অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের পলায়ন ও তৎপরবর্তী সরকার গঠন: ২১ শতকের বিশ্ব
স্বাভাবিকভাবে আমাদের প্রত্যাশা ছিল একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব হবে এখন নতুন বিশ্ব। প্রযুক্তি, শিক্ষা, সভ্যতা, তথ্যপ্রবাহ আর জ্ঞান চর্চায় বদলে যাবে পৃথিবীর চিত্র। এই পরিবর্তনের হাওয়া অনেক জায়গায় লাগলেও রাজনীতি খুব একটা বদলায়নি। বরং দেশে দেশে যুদ্ধ আর স্বৈরাচারের আষ্ফালন দেখেছি আমরা। দেখেছি দেশে দেশে জনগনের করের টাকায় কেনা গুলি দিয়ে জনতাকে হত্যার লীলা। আর দেখিছি জনতার বাঁধভাঙ্গা প্রতিরোধ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গত ৮০ বছরে বিশ্বে ৪৫০টির মতো সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে। কোনো কোনো দেশে আবার কয়েকবার হয়েছে। এই পরিস্থিতি সেসব দেশে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সরকার গঠিত হয়েছে। কিন্তু এই তালিকা অনেক লম্বা। আমরা বরং এই শতকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অভ্যুত্থান, অভ্যুত্থানের দ্বারা শাসক গোষ্ঠির পতন ও পলায়ন এবং তৎপরবর্তী সরকার গঠন পক্রিয়াগুলো কেমন ছিল তাতে একবার চোখ রাখবো-
জর্জিয়া (২০০৩) – রোজ বিপ্লব
২০০৩ সালের নভেম্বর মাসে জর্জিয়ায় নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগে জনবিক্ষোভ শুরু হয়। “রোজ বিপ্লব” নামে পরিচিত এই আন্দোলনের মুখে প্রেসিডেন্ট এডুয়ার্ড শেভারদনাদজে পদত্যাগে বাধ্য হন এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে বিদেশে চলে যান। তৎক্ষণাৎ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয় নিনো বুরজানাদজের নেতৃত্বে। অল্পদিন পর নির্বাচনের মাধ্যমে মিখাইল সাকাশভিলি ক্ষমতায় আসেন।
কিরগিজস্তান (২০০৫ ও ২০১০) – টিউলিপ বিপ্লব ও দ্বিতীয় বিদ্রোহ
২০০৫ সালে প্রেসিডেন্ট আসকার আকায়েভকে ক্ষমতাচ্যুত করে “টিউলিপ বিপ্লব” নামে পরিচিত জনআন্দোলন। তিনি পরিবারসহ রাশিয়ায় পালিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয় কুরমানবেক বাকিয়েভের নেতৃত্বে।
কিন্তু ২০১০ সালে আবারও জনঅসন্তোষে বাকিয়েভ ক্ষমতাচ্যুত হন এবং বেলারুশে পালিয়ে যান। এসময় রোজা ওতুনবায়েভা নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, যা নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে সংসদীয় ব্যবস্থা চালু করে।
তিউনিসিয়া (২০১১) – আরব বসন্তের সূচনা
২০১১ সালের জানুয়ারিতে তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট জিন আল আবেদিন বেন আলি, যিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় ছিলেন, গণবিক্ষোভের মুখে সৌদি আরবে পালিয়ে যান। এরপর তিউনিসিয়া দ্রুত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে, যেখানে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ গন্নোচি দায়িত্ব নেন। পরে ধাপে ধাপে নতুন রাজনৈতিক শক্তি “এননাহদা” উঠে আসে এবং দেশটি গণতান্ত্রিক ধারায় প্রবেশ করে।
মিশর (২০১১ ও ২০১৩) – দুই বিপ্লব
২০১১ সালের আরব বসন্তে প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক ৩০ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগে বাধ্য হন। তিনি চিকিৎসার অজুহাতে বাহিরে যান এবং পরবর্তী সময়ে বিচার সম্মুখীন হন। সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ পরিষদ নামে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে।
কিন্তু ২০১৩ সালে আবারও জনবিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি সেনা অভ্যুত্থানে অপসারিত হন। মুরসিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপ্রধান হন, পরে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বৈধতা পান।
ইয়েমেন (২০১২ ও ২০১৫)
২০১২ সালে প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ দীর্ঘ ৩৩ বছরের শাসন শেষে আরব বসন্তের আন্দোলনে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এবং সৌদি আরবে চিকিৎসার জন্য পালিয়ে যান। উপ-রাষ্ট্রপতি আবদ-রাব্বু মনসুর হাদি অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হন।
তবে ২০১৫ সালে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করলে হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান এবং প্রবাসী সরকার গঠন করেন। এভাবেই ইয়েমেন দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
ইউক্রেন (২০০৪ ও ২০১৪)
