পলিথিন
জোরপ্রয়োগ নয় বরং একটি ভারসাম্যপূর্ণ উদ্যোগের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধন করতে হবে

পলিথিন ও প্লাস্টিক বজ্য নিয়ন্ত্রণের সমন্বিত উপায়

পলিথিন ও প্লাস্টিক বজ্য নিয়ন্ত্রণের সমন্বিত উপায়

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

আমাদের এই জনপদে জনসংখ্যার আধিক্য আছে আর সে আধিক্যের কারণ আমাদের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ। সূতরাং এই পরিবেশ আমাদের অসিত্বের অংশীদার। আমাদের অস্তিত্ব রক্ষা করার জন্যই আমাদেরকে পরিবেশ রক্ষায় প্রাণপণ বাজি রাখতে হবে। আজ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কারণে ইতোমধ্যে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদে কমতি দেখা দিয়েছে। ফল-ফলাদির ফলন কমে যাওয়া, মাছের ঘাটতি, হাস-মুরগী, গরু-ছাগল পালনের ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আমরা হয়তো সব পরিবর্তন ঠেকাতে পারবো না। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কিছুটা হলেও নিরাপদ পরিবেশ তৈরী করে দেয়ার দায়িত্ব আমাদের।

আমাদের অনেক ভালোর মধ্যে বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দিয়েছে পলিথিন ব্যাগ। আমরা হয়তো এই প্লাস্টিক নির্ভর নাগরিক সভ্যতায় প্লাস্টিক বর্জ্যমুক্ত পৃথিবী এখনি তৈরী করতে পারবো না। যতক্ষণ না এর ভাল কোনো বিকল্প তৈরী হচ্ছে। এই মুতুর্তে আমাদের প্রয়োজন হলো, একে যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণ করা। প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণ দ্বারা বাংলার আলো-বাতাস-পানি-মাটিকে বাঁচাবো এটাই হবে আমাদের মিশন।

আমাদের দেশে যেমনি সচেতনতার অভাব রয়েছে তেমনি অভাব রয়েছে নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ববোধের। আইনের শাসন ও বাস্তবায়ন না থাকায় এই আবর্তে আমরা চিরকালই রয়ে গিয়েছি। তারউপর কম সম্পদ আর বেশী মানুষের দেশে অস্থিরতা আর প্রতিযোগিতা আমাদেরকে নিয়ম মানা থেকে ক্রমশ দূরে সরিয়ে রাখে।

সচেতন নাগরিকরা এড়িয়ে যেতে পারেন না। দায়িত্বশীলদের দায়িত্ব থেকে যায়। তা না হলে প্রজন্মের কাছে কাছে মানুষের কাছে নিজের দায়িত্বের কাছে এবং বিবেকের কাছে দায়বদ্ধতা থেকে যায়। আর সেজন্য আমাদেরকে কাজ করে যেতে হবে। আমাদের দেশে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়। ফলে এসব উদ্যোগগুলো বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়। তাই কার্যকর ও সফল উদ্যোগের জন্য প্রয়োজন বাস্তবমূখী, সমন্বিত কর্মসূচী। যাতে একটা সিদ্ধান্তের ফলে যে ঘাটতি তৈরী হবে সেটা যেন অন্য একটা সিদ্ধান্ত দ্বারা পূরণ করা যায়। তা না হলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নকারীরা তাদের কার্যক্ষেত্রে দূর্বল হবে এবং লক্ষ্য অর্জন হবে না। তাই একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম তৈরীর মাধ্যমে আমরা পরিবেশ দূষণ রোথ করে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঠিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারব। আর সে লক্ষ্যেই এক গুচ্ছ পরামর্শ পেশ করছি।

 

ক) পলিথিন ব্যাগের বিকল্প কি হতে পারে?

১) পলিথিন ব্যাগের সৌখিন বিকল্প পাটের ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু পাটের দাম বেশী হওয়াতে এটি সার্বজনীন করা সম্ভব নয়। পাটের আঠা থেকে যে পলিথিন তৈরীর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে একই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এই মুহুর্তে পাটের বিকল্প টিস্যু ব্যাগ ব্যবহার হচ্ছে। যদিও এটাও দ্রুত পচনশীল নয়।

২) পাটের ব্যাগের বিকল্প দেশী সূতার তৈরী কাপড়ের ব্যাগ ক্ষেত্রে বিশেষে বিকল্প হতে পারে। আামাদের গামছা জাতীয় সূতায় কাপড়ের ব্যাগ তুলতামুলক বেশী দাম নয়। তাই ক্ষেত্র বিশেষে সূতী কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে।

৩) সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যাগ বন্ধ করার জন্য যেমনি ভাল বিকল্প প্রয়োজন। তেমনি কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিথিলতাও প্রয়োজন হতে পারে। যেমন মাছ, মাংস, শুটকি ইত্যাদি।

