হকার ব্যবস্খাপনা

আধুনিক নগরের জন্য চাই প্রযুুক্তি ভিত্তিক হকার ম্যানেজমেন্ট

 হকার ও হলিডে শপ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে 

 সূচনা ও প্রস্তাবনার সারমর্ম

বাংলাদেশের নগর এলাকাগুলোতে হকার ও স্ট্রিট ভেন্ডার ব্যবস্থাপনা একটি জটিল, বহুমাত্রিক ও দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা। এই প্রতিবেদনে সমগ্র বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে হকার ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থা, আইনি কাঠামো, প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ এবং একটি কার্যকর সমাধানের রূপরেখা উপস্থাপন করা হলো।

২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রণীত হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০২৩ এর অধীন বিধিমালার মাধ্যমে সরকার হাট-বাজার ও হকার ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নতুন আইনি কাঠামো তৈরি করেছে। এই আইনি ভিত্তি একটি আধুনিক, ডিজিটাল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা কাঠামো বাস্তবায়নের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন ইতোমধ্যে ডিজিটাল পরিচয়পত্র (হকার কার্ড) প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক হকারকে পুনর্বাসন করতে শুরু করেছে

তবে এই উদ্যোগগুলো এখনও খণ্ডিত, পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর অভাবে সীমিত এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রাজস্ব ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো হিসেবে বিকশিত হয়নি। এ প্রেক্ষাপটে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) ভিত্তিক স্ট্রিট ভেন্ডিং অ্যান্ড হকার্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এসএইচএমএস) একটি যুগান্তকারী সমাধান হিসেবে প্রস্তাব করা হলো।

 প্রেক্ষাপট ও সমস্যা বিশ্লেষণ

১ বর্তমান পরিস্থিতি

বাংলাদেশের সিটি কর্পোরেশনগুলোতে বর্তমানে হকার ব্যবস্থাপনার যে চিত্র দেখা যায়, সেটি নিম্নরূপ:

  • অনিয়ন্ত্রিত ফুটপাত ও সড়ক দখল: ফুটপাত ও সড়কের উল্লেখযোগ্য অংশ অননুমোদিত হকারদের দখলে, যার ফলে পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে

  • অস্বচ্ছ ও অনিয়মিত রাজস্ব আদায়: বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নগদ লেনদেনের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় হচ্ছে, যা স্বচ্ছ নয় এবং রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ সৃষ্টি করে। অনেক হকারকে অনানুষ্ঠানিক ‘চাঁদা’ দিতে হয়। বিপরীতে, সম্প্রতি ডিএসসিসি’র পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় হকারদের নির্দিষ্ট স্থান ও সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে এবং কর্পোরেশনকে নির্ধারিত ফি দিতে হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে

  • হকারদের অনিশ্চিত জীবিকা: অধিকাংশ হকারই অনিবন্ধিত অবস্থায় ব্যবসা পরিচালনা করছেন, ফলে আইনি স্বীকৃতি, ব্যাংক ঋণ বা সরকারি সুবিধা পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। ঢাকার প্রায় ২০ লাখ স্ট্রিট ভেন্ডার অধিকাংশই উচ্ছেদ বা চাঁদাবাজির অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করছেন

  • নগর কর্তৃপক্ষের সীমাবদ্ধতা: সিটি কর্পোরেশনের পর্যাপ্ত জনবল ও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর অভাবের কারণে হকার তালিকাভুক্তি, মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

  • নাগরিক অসন্তোষ: ফুটপাত দখল ও যানজটের জন্য নাগরিকরা হকারদের কাছে দায়ী করে থাকেন, আবার অনেক ক্রেতা হকারদের ওপর নির্ভরশীল—এ দ্বন্দ্ব সমাধানের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। সম্প্রতি ডিএনসিসি’র ‘হকার কার্ড’ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নাগরিকদের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে যথাযথ বাস্তবায়ন ও তদারকি না থাকলে এই কার্ড ব্যবস্থাই ফুটপাত দখলকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে

২ আইনি ও নীতি কাঠামো

হকার ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে প্রযোজ্য উল্লেখযোগ্য আইন ও নীতিমালা হলো:

ক) হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০২৩ ও বিধিমালা, ২০২৫
২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর প্রণীত এই বিধিমালা হাট ও বাজার ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো প্রদান করেছে। এই বিধিমালার আওতায় সরকারি পর্যায়ে হকারদের নিবন্ধন, স্থান নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

খ) ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬ (প্রস্তাবিত)
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন প্রস্তাবিত এই নীতিমালার আওতায় হকারদের জন্য সুনির্দিষ্ট স্থান ও সময় নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে। এই নীতিমালার আওতায় গুলিস্তান এলাকার ১০০ জন হকারের মধ্যে প্রথম ধাপে ডিজিটাল পরিচয়পত্র বিতরণ শুরু হয়েছে

