সফল অভ্যুত্থান পরবর্তী মনস্তাত্ত্বিক বোঝাপড়া ও মানবিক সমাজের অন্বেষণ
বিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থান কোনো দেশের ইতিহাসে একদিনে ঘটে না। এটি বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা অন্যায়, বঞ্চনা এবং মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার বিরুদ্ধে সামষ্টিক ক্ষোভের এক আগ্নেয়গিরিসদৃশ বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু ইতিহাসের পাতা ওল্টালে একটি নির্মম সত্য বারবার সামনে আসে: বিপ্লব ঘটানো যতটা বীরত্বের, বিপ্লবের রক্তস্নাত ফসল ঘরে তুলে একটি মানবিক সমাজ গঠন করা তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি কঠিন। কারণ জনগনের প্রত্যাশা ও নেতৃত্বের সংঘর্ষ নতুন নেতৃত্বকে এক কঠিন ও সংবেদনশীল সত্যের সামনে দাড় করিয়ে দেয়।
একটি সফল অভ্যুত্থানের পর সবচেয়ে বড় যে শূন্যতা তৈরি হয়, তা কোনো অর্থনৈতিক বা অবকাঠামোগত শূন্যতা নয়; তা হলো মনস্তাত্ত্বিক ও আদর্শিক শূন্যতা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিভাষায় একে আমরা যতই ‘আইডিওলজিক্যাল কনসলিডেশন’ বা ‘পোস্ট-রেভল্যুশনারি সেটেলমেন্ট’ বলি না কেন, সহজ মানবিক ভাষায় এটি আসলে “বিপ্লব পরবর্তী বোঝাপড়া ও আত্মশুদ্ধির ওরিয়েন্টেশন”। এই কাজটি সঠিক ভাবে করার মাধ্যমে যেমন একটি জাতির মুক্তির সনদ বাস্তবায়ন করা যায়। ঠিক তেমনি এটি ব্যর্থ হলে জাতির ভাগ্যের চাকা উল্টোদিকে ঘুরতে শুরু করে। এর প্রমাণ ইতিহাসে বহু আছে। শুধু তাই নয় রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরাজিত স্বৈরাচার ফিরে এসে ক্ষমতা দখল করেছে এমন ঘটনাও ইতিহাসে বিরল নয়।
উৎসবের পরদিন সকালে
যেকোনো সফল অভ্যুত্থানের পর প্রথম কয়েকটা দিন কাটে এক অলীক উৎসবে। স্বৈরশাসকের পতন হয়েছে, রাজপথ দখল করেছে উল্লাসিত জনতা, বাতাসে মুক্তির ঘ্রাণ। দেওয়ালে দেওয়ালে আঁকা হয় নতুন স্বপ্নের গ্রাফিতি। কিন্তু এই উৎসব চিরস্থায়ী হয় না। উৎসবের পরদিন সকালে যখন আলো ফোটে, তখন সমাজ এক অদ্ভুত রুঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ায়।
বিপ্লবের ঠিক পরের এই সময়টাকে বলা যায় একটি সমাজের সবচেয়ে সংবেদনশীল কাল। একদিকে থাকে ভাঙা ব্যবস্থার ধ্বংসাবশেষ, অন্যদিকে থাকে এক অলিখিত শূন্যতা। এই শূন্যতা কেবল ক্ষমতার নয়, এই শূন্যতা চিন্তার। সমাজবিজ্ঞান আমাদের শেখায়, একটি দীর্ঘস্থায়ী স্বৈরতান্ত্রিক বা নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা কেবল একটি সরকারকে টিকিয়ে রাখে না, বরং মানুষের চিন্তাভাবনার ভেতরেও এক ধরনের ক্ষুদ্র স্বৈরাচার ও অসহিষ্ণুতা তৈরি করে দিয়ে যায়। তাই স্বৈরশাসক পালালেও, সমাজ থেকে স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা এক রাতে বিদায় নেয় না। এখানেই প্রয়োজন পড়ে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক ওরিয়েন্টেশনের—যার মূল কাজ প্রতিশোধের আগুনকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের আলোয় রূপান্তরিত করা। মোটকথা সঠিক পথে রাষ্ট্রগঠন করা এবং প্রজন্মকে একটি অভিন্ন ও সাধারণ লক্ষ্য এবং আদর্শের বন্ধনে আবন্ধ করা।