৪) কাগজের ব্যাগ একটি ভাল বিকল্প। এটি একদিকে খরচ বেশী অন্যদিকে টেকসই নয়। তবে ব্রান্ডশপগুলো এ ধরনের ব্যাগ ব্যবহার করলেও এধরনের ব্যাগে লেমিনেশন থাকে বিধায় সেক্ষেত্রে আবার প্লাস্টিকের ব্যবহার হয়। তাই এখানে লেমিনেশন এর বিকল্প বা কম লেমিনেশন ব্যবহারের উপায় বের করতে হবে।

৬) সাম্প্রতিক সময়ে কলাপাতা থেকে সূতা আবিষ্কার এবং তা দিয়ে শাড়ি বানানোর ফলে ব্যাগের জন্য একটি নতুন বিকল্পের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। তবে এটিকে কাঠামোবদ্ধভাবে বাণিজ্যিকিকরণ না করলে তা ফলপ্রসু হবে না।

৭) একই কথা নারকেল তন্তু ও কুচুরিফানার সুতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এসবের বহুল ব্যবহার না হলে তা সুলভ হয়ে উঠবেনা।

 

খ) শপিং ব্যাগ হিসেবে পলিথিন এর ব্যবহার কমানো

১) সরকার ইতোমধ্যে সুপারশপে এবং ব্রান্ডশপে সিঙ্গেল ইউজ পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে। এটি কার্যকর হলে একধাপ অগ্রগতি সম্পন্ন হবে। তবে এটি সকল শপিং সেন্টার ও দোকান-বাজারের জন্য নির্দেশ না দেয়াতে এই আদেশে বৈষম্য করার প্রশ্ন এসেছে। ধাপে ধাপে অন্যান্য ক্ষেত্রেও এর বাস্তবায়ন করা দরকার।

২) শপিং ব্যাগ হিসেবে পাতলা পলিথিন ব্যাগের উৎপাদন ও বিপনন বন্ধ করা জরুরী। আপাতত এর উপর উচ্চ শুল্ক প্রয়োগ করে কিছুটা নিরুৎসাহিত করা যেতে পারে।

গ) পলিথিন মোড়ক নিয়ন্ত্রণ

দেশে পলিথিন এর শপিং ব্যাগ ছাড়াও সবচেয়ে বেশী হয় পলিথিন বোতল ও মোড়ক। পলিথিন মোড়ক একটি মহামারি আকার ধারণ করেছে। যে ক্ষেত্রে পলিথিন মোড়ক দরকার সেখানেও ব্যবহার করছে যেখানে দরকার নেই সেখানেও করছে। তাই পলিথিন মোড়ককে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী।

১) প্রথমত একটি আদেশের মধ্যে সরকার পলিথিন মোড়ক নীতিমালা বা নির্দেশিকা জারি করবে। কোন পণ্যের জন্য কত পুরুত্বের কি পলিথিন ব্যবহার করা যাবে এবং কোন পণ্যের জন্য পলিথিন মোড়ক ব্যবহার করা যাবে না তা জানিয়ে দেবে।

২) এছাড়া সরকার উপজেলা পর্যায়ে পরিবেশ বিষয়ক অফিসার নিয়োগ দিতে হবে। এবং যেসব ক্ষেত্রে পলিথিন মোড়ক প্রযোজ্য সেসব ক্ষেত্রে পলিথিন মোড়ক এর অনুমোদন নিতে হবে। বিএসটিআই যেভাবে অনুমোদন দেয়। এখানে ল্যাবটেস্ট এর দরকার হবে না। কর্মকর্তার কাছে ছোট গ্যাজেট আর হালকা একটা প্রশিক্ষণ থাকলে তিনি নমূনা জমা নিয়ে অনুমোদন দেবেন। এবং একটি অনুমোদন নাম্বার দেবেন। যিনি প্লাস্টিক মোড়ক ব্যবহার করবেন। তিনি পণ্যের বা মোড়কের গায়ে মোড়কের অনুমোদন নাম্বার ও লোগো ব্যবহার করে তার অনুমোদন এর বিষয়টি সকলের কাছে নিশ্চিত করবেন। এই অনুমোদন এর জন্য একটা নির্দিষ্ট ফি থাকবে। এবং তিনি কি পরিমাণ মোড়ক তৈরী করবেন তার সংখ্যা ঘোষনা করে সে মোতাবেক একটি পরিবেশ দূষণ ফি প্রদান করবেন। কারণ এই মোড়ক পরিবেশে ফিরে আসবে এবং পরিবেশের ক্ষতি করবে। সরকার পরিবেশ রক্ষায় এই ফি খরচ করতে পারবে। সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করতে সিগারেট এর ক্ষেত্রে যেমন ট্যাক্স স্টিকার দেয়া হয়। এখানেও তা করা যেতে পারে।

