e Commerce, Delivery

ই-কমার্স রেভিনিউ মডেল পরিচিতি

ই-কমার্স রেভিনিউ মডেল পরিচিতি

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

ই-কমার্স শব্দের মধ্যে ব্যবসা শব্দ থাকলেও এটা উপকারভোগীদের জন্য কিন্তু একটা জীবনধারা বা লাইফ স্টাইল। এই বইটি লাইফ স্টাইল উপভোগের জন্য নয় বরং উদ্যোক্তা ও কর্ম বিধায়কদের জন্য যারা ই-কমার্স উদ্যোগের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে কাজ করবেন। তাই অন্যান্য ব্যবসার মতো ই-কমার্সের রেভিনিউ মডেল নিয়ে আলোচনা করা হলো। এই বিষয়ে শেখার সুবিধা সেটা হলো প্রথম থেকে কোনো নির্দিষ্ঠ বা সুবিধাজনক রেভিনিউ মডেল বা লাভ কাঠামো নিয়ে কাজ করলে কাজের ক্ষেত্রে সুবিধা রয়েছে।
স্কুলের অংক বইতে আমরা লাভের হিসেব শিখেছি এভাবে, বিক্রয়মূল্য-ক্রয়মূল্য= লাভ। লাভের মূল হিসেবের একটা এরকম হলেও সবক্ষেত্রে সরলরেখায় বলা এবং করা যায়না। ই-কমার্স এর ক্ষেত্রে আয়-ব্যয়ের সমীকরণ বহুমাত্রিক বিধায় এখানে বিভিন্নরকম রেভিনিউ মডেল রয়েছে। এখানে আয় ও ব্যয় উঠানামার ক্ষেত্রেও প্রচলিত ব্যবসার চেয়ে কিছুটা আলাদা যদি সেটা আমরা ধরতে পারি। এর অর্থ এই নয়যে, সে মূলসূত্র অকার্যকর। মূল সূত্র মাথায় রেখে তার সাথে আরো কিছু বিষয় যুক্ত হবে।
ধরি, সামাস্থার একটি ওয়েবসাইটভিত্তিক অনলাইন বুটিকশপ রয়েছে, যেটাতে সে বিভিন্ন ধরনের বুটিক সামগ্রী বা পরিধেয় বস্ত্র এবং এই সংক্রান্ত পণ্য সেবা কেনাবেচা করে থাকে। এক্ষেত্রে সাধারণভাবেই তার আয়ের উৎস হবে গ্রাহকদের নিকট অনলাইনে খুচরা ও পাইকারি পণ্য বিক্রয় সাথে হয়তো ডেলিভারী সেবা সংক্রান্ত আয় ও ব্যয় যুক্ত হতে পারে।
অন্যদিকে একটি বহুমূখী ও মাল্টিফাংশানাল ফিচার সমৃদ্ধ ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মটি তৈরী করলে নানা রকমের খরচ ও শত রকমের আয় হতে পারে। যেমন ধরুন ডিজিটাল মার্কেটিং ও ফেসবুক অ্যাড খরচ, ওয়েবসাইট তৈরী, ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা বিধান, হালনাগাদকরণ ও কনটেন্ট আপলোড বা বিষয়বস্তু উপস্থাপন এগুলোও ভিন্ন রকমের খরচ।
একই ভাবে আপনি আয় করতে পারেন অন্যের সাথে লিংক বিনিময় করে অন্যের পণ্যের বিক্রি ও বিজ্ঞাপন করে, অ্যাফিলিয়েটেড মার্কেটিং সহ আরো নানা পদ্ধতিতে রয়েছে। পন্যের ইনভয়েস এর পেছনের অংশে বিভিন্ন কোম্পানীর এড দিয়েও প্রতিষ্ঠানগুলো আয় করে। যেমন ধরুন বিক্রয় ডট কম কিন্তু ক্রেতার কাছ থেকে আয় করেনা বিক্রেতার কাছ থেকে করে। এভাবে আরো নানা মাধ্যমে আয়ের সুযোগ রয়েছে। এবার বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় ফিরে যাওয়া যাক-