ইতিহাসের আয়নায় আলো ও অন্ধকার
ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, যেসব সমাজ এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে নিজেদের মনস্তত্ত্বকে ওরিয়েন্টেড বা পুনর্বিন্যস্ত করতে পেরেছে, তারা টিকে গেছে। আর যারা আবেগের বশে এই ওরিয়েন্টেশনকে অবহেলা করেছে, তারা তলিয়ে গেছে নতুন কোনো ফ্যাসিবাদের গহ্বরে।
১৯৪৯ সালের বিপ্লবের পর চীন যখন তাদের ‘থট রিফর্ম’ বা চিন্তা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়, তখন তার মূল উদ্দেশ্যই ছিল সামন্ততান্ত্রিক দাসত্ব-মানসিকতা থেকে মানুষকে মুক্ত করে একটি নতুন জাতীয় লক্ষ্যে একতাবদ্ধ করা।
অন্যদিকে, ১৯৭৯ সালের ইরান তাদের ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব’ এবং ‘পুনর্গঠন জেহাদ’’-এর মাধ্যমে যুদ্ধের মাঠের যোদ্ধাদের সরাসরি দেশের গ্রামীণ উন্নয়নে কাজে লাগায়। এই ওরিয়েন্টেশনের সুফল তারা পেয়েছিল— ভেতর ও বাইরের চরম বৈরিতা সত্ত্বেও তাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়েনি এমনকি বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো পরাশক্তিও তাদের সাথে মোকাবিলায় যথেষ্ঠ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেনা।
ঠিক তার বিপরীত চিত্রটি বড়ই বেদনার এবং মানবিক ট্র্যাজেডিতে ভরা। ২০১১ সালের লিবিয়ার কথা ধরা যাক। মুয়াম্মা গাদ্দাফির পতনের পর লিবীয় জনগণের সামনে কোনো সুনির্দিষ্ট ওরিয়েন্টেশন বা আদর্শিক বোঝাপড়ার ফ্রেমওয়ার্ক ছিল না। যোদ্ধাদের অস্ত্র জমা নিয়ে তাদের সাধারণ সামাজিক জীবনে ফিরিয়ে আনার (Reintegration) কোনো চেষ্টা করা হয়নি। ফলাফল যা হওয়ার তাই হয়েছিল—যে তরুণেরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বুক পেতে দিয়েছিল, তারাই পরবর্তীতে নিজেদের আঞ্চলিক ও গোত্রীয় স্বার্থে একে অপরের বুকে গুলি চালাতে শুরু করে। লিবিয়া এক দশক ধরে গৃহযুদ্ধের নরকে পরিণত হয়। এখানে অনেক তত্ত্ব থাকতে পারে। বিশেষ করে আমেরিকার ষড়যন্ত্র ও হস্তক্ষেপ তত্ত্ব। কিন্তু মনে রাখতে হবে এখানে মুল শক্তি স্বদেশীরা এবং তারা পথ হারালে বিদেশী শক্তি সুযোগ নেবে অথবা বিদেশী শক্তি সঠিক সহযোগিতার অবকাশ পাবে না।
