লীগ

 আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশল

এই সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশলগুলো কেমন হবে?

 

প্রথমত,  আওয়ামী লীগকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা রাজনৈতিক কৌশল পরিবর্তন করবে কিনা? দ্বিতীয়ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারা কি কৌশল অবলম্বন করবে। যদি তারা আগের মতো তাদের নেত্রী শেখ হাসিনার থিয়রী অনুযায়ী নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়। তাহলে এটি একান্তই তাদের দায়। যদি ইতিবাচক রাজনীতি করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাহলে আমি দেশের স্বার্থে তাদেরকে কিছু পরামর্শ দিতে চাই। তবে পরামর্শ দেয়ার আগে কিছু বিষয় বিশ্লেষণ করে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করি।

প্রথম প্রশ্ন হলো: আওয়ামী লীগ কি ফিরে আসতে পারবে? কখন কিভাবে?

যদি ১৯৭২-৭৪ এ ব্যর্থ হওয়ার পর এবং জনমত তাদের বিপক্ষে যাওয়ার পর তারা একুশ বছর পর ফিরতে পারে। বিশেষ করে আজকের যত অভিযোগ লীগের বিরুদ্ধে এগুলো প্রায় সবই ছিল। হয়তো পাচার করার মতো অর্থ ছিলনা বলে পাচার হয়নি। কিন্তু দূর্নীতি হয়েছে ব্যাপক। যা একটা দূর্ভিক্ষ ডেকে এনেছিল। আর যে ব্যাংক ডাকাতির কথা বলেছিল। সেটি আমার ধারণা সত্য নয়। আর গুমের মাধ্যমে মানুষ হত্যা না করলেও মব বিরোধী নির্যাতনে হাসিনা আমলের পরের বঙ্গবন্ধুর আমল বিবেচিত হবে। এটা আওয়ামীলীগ বিরোধীরা হয়তো কড়া ভাষায় বলবে পক্ষের লোকেরা অস্বীকার করতে। কিন্তু শুধু পত্রিকা আর থানা রিপোর্টগুলো নিয়ে একটি স্টাডি করলে বেরিয়ে আসবে।  এটা লুকানোর বা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। হয়তো সাময়িক ছাপ দিয়ে রাখা যাবে।

এছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মানুষ যেভাবে নিরবে মেনে নিয়েছিল। সেটা কিন্তু ৪ বছরের ব্যর্থতার ফসল। হয়তো কেউ দু:শাসন চায়নি। কিন্তু কৌশলগত ভুলের কারণে হয়েছে। আর সব অপরাধ লীগের লোকেরা করেছে এটাও ঠিক নয়। লুটেরা সুযোগ সন্ধানীরাও করেছে যেমনটা গত ১৫ বছর হয়েছে। ২/৪টা ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু বছরের পর বছর ঘটলে তার দায় সরকার ও দলের আছে।

তাই সে অবস্থা থেকে যদি ফিরে আসতে পারে। তাহলে এখন কেন পারবেনা? তবে কতদিন পরে পারবে? কোন কৌশলে পারবে? কি ধরনের নেতৃত্বের প্রয়োজন সেটা ভিন্ন বিশ্লেষণ। পাঠকেরা চাইলে আমি অন্য লেখায় সেটা আলোচনা করবো।

যদি পাকিস্তানী বাহিনীকে সব ধরনের সমর্থন দেয়া বা রাজনৈতিক দোষারোপের ভাষায় বলতে গেলে সব ধরনের অপকর্মের সমর্থন দেয়ার পর তারা রাজনীতির মাঠে ফিরতে পারে তাহলে। আওয়ামী লীগও ফিরতে পারবে। সব যুক্তি ব্যাখ্যা তাই বলে।

দ্বিতীয় প্রশ্ন: আওয়ামী না ফেরার সম্ভাবনা আছে কিনা? বা তারা মুসলিম লীগ জাতীয় পার্টির মতো হওয়ার আশংকা আছে কিনা? বা তারা ছোটদলে পরিণত হওয়ার বা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফ্যাক্টরবিহীন কোনো দল হওয়ার বিষয় আছে কিনা?

আমরা সরাসরি কোনো সিদ্ধান্তে না গিয়ে বিষয়টি বিশ্লেষণ করি-

হ্যাঁ আওয়ামী লীগের মুসলিম হওয়ার আশংকা আছে। কিভাবে?