ই-বাণিজ্য লাভ কাঠামো/ e-Commerce Revenue Model
ই-কমার্সের শপ বা প্লাটফর্মের আয়ের বিভিন্ন খাত দিয়ে ই-কমার্স উদ্যোগের রেভিনিউ মডেল এর ভিত্তি রচিত হয়। কী ধরনের রেভিনিউ মডেল আপনি অনুসরণ করে ব্যবসা করবেন এই সিদ্ধান্ত আপনাকে শুরুতে নিতে হবে। কারণ, এটা মূল ব্যবসা পরিকল্পনা বা বিজনেস মডেল এর অংশ। এর মানে এই নয়যে, ব্যবসার কোনো পর্যায়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় আপনি রেভিনিউ মডেলে কেনো পরিবর্তন আনতে পারবেন না।
ই-কমার্সের জন্য বহুল প্রচলিত রেভিনিউ মডেলসমূহ আলোচনা করা হলো। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক বিজনেস মডিউল একীভূত ডিজিটাল কমার্স প্লাটফর্ম তৈরী করা হয়। এক্ষেত্রে পেশাদারিত্বসহ যথাযথভাবে কার্য সম্পাদন না করলে তাতে ঝুঁকি বেড়ে যায়। ভিন্ন ভিন্ন ব্যবসা পদ্ধতি ও ভিন্ন ভিন্ন পণ্য সেবার জন্য দেশের আইনের যেমন ভিন্ন ভিন্ন শর্ত থাকতে পারে তেমনি টেকনিক্যাল নানা সমস্যাও তৈরী হতে পারে।

সেলস রেভিনিউ মডেল (বিক্রয়ভিত্তিক লাভ কাঠামো) Sales Revenue Model
আমরা বলে থাকি ব্যবসায়ের মূল হলো বিক্রয় বা লাভ। বিক্রয় কিভাবে হবে? তার হাজার রকম কৌশল থাকতে পারে। যদিও আমরা ব্যবসার প্রতিটি কাজ তাৎক্ষনিক বিক্রির জন্য করি না। কোনো কাজ এজন্য করি এর দ্বারা আজকে যে সুনাম হবে ভবিষ্যতে তা দিয়ে ব্যবসা ও পণ্য বিক্রয় ত্বরান্বিত করা যাবে। মূলত ব্যবসার ক্ষেত্রে এটা খুব সহজ সাধারণ মডেল। বিক্রি বাড়াও, লাভ বাড়াও ব্যবসা বড়ো করো। এই কৌশলটি যেমনি কার্যকর তেমনি পুরনো। তবে বহুমাত্রিকতার এই যুগে আরো বহু কৌশল যুক্ত হয়েছে।
সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছে সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য রেভিনিউ মডেলটি হলো সেলস রেভিনিউ মডেল। এই মডেলে খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তাদের কাছে থাকা প্রোডাক্ট বা সার্ভিস ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে থাকেন। ক্রয় ও বিক্রয়ের হিসেব এই মডেলের মূল সূত্র।
সেলস রেভিনিউ মডেল ফলো করে এমন প্রতিষ্ঠিত কিছু ই-কমার্স কোম্পানির নাম বললেই ব্যাপারটা সহজ হয়ে যাবে, যেমনÑ আলিবাবা ডটকম, আলিবাবা এক্সপ্রেস ডটকম, অ্যামাজন ডটকম, রকমারি ডটকম, দারাজ বিডি ডটকম, চালডাল ডটকম ইত্যাদি।
বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলো সরাসরি দোকান বা শোরুমে নিজেদের পণ্য বা সেবা প্রদর্শন করেই ব্যবসা করে থাকে, কিন্তু এর পাশাপাশি অনলাইনেও নিজেদের ই-কমার্স সাইট পরিচালনা করে থাকে। এ ধরনের ই-কমার্স সাইটগুলোও এই রেভিনিউ মডেল ফলো করে ব্যবসা করে।
এই মডেল এর মধ্যে আবার ৩টি ধারা রয়েছে।
১। বিক্রেতা থেকে পণ্য ক্রয় করে ই-কমার্স শপ নিজে দাম নির্ধারণ করে বিক্রি করে। এতে তিনি একটি লাভসহ দাম নির্ধারণ করেন।
২। বিক্রেতার পণ্য বিক্রেতার কাছে থাকে। ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস পণ্যটি উপস্থাপন করে নির্দিষ্ঠ কমিশন বা নেট দাম নির্ধারণ এর মাধ্যমে লাভ করে থাকে। ড্রপ শিপাররা এভাবে ব্যবসায় লাভ করে থাকে।
৩। পণ্যটি স্বাভাবিক দামেরই বিক্রি করে তবে বিক্রেতার কাছ থেকে কমিশন গ্রহণ করে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারেরা এভাবে লাভ বের করে।