মিশরের তাহরির স্কয়ারের সেই রক্তাক্ত দিনগুলোর কথা আমরা ভুলিনি। স্বৈরাচার হোসনি মুবারককে হটিয়ে তরুণেরা যে বিজয় এনেছিল, তা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কর্পূরের মতো উড়ে যায়। কারণ? অভ্যুত্থানের পেছনের মূল শক্তিগুলোর মধ্যে কোনো ‘পোস্ট-আপ্রাইজিং সেটেলমেন্ট’ বা পরবর্তী দেশ পরিচালনার মনস্তাত্ত্বিক বোঝাপড়া ছিল না। অনেকে মনে করেন এখানে আদর্শিক শুন্যতা ছিল। আবার অনেকে মনে করেন একটি অংশের আদর্শিক মটো থাকলেও সংশ্লিষ্ঠ পক্ষসমূহের মধ্যে বোঝাপড়া ছিলনা। কারণ তারা নিজেদের মধ্যে সেগুলোকে পরিষ্কার করেনি। নতুন দেশে কার ভূমিকা ও চাওয়া পাওয়া কি হবে এসব নিয়ে তাদের সামনে কোনো রোডম্যাপ বা ব্লপ্রিন্ট ছিলনা। এই শূন্যতার সুযোগ নিয়ে সেনাবাহিনী আবার ক্ষমতা দখল করে এবং মিশরকে ঠেলে দেয় আগের চেয়েও অন্ধকার এক সামরিক স্বৈরতন্ত্রে।
এমনকি ১৭৮৯ সালের মহান ফরাসি বিপ্লবও এই ওরিয়েন্টেশনের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলার এক ক্লাসিক উদাহরণ। বিপ্লবী জ্যাকোবিনরা যখন জোরপূর্বক মানুষকে ‘বিপ্লবী’ বানাতে চাইল, তখন ওরিয়েন্টেশনের জায়গা নিল ‘গিলোটিন’। সন্ত্রাসের সেই রাজত্ব (Reign of Terror) ফরাসি সমাজকে এতটাই ক্লান্ত ও আতঙ্কিত করে তুলেছিল যে, তারা মুক্তির চেয়ে স্থিতিশীলতাকে বেশি আপন মনে করল। ফলস্বরূপ, ফরাসি সমাজ আবার নেপোলিয়নের একনায়কত্বকে সানন্দে বরণ করে নিয়েছিল। একটি সার্বজনীন গণ বিপ্লবও যে উল্টে যেতে পারে এটি তার প্রমাণ।
নিরবতা তত্ত্ব
আমি বলি, আপনার পক্ষে কতজন মানুষ মাঠে আছে বা কথা বলছে বা কাজ করছে অথবা আপনার বিপক্ষে কতজন মানুষ মাঠে আছে বা কাজ করছে বা কথা বলছে তার চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ হলো কতজন মানুষ নিরব রয়েছে। বিষয়টি অংকে হিসেব করা যাক। সফলতার সময় আপনার জনসমর্থন ছিল ৪০-৬০ শতাংশ। অন্যদের এককভাবে আরো কম ছিল। ৪০ শতাংশ সমর্থনে ক্ষমতায় গেলে ২০% সমর্থন ফাও পাওয়া যায়। কারণ কিছু লোক সবসময় ক্ষমতাসীনদের পক্ষে থাকে। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা তাদেরকে শক্তি মনে করে ভুল করে। তারা আসলে শক্তি নয় দূর্বলতা। এই সমর্থন তখনি কাজে লাগে যখন পক্ষের শক্তি এককভাবে বেশী ও কার্যর থাকে।
কিন্তু যখন ক্ষমতাসীনরা পথ হারায় বা ভুল করতে থাকে। তখন রাতারাতি বিপ্লব না হলেও একটি ঘটনা ঘটে। আর তা হলো- সমর্থন কমতে থাকে। মজার ব্যাপার হলো এটা সরকার বা ক্ষমতাসীন বুঝতে পারে না। সে সাময়িক বা ফেক ২০-২৫ শতাংশকে নিজের লোক ধরে নেয়। আর তার নিজের ৪০% থেকে ১০% প্রচুর লাফালাফি করে ফলে এখানে ৪০% কে তার ৮০% মনে হয়। বাস্তবতা হলে তার জনসমর্থ ২০% নেমে এসেছে। সেখানে আবার ১০% নিরব হয়ে গেছে। বাকী সরব ১০% এর মধ্যে যেদিন সে বিপদে পড়বে সেদিন ৫% নিরব হয়ে যাবে ৪% শতাংশ গা ঢাকা দিবে এবং ১% শতাংশ কোনো কাজেই আসবেনা।
বাস্তবতাটা এমন, ক্ষমতাসীন হিসেব করবে তার পক্ষে ৬০ থেকে ৮০% শতাংশ আছে। অন্যদিকে তার বিপক্ষে হলে ১৫ থেকে ২০%। এই হিসেবের কারণ ১৫-২০% মানুষ তার বিরুদ্ধে কথা বলছে। মজার ব্যাপার হলো যেদিন মানুষ ঘর থেকে বের হবে সেদিন দেখা যাবে তার পক্ষে রাজপথে ৫% আর বিপক্ষে ১৫%। সরাসারি ৩গুন পার্থক্য। আর সে যখন ক্ষমতা ও অস্ত্র দিয়ে এটাকে দমন করতে চাইবে বা লাশ ফেলে ভয় দেখাতে চাইবে। তখন এটা হয়ে যাবে হিতে বিপরীত তখন তার পক্ষে রাস্তায় থাকবে ৩% আর বিপক্ষে ২৫%। এখানে নিরব থাকা মানুষগুলোই পার্থক্য তৈরী করে দেয়। আমি ২০২৪ সালের বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনা বিশ্লেষণ করে এই নিরবতা তত্বটি দাড় করিয়েছি। যে কেউ এটি বিশ্লেষণ করে দেখতে পারেন।