যদি ৯৫ ভাগ সমর্থন থেকে .০০৫ ভাগে মুসলিম লীগ আসতে আওয়ামী লীগ ধীরে ধীরে ছোট দল হতে পারে। মুসলিম লীগ ভ্যানিস হয়ে গেছে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। কারণ ১৯৪৭ সালে বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করেছে। নিজেদের অধিকার, স্বাধীনতা ও ভাগ্য উন্নয়নের জন্য লড়াই করেছে। কিন্তু ৪৭-৭১ উন্নয়ন হয়েছে নতুন দেশ হয়েছে কিন্তু বাঙালী মাথা তুলে দাড়াতে পারেনি। তাদের অর্থ সম্পদ লুট হয়েছে। পশ্চিম পাকিস্তানের আরেকটি জাতিগোষ্টি তাদের দমন নিপীড়ন করেছে। ফলে তারা নতুন করে দেশ স্বাধীন করেছে। আর যারা দেশের স্বাধীনতা হরণ করতে চেয়েছে। তারাতো আস্তাকুড়ে হারিয়ে যাবে। এটাই স্বাভাবিক আর সেজন্য মুসলিম লীগ হারিয়ে গেছে। তাছাড়া সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি এই যুগে চলবেনা। বাংলাদেশ বিরোধীদের রাজনীতিও চলার কারণ নেই।

এবার আসি মুসলিম লীগের সাথে আওয়ামী লীগের কোথায় কোথায় মিল আছে। শুধু একটা জায়গা ছাড়া আর সবক্ষেত্রে মিলে গেছে। একটা জায়গা স্বাধীনতাযুদ্ধ বিগত আড়াইশো বছরে শত শত বার হয়েছে। কিন্তু আমরা নতুন নিজেদের মানচিত্র ও পতাকা পেয়েছি। শুধু ৭১ সালে। তাই ৭১ এর সাথে অন্যটির মিল নেই। ৭১ এর গৌরব ও অর্জন অন্যগুলোর চেয়ে আলাদা।

কিন্তু সে গৌরব কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগ নিজেদেরকে মুসলিম লীগ বা তার কাছাকাছি যাওয়া থেকে হয়তো ঠেকাতে পারবেনা। কারণ

১) ৪৭ থেকে ৭১ একটি নতুন প্রজন্ম আসার সাথে সাথে বাঙালীর অনেক কিছু বদলে গিয়েছে।

২) ৪৭ থেকে ৭১ এ সরকার বা সরকারী দল কতৃক ২৪ বছরে যে পরিমাণ হত্যাকান্ড হয়েছে। ৭১ থেকে ২৪ এর শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ কতৃক তার অন্তত ১০গুন বেশেী হয়ে। সে ২৪ বছরে। (৭২-৭৫, ৯৬-২০০১, ২০০৯-২০২৪) আমি বলছিনা অন্যদের দ্বারা হয়নি। যেহেতু লেখাটা আওয়ামী লীগকে নিয়ে তাই এখানে তাদেরটাই আলোচনা করছি।

৩) পাকিস্তানী নির্যাতনের যুদ্বের আগে। শুধু কিছু মৃত লাশের ছবি ছিল। আর আওয়ামী নির্যাতনের নির্মম ভিডিও, দলীয় নেত্রীর নিদের্শনা মাঠে ময়দানে নেতা কর্মীদের অস্তসহ হামালার ছবি ভিডিও। এটা নিজদেশের মানুষ মারার ক্ষেত্রে গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি ছাড়া কোনো গণতান্ত্রিক দেশে আছে বলে আমার জানা নেই। যারা রাজনীতি সচেতন তারা এটা নিয়ে স্টাডি করতে পারেন। সূতরাং নতুন প্রজন্মের কাছে এগুলো যখন বার বার আসবে সেখান থেকে আওয়ামীলীগের বিলুপ্তির পথ ত্বরান্বিত হবে।

৩) যেভাবে অর্থ লুট করার সুযোগ করে দিয়েছে। ব্যাংক গুলোকে খালি করে বিদেশে অর্থ পাচার করেছে। এই ঘটনায় হয়তো আওয়ামী লীগের ১ হাজার লাভবান হয়েছে। আর ছোটখাটো চাঁদাবাজি, টেন্ডার দূর্নীতি করে আমি যদি ধরে নিই প্রতি ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডে ২০ জন লাভবান হয়েছে তাহলে তাদের সংখ্যা দাড়াবে ১ লাখের কিছু বেশী। এর পর চাকুরী ভাতা ও টেন্ডার সুবিধায় এই সংখ্যা কোনোভাবে ১০ লাখের বেশী হবে না।

