24-July

জুলাই অভ্যুত্থান ও তৎপরবর্তী অরিয়েন্টেশান

জুলাই অভ্যুত্থান ও তৎপরবর্তী অরিয়েন্টেশান

২০২৪ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পৃথিবীর ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়। দীর্ঘ দেড় দশকের একটি সুসংগঠিত, নিশ্ছিদ্র এবং নৃশংস ফ্যাসিবাদী কাঠামোর পতন ঘটিয়েছিল ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব নৈতিক ও শারীরিক প্রতিরোধ। কিন্তু যেকোনো ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর স্বৈরশাসক বা দলের পালিয়ে যাওয়াই শেষ কথা নয়; আসল যুদ্ধ শুরু হয় তার পরদিন সকালে—রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জেঁকে বসা ফ্যাসিবাদের ভূত তাড়ানোর মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত এই  যুদ্ধে টিকতে না পারলে অভ্যুত্থানকে বিপ্লবে রুপান্তর করা যায় না।

ইতিহাসের নির্মম শিক্ষা এবং বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতার আলোকে এই বিপ্লবীদের (ছাত্র, তরুণ এবং আপামর ওরিয়েন্টেড জনতা) কীভাবে ওরিয়েন্টেশন হওয়া উচিত ছিল এবং এই মুহূর্তে ঠিক কী করা উচিত, তা নিচে গভীর বিশ্লেষণসহ তুলে ধরা হলো।

 অভ্যুত্থানের পর বিপ্লবীদের  ওরিয়েন্টেশন প্রসঙ্গ

বিপ্লবের পর প্রথম ধাক্কাতেই যে বিষয়গুলোতে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া প্রয়োজন ছিল:

বিজয়োন্মাদের বিপরীতে ‘অভিভাবকত্ব’ ও সংবেদনশীলতার ওরিয়েন্টেশন: দীর্ঘদিনের নিপীড়নের পর বিজয়ের মুহূর্তে মানুষের মনে চরম ক্ষোভ ও প্রতিশোধের আগুন জ্বলে ওঠা স্বাভাবিক (যেমনটি ফরাসি বিপ্লবে জ্যাকোবিনদের ক্ষেত্রে হয়েছিল)। কিন্তু প্রথম দিন থেকেই বিপ্লবীদের মূল মন্ত্র হওয়া উচিত ছিল—”আমরা প্রতিশোধ নিতে আসিনি, আমরা ইনসাফ কায়েম করতে এসেছি।” আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে, ল্যাম্পপোস্টে ঝুলিয়ে বিচার করার মব-জাস্টিস বা উন্মাদনাকে কঠোরভাবে রুখে দিয়ে রাষ্ট্র ও জনগণের জানমালের ‘অভিভাবক’ হিসেবে নিজেদের হাজির করার দীক্ষা নেওয়া প্রয়োজন ছিল।

তারমানে   এই নয় যে, অপরাধীরা ছাড় পাবে। প্রকৃত অপরাধীরা অবশ্যই জেলে যাবে আর সাধারণ মানুষ ঘরে নিরাপদ থাকবে। কিন্তু দেখাগেল খুনিদের সেনানিবাসে আশ্রয় দিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হলো। তুলনামূলক কম অপরাধী েকিছু লোককে জেলে দিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হলো।

অন্যদিকে যে আমলাতন্ত্র স্বৈরব্যবস্থা বহাল রাখার জন্য কাজ করেছিল। সমস্ত ক্ষমতা তাদের হাতে চলে গেলে। আবার শীর্ষ সেনাপতি সমযোতার নামে ছাত্রদের কাছ থেকে বিপ্লবের পতাকা কেড়ে নিয়ে রাজনীতিবিদদেরকে নিয়ে নতুন বলয় তৈরী করলো। শুধু তাই নয়, ছাত্ররা যাকে নতুন সরকারের প্রধান বানালো তাকে কাজে বাঁধা দেয়ার জন্য একদল সংবিধানের দোহাই দিল, পতিতরা ছদ্মবেশে ৩শ আন্দোলন করে বাঁধা দিল এবং আমলারা কাজের গতি কমিয়ে দিল। এমনকি স্বয়ং সেনাপ্রধান ১২ জন সেনা কর্মকর্তাকে প্রধান উপদেষ্ঠার কার্যালয়ে নিয়োগ দিয়ে তার উপর নজরদারি শুরু করলো।