বাট্ট্রা ভিত্তিক আয় কাঠামো:Comision Based Revenue Model
এটা সেলস রেভিনিউ মডেল এর মধ্যে পড়লেও এর সম্পর্কে বিস্তারিত বোঝানোর সুবিধার্থে এটিকে আলাদা রেভিনিউ মডেল হিসেবে তুলে ধরা হলো।
সাধারণত মার্কেটপ্লেসগুলো এ ধরনের রেভিনিউ মডেল অনুসরণ করে। যেখানে ক্রেতারা সরাসরি তাদের পণ্যসেবা বিক্রয়ের জন্য উপস্থাপন করে। সেখানে বিক্রেতা পন্যের দাম ঠিক করে এবং ক্রেতা তা ক্রয় করে। বিক্রেতা তার লাভ বা পণ্যের দামের উপর প্লাটফর্ম কতৃপক্ষকে একটি একটি কমিশন বা বাট্টা নিয়ে থাকে।
এখানে ক্রেতা বিক্রেতার সাথে যে কমিশন বিনিময় বাব বন্টনের চুক্তি হয় সেটাই রেভিনিউ মডেল।
দিপু যাচাই ডট কমে একজন মার্চেন্ট যার নাম অ্যানেক্স লেদার। তিনি তার চামড়াজাত পণ্য বিক্রি করে থাকেন। এখানে দাম ঠিক করা থাকে। যাচাই ডট কম মার্কেটপ্লেস হিসেবে বিক্রয়মুল্যের উপর একটা কমিশন নিয়ে থাকে। যা উভয়পক্ষের ব্যবসার শুরুতে চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপননির্ভর আয় কাঠামো : Adv Based Revenue Model
ব্লগ, নিউজ পেপার এমনকি অন্য নানা ওয়েবসাইট থেকেও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যবসা করা যায়। আজকাল সোস্যাল ইনফ্লুয়েন্সার এবং ইউটিবাররা এভাবে আয় করে থাকে।
আপনার যদি একটি ওয়েবসাইট থাকে সেটা ই-কমার্স কিংবা নন ই-কমার্স এবং সেটা যদি জনপ্রিয় ও ব্যাপক সমাদৃত হয় তাহলে এখানে বিজ্ঞাপননির্ভর রেভিনিউ মডেলে আয় করা যায়। এটি ই-কমার্স ব্যবসার জন্য সবচেয়ে ক্লাসিক ও সহজ রেভিনিউ মডেল হিসেবেও পরিচিত। এখানেও বিভিন্ন রকমের ফরম্যাট রয়েছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে প্লাটফর্মগুলো যা করে তা হলো তারা তখন সেসব ক্রেতাদের সবার আগে দেখায় যারা বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে।
প্রথমত: আমরা এখানে উদাহরণ হিসেবে বিক্রয় ডট কম এর কথা বলতে পারি। বিক্রয় ডট কম এ বিক্রেতা পণ্য বিক্রি করে। কিন্তু এখানে বিক্রেতাকে কখনো কখনো বিজ্ঞাপন দিতে হয়। জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেসগুলোও এই মডেলে ই-কমার্স করে থাকে। বিশেষ করে সেগুলো যখন জনপ্রিয়তা ও পণ্য সেবার দিক থেকে ব্যাপক হয়ে থাকে। যদিও এটাকে আমরা প্রথাগত ই-কমার্স বলি না এটা মূলত ক্লাসিফাইড এড সাইট। বা শ্রেণীভ’ক্ত বিজ্ঞাপনের ব্যবসা। কারণ এখানে প্লাটফর্ম মূলত বিজ্ঞাপনের বিল নেন ব্যবসার লাভ লোকসানের সাথে তার সম্পর্ক নেই। এমন কি বেচাকেনার সাথেও তার বিজ্ঞাপনের বিল প্রভাবযুক্ত নয়।
দ্বিতীয়ত: কোনো প্লাটফর্ম যদি ভালো চাহিদা ও অবস্থান তৈরী করতে পারে। তাহলে এই মডেল এপ্লাই করতে পারে। বিশে^র অনেক প্লাটফর্ম করছে। বাংলাদেশেও ভবিষ্যতে হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেক্ষেত্রে মার্কেটপ্লেসে শুধুমাত্র পণ্যসেবা শো বা উপস্থাপনের জন্য আলাদা চার্জ দিতে হতে পারে। যেমনটা এখনো অনেক সুপারশপে আছে। সুপারশপে অনেকে শেল্ফ ভাড়া নিয়ে থাকেন। সেখান থেকে সুপারশপে আসা ক্রেতারা পণ্য ক্রয় করেন। পন্যের উপর একটি লাভ ছাড়াও শেল্ফ এর জন্য ভাড়া চার্জ দিতে হয় কখনো কখনো।
আপনার ওয়েবসাইটে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ব্যাপক ট্রাফিক বা বিচরণ থাকে তখন অনেক অনলাইন প্রতিষ্ঠান ও নেটওয়ার্ক আপনার সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইবে। কারণ এর মাধ্যমে তারা তাদের কাংখিত কাস্টমারদের কাছে পৌঁছাতে পারবে। তারা আপনার সাইটের নির্দিষ্ট স্থানে ছবি, টেক্সট বা অডিও-ভিডিওনির্ভর অ্যাড প্রচার করতে চাইবে।
রকমারি ডট কম বর্তমানে লেখক বা প্রকাশকের হয়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকেন। এজন্য তারা তাদের কাছ থেকে বিজ্ঞাপন চার্জ নিয়ে থাকেন। এটা আসলে এক ধরনের বিটুবি চুক্তি। এটাকে নির্দিষ্ঠ কোনো রেভিনিউ মডেলে ফেলা যায়ণা। কারন তারা বিজ্ঞাপনের বিল থেকে কোনো লাভ করে না। বই বিক্রি হলেও কেবল একটা অংশ পায়।

