Sound Pullulation, ‍Boarder

আর্থিক সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের উদাহরণ

আর্থিক সংকট মোকাবিলায় নানা দেশ

 

বর্তমানে বাংলাদেশ ঘোর আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এটি কোনো গোপন বিষয় নয়।  এই সংকটের কারণ আমরা অবগত আছি। তেমনি এই সংকট আমাদের রাষ্ট্র ও সামাজিক জীবনে কি কি সংকট তৈরী করছে। সেগুলো আমরা প্রতিনিয়ত মোকাবেলা করছি। আমাদের করনীয় কি হতে পারে। তা নিয়ে আলোচনা করার আগে আমরা বিগত নিকট অতীতে  আর্থিক সংকট মোকাবিলায় পৃথিবীর দেশসমূহ কী কী ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তার উপর একবার আলোকপাত করতে পারি।

 দক্ষিণ কোরিয়া (এশীয় আর্থিক সংকট, ১৯৯৭)

বিস্তারিত পরিস্থিতি:
১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে থাইল্যান্ডের মুদ্রা টাক পড়লে সংকট দ্রুত দক্ষিণ কোরিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। নভেম্বর নাগাদ, ডলারের বিপরীতে কোরিয়ার মুদ্রা (ওয়ন) এর মান প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল মাত্র ৩.৯ বিলিয়ন ডলার, যা মাত্র এক সপ্তাহের আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট ছিল। বড় শিল্পগোষ্ঠী (চেবল) যেমন হুন্দাই, ডেইমু, এসকে গ্রুপ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার উপক্রম হয়।

সফল উদ্যোগ ও কৌশল:

  • আইএমএফের শর্তসাপেক্ষ ঋণ:৫৮ বিলিয়ন ডলারের বেইলআউট প্যাকেজ পায়, তবে শর্ত ছিল কঠোর সংস্কার।
  • ব্যাংক পুনর্গঠন:১৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে ৫টি বন্ধ করে দেওয়া হয়, বাকিগুলোতে সরকারি অর্থ ঢেলে পুনঃপুঁজিকরণ করা হয়।
  • চেবল সংস্কার:চেবলগুলোকে তাদের দুর্বল ব্যবসা বিক্রি, ঋণ কমানো ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ক্রস-ডিফল্ট গ্যারান্টি নিষিদ্ধ করা হয়।
  • শ্রমবাজার সংস্কার:বেকারত্ব মোকাবিলায় সামাজিক নিরাপত্তা জাল বাড়ানো হয় এবং অংশকালীন চাকরির নিয়ম শিথিল করা হয়।

ফলাফল:
১৯৯৮ সালে অর্থনীতি ৫.৫% সংকুচিত হলেও ১৯৯৯ সালে ১০.৯% প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। ২০০১ সালের মধ্যে ব্যাংকিং খাত সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার করে এবং দক্ষিণ কোরিয়া সংকট থেকে শেখা পাঠ কাজে লাগিয়ে ২০০৮ সালের বৈশ্বিক সংকট তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে মোকাবিলা করে।

 

 থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া (এশীয় সংকট, ১৯৯৭)

থাইল্যান্ড (সংকটের উৎপত্তিস্থল):

  • উদ্যোগ:আইএমএফের ১৭.২ বিলিয়ন ডলার ঋণ। ব্যাংকগুলোকে পুনঃপুঁজিকরণের জন্য ১৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়।
  • ফলাফল:১৯৯৮ সালে অর্থনীতি ৭.৬% সংকুচিত হলেও ১৯৯৯ সালে ৪.৬% প্রবৃদ্ধি ফিরে আসে।

ইন্দোনেশিয়া (সবচেয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত):

  • উদ্যোগ:আইএমএফের ৪৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ, কিন্তু সুহার্তো সরকার সংস্কারে গড়িমসি করায় সংকট দীর্ঘায়িত হয়। পরে ব্যাংক বন্ধ, ঋণ পুনর্গঠন সংস্থা (IBRA) গঠন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিংয়া সুসংহত করা হয়।
  • ফলাফল:১৯৯৮ সালে ১৩.১% সংকোচন, রাজনৈতিক পতন। তবে ২০০০ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধি পজিটিভ হয়।

মালয়েশিয়া (আইএমএফ ছাড়া সফল):