তাহলে বাকী লোকদের মধ্যে কি হতাশা নেই।? তারা কেন আওয়ামী লীগের জন্য মাঠে নামবে? তাদের কি ক্ষোভ নেই? হয়তো ক্ষমতা দখল করলে তারা সমর্থন দিবে। কারণ সব দলও দেশে এক তৃতীয়াংশ লোকের কোনো দল নেই। এরা ক্ষমতাসীনদের হুকুম মানে।

এবার আসি যে ১০ লক্ষ লোক সুবিধা পেয়েছে তারাকি সবাই মাঠে নামবে?

প্রথম ১ লক্ষ নামবেনা। তারা যা কামিয়েছে বাকী জীবন বসে খেতে পারবে।  এখানে এসে তাদের সে ঝুঁকি নেয়ার কারণ নেই। যখন সম্পদের মালিক হয়ে যায় মানুষ তখন সে তার সম্পদ হারানোর ঝুঁকি নেয়না।

আরো ১ লক্ষ নামবেনা। তারা ভাববে তাদের যা পাওয়ার তারা তারচেয়ে কম পেয়েছে। অন্যরা বেশী পেয়েছে। তারা বার বার প্রতারিত হয়েছে। সূতরাং তারা আর নামবেনা।

আরো ১ লক্ষ নামবেনা। তারা বুঝতে পারবে। আওয়ামী লীগ আবার নেতিবাচক রাজনীতি করবে। হয়তো এসে প্রতিশোধ নেবে। মানুষ কিছুদিন চুপ থাকবে। তারপর আবার বিতাড়িত করবে। একবার পালিয়ে বেঁচেছে। পরের বার সে সুযোগও পাবে না।

আরো ১ লক্ষ নামবেনা। তারা বিশ্বাস করবে। এতো সহজে ফিরে আসতে লীগ ফিরে আসতে পারবেনা। কারণ যেখানে তাদের পুলিশ এবং অস্ত্রধারী বাহিনী মাঠে ছিল। এবং জনগনের মাত্র হতো ১০% মাঠে নেমেছে এবং জনগন ছিল নিরস্ত্র। তাদের সাথে যেহেতু তারা পারেনি। এখনতো আরো পারবেনা। কারণ এখন বিএনপি জামায়াতের লোকজন সব মাঠে ওপেন হয়ে গেছে। আগের চেয়ে তাদের জনবল এখন অন্তত ৫ গুন বেশী।

আরো ১ লক্ষ মাঠে নামবেনা। তারা জানে যে, পিলখানা হত্যাকান্ড কারা কেন ঘটিয়েছে। এবং সে কারণে সেনাবাহিনী কখনো লীগকে ফিরতে দেবে না। ওখানে তাদের ২/৪/১০টা অফিসার থাকতে পারে। কিন্তু পুরো বাহিনী কখনো তাদের অফিসারের খুনীদের ফিরতে দিবে না।

আমার ধারণা যদি ভুল হতো বা লীগের সমর্থন থাকতো তাহলে তারা যে সাংগঠনিক মুজবতি ছিল তারা মাঠ দখল করা কোনো ব্যাপার না। কিন্তু ব্যাপারটা তা হয়নি।

১/২শ লোক ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ঝটিকা মিছিল করে। এজন্য মিছিল প্রতি আবার জনে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। তাহলে ব্যাপারটা বোঝা উচিৎ।

এখন আসি আরেকটা প্রশ্নে: এই সময় আওয়ামী লীগের ভোট ও জনসমর্থন কতো?

ক) প্রথমে মনে রাখতে হবে ১৯৯১ থেকে ২০০১ এই ৩ নির্বাচনে তারা ৩০% থেকে ৩৭% এর মধ্যে ছিল। ২০০৮ এর ১৪ দল মিলে এটা ৪২% হয়েছে। যারা বলছে তাদের ভোট ৪৫-৬০% তারা কল্পনার জগতে আছে। বাস্তবে নেই।

খ) যদি তাদের কমবেশী ৩০%ও থাকতো তাহলে বিগত নির্বাচনগুলোতে তারা মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতো না। তারা গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেখেই নির্বাচনে জোচ্চুরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জনমর্তণ থাকলে তার দরকার হতো না।