অ্যাফিলিয়েট রেভিনিউ মডেল/ সহযোগি লাভ কাঠামো: Affiliate Revenue Model
অ্যাফিলিয়েট রেভিনিউ মডেল হলো আরেকটি জনপ্রিয় মডেল। সহজভাবে বললে, এটি একটি কমিশনভিত্তিক রেভিনিউ মডেল। আমরা অ্যাফিলিয়েটেড মার্কেটিং যেটাকে বলি। সহজ কথা অ্যাফিলিয়েটড মার্কেটিং এর রেভিনিউ শেয়ারিং মডেলটাই হলো অ্যািফিলিয়েটড রেভিনিউ মডেল।
প্রচলিত কমিশন ভিত্তিক মডেল এর সাথে এর পার্থক্য হলো। সাধারণ কমিশন মডেলে প্লাটফর্মটি আলাদা থাকে অথবা বিক্রেতার থাকে। আর অ্যাফিলিয়েটড এর ক্ষেত্রে প্লাটফর্মটি হয়তো মার্কেটারের হয়ে থাকে অথবা তৃতীয় পক্ষের হয়ে থাকে।
অ্যাফিলিয়েট মডেলে যেকোনো ব্যবসায়ী এবং বিক্রেতা তাদের পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপন বা সেগুলো বিক্রি করার জন্য সুপরিচিত কোনো ই-কমাসর্ প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শন করেন। এর বিনিময়ে সেই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে তারা তাদের পণ্য বা সেবা বিক্রির লাভের একটি অংশ প্রদান করে থাকেন। মানে তারা কমিশনভিত্তিক ভাবে চুক্তিবদ্ধ থাকেন।
কমিশন মডেল এর উদাহরণ হলো: যেমনÑ দারাজ কিংবা অ্যামাজনে আপনি আপনার কোনো প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখলেন। সেখান থেকে কোনো সেল হলে চুক্তি অনুযায়ী আপনাকে লাভের একটি অংশ দারাজ বা অ্যামাজনকে দিতে হবে।
অ্যাফিলিয়েটড রেভিনিউ মডেল এর উদাহরণ হলো- আবার এর বিপরীতও হতে পারে। অ্যামাজনের কোনো পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপন আপনি আপনার ব্যক্তিগত কোনো সুপরিচিত সাইটে প্রদর্শন করতে পারেন এবং সেটা বিক্রির উপর আপনি কমিশন পেতে পারেন।

