জীবনের উপযোগী জনবিরল বিশ্বের ১২টি দ্বীপ
আমি নিরিবিলি বসতি স্থাপন করার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন দ্বীপের উপর অনলাইন ও এ আই নির্ভর একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ বা অনুসন্ধান করেছি। আমি সে বিষয়টি পাঠকদের সাথে শেয়ার করার জন্য বিশ্বের এমন ১ জডন দ্বীপের তথ্য উপস্থাপন করলাম। যারা আমার মতো ভাবছেন তাদের কাজে লাগতে পারে। – জাহাঙ্গীর আলম শোভন
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনো অনাবাদী কিন্তু বসবাসের উপযোগী বড়ো বড়ো দ্বীপ আছে। কোনো কোনোটি আবার ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষের জীবনের জন্য উপযোগী। এমনকি জীবনের অনুকুল পরিবেশ এবং মূল ভূখন্ড থেকেও দূরে নয়। কেবল সেদেশের জনসংখ্যা কম থাকায় সেটি আবাদ হচ্ছে না। একমন কয়েকটি দ্বীপের বিস্তারিত জানবো আজকের এই লেখাও। থাকবে যেমন দেশের নাম, আবহাওয়া, ক্ষেত্রফল, অন্য জনবহুল বা আবাদী ভূমি থেকে দূরত্ব, পরিবেশ ও আবাদ না হওয়ার কারণ। বিশ্বের এমন কয়েকটি বিশাল ও সম্ভাবনাময় দ্বীপের তথ্য নিচে দেওয়া হলো, যেগুলো আয়তনে বিশাল এবং হাজার হাজার মানুষের বসবাসের উপযোগী হওয়া সত্ত্বেও মূলত জনবল বা যথাযথ উদ্যোগের অভাবে এখনো অনেকটা ‘অনাবাদী’ বা ‘অব্যবহৃত’ অবস্থায় রয়েছে।
মেলভিল দ্বীপ (Melville Island), অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ার উত্তর উপকূলে অবস্থিত এই দ্বীপটি আয়তনের দিক থেকে বিশাল এবং প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর, কিন্তু এর জনসংখ্যা খুবই নগণ্য। এর ক্ষেত্রফল: প্রায় ৫,৭৮৬ বর্গ কিলোমিটার (যা ব্রুনাইয়ের চেয়েও বড়) এবং সিঙ্গাপুরের ১০গুন বড়। বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন দ্বীপের চেয়ে ১শগুন বড়।
মেলভিল আবহাওয়া ক্রান্তীয় (Tropical) আবহাওয়া যা কিছুটা আমাদের দেশের মতো বলা যায়।। চারদিকে সাগর থাকার কারণে এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং মাটি অত্যন্ত উর্বর।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো দূরত্ব মূল ভূখণ্ড (ডারউইন শহর) থেকে মাত্র ৬০-৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। মানে এতটা দূরত্ব বিমানে পার হতে ১৫ মিনিটের ব্যাপার। আর জাহাজেও এটা কমবেশী ২/৩ ঘন্টায় পার হওয়ার মতো।
পরিবেশ ও সম্ভাবনার কথা বলতে গেলে এখানে ঘন বনভূমি এবং প্রচুর জলজ সম্পদ রয়েছে। এটি অনায়াসেই ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ মানুষের স্থায়ী বসবাসের উপযোগী। এটি আবাদ না হওয়ার কারণ হলো অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যা দেশটির বিশাল ভূখণ্ডের তুলনায় অনেক কম। এছাড়া এই দ্বীপটি স্থানীয় আদিবাসী ‘তিউই’ (Tiwi) সম্প্রদায়ের মালিকানাধীন সংরক্ষিত এলাকা হওয়ায় এখানে সাধারণ অভিবাসন বা ব্যাপক কৃষি আবাদ এখনো শুরু হয়নি। বলা যায় এখানে সরকারের নীতি একটি বিষয় রয়েছে।