দেখুন সবসময় নির্বাচনে যে দলটি ৩০-৩৭% ভোট পেয়েছে। তার জন্য মাঠে ১% লোক ছিল। হয়তো তাদের সমর্থন প্রকৃত অবস্থা থেকে ১০% নেমেছে। তাহলেও এটি দাঁড়ায় ৩০-১০=২০%। কিন্তু জটিল পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু ১০% নিরব রয়ে গেছে ফলে এটা নেমে এসছে ২০-১০=১০% এ। এরাও জুলাই এর গণহত্যা ও ১৫ বছরের অপশাসনে রাস্তায় এসে সমর্থন দেয়ার নৈতিক ও মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। তাতে দেখা গেছে মাত্র ১০% জনগন বা তারও কম মানুষ রাস্তায় নেমে ১৬ বছরের সরকারের পতন ঘটিয়েছে। শুধু তাই নয় ১ দফা আন্দোলন শুরু হওয়ার মাত্র ২ দিনের মাথায় সরকারের পতন ঘটে। ১ দফা ঘোষনার পর এত দ্রুত পতন দুটো বার্তাকে পরিষ্কার করে। প্রথমত- যত সমর্থনই থাকুক তাদের নিরবতাই শক্তিমানের পতনের জন্য যথেষ্ঠ। দ্বিতীয়ত: মনস্তাত্বিক সমর্থন না থাকলে অস্ত্র ও সামরিক শক্তি কাজ করে না।
যদিও ২০০৯ সালে পিলখানা হত্যাকান্ডের পর আমি ভবিষ্যৎবাণী করেছিলাম। যেদিন জনগন একটি শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলবে সেদিন সেনাবাহিনীকে পাশে পাবে। কারণ পাশের দেশ থেকে লোক ডেকে এনে মিডিয়া ট্রায়াল এর মাধ্যমে কোনো দেশের সরকার যদি সেদেশের শীর্ষ সেনাদের হত্যা করে সেনাবাহিনী অবশ্যেই এর জন্য একটি দাম চুকাবে।
কিন্তু পরবর্তী ১৫ বছরের অপশাসন ব্যাপারটা এরকম করে তুলেছে যে, জনগনও অপেক্ষায় ছিল কোনো দেশপ্রেমিক নিরপেক্ষ শক্তি ডাক দিলে তারা মাঠে নামতে প্রস্তুত। কিন্তু ব্যাপারটা কারো জানা ছিল না। যদিও মানুষের সাব কনসাস মাউন্ড বিষয়টি ঠিকই ধরতে পেরেছে। যদি না পারতো তাহলে বলতো না যে, ‘‘পালিয়ে যাওয়ার পথ খুজে পাবেন না’’ অথবা ক্ষমতাসীনরা বার বার বলতো না ‘‘আমরা পালাবোনা’’। পালানোর কথা যখন প্রকাশ্যে এসে গেছে তখনি বোঝা উচিৎ ছিল যে, মনস্তাত্বিক এক লড়াই শুরু হয়ে গেছে।
এখন পলাতকেরা বের করেছে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব আর প্রচার করছে যে, সাধারণ মানুষকে বোকা বানানো হয়েছে তাদের ব্যবহার করা হয়েছে। বাস্তবতা হলো সাধারণ মানুষ শুধু এমন কারো অপেক্ষা করেছে যারা তাদেরকে ঘর থেকে বের হওয়া ডাক দিয়ে নিজেরা সরে যাবে না। কারণ অতীতে এমন হয়েছে। মানুষ যখন বুঝতে পেরেছে যারা মাঠে আছে তারা বিক্রি হবে না আর মাঠ ছেড়ে পালাবে না তখনি মানুষ মাঠে নামার সাহস পেয়েছে।