৩) বিভিন্ন স্বেচ্চাসেবি সংগঠন এবং ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীদের দ্বারা সরকার মোড়ক, বোতল ও প্লাস্টিক রিসাইকেল এর ব্যবস্থা করতে পারে। এখান থেকে যে ট্যাক্স পাবে তা রিসাইকেল ব্যবসায়ীদের স্বল্পসুদে (২%) ঋণ দিতে পারে বা বিনিয়োগ করতে পারে। প্লাস্টিক রিসাইকেল মেশিন আমদানী ট্যাক্স ফ্রি করতে পারে।  এ ধরনের কোম্পানীর জন্য ট্যাক্স ভ্যাট মওকুপ করতে পারে। ঋণ সুবিধা দিতে পারে। যারা কর্মী কাজ করবে তাদেরকে বেতনের সাথে সরকারী সম্মানি যোগ করতে পারে এবং কি পরিমাণ প্লাস্টিক রিসাইকেল করে তার উপর ভিত্তি করে প্রণোদনাও দিতে পারে।

৪) জরুরী না হওয়া সত্বেও বেশী পলিথিন মোড়ক ব্যবহার করার জন্য বেশী কর। এবং সুযোগ থাকা সত্বেও কম পলিথিন ব্যবহার করার জন্য কররেয়াত করার বিধান রাখা যেতে পারে।

৫) বিদেশী কারিগরি সহায়তায় রিসাইকেল প্রযুক্তির কারখানা প্রতিষ্টা করে সরকার নিজেই নির্ধারিত মূল্যে প্লাস্টিক ক্রয় করতে পারে। এজেন্ট এবং ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে।

৬) বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিবেশ বিষয়ক স্বেচ্চাসেবি সংগঠন এর অনুমোদন দিয়ে তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। বিশেষ করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ অভিযানে তাদেরকে যুক্ত করে কম খরচে বেশী ফল আনতে পারে।

৭) যেসব দোকান ও বাড়ির সামনে রাস্তায় ড্রেনে খালে সৈকতে ময়লা বা প্লাস্টিক ময়লা পড়ে থাকবে। পরিবেশ পুলিশ প্রতিষ্টা করে পরিবেশ পুলিশের দ্বারা তাদেরকে তাৎক্ষনিক জরিমানার ব্যবস্থা করতে হবে। অবশ্যই যাচাই বাছাই সাপেক্ষে।

৮) যে ফ্যাক্টরীতে প্লাস্টিক মোড়ক তৈরী হবে। তার প্রতি মাসের প্রতিবেদন পরিবেশ পুলিশ বা পরিবেশ কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। এতে দেশে কি পরিমাণ প্লাস্টিক মোড়ক তৈরী হচ্ছে তার হিসেব জানা যাবে।

৯) রাস্তাঘাটে যেখানে সেখানে যারা ময়লা বা প্লাস্টিক ময়লা ফেলবে। তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। ‘‘নাগরিক অভিযোগ’’ আমলে নিয়ে তাদের জন্য জরিমানা শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ‘‘ নাগরিক অভিযোগ’’ হবে এমন কোনো একজন নাগরিক যদি এমন কোনো ভিডিও ‘‘পরিবেশ কমিশন’’ এর নিকট পাঠায় যে যেখানে দেখা যাচ্ছে কোনো বাসা বা বাস থেকে প্লাস্টিকের বোতল রাস্তায় বা নদীতে ফেলা হচ্ছে। তাহলে এটি নাগরিক অভিযোগ হিসেবে বিবেচনায় কমিশন সংশ্লিষ্ঠ ব্যক্তি বা প্রতিষ্টানের বিরুদ্ধে জরিমানা ঘোষণা করবে। ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ঠ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হয়তো জরিমানা দিবে অথবা অভিযোগের সত্যতাকে চ্যালেঞ্জ করে আপিল করবে।

ঘ) প্লাস্টিকের বোতল

১) প্লাস্টিক বোতলের ব্যবহার কমাতে এক্ষেত্রে পারমিশন, রেজিস্ট্রেশন এবং বোতলপ্রতি ট্যারিফ নির্ধারণ করে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