রেনেল দ্বীপ (Rennell Island), সলোমন দ্বীপপুঞ্জ
প্রশান্ত মহাসাগরের এই দ্বীপটি বিশ্বের বৃহত্তম ‘উত্থিত প্রবাল দ্বীপ’ (Raised Coral Atoll) হিসেবে পরিচিত। মূল দেশের নাম সলোমন দ্বীপপুঞ্জ বা সলোমান আইল্যান্ড। এর ক্ষেত্রফল: প্রায় ৬৬০ বর্গ কিলোমিটার। যা সিঙ্গাপুরের কাছাকাছি আয়তন। আবহাওয়া আর্দ্র ক্রান্তীয় আবহাওয়া। সারাবছর পর্যাপ্ত রোদ ও বৃষ্টি পাওয়া যায়। মানে বরফগলা কিংবা মরুভূমির দেশ নয়। ভূখন্ড থেকে দূরত্ব বলতে রাজধানী হোনিয়ারা থেকে প্রায় ২০০-২৫০ কিলোমিটার দূরে। মানে এটি বিমানে যেতে সময় লাগবে ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট। আর জাহাজে কমবেশী ৪ থেকে ৫ ঘন্টা।
পরিবেশ বলতে দ্বীপের ভেতরে ‘তেগানো’ (Tegano) নামক দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের বৃহত্তম স্বাদু পানির লেক রয়েছে। চারপাশ ঘন জঙ্গলে ঢাকা।
আবাদ না হওয়ার কারণ হিসেবে সলোমন দ্বীপপুঞ্জের জনসংখ্যা অত্যন্ত কম এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এবং আধুনিক অবকাঠামোর অভাবে এই বিশাল উর্বর ভূমি এখনো অনাবাদী পড়ে আছে। এখানে বোক্সাইট খনির কাজ চললেও স্থায়ী বিশাল জনপদ গড়ে ওঠেনি।
তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ ও তুলনা
গ্রুট আইল্যান্ড (Groote Eylandt), অস্ট্রেলিয়া
এটিও অস্ট্রেলিয়ার কার্পেন্টারিয়া উপসাগরে অবস্থিত চতুর্থ বৃহত্তম দ্বীপ। যার ক্ষেত্রফল: ২,৩২৬ বর্গ কিলোমিটার। যা বাংলাদেশের নারায়ানগঞ্জ জেলার সমান। আবহাওয়া উষ্ণ ও আর্দ্র। কৃষি কাজের জন্য চমৎকার উপযোগী। দূরত্ব মানে উত্তর অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে। যা খুব বেশী দূরে নয়। এটি বিমান যাত্রায় ২০ মিনিটের দূরত্ব। জাহাজে ২ থেকে আড়াই ঘন্টার রাস্তা কমবেশী
পরিবেশ সম্পর্কে পাহাড়ি এলাকা, উপকূলীয় সমভূমি এবং চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশ। এখানে খনিজ ম্যাঙ্গানিজের বিশাল মজুদ রয়েছে।
আবাদ না হওয়ার কারণ: এটিও একটি সংরক্ষিত আদিবাসী এলাকা (Anindilyakwa)। অস্ট্রেলিয়ার জনশক্তি কম হওয়ায় তারা কেবল খনিজ উত্তোলনেই মনোযোগী, বিশাল কৃষি আবাদ বা বড় শহর তৈরির প্রয়োজন এখনো অনুভব করেনি তারা।
আন্টিসোতি দ্বীপ (Anticosti Island), কানাডা
কানাডার কুইবেক প্রদেশে অবস্থিত এই দ্বীপটি আকারে অবিশ্বাস্য রকমের বড় কিন্তু প্রায় জনমানবহীন। এটিও সিঙ্গাপুরের চেয়ে প্রায় ১০ গুনের বেশী বড় এবং বাংলাদেশের কোনো কোনো বিভাগের সমান। কারণ এর ক্ষেত্রফল: ৭,৯২৩ বর্গ কিলোমিটার বলতে গেলে অনেকটা লেবাননের মতো একটি পূর্নাঙ্গ স্বাধীন দেশের সমান।