২০০৪ সালে “অরেঞ্জ বিপ্লব”-এ নির্বাচন জালিয়াতির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ তখনও ক্ষমতায় থাকলেও চাপের মুখে নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হয়।
২০১৪ সালে “ইউরোমাইদান আন্দোলন”-এর ফলে ইয়ানুকোভিচ রাশিয়ায় পালিয়ে যান। এরপর ইউক্রেনের সংসদ জরুরি ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে এবং তৎপরবর্তী সময়ে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়।
বুরুন্ডি, মালি, গিনি, নাইজার (২০১২–২০২3) – আফ্রিকার ধারাবাহিক অভ্যুত্থান
আফ্রিকার দেশগুলোতে একের পর এক অভ্যুত্থান ঘটেছে। যেমন—
-
মালি (২০১২ ও ২০২০): বিদ্রোহীরা প্রেসিডেন্ট আমাদু তুমানি তুরেকে উৎখাত করে; তিনি পালিয়ে যান এবং সেনাবাহিনী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে।
-
গিনি (২০২১): প্রেসিডেন্ট আলফা কন্দে সেনাদের হাতে আটক হন; পরে সামরিক জান্তা জরুরি সরকার চালায়।
-
নাইজার (২০২৩): প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুম সেনাদের হাতে বন্দি হন; তিনি সরাসরি পালাতে পারেননি, তবে তার সরকার উৎখাত হয় এবং সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
আফগানিস্তান (২০২১) – তালেবানের প্রত্যাবর্তন
২০২১ সালের আগস্টে তালেবান কাবুল দখল করলে প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি হেলিকপ্টারে করে দেশ ছেড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পালিয়ে যান। এরপর তালেবান ‘ইসলামিক আমিরাত’ নামে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করে। এটি ছিল এক নাটকীয় পলায়ন ও দ্রুত সরকার পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত।
শ্রীলঙ্কা, ২০২২:
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক জনাবিরোধী আন্দোলনের (“Gota go home” স্লোগান) পর, প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপক্ষে ৯ জুলাই ২০২২-এ প্রথমে তার সরকারি বাসভবন ছেড়ে যান। পরবর্তী রাতে তিনি একটি সামরিক বিমান নিয়ে মালদ্বীপে যান, এবং এরপর সিঙ্গাপুরে পৌঁছান। সরকারের প্রতি বিক্ষোভ ও অনাস্থার কারণে তিনি ১৪ জুলাই ২০২২-এ অফিস থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তার অনুপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমেসিংহে “অ্যাক্টিং প্রেসিডেন্ট” হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন, এবং সংসদ শীঘ্রতম সময়ে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
সিরিয়া, ২০২৪–২০২৫:
৮ ডিসেম্বর ২০২৪-এ ইসলামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠী Hay’at Tahrir al-Sham (HTS) ও তাদের মিত্ররা দামাস্কাস দখল করার পর প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ দেশ ছেড়ে মস্কোতে আশ্রয় নেন, এবং রাশিয়া “মানবিক শর্তে” তাকে আশ্রয় দেয়।
এরপর বিদ্রোহী নেতৃত্ব HTS-র সদস্য আহমদ আল-শারাহকে “অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট” হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, এবং মোহাম্মদ আল-বাশির নেতৃত্বে একটি জরুরি/অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়, যা ২০২৫ সালের মার্চে একটি স্বেচ্ছাসেবী অন্তর্বর্তী সংবিধান অনুযায়ী সাময়িক সংবিধান ও নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু করে।
অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের পলায়ন ও তৎপরবর্তী সরকার গঠন: বাংলাদেশ ২০২৪
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান বা বিপ্লব এক নজিরবিহীন অধ্যায় হয়ে থাকবে। পৃথিবীর ইতিহাসে এরকম উদাহরণ খুবই বিরল, যেখানে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি স্তর ভেঙে পড়ে এবং শাসকশ্রেণি, তাদের নিয়োগকৃত ব্যক্তিরা একসাথে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় বা অপসারিত হয়। মাত্র ৩৬ দিনে ১,৫৮১ জনের প্রাণহানি ঘটে, যা প্রমাণ করে ঘটনাটি ছিল এক রক্তক্ষয়ী কিন্তু দ্রুতগামী গণআন্দোলন।অভ্যুত্থানটি শুধু রাজধানী নয়, বরং সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ৩৬ দিনের সংঘাতে সরকারি বাহিনী, দলীয় সন্ত্রাসী ও আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে ১,৫৮১ জন নিহত হয়। এ বিপুল প্রাণহানি ঘটনাটিকে বিশ্বের বড় বড় বিপ্লবের কাতারে দাঁড় করায়।
শাসকের পতন ও পলায়ন