ট্রানজেকশনাল রেভিনিউ মডেল/ লেনদেন ভিত্তি লাভ কাঠামো: Transactional Revenue Model
বেশিরভাগই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে পণ্য বা সেবার দাম মেটানোর জন্য পেমেন্ট ট্রানজেকশনের এক বা একাধিক মাধ্যম থাকে। যেমন সহজ ডটকমে বাসের টিকিট কাটলে এর দাম পেমেন্টের জন্য বিকাশ, রকেট কিংবা নগদ পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর সুবিধা নেয়া যায়। এখন এই বিকাশ, রকেট কিংবা নগদ তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের জন্য বিক্রেতার কাছ থেকে প্রতিটি ট্রানজেকশনে একটি ফি চার্জ করে। আবার বিক্রেতা বা সেলাররা সাধারণ ক্রেতাদের কাছে ট্রানজেকশন ফি বাবদ সামগ্রিকভাবে একটি চার্জ নিয়ে থাকেন। এটাই ট্রানজেকশনাল রেভিনিউ মডেল। বর্তমানে ওভাই রাইড শেয়ারে এই মডেল দেখতে পাওয়া যায়।

পে-পাল হলো আন্তর্জাতিকভাবে বহুল ব্যবহৃত একটি পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম। যারা বিক্রেতাদের কাছ থেকে প্রতিটি ট্রানজেকশনে একটি ফি চার্জ করে।
কখনো কখনো এই মডেলে মাল্টিভেন্ডর প্লাটফর্মগুলোও সেলারের কাছ থেকে চার্জ নিয়ে থাকে। তখন এটা ট্রানজেকশন রেভিনিউ মডেল। বর্তমানে ই-কমার্স ভিত্তিক কুরিয়ার কোম্পানীগুলো সিওডি বা ক্যাশ অন ডেলিভারী সেবার জন্য এ ধরনের চার্জ নিয়ে থাকে। যেমন, ই-কমার্স প্লাটফর্মের পণ্য শিপিং কোম্পানী ডেলিভারী দেয়ার পর তারাই সিওডিতে তার মূল্য গ্রহণ করে বিক্রেতার নিকট পৌঁছে দেয়। যেহেতু তারা এখানে ঝুঁকি নিয়ে থাকে এজন্য একটি চার্জ রাখা যুক্তি যুক্তি। তাছাড়া এটা পণ্য ডেলিভারী সেবা নয় বরং বাড়তি একটা সেবা। এজন্য বাংলাদেশে ১% চার্জ যুক্ত করা হয়। বলা বাহুল্য বাংলাদেশে কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো ১% লাভের জন্য অথবা তার ব্যবসার সমৃদ্ধির জন্য এই ঝুঁকিটা নিয়েছে বলেই বাংলাদেশের ই-কমার্স প্রবৃদ্ধিতে সহযোগি হয়েছে এই মডেল। কারণ এখনো ৮৫-৯০% ই-কমার্স লেনদেন সিওডিতে হয়ে থাকে। আর ব্রান্ডশপগুলোর ক্ষেত্রে সিওডি প্রায় ৬৫-৭০%।

সাবস্ক্রিপশন বেজড রেভিনিউ মডেল: একামূপ লাভ কাঠামো : Subscription Based Revenue Model
কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলো তাদের কাস্টমারদের ঘণ্টা, দিন, সাপ্তাহিক, মাসিক কিংবা বার্ষিক একটি খরচের বিনিময়ে কোনো পণ্য বা সেবা ব্যবহারের সুবিধা প্রদান করে। সহজ কথায়, বিভিন্ন মেয়াদে সাবস্ক্রিপশন ফি’র বা এক কালীন মূল্য পরিশোধ (একামূপ) এর বিনিময়ে একটি সেবা কেনাবেচা করাকেই সাবস্ক্রিপশন রেভিনিউ মডেল বলে। এটা পণ্যের ক্ষেত্রে নয় বরং সেবার ক্ষেত্রে বা কনটেন্ট ও বুদ্ধিভিত্তক পণ্য সেবার ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহুত একটি মডেল।
এই মডেলের সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ হলো নেটফ্লিক্স, আইফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম, ইউটিউব প্রিমিয়াম ইত্যাদি। এছাড়া এখন অনেক ডাটানির্ভর সাইট, অনলাইন বিভিন্ন কোর্স, অনলাইন পড়ালেখা ইত্যাদি এই রেভিনিউ মডেলকে তাদের প্রধান আয়ের পথ হিসেবে বেছে নিয়েছে। ভবিষ্যতে এই মডেল এর পরিধি এবং জনপ্রিয়তি বেড়ে চলতে থাকবে।

ইএমআই রেভিনিউ মডেল, সমাকি লাভ কাঠামো-EMI Revenue Model
কিস্তিতে পণ্য ক্রয় বিক্রয় সুবিধা চালু হয়েছে অনেক দিন আগে। কিন্তিতে পণ্য দেয়ার পর টাকা গ্যারান্টি নিশ্চিত করত