চিন্তাও তাদের জন্য আত্মঘাতি হবে।

৩) কোনো দেশে অভ্যুত্থান হলে রাষ্ট্রপতি থাকার প্রয়োজন হয়না। বাংলাদেশেও একাধিকবার সংবিধানের বাইরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছি। রাষ্ট্রপতির পক্ষ নিয়ে তারা যে ভুল করেছে। তা আজ দেশের সমস্ত কাজে একটা বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। এধরনের ভুল থেকে বিএনপিকে বেরিয়ে আসতে হবে।

৪) এদেশের সমস্যার মুল কারণ ৭২ এর সংবিধান এবং পুরনো আমলের আইন। এগুলো বদলাতে পারলে বিএনপির জন্য ভাল হবে। বিপ্লবী ও অন্তবর্তী সরকার এগুলো যত সহজে পারে। নির্বাচিত সরকার তত সহজে পারে না। কারণ তাদেরকে অনেক নিয়ম মানতে হয়। এই পরিবর্তনটা করার ক্ষেত্রে বিএনপি নিজেদের দাবী আদায় করতে করে নিতে পারে। এবং প্রয়োজনে তাদের কোনো বিষয় পছন্দ না হলে তারা আজকে যেটা বলছে যে তারা ক্ষমতায় গেলে সংষ্কার করবে। তখনতো তারা তা পরিবর্তন করতে পারবে যদি সুযোগ থাকে।

৫) পৃথিবীতে বহুদল ও নেতা শেষ হয়ে গেছে ‘‘আমার লোক’’ সেভ করার জন্য। শেখ মুজিবুর রহমান খুব ভাল উদাহরণ। যদি কারো দলে সংগ্রামে অবদান থাকে। তাকে বিভিন্নভাবে পুরষ্কৃত করা যাবে। সে কথাগুলো তাদেরকে বোঝাতে হবে। যতজনের অবদান থাকবে সবাইকে এমপি-চেয়ারম্যান বানানো যাবে না। আর অবদানের জন্য কোনো অন্যায় করার সুযোগও দেয়া যাবে না। লীগের মতো। এটা তাদের মাথায় ঢোকাতে হবে। প্রাথমিকভাবে এই চ্যালেঞ্চটা বিএনপিকে নিতে হবে এবং দলকে টিকিয়ে দেশের জন্য কাজ করতে হলে এখান থেকে সফল হতে হবে।

৬)  ক্ষমতায় গেলেও যদি মৌলিক সংষ্কার না করে তাহলে বিএনপিকে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। প্রথমত, মানুষ সংষ্কার না বুঝলেও পরিবর্তন বুঝে এবং জনগন পরিবর্তন চায় এটা বিএনপিকে বুঝতে হবে। দ্বিতীয়ত, বর্তমান পদ্ধতির খুটিনাটি পতিতরা জানে তাই তা কাজে লাগিয়ে তারা ফিরে আসতে পারে। কোনো দলের ফিরে আসা খারাপ কিছু নয়। কিন্তু ফিরে এসে তারা গণহত্যা চালাবে সেটা তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিচ্ছে। সূতরায় এজন্য জাতীয় আরো ৫ বছর ধরে রাখা দরকার। বড় দল হিসেবে এখানে বিএনপির দায়িত্ব সবচেয়ে বেশী।  ঐক্য ধরে রাখলে সংষ্কার সহজ হবে। সংষ্কার নির্বাচনের আগে হোক পরে হোক সঠিকভাবে করতে পারলে ইতিবাচক রাজনীতির জন্য হবে। ধ্বংসাত্বক রাজনীতির কবর রচিত হবে।

যদিও, বর্তমান অন্তবর্তী সরকার যে দূর্বলতা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখাচ্ছে। তাতে তারা সঠিক সংষ্কার করতে পারবে কিনা এ ব্যাপারে ভরসা করা যাচ্ছে না।

বিএনপি একদিকে যেমন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, তেমনি ক্ষমতায় থাকাকালে নানা বিতর্কে জড়িয়েছে। দুর্নীতি, দলীয় সন্ত্রাস, রাজনৈতিক সহিংসতা, এবং জামায়াতসহ ইসলামপন্থী দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া নিয়ে বিএনপি সমালোচিত হয়েছে। তবে একইসাথে তারা একাধিকবার গণআন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার বিরোধী লড়াইয়েও ভূমিকা রেখেছে।

এই লেখা আমি বাংলাদেশের অন্যান্য দলের জন্যও লিখতে চাই। কারো প্রিয় বা অপ্রিয় হওয়ার জন্য নয়। কাউকে সহযোগিতা বা কাউকে ঠেকানানোর জন্য নয়। আমার দেশের জন্য। কারণ এদেশের মানুষ থাকলে দেশ থাকবে, দেশ থাকলে রাজনীতি থাকবে, রাজনীতি থাকলে দল থাকবে।

এখন সবগুলো যদি ইতিবাচক রাজনীতি করে এবং কার চাইতে কে ভাল করতে পারে। সে প্রতিযোগিতা করে এবং সাইকোজম থেকে বের হতে পারে। তাহলে আমাদের সকলের জন্য মঙ্গল। আমরা আমাদের সন্তান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে চিন্তিত। তারা কোন দেশে বাস করবে জানি না। সে ভয় আতংক থেকে নিজের কাজ রুটি রুজি বাদ দিয়ে মাসের পর মাস সরকার ও দলকে নানা পরামর্শ লিখছি, মেইল করছি, পত্রিকায় পাঠাচ্ছি, ব্লগে লিখছি।

একজন সাধারণ নাগরিক হলেও পলিসি বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমিতো অন্তত এতটুকু করতে পারে।

ধন্যবাদান্তে- জাহাঙ্গীর আলম শোভন

তাই বিগত ১ বছরে আমি সরকারকে ৯০০ পৃষ্ঠায় যেসব পরামর্শ দিয়েছি। সেগুলোর গুগল লিংকও সাথে দিলাম।