  • বিশেষ কৌশল:প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ আইএমএফের শর্ত প্রত্যাখ্যান করেন। পরিবর্তে তিনি পুঁজি নিয়ন্ত্রণ (capital controls) আরোপ করেন – বিদেশি বিনিয়োগকারীদের রিংগিট রপ্তানিতে ১২ মাসের লক-ইন পিরিয়ড চালু করেন। সুদহার কমিয়ে ও সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে উদ্দীপনা দেন।
  • ফলাফল:১৯৯৮ সালে সংকোচন ৭.৫% হলেও ১৯৯৯ সালে ৬.১% প্রবৃদ্ধি হয়। পুঁজি নিয়ন্ত্রণ স্বল্পমেয়াদে কাজ করলেও দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল বলে মত আছে।

 

 পর্তুগাল (ইউরোজোন ঋণ সংকট, ২০১১-২০১৪)

পরিস্থিতি:
২০০৮-এর পর বৈশ্বিক সংকট ও ২০১০-এর গ্রিক সংকটের ধাক্কায় পর্তুগালের সরকারি ঋণ জিডিপির ১৩০% ছাড়িয়ে যায়। বাজেট ঘাটতি ছিল জিডিপির ১১.২%। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

উদ্যোগ ও বাস্তবায়ন:

  • বেইলআউট:ইইউ ও আইএমএফের যৌথ প্যাকেজ ৭৮ বিলিয়ন ইউরো (জিডিপির প্রায় ৪৫%)।
  • কঠোরতা (Austerity):সরকারি বেতন ও পেনশন কমানো, ভ্যাট বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বাজেট কাটা।
  • কাঠামোগত সংস্কার:ভাড়া আইন শিথিলকরণ, শক্তি খাতের সংস্কার, রপ্তানি-মুখী শিল্পে উৎসাহ।

ফলাফল:
বাজেট ঘাটতি ২০১১-এর ১১.২% থেকে ২০১৬-এ ০.৫% এ নেমে আসে। ২০১৪ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি পজিটিভ হয় (০.৮%)। বেকারত্ব ১৭.৫% (২০১৩) থেকে কমে ২০১৭-এ ৮.৯% হয়। পর্তুগাল ২০১৪ সালের মে মাসে বেইলআউট থেকে সফলভাবে বেরিয়ে আসে।

 

 শ্রীলঙ্কা (ঋণ সংকট, ২০২২-বর্তমান)

বিস্তারিত পরিস্থিতি:
২০২২ সালে শ্রীলঙ্কা বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র ঘাটতিতে পড়ে। পর্যটন আয় কমে যায় (কোভিড), চা রপ্তানি দাম কমে, প্রবাসী আয় কমে। বিদেশি ঋণ ছিল ৫১ বিলিয়ন ডলার, রিজার্ভ নেমে আসে ১.৯ বিলিয়ন ডলারে। খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়, দেশব্যাপী প্রতিবাদ শুরু হয় এবং রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন।

উদ্যোগ ও বাস্তবায়ন:

  • আইএমএফ প্রোগ্রাম:২০২৩ সালে ২.৯ বিলিয়ন ডলারের চার বছরের ঋণ পায়। শর্ত: কর বৃদ্ধি (ভ্যাট ৮% থেকে ১৮%), জ্বালানি ও বিদ্যুতের ভর্তুকি কমানো, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
  • ঋণ পুনর্গঠন:চীন, জাপান, ভারতের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়।
  • মুদ্রানীতি:সুদহার ১৫% পর্যন্ত বাড়ানো হয়, টাকা ভাসিয়ে দেওয়া হয় (মান কমে যায়)।

ফলাফল:
মুদ্রাস্ফীতি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ৭০% (খাদ্যে ৯৫%) থেকে ২০২৪ সালে ৫% এর নিচে নেমে আসে। রিজার্ভ ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। ২০২৩ সালের শেষে অর্থনীতি সংকোচন থেকে বেরিয়ে ২.৩% প্রবৃদ্ধি অর্জন করে (আইএমএফ অনুমান)।

 

 মিশর (মুদ্রা সংকট, ২০২২-২০২৬)

পরিস্থিতি:
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে গম ও জ্বালানি আমদানির ব্যাপক খরচ পড়ে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যায়, মুদ্রাস্ফীতি ২০২৩ সালে ৩৮% ছাড়ায়।

উদ্যোগ:
মুদ্রা ভাসিয়ে দেওয়া (পাউন্ডের মান ৫০% কমে যায়), সুদহার ১৯% পর্যন্ত বাড়ানো। আইএমএফ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ (পরে আরও বাড়ানো হয়)। রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রি (যেমন রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের অংশ, উপকূলীয় সম্পত্তি)।