২) প্রতিটি বোতলের কিউআর কোড বা সিরিয়াল নাম্বার বাধ্যতামূলক করে প্রতিটি বোতলকে ট্রাক করা যেতে পারে। অথবা যে কোম্পানী যে পরিমাণ বোতল বাজারজাত করবে সে কোম্পানী সে পরিমাণ বোতল সরকারী রিসাইকেল সেন্টারে জমা দেয়া নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য পূর্বে যেমন কোমল পানীয়ের কাচের বোতল কোম্পানীগুলো ফেরত নিতো তেমনি প্লাস্টিক বোতল ও ফেরত নেয়া সিস্টেম চালু করবে। প্রতিটি বোতলে সরকার ৫ টাকা থেকে শুরু করে বড় বোতলের সাইজ অনুসারে ফিরতি মূল্য হিসেবে ট্যাক্স ধার্য করবে। পানীয় কোম্পানী সে বোতল সরকারকে জমা দেবে। জমা দিতে না পারলে সমমূল্যের জরিমানা দেবে। ঠিক কোম্পানী একইভাবে তার ডিলারকে বোতলপ্রতি মূল্যের সাথে বাড়তি মূল্য ধরে দেবে। তার ডিলার তাকে সমপরিমাণ বোতল ফেরত দিয়ে টাকা ফেরত নেবে। তেমনিভাবে খুচরা দোকানদারও তাই করবে। এবং খুচরা ক্রেতাও একই কাজ করবে। তিনি দোকান থেকে বোতল কেনার সময় ৫ টাকা বেশী দেবেন। বোতল ফেরত দিয়ে ৫ টাকা বুঝে নিবেন। ফেরত দিতে না পারলে টাকা পাবেন না। সর্বোতভাবে এই ফেরত না পাওয়া টাকাটা সরকারের খাতে জমা হবে। সরকার রাজস্ব বৃদ্ধি করবে এবং এই অর্থ ‍পরিবেশ উন্নয়নে খরচ করবে।

৩) প্লাস্টিক বোতল কেনার জন্য সরকার ভুর্তুকি দিয়ে এতে দাম বাড়ালে প্রচুর বোতল মাঠ থেকে উঠে আসবে।  সরকার যে বাড়তি বোতলমূল্য পাবে সেখান থেকে বাকী ফেরত না আসা বোতলগুলো কেনার জন্য ভূর্তুকির টাকার যোগান দেবে।

৪) এখানেও রিসাকেল ফ্যাক্টরী ও প্রযুক্তিকে সরকার সহায়তার করবে।

৫) যেসব নারী উদ্যোক্তা ফেলেদেয়া প্লাস্টিক থেকে হস্তশিল্প তৈরী করতে তাদের জন্য প্রণোদনা থাকতে পারে।

৬) প্লাস্টিক সংগ্রহকারী সামাজিক সংগঠনের কাছ থেকে সরকার প্লাস্টিক কেনার মাধ্যমে তাদেরকে অন্যান্য সামাজিক কাজ করার জন্য তহবিল সংগ্রহের সুযোগ করে দিতে পারে। প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণ সমিতি গঠনের কালচার চালু করা যেতে পারে।

৭। খালে বিলে জমিতে প্লাস্টিক ময়লা ফেলার ক্ষেত্রে জন-অভিযোগ গ্রহণ করার আইন করতে হবে। এতে করে যে কেউ কে কারো বিষয়ে ছবি, ভিডিও বা কোনো অকাট্য প্রমাণ দিয়ে একটি অভিযোগ উত্থাপন করলে তাকে বিচারের আওতায় আনা হবে। বাদী ও স্বাক্ষী টেনে এনে প্রমাণ করার প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে আসতে হবে। অভিযোগকারীর প্রমাণটি যদি সঠিক তাহলে শাস্তি দেয়ার জন্য এটাই যথেষ্ঠ করতে হবে। বাদী বা স্বাক্ষীর অনুপস্থিতির অযুহাতে পরিবেশ ধ্বংস, বিনষ্ট ও নোংরাকারীকে ছাড় দেয়া যাবে না। বাদীকে তখনি খোঁজা যেতে পারে যখন অভিযোগটি মিথ্যা বা উদ্দেশ্যমূলক হবে।

৮। পরিবেশ পুলিশ এর পরিবেশ আদালতও থাকতে পারে।

৯। পলিথিন নিষিদ্ধের কারণে কেউ বেকার হলে বা কর্মসংস্থান হারালে তাদের বিকল্প কর্মসংস্থান সুযোগ দিতে হবে। কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে তাদের বিকল্প পেশার জন্য প্রশিক্ষণ ও ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।

১০। ১ মাস ব্যাপী দেশের সকল জায়গা জমি, মাঠ, খাল বিল, রাস্তা, ড্রেন থেকে পলিথিন উদ্ধার অভিযান চালাতে হবে। ধর্মীয় নেতা, এনজিও, সামাজিক সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, লঘুদন্ডের আসামী, পরিবেশবাদী সংগঠন সকলকে সম্পৃক্ত করে কাজটি সম্পন্ন করতে হবে।

১১। সংগৃহিত সকল প্লাস্টিক ধ্বংস বা পূনরায় ব্যবহারযোগ্য করতে হবে।

১২। ব্যবহৃত প্লাস্টিক দিয়ে কিছু তৈরী করার কারখানাক