আদর্শিক ও কৌশলগত বোঝাপড়া (Inclusive Settlement):

অভ্যুত্থানের পেছনের মূল শক্তি—অর্থাৎ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বাম-ডানপন্থী গোষ্ঠী এবং সাধারণ পেশাজীবীদের মধ্যে একটি ‘ন্যূনতম জাতীয় বোঝাপড়া’র দ্রুত ফ্রেমওয়ার্ক দরকার ছিল। লিবিয়া বা মিশরের মতো আদর্শিক শূন্যতা যেন তৈরি না হয়, সেজন্য ক্ষমতার ভাগাভাগি নয় বরং “রাষ্ট্রের ন্যূনতম সংস্কারের এজেন্ডা কী হবে”—তা নিয়ে প্রথম দিন থেকেই একটি স্পষ্ট ওরিয়েন্টেশন থাকা দরকার ছিল। কিন্তু এটাও বাস্তবতা যে, সে মুহুর্তে এমনটা ভাবার মতো অবস্থা ছিলো না।

তারা একটি সাধারণ লক্ষ্য ঠিক করতে পারতো এবং তার একটি পোশাকি নামও দরকার ছিল। যেটা হতে পারতো মানবিক বাংলাদেশ বা জনগনের গণতন্ত্র। যদিও জুলাই সনদ নাম দিয়ে সংষ্কারের ১টি প্রাথমিক পথ তৈরী করতে চেয়েছিল। তাতে বাঁধা হয়ে দাড়াল কিছু রাজনীতিবিদ ও আমলাতন্ত্র। এটাতো জানা কথা এরা সংষ্কার চাইবে না। তাহলে তখনি সচেতন হওয়া দরকার ছিল। তাছাড়া ‘‘জুলাই সনদ’’ নামটার মধ্যে ভেতরে কি আছে তা বোঝা যায় না। এর নাম হওয়া দরকার ছিল। ‘‘প্রতিশ্রুতি সনদ’’ বা ‘‘ জন-অধিকার সনদ’’ বা নতুন বাংলাদেশ সনদ।

অন্যদিকে এর পক্ষ হওয়া উচিৎ ছিল কোনো রাজনৈতিক দল নয়। বরং যেসব সংগঠন বা ব্যানার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল তারাই হওয়ার কথা ছিল এর স্টেক হোল্ডার। যদি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা অংশ নিয়ে থাকে। তারা যে নামে অংশ নিয়েছে সে নামে তারাও অংশীদার হতে পারতো। যেমন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই সম্পর্কি ত সংগঠনগুলোর পাশাপাশি ছাত্রদল-ছাত্রশিবির এর স্টেকহোল্ডার হওয়া উচিৎ সব রকম যৌক্তিকতায়। পরে ক্ষমতায় কে আসবে সেটাতো পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে ঠিক হবে। এখানে সঠিক অংশীদার তারা মোটেও ছিল না। কিন্তু সেনা হস্তক্ষেপ একটি ভুল বার্তা দিয়ে গোটা মুভমেন্টকে ভুল দিকে নিয়ে গেল।

ভাঙ্গনের মনস্তত্ত্ব থেকে গঠনের মনস্তত্ত্বে রূপান্তর:

রাজপথের লড়াইয়ে প্রয়োজন পড়ে ‘অ্যাড্রেনালিন রাশ’ বা ধ্বংসাত্মক সাহস (স্বৈরাচারের কাঠামো ভাঙার জন্য)। কিন্তু রাষ্ট্র গঠনে প্রয়োজন ‘ধৈর্য’ ও ‘মেধা’। বিপ্লবীদের ওরিয়েন্টেশন হওয়া উচিত ছিল এমন—যেখানে তারা বুঝবেন যে, স্লোগান দেওয়া আর রাষ্ট্র পরিচালনা বা সংস্কার করা এক জিনিস নয়। আবেগের জায়গাটা দ্রুত মেধা ও কৌশল দিয়ে প্রতিস্থাপন করা উচিত ছিল।

সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশের মূল সংকট আমলাতন্ত্র, ব্রিটিশ আমলের আইনি কাঠামো এবং ৭২ এর সংবিধান। যেহেতু এই সংবিধান বৃটিশ আমলের আইনি কাঠামোর সাথে সমন্বয় করে তৈরী করা হয়েছে। তাই এটি হলো একটি গোলামীর সনদ। আর দরকার ছিল সচিবালয়ের দখল নেয়া সংবিধান স্থগিত করে নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু করা এবং ১ থেকে ৩ বছরের মধ্যে সকল আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো পূণগঠন করা।

পরবর্তী বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হলে প্রথম কাজ হবে, প্রশাসনিক কাজে দক্ষ কর্মীবাহিনী তৈরী করা। আর সেজন্র দরকার হবে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ  ও প্রস্তুতি।  ধরি এই সংক্রান্ত দক্ষতাকে ১০টি ভাগে ভাগ করা হলো। তাহলে প্রতিটি বিষয়ে প্রথমে ঢাকায় ৫০ জন প্রশিক্ষক তৈরী করতে হবে। তারপর তাদেরকে দিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ের ৫০ জন নেতাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দিতে হবে এবং তাদের মধ্য থেকে ১০০ জন প্রশিক্ষক বের করে জেলা পর্যায়ে তারপর ইউনিয়ন ও উপজেলা ও তৃণমূলে এটাকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

একইভাবে প্রথম মাসে যদি বিষয় হয়: সাংগঠনিক দক্ষতা, দ্বিতীয় মাসে: নেতৃত্ব, তৃতীয় মাসে: সৃজনশীলতা ও লেখালেখা, চতুতর্থ মাসে: কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও ডিজিটাল লিটারেসি, পঞ্চম মাসে: রাজনীতি, সরকার ও গণন্ত্র এবং ষষ্ঠ মাসে: আইন বিচার ও প্রশাসন। এভাবে চলতে থাকতে পারে। যার যে বিষয়ে আগ্রহ সে অংশ নিবে। প্রতিটি বিষয়ে অন্তত জেলা পর্যায়ে ৫০ জনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে একেকটি বিষয়ে ৫ হাজার লোক প্রশিক্ষত হবে সেখানে থেকে হয়তো ৫০০ জন দক্ষ নেতা তৈরী হবে। যারা আগামীর যেকোনো চ্যালেঞ্জিং সময়ে নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত দানের সময়ে সঠিক ভূমিকা রাখবে এবং  এই বিশাল প্রশিক্ষিত তারুন্য যেকোনো চ্যালেঞ্জ গ্রহণে ভূমিকা রাখবে।

 বর্তমান সংকটে এখন কী করা উচিত? (The Action Plan)

অভ্যুত্থানের পর বেশ কিছু সময় পার হয়ে গেছে। কিছু ক্ষেত্রে ওরিয়েন্টেশনের ঘাটতির কারণে সমাজে এক ধরণের অস্থিরতা বা বিভাজন স্পষ্ট হচ্ছে। এই মুহূর্তে দীর্ঘমেয়াদী ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে এবং অভ্যুত্থানের রক্তস্নাত আকাঙ্ক্ষা টিকিয়ে রাখতে বিপ্লবীদের প্রধান কাজগুলো হবে:

১)  একটি সাধারণ লক্ষ্য স্থিরকরণ (Common Goal)