ফলাফল:
মুদ্রাস্ফীতি ২০২৪ সালের মধ্যে ১১.৯% এ নেমে আসে (কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথ্য)। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৪% হয়। কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যাপক খরচ বেড়ে যায়, সাধারণ নাগরিকদের ওপর চাপ থাকে।

 

 রুয়ান্ডা (গণহত্যা-উত্তর পুনরুদ্ধার, ১৯৯৪-বর্তমান)

পরিস্থিতি:
১৯৯৪ সালে গণহত্যার পর দেশের অর্থনীতি ধ্বংসস্তূপে – ব্যাংক ভাঙচুর, সড়ক ধ্বংস, চা ও কফি বাগান ধ্বংস, দক্ষ মানবসম্পদের বিরাট অংশ নিহত বা পলাতক। জিডিপি ৫০% সংকুচিত হয়।

উদ্যোগ:

  • প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার:দুর্নীতি দমনের জন্য অডিটর জেনারেলের কার্যালয় শক্তিশালী করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
  • আইএমএফ সহায়তা:১৯৯৪-২০০০ সালে ধারাবাহিক ঋণ ও নীতি সহায়তা। কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলা আরোপ।
  • উন্নয়ন কৌশল:কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি (উদ: বিতরণযোগ্য সার, উন্নত বীজ), তথ্যপ্রযুক্তি ও সেবা খাতে বিনিয়োগ (উদ: কিগালি ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার)।

ফলাফল:
২০০০-২০২০ সালে গড়ে ৭-৮% জিডিপি প্রবৃদ্ধি। দারিদ্র্যের হার ২০০০ সালে ৫৮% থেকে কমে ২০২০ সালে ৩৮% এ নেমে আসে। আফ্রিকার অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ও স্বচ্ছ অর্থনীতিতে পরিণত হয়।

 

 গ্রীস (ইউরোজোন ঋণ সংকট, ২০০৯-২০১৮)

পরিস্থিতি:
২০০৯ সালে ঘোষিত হয় যে আগের সরকার জিডিপির ১৫% বাজেট ঘাটতি ও ১১৩% ঋণ লুকিয়ে রেখেছিল। বন্ডের সুদহার আকাশছোঁয়া (৩০%+) হয়। ইউরোজোন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার (Grexit) আশঙ্কা তৈরি হয়।

উদ্যোগ:
তিনটি বেইলআউট (২০১০, ২০১২, ২০১৫) – মোট ২৮৯ বিলিয়ন ইউরো। শর্ত:

  • পেনশন কাটা (১৫ বার কমানো), ভ্যাট ২৩% পর্যন্ত বাড়ানো।
  • ২৬টি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণ।
  • ব্যাংক পুনঃপুঁজিকরণ (৫০ বিলিয়ন ইউরো)।

ফলাফল:
জিডিপি ২৫% সংকুচিত হয়, বেকারত্ব ২৭.৫% (২০১৩)। ২০১৮ সালের পর ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার শুরু হয়। ২০২২ সালে ঋণ জিডিপির ১৭১% হলেও বাজেট উদ্বৃত্ত অর্জন করে। কিন্তু সমালোচনা: অতিরিক্ত কঠোরতা (austerity) স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত ধ্বংস করেছে, আত্মহত্যার হার বেড়েছে। সফল হলেও খুব বেশি মূল্য দিয়ে।

 

 আর্জেন্টিনা (চলমান সংকট ও সংস্কার)

পরিস্থিতি:
আর্জেন্টিনা দশকের পর দশক ধরে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, ঋণ খেলাপি ও সংকটে ভুগছে। ২০১৮ সালে পেসোর মান ৫০% কমে যায়, মুদ্রাস্ফীতি ৪৭% এ ওঠে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার ৬০% পর্যন্ত বাড়ায়।

উদ্যোগ:
আইএমএফ থেকে ২০১৮ সালে ৫০ বিলিয়ন ডলারের (পরে ২০ বিলিয়ন বাড়ে) বেইলআউট পায় – ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইএমএফ ঋণ। শর্তসাপেক্ষে কঠোর ব্যয় সংকোচন, ভর্তুকি কমানো, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা বাড়ানো।

ফলাফল (মিশ্র):
স্বল্পমেয়াদে বাজেট ঘাটতি কমে ২০১৯ সালে উদ্বৃত্ত হয়। কিন্তু সংস্কারের ব্যথায় ২০১৯ সালের নির্বাচনে সরকার পড়ে যায়, নতুন সরকার সংস্কার শিথিল করে। ফলে ২০২৩ সালে মুদ্রাস্ফীতি ২১১% এ দাঁড়ায়।