গ) জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫
নাগরিক সেবা সহজীকরণ ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে গৃহীত এই অধ্যাদেশ হকারদের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার একটি জাতীয় কাঠামো প্রদান করছে

৩ সংখ্যায় সমস্যার গভীরতা

  • হকারের সংখ্যা: ঢাকা মহানগরীতে প্রায় ২০ লাখ স্ট্রিট ভেন্ডার সক্রিয় আছেন। এর মধ্যে নিবন্ধিত হকারের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য।

  • হারানো রাজস্ব: প্রতিটি হকার যদি মাসিক গড়ে ২,০০০ টাকা হারে সরকারি ফি প্রদান করে, তাহলে বার্ষিক মোট রাজস্ব হতে পারে ৫০০ কোটির বেশি টাকা। বর্তমানে এই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব অনানুষ্ঠানিক ও অনিয়ন্ত্রিত চ্যানেলে চলে যাচ্ছে।

  • পুনর্বাসনের ব্যয়: ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন হকার পুনর্বাসনের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা

 প্রস্তাবিত সমাধান: এসএইচএমএস (স্ট্রিট ভেন্ডিং অ্যান্ড হকার্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম)

বিদ্যমান আইনি কাঠামো, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সেরা অনুশীলনের ভিত্তিতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে একটি পূর্ণাঙ্গ সমাধান প্রস্তাব করা হলো।

১ প্রস্তাবিত পদ্ধতি ও কাঠামো

১.১ জরিপ ও ম্যাপিং (প্রথম ধাপ)

প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ভূ-স্থানিক তথ্য প্রযুক্তি (জিআইএস) ব্যবহার করে হকার জরিপ পরিচালনা করতে হবে। এই জরিপের মাধ্যমে:

  • প্রতিটি এলাকায় হকারের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ

  • ফুটপাতের প্রস্থ, পথচারী চলাচলের চাপ ও ব্যবসায়িক চাহিদা বিবেচনায় অনুমোদনযোগ্য হকার জোন ও স্পেস চিহ্নিতকরণ

  • বিভিন্ন জোনকে গুরুত্ব অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ (সাধারণ, মাঝারি বাণিজ্যিক, উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন)

  • প্রতিটি জোনে ধারণক্ষমতা নির্ধারণ

ভারতে ইউপিওজিওজি প্ল্যাটফর্মের আওতায় জিআইএসভিত্তিক ভেন্ডিং জোন ম্যাপিং সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও অনুসরণযোগ্য। ঢাকার প্রেক্ষাপটে একটি জিআইএসভিত্তিক স্মার্ট স্ট্রিট ভেন্ডিং প্ল্যাটফর্ম শুধু বৈধ স্থান নির্ধারণেই সাহায্য করবে না, বরং লিজ, লাইসেন্সিং ও কর সংগ্রহের ব্যবস্থাও একীভূত করতে পারবে

১.২ ডিজিটাল নিবন্ধন ও কিউআর-কোডভিত্তিক স্মার্ট আইডি কার্ড

প্রথম ধাপের জরিপ শেষে:

  • প্রতিটি হকারকে অনলাইনে নিবন্ধনের সুযোগ প্রদান করতে হবে

  • এনআইডি, মোবাইল নম্বর ও ছবি যাচাইয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে

  • বায়োমেট্রিক ও কিউআর-কোড যুক্ত স্মার্ট আইডি কার্ড প্রদান করতে হবে

  • এই কার্ডের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্ক্যানের মাধ্যমেই হকারের বৈধতা ও বরাদ্দকৃত জায়গা যাচাই করতে পারবেন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ইতোমধ্যে কিউআর কোডসংবলিত ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রদান শুরু করেছে, যা এই প্রক্রিয়ার বাস্তবতা ও সম্ভাবনার উদাহরণ

১.৩ ডিজিটাল রাজস্ব সংগ্রহ ব্যবস্থা

একটি শক্তিশালী ডিজিটাল পেমেন্ট কাঠামোর মাধ্যমে:

  • দৈনিক/সাপ্তাহিক/মাসিক স্পেস ফি অনলাইন, মোবাইল ব্যাংকিং, কার্ড বা পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পরিশোধের ব্যবস্থা

  • পেমেন্টের বিপরীতে স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল রসিদ প্রদান

  • পেমেন্টের স্থিতি হকারের কিউআর আইডির সাথে লিংক থাকা

  • নগদ লেনদেন নিরুৎসাহিতকরণ

বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ডিজিটাল ফি সংগ্রহের সফল দৃষ্টান্ত বিদ্যমান। কেনিয়ার নাইরোবি সিটি অবৈধ স্ট্রিট ভেন্ডিংকে আনুষ্ঠানিক করে ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে ব্যাপক রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্য স্থির করেছে। একইভাবে গায়ানার জর্জটাউন সিটি হকারদের জন্য একটি ডিজিটাল অ্যাপ চালু করছে, যা ভেন্ডারদের তথ্য সংরক্ষণ ও পেমেন্ট মনিটরিং সহজ করবে