গ) রাজনৈতিক ব্যর্থতার কারণে তাদের জন সমর্থন যদি ৭১ থেকে ৯১তে ৯০% থেকে ৩০%  আসতে পারে। মানে ৩ ভাগের ২ ভাগ সরে যেতে পারে। তাহলে ২০০৮ থেকে ২০২৪ এ এসে এটা কত শতাংশ কমতে পারে? যদি ধরে নিই হিন্দু জনগোষ্টি আছে। তারপরও এটা এই মুহুর্তে হিন্দু ৮% সাথে মুসলিম (৩২-৮=২৪- (২৪/৩)=১৬%। মানে তাদের সর্বোচ্চ ভোট এখন ১৫-১৬% এর বেশী নয়। এর কমও হতে পারে। মনে রাখতে হবে ২৪ এর জুলাইতে তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের ৯জনকে হত্যা করেছে। তাদের একটা অংশ তাদের সাথে নেই। যারা আছে তাদের মধ্যে রাস্তায় নামার লোক আরো কম।

এটা আমার এনালাইসিস। অন্যরা একমত নাও হতে পারেন।

আরেকটি বিষয় হলো- এই বিষয়গুলো তাদের গবেষণা সেল ভাল করে জানে। আর এজন্য তাদের এখন দুটো ভরসা প্রথমত- যারা ক্ষমতায় আছে বা যারা যাবে তাদেরকে ব্যর্থ করে দেয়া। দ্বিতীয়ত- কিছু লোককে রাস্তায় নামার পর যদি কিছু লাশ ফালানো যায়। তাহলে সেটা দিয়ে জনগনের সিমপ্যাথী আদায় করা যায়। যদি তারা মাঠে নামলে সাধারণ জনগন নিরব থাকে তাদের তাদের কাজ হয়ে যাবে। কারণ তাদের প্রচুর টাকা ও অর্থ আছে। যদি এটা করা যায় দ্বিতীয় ধাপে তারা ভারত থেকে ছদ্মবেশে বাহিনী ঢোকাতে পারবে। পুলিশ, আমলা ও সেনায় তাদের লোকদের দ্বারা গৃহযুদ্ধ শুরু করতে পারবে। তারা এখন সে চেষ্টা করছে।

আমার প্রশ্ন হলো?

১) ইতিবাচক রাজনীতির মাধ্যমে ৫/১০/১৫ কিংবা ২১ বছর পর ফিরলে অসুবিধা কোথায়। তারা যদি দল ও বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসে তাদের নীতিতে সেটা হওয়া উচিৎ।

২) হাসিনাকে এনেই তাড়াতাড়ি বসাতে হবে এটা যদি লক্ষ্য হয়। তাহলে তাদের লক্ষতো জনগন বুঝে যাবে যে তারা আরো কিছু মানুষ হত্যা করতে চায় আরো কিছু টাকা লুটতে চায়। এটা যখন পরিষ্কার হয়ে যাবে তাতে কি তাদের ফেরা সহজ হবে?

এবার মুল বিষয়ে আসি এখন তাদের কি করা উচিত?

১)  যদি দলকে বাঁচাতে হয়। তাহলে অবশ্যই ইতিবাচক রাজনীতি করতে হবে। ৫/১০ বছরের জন্য পিছিয়ে গেলেও দল বেঁচে থাকবো। যারা ক্ষমতায় থাকবে। তারা সামলাতে না পারলে পরবর্তী প্রজন্ম দেশের হাল ধরতে পারবে।

২) বিভক্তি ও প্রতিশোধের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এই প্রজন্ম তা কোনোভাবে গ্রহণ করবেনা।

৩) ইতিবাচক ও ক্লিন ইমেজের লোক দিয়ে দল পূণগঠন করা যায়। এটার জন্য কারো অনুমতি চাওয়ার ব্যাপার নয়। আর যদি অনুমতি চায়। তাহলে বোঝা যাবে নতুন করে দল ঘুচিয়ে আসার কোনো ইচ্ছে তাদের নেই। তারা আসলে রাজনীতির নাটক মঞ্চস্থ করছে।

৪) অবশ্যই অপরাধ স্বীকার করে অপরাধীদের দল থেকে বাদ দিয়ে এবং তাদের বিচার দাবী করে আওয়ামীলীগকে ফিরতে হবে। তখন তাদের বর্তমান সমর্থন বাড়ার সম্ভাবনা থাকবে।