আর্জেন্টিনা এখনও পূর্ণ পুনরুদ্ধার করতে পারেনি – এটি বরং অসফল বা অসম্পূর্ণ উদাহরণ হিসেবে গণ্য। সফল উদাহরণগুলো থেকে যেমন শেখার আছে অসফল ও ধীরগতির উদাহরণগুলো থেকে সতর্ক হওয়ার ব্যাপার আছে।

 

 সমন্বিত বিশ্লেষণ: সফলতার সাধারণ কৌশল

কৌশল বিস্তারিত ব্যাখ্যা
১. আর্থিক শৃঙ্খলা কর বৃদ্ধি, ভর্তুকি কমানো, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ছাঁটাই। যেমন: পর্তুগাল ও গ্রীস।
২. মুদ্রানীতি কঠোরকরণ সুদহার বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ (মিশর, শ্রীলঙ্কা), মুদ্রা ভাসানো (আর্জেন্টিনা)।
৩. ব্যাংকিং সংস্কার দুর্বল ব্যাংক বন্ধ, পুনঃপুঁজিকরণ, ঋণ পুনর্গঠন সংস্থা (দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া)।
৪. কাঠামোগত সংস্কার শ্রমবাজার শিথিলকরণ (পর্তুগাল), রাষ্ট্রীয় মালিকানা বিক্রি (গ্রীস), দুর্নীতি দমন (রুয়ান্ডা)।
৫. আন্তর্জাতিক সহায়তা আইএমএফ/বিশ্বব্যাংকের ঋণ ও নীতি পরামর্শ। তবে মালয়েশিয়া দেখিয়েছে বিকল্প পথও আছে।
৬. সামাজিক সুরক্ষা দক্ষিণ কোরিয়া ও রুয়ান্ডায় বেকার ভাতা, খাদ্য সহায়তা – অতি কঠোরতা যাতে দারিদ্র্য না বাড়ায়।

 

 সীমাবদ্ধতা ও সমালোচনা

  • অতি কঠোরতা (over-austerity):গ্রীস ও আর্জেন্টিনায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ব্যয় কাটা দারিদ্র্য, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়ায়।
  • অসমতা বৃদ্ধি:অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংস্কারের বোঝা মধ্যবিত্ত ও দরিদ্রের ওপর পড়ে, ধনীরা কর ফাঁকি দিয়ে যায়।
  • স্বল্পমেয়াদী ব্যথা বনাম দীর্ঘমেয়াদী লাভ:সংকট মোকাবিলার নীতি প্রায়ই তীব্র জনপ্রতিরোধের মুখে পড়ে (যেমন শ্রীলঙ্কায় সরকার পতন)।
  • দূর্নীতি লুকিয়ে রাখা ও পরিস্থিতি স্বীকার না করা:সরকাগুলো দূর্নীতি লুকিয়ে রাখার কারণে সেটি আরো বেড়ে যায় ফলে গোপন পথে রাষ্ট্রের টাকা অন্যত্র চলে যায়। যা বাংলাদেশে বিগত ১০ বছর ধরে হয়ে আসছিল।
  • সমালোচনার ভয় বাস্তভিত্তিক সিদ্ধান্ক না নেয়া:সরকাগুলো অনেকসময় সমালোচনার ভয়ে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না ফলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে যায়। বাংলাদেশে অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর দুটো স্পর্শকাতর ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারলে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেয়া যেত। প্রথমটি হলো ১ হাজার টাকার নোট নিষিদ্ধ করা। তাহলে বিভিন্ন জায়গায় থাকা বস্তাবস্তা কালো টাকা অচল হয়ে যেত। বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তো। দ্বিতীয়টি, হলো কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া এবং বিদেশ থেকে টাকা আনলে বিশেষ ছাড় দেয়া। এতে যদি ২০% টাকাও ফেরত আসতো তা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারতো।

 

সফল অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার মূল সূত্র হলো:
দ্রুত পদক্ষেপ + আর্থিক শৃঙ্খলা + ব্যাংকিং সংস্কার + সামাজিক সুরক্ষা + আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

কিন্তু প্রতিটি দেশের প্রেক্ষাপট আলাদা – দক্ষিণ কোরিয়া যেমন দ্রুত কাঠামোগত সংস্কার করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, মালয়েশিয়া বিকল্প পথে সফল হয়েছে। গ্রীসের মতো দেশ সফল হলেও তার মূল্য ছিল ভয়াবহ। তাই নীতি নির্ধারণে দেশের বাস্তবতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করা জরুরি।