এর মানে হলো যেসব পক্ষ এক হলে লড়াই করেছে। তাদের সকলের সাথে যায় এমন একটি সাধারণ লক্ষ্য নির্ধারণ করা। এর পোশাকী নাম যাই হোক না কেন এর মধ্যে থাকবে সকলের সাধারণ ও এক হওয়া লক্ষ্যগুলো। এটির নাম হতে পারে ‘‘নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ’’ কিংবা ‘‘ রাষ্ট্র সংষ্কাv ’’ এর আদর্শিক সংযোগও থাকতে পারে। যার নাম হতে ‘‘সহনশীল সমাজ ব্যবস্থা’’ কিংবা “কিংবা মানবিক গণতন্ত্র’’ প্রতিষ্ঠা বা অন্য কোনো কিছু। এই লক্ষ্যে আন্দোলনে সম্পৃক্ত সংগঠন অথবা একই আদর্শের সকল রাজনৈতিক অরাজনৈতিক সংগঠন একটি ঐক্যবদ্ধ ঘোষণা প্রকাশ করতে পারে।

এই কাজটি রাজনৈতিকভাবে জুলাই ঘোষণা ও জুলাই সনদ নামে হয়েছে। কিন্তু প্রথমত, নামের মধ্যে আদর্শিক ভিত্তি থাকলেও তার প্রাথমিক প্রকাশ নেই। দ্বিতীয়ত: সরকারকে এর অংশীদার বা সমন্বয়ক বানানো হয়েছে। যদিও লক্ষ্য বাস্তবায়ন সহজ করার জন্য সরকারকে সাথে নেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো সরকার পক্ষে না থাকলে পুরো বিষয়টি ঝুলে যেতে পারে। তাই এখনো এটি হতে পারে। জুলাই ঘোষনা ও সনদ এর সাথে প্যারালাল আরেকটি ঘোষণা ও সনদ থাকতে পারে। তাতে যেসব উদ্দেশ্য থাকবে সেখানে সরকারের কাজগুলো নয় বরং বেসকারী পক্ষগুলো কী কী কাজ করবে এবং কী কী নীতি অনুসরণ করবে তার একটা রুপরেখা থাকবে। এভাবে একটি ঐক্য গড়ে উঠতে পারে।  এবং সকলে যার করনীয় এবং করনীয় নয় এমন কাজ ও কথা সম্পর্কে সচেতন থেকে লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখতে পারে।

২) প্রাতিষ্ঠানিক ওরিয়েন্টেশন ও সমাজীকরণ (Civic Socialization)

ফ্যাসিবাদের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা ছিল মানুষের মগজ ও মননে ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ গেঁথে দেওয়া এবং চামচামির সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া। এখন তরুণদের কাজ হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে “নাগরিক অধিকার ও জবাবদিহিতা”-র নতুন ওরিয়েন্টেশন চালু করা। পাঠ্যপুস্তকে ও সামাজিক স্তরে জুলাই-আগস্টের মূল চেতনা—”মানবিক মর্যাদা, সাম্য ও সামাজিক সুবিচার”-কে একটি স্থায়ী দর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো দলই আর ফ্যাসিস্ট হওয়ার সাহস না পায়।

যে লক্ষ্য ও আদর্শ স্তির করা হবে, তাকে কেন্দ্র করে সাংষ্কৃতিক সংগঠন, সামাজিক সংগঠন, থিংক ট্যাংক, ব্লগ, পত্রিকা, টিভি চ্যানেল, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, সোস্যাল মিডিয়া এবং নিজস্ব টিম এগুলো তৈরী করে একযোগে কাজ করতে হবে।

৩) মনস্তাত্ত্বিক পুনরেকত্রীকরণ (Psychosocial Reintegration)

আন্দোলনে অংশ নেওয়া হাজার হাজার প্রান্তিক তরুণ ও যোদ্ধা—যাঁরা চোখের সামনে বন্ধুদের মরতে দেখেছেন, নিজেরা পঙ্গু হয়েছেন—তাঁরা তীব্র ট্রমা ও এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক শূন্যতায় ভুগছেন।

  • তাঁদের জন্য অবিলম্বে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে মানসিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার ও সামাজিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

  • এই তরুণদের অস্ত্র বা সহিংস রাজনীতির দিকে ধাবিত হতে না দিয়ে, তাঁদের মেধা ও শক্তিকে রাষ্ট্র পুনর্গঠন, ডেটা সায়েন্স, কৃষি, আইটি বা উদ্যোক্তা তৈরির মতো উৎপাদনশীল খাতে যুক্ত (Reintegrate) করতে হবে।