২০২৪ সালের আন্দোলনের শুরুতে ছাত্র-জনতা একত্রিত হয়ে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে। সরকার দমননীতির আশ্রয় নিলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে— সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্ব পালিয়ে যায়। তাদের নিয়োগ করা জাতীয় মসজিদের ইমামরা মসজিদ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। জাতীয় সংসদের স্পিকার পালিয়ে যান। এমনকি প্রধান বিচারপতিও পদচ্যুত হন। যেসব ঘটনা বিশ্বে বিরল।
এমন এক মুহূর্তে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরা বিদেশে আশ্রয় নেন। পুলিশের বড় অংশ পোশাক খুলে ফেলে পালিয়ে যায়, সেনাবাহিনীও সাময়িক নিয়ন্ত্রণ নিলেও। ফলে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় কার্যত রাষ্ট্রযন্ত্র অচল হয়ে পড়ে।
বিশ্ব ইতিহাসে বিরল এই ঘটনার অন্যতম দিক হলো—টানা দুই সপ্তাহ পুলিশ মাঠে অনুপস্থিত ছিল। রাষ্ট্রযন্ত্রের সবচেয়ে দৃশ্যমান বাহিনী হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ায় দেশে আইন-শৃঙ্খলার শূন্যতা তৈরি হয়। সাধারণ মানুষই তখন রাস্তা ও মহল্লায় নিরাপত্তা বজায় রাখে। এ অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে—রাষ্ট্র কেবল কাগজে-কলমে নয়, বাস্তব ক্ষেত্রেও ভেঙে পড়েছিল।
অন্তর্বর্তীকালীন পরিস্থিতি ও সরকার গঠন
শাসক ও প্রশাসনের উচ্চস্তর পালিয়ে গেলে শূন্যতা তৈরি হয়। এ অবস্থায় নতুন এক অন্তর্বর্তী কাঠামো গঠিত হয়, যা জনতার চাপ ও আন্দোলনের শক্তির ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল—জনগণের আস্থাভাজন কিছু সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও আন্দোলনের প্রতিনিধিরা অস্থায়ী নেতৃত্বে আসেন। প্রশাসনের মধ্যস্তরের কর্মকর্তারা ধীরে ধীরে কাজে ফিরে এসে নতুন সরকারের অধীনে সমন্বয় শুরু করেন। সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ায় রাজনৈতিক পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে দ্রুত কার্যকর হয়।
বিশ্বের ইতিহাসে অনন্য বৈশিষ্ট্য
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানকে অন্য দেশের অভ্যুত্থান বা বিপ্লব থেকে আলাদা করে তুলেছে কয়েকটি দিক— রাষ্ট্রযন্ত্রের পূর্ণ ভাঙন: পুলিশ, বিচার বিভাগ, সংসদ, ধর্মীয় নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সবাই পালিয়ে যায় বা অপসারিত হয়। এত বৃহৎ প্রাণহানি: মাত্র এক মাসে দেড় হাজারেরও বেশি মৃত্যু পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। দুই সপ্তাহের পুলিশহীন দেশ যা বিশ্ব ইতিহাসে এক নজীরবিহীন ঘটনা। দ্রুত নতুন কাঠামো: জনআন্দোলনের শক্তি থেকে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠা। এটা ছিল অনেক খারাপের মধ্যে একটি ভাল বিষয়।
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের এই ঘটনা প্রমাণ করেছে যে, স্বৈরশাসনের মূলে যদি জনগণের আস্থা না থাকে, তবে রাষ্ট্রযন্ত্র যত শক্তিশালী হোক না কেন, মুহূর্তেই তা ভেঙে পড়তে পারে। পৃথিবীর ইতিহাসে বহু অভ্যুত্থান ও বিপ্লব ঘটেছে, কিন্তু যেখানে শাসক, পুলিশ, স্পিকার, বিচারপতি, এমনকি নিয়োগকৃত ইমামরাও পালিয়ে গেছে—এমন নাটকীয় অভ্যুত্থান খুব কমই দেখা গেছে। বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী ও শিক্ষণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
২১ শতকের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে একাধিক দেশে অভ্যুত্থান, বিপ্লব ও জনঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শাসক পতিত হয়েছেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এর ফলে জরুরি সরকার বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়েছে, কখনো সামরিক নেতৃত্বে, কখনো জনগণের প্রতিনিধি দিয়ে। এসব ঘটনার মাঝে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা প্রায়ই ব্যর্থ হয়েছে এবং নতুন সংঘাতের জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে, পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার কিছু দেশে অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তীতে নতুন রাজনৈতিক ধারা সৃষ্টি করেছে।
এভাবেই ২১ শতকের রাজনৈতিক ইতিহাস প্রমাণ করে যে জনগণের ক্ষোভ, বাহ্যিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব মিলে একটি রাষ্ট্রের ক্ষমতার পালাবদল ঘটাতে পারে। তবে স্থায়ী শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু শাসকের পতন নয়, বরং স্থিতিশীল অন্তর্বর্তী সরকার ও স্বচ্ছ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা জরুরি।