আবহাওয়া: নাতিশীতোষ্ণ থেকে শীতল (Temperate/Cold)। এখানে গ্রীষ্মকালে আবহাওয়া অত্যন্ত মনোরম থাকে। মানে আমাদের দেশের আবহাওয়ার চেয়ে শীতল। মজার ব্যাপার হলো খুব বেশী দূরত্বে নয়। মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ৩০-৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যা বিমানে ২০-২৫ মিনিটের যাত্রা আর জাহাজে ১ ঘন্টার কমবেশী লাগতে পারে।
পরিবেশও খুব মনোমুগ্ধকর, স্বচ্ছ পানির নদী, চুনাপাথরের গুহা এবং বিশাল বনাঞ্চল। এখানে প্রচুর হরিণ বাস করে।
আবাদ না হওয়ার কারণ: কানাডার বিশাল ভূখণ্ডের বিপরীতে জনসংখ্যা অত্যন্ত কম। মানুষ মূলত বড় শহরগুলোতে থাকতে পছন্দ করে। দুর্গম যোগাযোগ এবং বৈরী শীতের আশঙ্কায় সেখানে মাত্র ২০০-৩০০ মানুষ বাস করে। অথচ এটি একটি আধুনিক পরিকল্পিত শহর হওয়ার জন্য আদর্শ।
মানিতুলিন দ্বীপ (Manitoulin Island), কানাডা
এটি বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ যা একটি মিষ্টি পানির হ্রদের (Lake Huron) মধ্যে অবস্থিত। কানাডার এই দ্বীপটির ক্ষেত্রফল: ২,৭৬৬ বর্গ কিলোমিটার যা লুক্সেমবার্গের মতো একটি দেশের চেয়েও কিছুটা বড়। বাংলাদেশের বড় জেলাগুলোর আয়তনের সমান।
আবহাওয়া: নাতিশীতোষ্ণ। এখানে গ্রীষ্মকাল অত্যন্ত মনোরম এবং শীতকাল তুষারপাতময়। মানে কানাডার আবহাওয়ার মতোই। দূরত্ব: মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ৫-১০ কিলোমিটার দূরে মাত্র তাও আবার সেতু দিয়ে যুক্ত। যার মানে হলো মোটেই বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়।
পরিবেশ: দ্বীপটিতে ১০৮টি নিজস্ব মানে ব্যক্তি মালিকানাধীন লেক এবং ৩টি নদী আছে। মাটি কৃষিকাজের জন্য বেশ উর্বর।
পুরো আবাদ না হওয়ার কারণ: কানাডার বিশাল ভূখণ্ডের তুলনায় জনসংখ্যা কম হওয়ায় মানুষ শহরমুখী। এখানে বর্তমানে মাত্র ১৩,০০০ মানুষ বাস করে, অথচ এটি অনায়াসেই ইউরোপের ঘণত্ব অনুসারে ৫০ হাজার মানুষের আধুনিক শহর হতে পারত।
বাথার্স্ট দ্বীপ (Bathurst Island), অস্ট্রেলিয়া
মেলভিল দ্বীপের ঠিক পাশেই অবস্থিত এই দ্বীপটি উত্তর অস্ট্রেলিয়ার একটি লুকানো রত্ন। ক্ষেত্রফল হলো ২,৬০০ বর্গ কিলোমিটার যা বাংলাদেশের ২০ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুসিত জেলার সমান।
আবহাওয়া: ট্রপিক্যাল বা ক্রান্তীয়। প্রচুর বৃষ্টিপাত ও রোদ পাওয়া যায়। দূরত্ব বলতে ডারউইন শহর থেকে প্রায় ৭০-৮০ কিলোমিটার। মানে বিমানে ৩০/৩৫ মিনিটের যাত্রা আর জাহাজে কমবেশী ৩-৪ ঘন্টা।