  • নিজেদের বলয়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। যেমন – দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণকেন্দ্র, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, ক্রীড়া সংগঠন, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশীদারী ব্যবসা ( হোটেল, রেস্টুন্টে, রিজোট, কমিউনিটি সেন্টার, হাউজিং কোম্পানী) ইত্যাদি।
  • সমমনা লোকদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কমিউনিটি গড়ে তুলতে হবে। রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন হিসেবে নয় বরং সহযোগী সংগঠন হিসেবে স্বতন্ত্র পরিচয়ে তারা গঠিত হবে এবং কাজ করবে। যেমন ব্যবসায়ী ফোরাম, আইসিটি কোরাম, পেশাজীবি পরিষদ ইত্যাদি।

৪) রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে এক টেবিলে বসা (Inclusive Dialogue)

মিশরের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। মিশরের তরুণেরা রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্পূর্ণ দূরে ঠেলে দিয়েছিল, যার সুযোগ নিয়েছিল সেনাবাহিনী। বাংলাদেশের তরুণ বিপ্লবীদের উচিত হবে দেশের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে দ্বন্দ্বে না গিয়ে, তাঁদের সাথে টেবিলে বসে “ভবিষ্যতের বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার সীমা ও ভারসাম্য (Checks and Balances)” কী হবে, তা নির্ধারণ করা। দলগুলো যেন ক্ষমতায় গিয়ে আবার ফ্যাসিস্ট হতে না পারে, তার জন্য সাংবিধানিক সংস্কারের একটি যৌথ রোডম্যাপে সবাইকে সই করাতে হবে।

যদি রাজনৈতিক দলগুলো তাদের পুরনো কাঠামো ও মানসিকতা থেকে বের হতে না পারে। তাহলে মাঠের তরুনদের সাথে যোগাযোগ, সম্পর্ক ও বোঝাপড়া ঠিক রাখতে হবে।

৫) নাগরিক নজরদারি বা ‘ওয়াচডগ’ (Watchdog Role) ভূমিকা পালন

বিপ্লবীরা হবে   “জনগণের পাহারাদার”। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা পরবর্তীতে যে সরকারই আসুক না কেন, তারা যেন কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদের পুরোনো পদ্ধতি (যেমন: বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, দলীয়করণ, দুর্নীতি, ভিন্নমতের দমন) অবলম্বন করতে না পারে, সেজন্য তীব্র সিভিক রেজিস্ট্যান্স বা নাগরিক নজরদারি জারি রাখতে হবে।

৬) রাজনৈতিক বয়ানগুলো প্রতিষ্ঠা করা এবং বাঁচিয়ে রাখা

বিপ্লবীরা যে কারণে জীবন দিয়ে জনগনকে মুক্তি দিয়েছিল। সে চেতনা ও আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে এজন্য বয়ান জারি রাখতে হবে। আর কাজগুলো করার জন্য তৈরী করতে হবে ভিত্তি।  এই আদর্শিক প্রকাশনা সৃষ্টি করতে হবে, লেখক ও সংষ্কৃতি কর্মী সৃষ্টি করতে হবে, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সাংবাদিক সৃষ্টি করতে হবে। যেকোনো ষড়যন্ত্র ও অপতথ্যের জবাব দিতে হবে।

৭) সংষ্কারের দাবী জোরালো করা ও বাস্তবায়ন করা

বাংলাদেশের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার আরেক নাম ‘‘প্রশাসনিক রাজতন্ত্র’’। যা ব্রিটিশ সরকার তাদের শাসনক্ষমতা সহজ করার জন্য তৈরী করেছিল। সেটি আজো বহাল রয়েছে। এই কাঠামো যতদিন ভাঙ্গা না যাবে ততদিন এর থেকে জাতির মুক্তি মিলবেনা।  তাই এই বিষয়ে ধাপে ধাপে অগ্রগতির পরিকল্পনা করে আগাতে হবে। প্রয়োজনে এর রুপরেখা তৈরী করে তা সর