১.৪ সিটি কর্পোরেশন ড্যাশবোর্ড ও মনিটরিং

সিটি কর্পোরেশনের জন্য একটি রিয়েল-টাইম ড্যাশবোর্ড চালু করতে হবে, যেখানে:

  • জোনভিত্তিক নিবন্ধিত হকারের সংখ্যা ও স্থিতি

  • দৈনিক/সাপ্তাহিক/মাসিক রাজস্ব আদায়ের রিপোর্ট

  • পরিশোধিত/অপরিশোধিত হকারের তালিকা

  • কিউআর আইডির বৈধতা ও নবায়নের স্থিতি

  • ফিল্ড মনিটরিং ডেটা ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনা

ইউপিওজি প্ল্যাটফর্মের ড্যাশবোর্ড দেখিয়েছে, কীভাবে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল রেজিস্ট্রি হকার ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা আনে এবং লাইসেন্স ব্যবস্থাপনা, জোন মনিটরিং ও রিয়েল-টাইম অ্যানালিটিকস সহজ করে

১.৫ ফিল্ড মনিটরিং ও আইনগত বলবৎকরণ

  • ট্রাফিক পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তাদের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ফিল্ডে হকারের কিউআর কোড স্ক্যান করে বৈধতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা

  • অননুমোদিত স্থানে ব্যবসা বা ফি পরিশোধ না করলে স্বয়ংক্রিয় সতর্কীকরণ ও জরিমানা প্রক্রিয়া

  • অনুমোদিত হকার জোনের বাইরে ব্যবসায় জরিমানা বা লাইসেন্স স্থগিতের বিধান

২ PPP ভিত্তিক বাস্তবায়ন কাঠামো

প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলের অধীনে ‘ডিজাইন, ডেভেলপ, অপারেট, মেইনটেইন ও রেভিনিউ শেয়ারিং’ ভিত্তিতে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হচ্ছে।

বিষয় প্রস্তাবিত কাঠামো
বাস্তবায়ন মডেল পিপিপি / রাজস্ব ভাগাভাগি মডেল
চুক্তির মেয়াদ ১০ বছর (পারস্পরিক সম্মতিতে নবায়নযোগ্য)
সিটি কর্পোরেশনের ভূমিকা নীতি নির্ধারণ, অনুমোদন, মনিটরিং, নিরীক্ষা, আইনগত বলবৎকরণ
বেসরকারি অংশীদারের ভূমিকা প্রযুক্তি উন্নয়ন, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, সহায়তা
রাজস্ব ভাগাভাগি সিটি কর্পোরেশন ৫৫% / বেসরকারি অংশীদার ৪৫%

৩ নীতি কাঠামো (প্রস্তাবিত)

৩.১ হকার যোগ্যতা ও নিবন্ধন নীতি

  • আবেদনকারীর বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বাধ্যতামূলক

  • একজন ব্যক্তি একাধিক স্থানে নিবন্ধন করতে পারবেন না (বিশেষ অনুমোদন ব্যতীত)

  • অনুমোদিত জোন ও নির্ধারিত স্থানের বাইরে ব্যবসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

  • অবৈধ বা জনস্বার্থবিরোধী পণ্য বিক্রয় নিষিদ্ধ

  • প্রতি বছর নবায়ন বাধ্যতামূলক

৩.২ জোন ও স্থান বরাদ্দ নীতি

  • সিটি কর্পোরেশন এলাকাকে জিআইএসভিত্তিক হকার জোনে বিভক্ত করা

  • প্রতিটি জোনের ধারণক্ষমতা ও ফি হার অবস্থানভিত্তিক নির্ধারণ

  • জনস্বার্থ, উন্নয়ন কাজ বা নিরাপত্তার কারণে পুনর্বিন্যাসের ক্ষমতা সিটি কর্পোরেশনের

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন শহরে হকার সমস্যার সমাধান নির্দিষ্ট ‘হকার জোন’ বা আলাদা বাজার তৈরি করে করা হয়েছে—যেখানে ফুটপাত বা সড়ক দখলের সুযোগ রাখা হয়নি। এই ধারণাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও অনুসরণীয়

৪ জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ

৪.১ তথ্যের মালিকানা ও গোপনীয়তা

  • হকার তথ্য, পেমেন্ট রেকর্ড ও কার্যকরী তথ্যের পূর্ণ মালিকানা সিটি কর্পোরেশনের

  • তথ্য অ্যাক্সেস ভূমিকাভিত্তিক অনুমতি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত

  • নিয়মিত ব্যাকআপ, এনক্রিপশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

৪.২ র