যদিও এর আরেকটি ব্যাখ্যা হলো, দেশে যত ঘটনা গত ১৬ বছরে হয়েছে। অন্যকোনো দল বা দেশ হলে সরকার পতনের জন্য এসব শত শত ঘটনার ১টিই যথেষ্ঠ ছিল। মানুষ সেগুলোকে আসলে সহ্য করেছে। কিন্তু যখন দলীয় বাহিনী আর পুলিশ মিলে ঘরে ঘরে লাশ ফেলছে আর শতাধিক কোমলমতি শিশুকে হত্যা করেছে তখন মানুষ বুঝতে পারলো যে, ঘরে বসে থেকেও কেউ নিরাপদ নয়। আর মরতে যখন হবে তখন লড়াই করেই মরা ভাল।
এখন, পলাতকেরা ফিরে আসার জন্য নানারকম ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও মিথ্যা প্রচারণার আশ্রয় নিচ্ছে। ঢালছে কোটি কোটি টাকা। এসবের শেষ ফলাফল কী তা নির্ভর করছে। আন্দোলনকারী ও প্রজন্মের অরিন্টেশান ও বোঝাপড়ার উপর।
কেন এই ওরিয়েন্টেশন অনিবার্য?
একটি যুদ্ধ বা অভ্যুত্থানের পর ওরিয়েন্টেশন কেন একটি জাতির জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডারের মতো কাজ করে, তা বুঝতে হলে মানুষের মনস্তত্ত্বকে বুঝতে হবে। যুদ্ধের ময়দানে বা রাজপথের আন্দোলনে যে মানুষটি লড়াই করে, তার ভেতরের চালিকাশক্তি থাকে ‘ক্রোধ’ এবং ‘অ্যাড্রেনালিন রাশ’। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার চালিকাশক্তি হওয়া উচিত ‘ধৈর্য’, ‘ইনসাফ’ এবং ‘সহমর্মিতা’।
যখন একজন সশস্ত্র যোদ্ধা বা বিপ্লবী তরুণ হঠাৎ করে শান্তিকালীন সময়ে ফিরে আসে, তখন সে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক শূন্যতায় (Identity Crisis) ভোগে। সে যদি দেখতে পায় যে বিপ্লবের পরও সমাজে অন্যায় কমছে না, তখন সে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চায় অথবা মুখ ফিরিয়ে নিজের কাজে ফিরে যেতে চায়। এই সময় যদি তাকে সঠিক পথ না দেখানো হয়, যদি তাকে সমাজের উৎপাদনশীল কোনো কাজে (শিক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি বা শিল্প) নিয়োজিত করে দেশের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা (Reintegration) না যায়, তবে সে নিজেই সমাজের জন্য এক বড় সংকটে পরিণত হয়। অন্যদিকে বিপ্লবীদের নিরবতা স্বৈরাচারের দালাল ও এজেন্টদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। যেহেতু তারা হত্যা ও দূর্নীতির কারণে আদালত দ্বারা দন্ডিত হওয়ার আশংকা থাকে তাদের নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য সামাজিক সমস্যা তৈরী করা জরুরী হয়ে পড়ে। ফলে বিপ্লবের পরে একটা যুদ্ধ চলতে থাকে অনেকদিন এটি পৃথিবীর সব সমাজ ও দেশের জন্য প্রযোজ্য।
ঠিক একইভাবে, সাধারণ জনগণের মন থেকেও পুরোনো ভয়ের সংস্কৃতি দূর করে নাগরিক অধিকার ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা (Civic Socialization) দিতে হয়। তা না হলে, জনগণ কেবল ‘শাসক পরিবর্তনের’ বৃত্তেই ঘুরপাক খাবে, ‘ব্যবস্থার পরিবর্তন’ আর কোনোদিন আসবে না।
কেননা একটি ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচার রেজিম একা একা টিকে থাকে না। তার সে দূর্গ ভেঙ্গে পড়লেও তার শক্তি বিচ্ছিন্ন হয় কিন্তু হারিয়ে যায়না। যদিও বাংলাদেশের ক্ষেত্