৫) সবচেয়ে ভাল হয়। আওয়ামী লীগকে ইতিহাসের পাতায় স্থান দিয়ে নতনুন নামে নতুন করে ফিরে আসতে। তাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যা তারা ধারণ করতে চায় তা নিয়েও ফিরে আসা যায়।

আর যদি তারা মনে করে আওয়ামী লীগ একটা ব্রান্ড। এটাকে ছাড়া যাবে না। তাহলে মুসলিম লীগও একটা ব্রান্ড ছিল। মনে রাখতে হবে।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ আওয়ামী লীগের একক ও একমাত্র অবদান নয়। আরো অনেক পক্ষ ছিল। আর ৪৭ এর পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় মুসলিম লীগের অবদান তারচেয়ে বেশী ছিল।

সাময়িক সফলতা নাকি চূড়ান্ত বিজয়

আর একটা কথা সাময়িক সফলতা কঠিন কিছু নয়। কিন্তু দীর্ঘস্তায়ী সফলতা আনতে না পারলে দলকে টেকানো যাবে না। মির জাফর তার কাজে সফল হয়ে তার সমর্থিত ইংরেজীদের ১৯০ বছরের জন্য ক্ষমতায় বসিয়েছে। কিন্তু ইতিহাস তাকে মীরজাফর বা বিশ্বাসঘাতক হিসেবে দেখেছে। ভেবে দেখুন যদি তার পরবর্তী বংশধর  ইংরেজীদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে পারতো তাহলে তার বংশদের এখন মানুষের কুটুক্তি আর অপমান সইতে হতো না।

তাই লীগের যারা আছেন তারা ও তাদের উত্তরাধীদেরকে মানুষের কুটুক্তি থেকে বাঁচাতে হয়তো ইতিবাচক রাজনীতিতে ফিরতে হবে। তাহলে রাজনীতির বাইরে থাকতে হবে।

যদি তারা অন্য দলে বা নতুন দলে বা লীগকে ইতিবাচক ধারায় ফেরাতে পারে সেটাও তাদের বিজয়। ক্ষমতা দখল করে মানুষ মারা বা টাকা লুট বিজয় হতে পারে না। যেমন তারা হুমকি দিচ্ছে।

হ্যাঁ জামায়াত মানুষের কাছে ঘৃণিত ছিল এখনো বেশীরভাগ মানুষের কাছে ঘৃণিত থাকতে পারতো। কিন্তু তা হয়নি। কয়েকটি কারণে এখান থেকে আওয়ামী লীগ শিক্ষা নিতে পারে।
১) তারা দেশ স্বাধীনের পর নতুন দেশ মেনে নিয়ে রাজনীতি করছে। পরোক্ষভাবে হলেও তারা তাদের ভুল শিকার করে অবস্থান পরিবর্তন করেছে।

২) তাদের পাকিস্তান পন্থী রচনা ছিল। তারা পাকিস্তানকে ভালো বাসতে পারে। কিন্তু পাকিস্তান সরকারের সাথে তাদের সম্পর্ক কখনো ভাল ছিল না। তাই তারা দেশকে পাকিস্তান বানাবে এই বয়ান প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

৩) তারা ইতিবাচতক রাজনীতিতে ফিরেছে। এবং প্রথাগত রাজনীতিতে নির্বাচনী লড়াইগুলো অব্যাহত রেখেছে।

৪) মূল দলের নাম না পাল্টালেও ছাত্র সংগঠন এর নাম বদলেছে। ফলে সেটা তাদের ব্যাপক সফলতা দিয়েছে।

৫) যুদ্ধের সময় পাকিস্তান সমর্থনের দায় তাদের আছে। কিন্তু সেটা তারা কতটুকু দোষী সেটা বিবেচনায় না এসে একসময়তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে পরে বন্ধুত্ব করতে না পেরে। লীগ মুখে যুদ্ধাপরাধ বলে কাগজে কলমে মানবতাবিরোধী কোর্ট বানিয়ে সাক্ষী সাজিয়ে তাদের ফাঁসি দেয়ার মাধ্যমে তাদেরকে এক ধরনের দায়মুক্তি দিয়েছে। লীগের লোকেরা বুঝতেই পারেনি। ঘটনা কি ঘটছে।

অথচ যদি তারা যতটুকু দোষ করেছে ততটুকুই অভিযুক্ত হতো। আজকে তাদের জেল ও ফাসি না হলেও তারা দোষী থাকতো। এখন নতুন প্রজন্ম মনে করে নিশ্চই ত