পরিবেশ হলো ঘন ম্যানগ্রোভ বন, পাহাড় এবং সমতল ভূমি। উপকূলীয় এলাকা মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ। এটা বরফাচ্ছিত নয়। বরং ম্যানগ্রোভ বনের কারণে এটিকে সুন্দরবনের মতো মনে হতে পারে।
আবাদ না হওয়ার কারণ হলো এটিও আদিবাসীদের সংরক্ষিত এলাকা। অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডেই বিপুল পরিমাণ জমি খালি পড়ে থাকায় এই দ্বীপে বড় কোনো শিল্প বা কৃষিকাজ শুরু হয়নি। মাত্র ১,৬০০ জন মানুষ এখানে বাস করে।
১০টি দ্বীপের তুলনামূলক সারসংক্ষেপ:
| ক্রম | দ্বীপের নাম | দেশ | ক্ষেত্রফল (বর্গ কিমি) | সম্ভাব্য ধারণক্ষমতা |
| ১ | মেলভিল | অস্ট্রেলিয়া | ৫,৭৮৬ | ১,০০,০০০+ |
| ২ | রেনেল | সলোমন দ্বীপপুঞ্জ | ৬৬০ | ৫০,০০০ |
| ৩ | গ্রুট আইল্যান্ড | অস্ট্রেলিয়া | ২,৩২৬ | ৭০,০০০ |
| ৪ | আন্টিসোতি | কানাডা | ৭,৯২৩ | ২,০০,০০০+ |
| ৫ | মানিতুলিন | কানাডা | ২,৭৬৬ | ৮০,০০০ |
| ৬ | বাথার্স্ট | অস্ট্রেলিয়া | ২,৬০০ | ৫০,০০০ |
| ৭ | চিলো | চিলি | ৮,৩৯৪ | ৩,০০,০০০+ |
| ৮ | সাভানা | সামোয়া | ১,৬৯৪ | ৬০,০০০ |
| ৯ | নর্থ আন্ডামান | ভারত | ১,৩৭৬ | ৫০,০০০ |
| ১০ | কিং দ্বীপ | অস্ট্রেলিয়া | ১,০৯৮ |
ইসলা গ্র্যান্ডে ডি চিলো (Isla Grande de Chiloé), চিলি
দক্ষিণ আমেরিকার চিলি উপকূলে অবস্থিত এই দ্বীপটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর বিশাল অংশ এখনো অনাবাদী। যার ক্ষেত্রফল: ৮,৩৯৪ বর্গ কিলোমিটার প্রায় ভারতের সিকিম রাজ্যের সমান এবং বাংলাদেশের বিভাগের সমপরিমাণ।
আবহাওয়া হলো সামুদ্রিক জলবায়ু। এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং আবহাওয়া শীতল ও আরামদায়ক। এখানে আলোচিত দ্বীপগুলোর মধ্যে এটি মূল মূল ভূখণ্ড থেকে সবচেয়ে কম দূরত্বে মাত্র ২-৫ কিলোমিটার দূরে। মানে এখানে সেতু হতে পারে এবং জাহাজে চলাচল কঠিন হবে না। তবে অনেক দেশে পাশাপাশি দ্বীপেও বিমান চলাচল করে।
পরিবেশ দেখা যায় উর্বর আগ্নেয় মাটি, যা আলু ও অন্যান্য সবজি চাষের জন্য বিশ্বের অন্যতম সেরা স্থান। তার মানে বাংলাদেশী সবজি চাষের উপযোগী সহজ কথায় আবহাওয়া বাংলাদেশের সাথে মিল থাকবে।
আবাদ না হওয়ার কারণ হিসেবে জানা যায় চিলির কেন্দ্রীয় অঞ্চলের দিকে মানুষের ঝোঁক বেশি। দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং অবকাঠামোগত বিনিয়োগের অভাবে এর বিশাল বনাঞ্চল এখনো মানুষের ছোঁয়া পায়নি।
সাভানা দ্বীপ (Savai’i Island), সামোয়া
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এই দ্বীপটি সামোয়ার বৃহত্তম দ্বীপ হলেও এর জনসংখ্যা পার্শ্ববর্তী ছোট দ্বীপের চেয়ে অনেক কম। এই দ্বীপটি বিখ্যাতই বলা যায়। সামোয়ার এই দ্বীপের ক্ষেত্রফল: ১,৬৯৪ বর্গ কিলোমিটার। বাংলাদেশর বহু জেলার আয়তন এর কাছাকাছি হ
